১০:১৩ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ৩০ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
ইউটিউব দেখে ড্রাগন চাষে তাক লাগিয়েছেন প্রবাস ফেরত যুবক
কৃষি বিভাগ

দুর্বিসহ প্রবাস জীবনে ইউটিউব দেখে ড্রাগন ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হন যুবক আব্দুল মাবুদ। ফিরে আসেন দেশে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে উঠে পড়ে লাগেন। পরামর্শ নেন কৃষি বিভাগের। একপর্যায়ে স্বপ্নের সফলতায় মুগ্ধ হন। এখন মাবুদ অন্যকে পরামর্শ দেন বিদেশ নয় দেশেই সমপরিমান শ্রম দিয়ে বৈদেশিক পর্যায়ের অর্থ উপার্জন সম্ভব। এরজন্য দরকার সুন্দর পরিকল্পনার সাথে একাগ্রতা।

মাবুদ পরীক্ষামুলক এক বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল এবং তিনবিঘা জমিতে মাল্টা বাগান শুরু করেন। তার সফলতা দেখে এলাকার অন্যরাও ড্রাগন ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন । এবং ড্রাগণ, মাল্টা, কাগজি লেবু ইত্যাদি চাষ করছেন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মহিষা খোলা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুল মাবুদ। পরিবারে তিন বোন এক ভাই। পিতার সংসারের হাল ধরতে ২০১৫ সালে মালয়েশিয়া যান। পরিবার পরিজন ছেড়ে প্রবাস জীবনে নানা কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। অনেক টাকা ধারদেনা করে বিদেশে গেলেও আর্থিক অনটনের মধ্যেই থাকতে হতো বেশির ভাগ সময়। বিদেশে বসেই স্বপ্ন দেখেন দেশে কৃষি কাজ করেও সাবলম্বী হওয়া যায়।

ইউটিউব আর ইন্টারনেটে দেখতে থাকেন কৃষি প্রকল্পের নানা অনুষ্ঠান। প্রবাসে বসেই পরিকল্পনা করেন দেশে ফিরে ফলের চাষ করার। ২০১৮ সালের শেষদিকে দেশে ফিরে আসেন আব্দুল মাবুদ।

নাটোর জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজ জমিতে ৪০ শতাংশ ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। এক বিঘা জমিতে সিমেন্ট আর রডের পিলার, চারা ও পরিচর্যা দিয়ে খরচ হয় প্রায় চার লাখ টাকা। ড্রাগন গাছে ফল দেয়া শুরু করলে তেমন খরচ নেই। একেকটি গাছ এক টানা ১০ থেকে ১৫ বছর ফল দিতে পারবে। প্রথম পর্যায়ে লাভের মুখ দেখেন আব্দুল মাবুদ। বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ করেছেন। ড্রাগন ফল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন জেলাতেও চাহিদা রয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। প্রবাস ফেরত যুবক আব্দুল মাবুদের ড্রাগন ফলের আবাদ দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ড্রাগন ফল চাষে।

মেহেরপুরের কৃষক বানাত আলী বলেন- আমাদের প্রতিবেশী আব্দুল মাবুদ বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে ড্রাগন ফল চাষ করে লাভবান হয়েছে। আমরাও পরামর্শ নিতে এসেছি ড্রাগন ফল চাষের জন্য।

গাংনী উপজেলার মহিষাখোলা গ্রামের আব্দুল জাব্বার বলেন- আব্দুল মাবুদ ড্রাগন চাষে লাভবান হচ্ছে এমন খবর শুনে আমাদের ছেলেদের পরামর্শে বাগান দেখতে এসেছি। আব্দুল মাবুদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তার কাছ থেকেই ড্রাগন ফলের চারা নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করবো।

বাগানে ড্রাগন ফল ক্রয় করতে আসা গাংনীর আমজাদ হোসনে বলেন- এ প্রথম ড্রাগন ফল খেলাম। সুস্বাদু পুষ্টিগুণের ড্রাগণ দেখতে সুন্দর। পুষ্টিবিদরাও ড্রাগন ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি। করোনাকালীন মুহুর্তে ড্রাগন ফল খাওয়া দরকার মনে করেই এখানে এসেছি ড্রাগন ফল ক্রয় করতে।

প্রবাস ফেরত বাগান মালিক আব্দুল মাবুদ বলেন- আমি পাঁচ বছর মালয়েশিয়াতে ছিলাম। প্রবাস জীবন অনেক কষ্টের। সেখানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। বিদেশে আগের মত আর আয় নেই। সেখানে বসেই আমি স্বপ্ন দেখি। দেশে ফিরে সেই পরিশ্রম করতে পারলে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব। ইন্টারনেট ও ইউটিউব দেখে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করি। নাটোর জেলা থেকে ৬৫ টাকা করে প্রতি পিস ড্রাগন ফলের চারা ক্রয় করি এবং তা নিয়মানুযায়ী রোপণ করি। এখন আমার তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ রয়েছে। আমি চারা তৈরী করেছি। অনেকেই ছাঁদ বাগানের জন্য এবং আবাদি জমিতে রোপণের জন্য চারা কিনতে আসছেন। এলাকায় ড্রাগন চাষের পরিধি বৃদ্ধিতে খুব কম মূুল্যে চারা বিক্রি করছি। আমি চাই আমার মত অনেক যুবকই শিক্ষিত হয়ে বাড়িতে বসে না থেকে ড্রাগন ফলের চাষ করে লাভবান হোক।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- ড্রাগন একটি বিদেশী ফল। এ ফলে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। দেখতে সুন্দর এবং খেতেও অনেক মজা। বাজারে চাহিদা এবং দাম দুটোই ভালো পাচ্ছে। প্রবাস ফেরত যুবক আব্দুল মাবুদ হতাশ না হয়ে ড্রাগন চাষে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। অনেকেই নতুন করে আবাদের জন্য আমাদের কাছে আসছেন আমরা তাদেরকেও পরামর্শ দিচ্ছি। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ১:৩৪ অপরাহ্ন
প্রান্তিক কৃষকদের সাথে রাবি শিক্ষার্থীরা
কৃষি বিভাগ

গ্রামীণ অর্থনীতির স্থবিরতা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষে কৃষি উপকরণ নিয়ে দরিদ্র্য ও অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘টেকসই কৃষি প্রকল্প-২০২১’-এর আওতায় পর্যায়ক্রমে তিনটি জেলার সাত উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে।

শুক্রবার এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী ইউনিয়নের পূর্বভাটদী গ্রামের ২০ কৃষকের মাঝে সার বিতরণ করে রাবি শিক্ষার্থীরা।

‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ২০২১’ আয়োজনের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীদের নিরলস পরিশ্রম এবং স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার ফলেই আমাদের এই প্রোগ্রামটা সফল হয়েছে, আমি সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে তাদের নিয়ে আমাদের আরও বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে।’

আরো পড়ুনঃ খুবিতে টেকসই কাঁকড়া চাষ এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
১৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করবেন দেলোয়ার!
কৃষি বিভাগ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে ফলের বাগান দেখে তিনি ফল চাষে আগ্রহী হন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। পরে গ্রামের বাড়ি ফিরে নিজেদের জমিতে পেয়ারা গাছ লাগিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন। নিরন্তর চেষ্টা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আরও বড় সাফল্যের পেছনে ছুটে চলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা দেলোয়ার।

জানা যায়, ২০১৫ সালে ১০০ পেয়ারা গাছের চারা দিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন দেলোয়ার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাগানে প্রথম ৮৫টি মাল্টাগাছ লাগান। বর্তমানে তার বাগানে ১ হাজার ১০০টি গাছে মাল্টা ধরেছে।

চলতি মৌসুমে শুধু মাল্টাই সাত লাখ টাকায় বিক্রি করার আশা করছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সাত লাখ টাকায় মাল্টা বিক্রি হলে সব খরচ বাদে লাভ থাকবে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাগানের অন্যান্য ফল বিক্রি করেও বেশ মুনাফা পাবে। আগামী বছর উৎপাদন খরচ কমে যাবে, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তখন আরও বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান।

দেলোয়ার পর্যায়ক্রমে বাগানের জমির আয়তন ও বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে প্রায় ৬০০ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার পেয়ারা, ১১০০ মাল্টা, ৬০০ লেবু, ৩০০ কলা, ৩৫০ পেঁপে, বারোমাসি ২৬০ আম, দার্জিলিংয়ের কমলা ৮৫, চায়না কমলা ৬৪, বারোমাসি আমড়া ৪০, লটকন ৩০, কতবেল ২৫, জাম্বুরা ২০, কাশ্মিরিকুল ও বনসুন্দুরী ১৪০টি, ডালিম ৮, চেরি ফল ৬, বাউকুল ও আপেলকুল বরই ও রামবুটানগাছ ৪টি। এসব গাছে বেশ ফলও ধরেছে। এরই মধ্যে তিনি পেয়ারা, বারোমাসি আমড়া, আম ও পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন।

দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘পেয়ারা দিয়ে বাগান শুরু করলেও পরে মাল্টার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। আমি মাটির গুণাগুণ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তবে আমাদের এই মাটি যথেষ্ট উপযুক্ত। ফল খুবই মিষ্টি। বাজারে বর্তমানে বারি–১ জাতের মাল্টা বিক্রি করছি।

সবুজ মাল্টা মিষ্টি হবে কিনা, তা নিয়ে মানুষের সংশয় আছে। তবে লোকজন এসে মাল্টা খেয়ে কিনে নিচ্ছেন।’ আগাছা পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাগানের খরচ কমে আসে। পানি দিতে তিনি পাইপ ব্যবহার করেন। যন্ত্রের সাহায্যে তিনি নিড়ানির কাজ করছেন।

দেলোয়ার হোসেন জানান, এ বছর আমার আম বাগানের বিষমুক্ত ৭০ থেকে ৮০ মণ আম কালিয়াকৈরের বোর্ডঘর এলাকার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালে কর্মরত ডাক্তার ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকতাদের কাছে বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ আম ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বারোমাসী আম গাছে আগামী তিন মাসের মধ্যে আম আসবে। আমগুলো ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মণে বিক্রি করার আশা আছে বলে তিনি জানান।

দেলোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত চারা সংগ্রহে তার প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাগানের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে বেদানা বিক্রি শুরু হয়নি। তিনি ৪ লাখ টাকার পেয়ারা, ৭০ হাজার টাকার লেবু, ৬০ হাজার টাকার কলা ও ৬ হাজার টাকার আমড়া বিক্রি করেছেন। চলতি বছর ২ লাখ টাকার মাল্টা, ২ লাখ টাকার পেঁপে ও ৪ লাখ টাকার কাশ্মিরিকুল ও বনসুন্দরী ফল বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান। প্রতি মাসে বাগান পরিচর্যা বাবদ ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, বারি–১ জাতের মাল্টা খুবই রসাল ও মিষ্টি। অপরিপক্ব অবস্থায় মাল্টা খাওয়া উচিত নয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দুই একর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাকে সার, চারা, ওষুধ, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
গোমতীর চরে সাদা মুলার হাসিতে খুশি কৃষক
কৃষি বিভাগ

করোনায় অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও এবার সেই রেশ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে কুমিল্লার চাষিরা।দীর্ঘ এক মাসের শ্রমে-ঘামে সবুজ হয়ে উঠে গোমতীর চর। সবুজ গাছের গোড়ায় মাটি ভেদ করে উঁকি দিয়েছে সাদা মুলা। এই সাদা মুলার এবার গোমতীর পাড়ে বাম্পার ফলন হয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর চরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চর থেকে মুলা সংগ্রহ,পরিস্কার করে আটি বাঁধছেন। জমির পাশে অপেক্ষা করছেন পাইকাররা। মুলা সংগ্রহ ও পরিস্কারের পরেই গাড়িতে তোলা হয় মুলা। গোমতী চরের মুলা কুমিল্লা জেলার চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে রাজধানী শহর ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল গ্রামের মুলা চাষী আবুল হোসেন। গোমতী চরে তিনি ৪০ শতক জমিতে মুলা চাষ করেছেন। বীজ সার, কীটনাশক ও কৃষি মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখন সেই মুলা বিক্রি করেছেন ৭৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ১ মাসেই তার মুনাফা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা।

আর এ কারনেই তৃপ্তির হাসি লেগেছে সবজি চাষী আবুল হোসেনের চোখে মুখে। এই মুলা কিনেছেন চট্টগ্রামের পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান। তিনি বাসসকে জানান, ৭০ হাজার টাকার মুলার সাথে বহন খরচ হবে আরো ১০ হাজার টাকা। এই মুলা বিক্রি করবেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের মুলার চাহিদা বেশী হওয়ায় সেখানের হাটবাজারে এই মূলা বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, গোমতীর চরে মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকের সাথে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ৬:০৪ অপরাহ্ন
গরু পালনে খামার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যা করবেন
কৃষি বিভাগ

আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকহারে গরু পালন করা হয়ে থাকে। গরু পালনের মাধ্যমে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। একটি খামার মানসম্মত ভাবে, সঠিক উপায়ে, লাভজনক ভাবে এবং সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করার নামই খামার ব্যাবস্থাপনা। গরু পালনে লাভবান হওয়ার জন্য যথাযতভাবে খামার ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

খামারের জন্য স্থান নির্বাচনঃ
আমরা পরিবার ভিত্তিক ক্ষুদ্র খামার স্থাপনের জন্য আমাদের বাড়ির অ-ব্যবহারিত স্থান বেছে নিতে পারি। এ স্থানটি সাধারনতঃ বাড়ীর পুর্ব অথ বা পশ্চিম দিকে হলে ভাল হয়। সর্ব মোট ১০ টি গরুর জন্য ৩০০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন। গরুর ঘর থেকে ২০/২৫ ফুট দূরে একটি ছোট ডোবা থাকবে যাতে সেখানে গরুর মল-মূত্র ফেলা যায়। এ ছাড়া মল মুত্র থেকে জৈব সার ও বায়ো গ্যাস উৎপাদনের জন্য বায়ো গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে লাভজনক ভাবে খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনা করা যায়।

গরুর শেড নির্মানঃ
একটি পুর্ন বয়স্ক গরুর জন্য সর্ব সাকুল্যে ২৮-৩০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। এ হিসেবেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক গরুর জন্য শেড নির্মান করতে হবে। গরুর শেড পূর্ব – পশ্চিমে লম্বা হলে ভাল হয়। শেডের ফ্লোর, খাবার পাত্র, পানিরপাত্র ইত্যাদি পাকা হওয়া প্রয়োজন। উপরে টিন অথবা ছনের ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। শেডের নিকটস্থ গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শেডে পানীয় জলের সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশনের ব্যাবস্থা থাকতে হবে। খামারের চারপাশে উচু মজবুত বেষ্টনী তৈরী করতে হবে যাতে চোরের হাত থেকে খামারের গরু ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিষ-পত্র রক্ষা করা যায়।

খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ
গোবর গবাদি পশু থেকে পাওয়া একটি অর্থকরী সম্পদ। গোবর থেকে আমরা বায়ো গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করতে পারি যা থেকে জ্বালানী ও ফসলি জমির উৎকৃ্ষ্ট সারের চাহিদা পুরন করা সম্ভব। এ ছাড়া , মাছের জলজ খাদ্য উৎপাদনে পুকুরে গোবর ব্যবহার করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ৩:১১ অপরাহ্ন
ক্যাকটাস চাষে আলতাফের মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা!
কৃষি বিভাগ

শখের বশে ৩০ টাকায় একটি ক্যাকটাস কিনে বাড়িতে লাগিয়েছিলেন বাগেরহাট জেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম চন্ডিপুরের যুবক আলতাফ হোসেন। এরপর শুরু করেন ক্যাকটাস চাষ। আজ সেই শখ থেকে গড়ে তুলেছেন ২৫০ প্রজাতির ক্যাকটাসের নার্সারি।

জানা যায়, এ ক্যাকটাস নার্সারি থেকে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয়ও করছেন তিনি। ক্যাকটাসের সঙ্গে তার নার্সারিতে রয়েছে নানা প্রজাতির অর্কিড, সাকুলেন্ট, বনসাই, অ্যাডেনিয়াম, ঝুলন্ত গাছও।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারাও আসছেন এ নার্সারিতে। চাহিদা সম্পন্ন ক্যাকটাসের চাষ সম্প্রসারিত হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতাও আসবে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

মরা বলেশ্বর নদীর পাশের এ গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন চাকরি করেন পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার রুপসী বাংলা নামের স্থানীয় একটি এনজিওতে। ২০১০ সালের কোনো এক দিনে পিরোজপুর বাজার থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি ক্যাকটাস কিনে বাড়িতে আনেন তিনি। পরম যত্নে ক্যাকটাসটি বড় করেন। এরপর থেকে মাঝে মধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির ক্যাকটাস কিনতেন আলতাফ। বাড়িতে ক্যাকটাসের সংখ্যা ও প্রজাতি বাড়তে থাকে। ক্যাকটাসের সঙ্গে অর্কিড, সাকুলেন্ট, বনসাই, অ্যাডেনিয়াম, ঝুলন্ত গাছও কেনেন তিনি। একপর্যায়ে পরিধি বাড়ায় ২০১৬ সালে ঘরের সামনের তিনটি শেড করে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাকটাসের চাষ শুরু করেন। পরে আরও দু’টি শেড তৈরি করে নার্সারি বড় করেন আলতাফ।

এরপর থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আরও বেশি ক্যাকটাস ও অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধক গাছ সংগ্রহ করতে থাকেন। বর্তমানে তার এ নার্সারিতে ২৫০ প্রজাতির ক্যাকটাস, নানা প্রজাতির অর্কিড, সাকুলেন্ট, বনসাই, অ্যাডেনিয়াম ও শোভাবর্ধক ঝুলন্ত গাছ রয়েছে।

এর মধ্যে আমেরিকা, থাইল্যান্ড, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ অন্তত আটটি দেশের ক্যাকটাস রয়েছে। দেশি-বিদেশি ক্যাকটাসের মধ্যে রয়েছে রেবুসিয়া, মেলো, ফেরো, গোল্ডেন ব্যারেল, বানিয়ইয়ার-অপানসিয়া, ক্রিসমাস, এস্টার জিমনো, লিথসপ, মুন ইত্যাদি। এর সঙ্গে রয়েছে শতমূলী, ঘৃতকুমারী, লজ্জাবতীসহ নানা প্রজাতির ঔ ষধি গাছ। যার বাজার মূল্য অন্তত সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকা। গাছের সঙ্গে ক্যাকটাস রেডিমিক্স সয়েল, সাকুলেন্ট সয়েল, কোকোপিট, হাড়ের গুড়াসহ ক্যাকটাস চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও বিক্রি করেন তিনি।

এ নার্সারির একেকটি গাছ ১৫০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। যা থেকে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় করেন আলতাফ। অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই তার গাছ বিক্রি হয়। করোনাকালে অনলাইনে বিক্রি বেড়েছে।

পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাট জেলার মধ্যে হলেও ক্যাকটাস নার্সারিটি আমার অফিস থেকে খুবই কাছে। তাই এখানে প্রায়ই আসি। মাঝে মধ্যে গাছ কিনি। খুবই ভালো লাগে নার্সারিটি আমার। মাঝে মধ্যে পরিবারসহও আসা হয় এখানে।
ফিরোজ হাওলাদার বলেন, আমাদের বাড়ির সামনের খাল পার হয়েই আলতাফ ভাইয়ের ক্যাকটাস নার্সারি। হরেক রকম গাছ দেখে আমাদের খুবই ভালো লাগে।

নার্সারির মালিক আলতাফ হোসেন জানান, রুপসী বাংলা এনজিওতে চাকরির পাশাপাশি এ নার্সারিতে সময় দিই। গাছগুলোর যত্ন করি। ক্যাকটাসসহ অন্যান্য গাছের যত্ন এখন আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। অনলাইন-অফলাইন দুইভাবেই গাছ বিক্রি করে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হয় আমার। ফেসবুকে অর্ডার দিলে আমরা কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিই। নার্সারির সামনে এলে খুবই ভালো লাগে। নার্সারিটি আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছা আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাকটাস একটি চাহিদা সম্পন্ন সৌখিন উদ্ভিদ। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রজাতি ভেদে নিম্ন ও উচ্চ মূল্যে এ উদ্ভিদ বিক্রি হয়। আলতাফ ক্যাকটাস চাষে সফলতা পেয়েছেন। অন্য কোন কেউ যদি ক্যাকটাস চাষ করতে চান, আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবো বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১
কৃষি বিভাগ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামল আউশ ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। নিহত ওই ব্যক্তি সুলতানপুর গ্রামের লিয়াকত আলী(৬০)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সুলতানপুর হাওরে ধান কাটা নিয়ে লিয়াকত আলী ও একই গ্রামের মাতাব মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এই বচসার জেরে বিকালে দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষের কয়েকজন লাঠি দিয়ে লিয়াকত আলীর মাথায় আঘাত করেন।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত লিয়াকতকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। নিহতের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আমন চাষ
কৃষি বিভাগ

পিরোজপুর জেলায় চলতি আমন চাষ মৌসুমে ৬১ হাজার ৬৩৫ হেক্টরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ শেষে দেখা গেছে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৬৩ হাজার ৮৬৩ হেক্টরে আমন চাষ করা হয়েছে।

একই সাথে আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৮ হাজার ১২১ মেট্রিকটন নির্ধারণ করা হলেও চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য উৎপাদন ১ লক্ষ ৭৩ মেট্রিক টন চাল হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার ৭ উপজেলার প্রতিটির আমন চাষের ও আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও জেলার ৫২টি ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় একযোগে বীজতলা তৈরির কাজ এবং আমন চারা রোপণের কাজ একযোগে চাষিরা সম্পন্ন করেছে । অনেক পৌর এলাকা ও উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে অধিক হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে।

এ পর্যন্ত সবকিছুই চাষিদের অনুকূলে রয়েছে বলে পিরোজপুর পৌর এলাকার লখাকাঠী গ্রামের আমন ধান চাষি ইউসুফ আলী জানান।

পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো: নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, উন্নত মানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ৫ একর আয়তনের ২১টি প্রদশর্নী প্লট তৈরি করা হয়েছে। সরকার এসব প্রদশর্নী প্লটের জন্য বীজ, সার, ওষুধ বিনামূল্যে চাষিদের সহায়তা করছে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৭টি কৃষক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। আমনের বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত এসব স্কুলের প্রত্যেকটিতে ৫০জন কৃষাণ কৃষাণী হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার ট্রেইনার এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কৃষাণ কৃষানীদের সুবিধামত সময় এসমস্ত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এদের প্রতিদিন ৭০ টাকা প্রশিক্ষণ গ্রহণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানান, এ জেলায় ইতিমধ্যেই চাষে ৯৯ ভাগ এবং ধান মাড়াইতে শতভাগ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। খুব দ্রুতই শতভাগ কৃষক এসব পদ্ধতি ব্যবহার করবে।

জেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আমন চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার বীজ সহজলভ্য হওয়ায় এবং এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ ৩:৪৩ অপরাহ্ন
তরমুজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে খুলনার চাষিদের
কৃষি বিভাগ

ঘেরের আইলে উৎপাদিত শসার চেয়ে মৌসুম ছাড়া উৎপাদিত তরমুজ চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় শসা ছেড়ে এখন তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন খুলনার কৃষকরা।স্থানীয় কৃষি অফিস থেকেও তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দশগুণ বেশি জমিতে তরমুজ উৎপাদন হচ্ছে।

খুলনার কৃষি অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, খুলনার শষ্যভান্ডার হিসেবে ডুমুরিয়া উপজেলার ব্যাপক পরিচিতি থাকলেও শসা উৎপাদনে সব সময় এগিয়ে রয়েছে জেলার তেরখাদা উপজেলা। এখানকার শসা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু দিনকে দিন দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা শষা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ ছাড়া শসা উৎপাদনে বেশি পরিমাণে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে মাটির উর্বরা শক্তি কমে যায়। পানির ক্ষতি হওয়ায় মাছের উৎপাদনও কমে যায়।

তেরখাদা কৃষি অফিস সূত্র অনুযায়ী, গত বছর তেরখাদা উপজেলায় মাত্র দেড় একর জমিতে (ঘেরের ভেড়িতে) তরমুজ উৎপাদন হয়। ওই বছরই ভালো দাম পান কৃষকরা। ফলে এবার উপজেলার আজুগড়া, শ্রীপুর, কাটেঙ্গা, নেবুদিয়া, পারেরখালি এলাকায় তিন হেক্টর জমিতে মৌসুম ছাড়া তরমুজ উৎপাদন হচ্ছে।

তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুম ছাড়া তরমুজ চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। যা শসার তুলনায় অনেক বেশি। এমনও হয়েছে যে, এক সপ্তাহ আগে যে শসা ১৫ থেকে ১৬ শত টাকা মণ বিক্রি হয়েছে, এক সপ্তাহ পরে গিয়ে সেই শসা ৩ শত টাকায় নেমে এসেছে। এতে কৃষক ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে শসা ছেড়ে এবার কৃষকরা মৌসুম ছাড়া তরমুজ চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ ৮:০২ পূর্বাহ্ন
মাল্টা চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন হান্নান শেখ
কৃষি বিভাগ

পিরোজপুরের নাজিরপুরের বলিবাবলা গ্রামে বিশাল এলাকা নিয়ে মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন সদর উপজেলার দূর্গাপুরের হান্নান শেখ।

হান্নান শেখ মাল্টা বাগান করে অল্প সময়ে পেয়েছেন প্রত্যাশিত সাফল্য। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

প্রায় ৪ বছর পূর্বে ৭ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন ব্যবসায়ী হান্নান শেখ। গাছ রোপণের পরের বছরই ফলন পেতে শুরু করেন হান্নান। এরপর থেকে প্রতিবছরই তিনি ওই জমি থেকে নিয়মিত মাল্টা পাচ্ছেন। আর এ মাল্টা বিক্রি করে লাভবানও হয়েছেন তিনি। মাল্টার পাশাপাশি তার একই জমিতে মাছের ঘের, মুরগি, গরু ও ছাগলের খামার রয়েছে।

প্রায় একযুগ আগে পিরোজপুরে বাণিজ্যিকভাবে বারি-১ প্রজাতির মাল্টা চাষ শুরু হয়। এরপর এ মাল্টাকেই জেলা ব্র্যান্ডি করা হয়। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি মালটা খুচরা ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু হান্নানই নন, বর্তমানে মাল্টা চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন এ জেলার অনেক চাষি ও বেকার যুবকরা।

মাল্টা চাষে কোনো এখন পর্যন্ত সমস্যায় পড়তে হয়নি বলে জানিয়েছেন হান্নান শেখ। এ কারণে মাল্টা চাষ আরও সম্প্রসারণের আশা করছেন তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারেও মাল্টার অনেক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন এ চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পিরোজপুরে প্রথমে শখের বশে কেউ কেউ মাল্টা বাগান করতেন। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৯৫০টি মাল্টা বাগান রয়েছে। জেলায় বর্তমানে ১২৭ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান আছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop