৪:৫৭ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ১৩, ২০২১ ১:৪৬ অপরাহ্ন
চলনবিলে শুরু পুরোদমে ধান কাটা, স্থাপন কৃষকের অস্থায়ী বসতি
কৃষি বিভাগ

শুরু হয়েছে শস্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলে পুরোদমে ধান কাটা। এখানে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে দূরত্ব প্রাং ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার। এই দূরত্বের মাঝেই চাষ হয় ধান। সোনার ফসল ঘরে তুলতে কৃষক “ভাওরে” (স্থানীয় নাম) বসতি শুরু করেছেন। ধান কাটা শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দুই মাস কৃষক ভাওরে বসবাস করবে।

জানা যায়, এই কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দূরে থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে অসম্ভব হয়ে পড়ে। শত কষ্টে ফলানো সোনার ফসল ঘরে তুলতে বাধ্য হয়ে কৃষক মাঠের মধ্যেই স্থাপন করেছে অস্থায়ী বসতি। সবাই এখন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুধু তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২২ হাজার ৩ শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে।

চলনবিলে বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, ধান ঘরে তোলার জন্য চলনবিলে ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর (ভাওর) তৈরি করা হয়েছে। চলনবিলের বিশাল মাঠের এক কোনায় অস্থায়ী ভাওর (রাত্রিযাপন) তৈরি করা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাতের মধ্যেই সারারাত এই অস্থায়ী ঘরেই (ভাওর) রাতযাপন করেন কৃষকরা।

এ ছাড়া দিনের বেলাও প্রচণ্ড রোদ, ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সময়ে এই অস্থায়ী ঘরেই আশ্রয় নিয়ে থাকেন ক্লান্ত কৃষক-কৃষাণীরা।

সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের কৃষক আলতাব আলী জানান, ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। বাড়ি থেকে ধানের জমি দূরে হওয়ায় ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য জমির পাশে বিলের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে ভাওর তৈরি করে বসতি স্থাপন করেছেন। এখানেই তারা রান্না-খাওয়া ও রাতযাপন করছেন।

চাষিরা আরো জানান, বাড়ি থেকে জমির দূরত্ব হওয়ায় ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিলের মধ্যে জমির পাশে ভাওর করে অস্থায়ী বসতি করা হয়। অবশ্য এতে কৃষকের শ্রমিক মূল্য অনেকটা সাশ্রয়ী হয় বলে জানান তারা। চলনবিলের কৃষকের রান্না-খাওয়া সব কিছুই এখন বিলেই।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, চলনবিল এলাকার মাঠগুলো অনেক বড়। বাড়ি থেকে জমির দূরত্ব অনেক। তাই কৃষকরা তাদের সুবিধার্থে ধান কেটে মাড়াই করেন। ধান কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিলেই অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৩, ২০২১ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠি সদরে বোরো ধানের শস্য কর্তন উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): সমলয়ে চাষাবাদের আওতায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার বংকুরায় ৫০ একরের হাইব্রিড বোরো ধানের শস্য কর্তন উদ্বোধন করা হয়।

মঙ্গলবার উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী।

তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বীজ-সারের পাশাপাশি কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে সহযোগিতা করায় কৃষকরা পতিত জমিতে বোরো ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এর ফলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকের উৎপাদন খরচও পাবে হ্রাস। আগামীতে আরও বেশি জায়গায় চাষাবাদের আওতায় এনে কৃষিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন। মুজিবশতবর্ষে চলতি রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় এমন একটি কর্মসূচি সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তিনি কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কর্তন প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবেকুন নাহার।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিফাত সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেখেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল অমিন খান সুরুজ, স্থানীয় ইউনিয়নের কৃষকলীগের সভাপতি মো. দিলদার হোসেন নবীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিসহ শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৩, ২০২১ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
জয়পুরহাটে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

জেলায় চলতি ২০২১-২২ ফসল উৎপাদন মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৯‘শ ৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৩ শ ৫০ হেক্টর। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার বেল পাট।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারের পাট জাত দ্রব্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় পাটের মূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি হিসেবে পাট কাটিকে ব্যবহার ও পাট চাষে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া এসব কারণে জেলার কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পাট চাষ সফল করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে হাতে- কলমে চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের পাট বীজ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সারের মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা সহ অন্যান্য কার্যক্রম।

সূত্রটি আরো জানায়, বিগত এগারো বছরে জেলায় পাট চাষের হিসেবে দেখা যায়, ২০০৯-১০ মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯“শ ৬৯ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৯৫ হেক্টর। এতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭শ ৮০ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল ৮শ থেকে ৯শ টাকা মণ। ২০১০-১১ মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই ১ হাজার ৯শ ৬৯ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬শ ৯২ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৪৫ হাজার ৯শ ৫ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল বাম্পার ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ২ হাজার ২শ টাকা মণ।

২০১১-১২ মৌসুমে ৩ হাজার ৫শ ৪৫ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষ হয় ৪ হাজার ২শ ৯৪ হেক্টর এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৫৩ হাজার ৩শ ৮ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল ৮শ থেকে ১ হাজার ২শ টাকা মণ। ২০১২-১৩ মৌসুমে ৩ হাজার ২শ ৪২ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষ হয় ৩ হাজার ৩শ ৯৫ হেক্টর এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৪৫ হাজার ১শ ১০ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল ১২শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা মণ। ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ ১৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্জিত হয় ২ হাজার ৮শ হেক্টর । এতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ২০ হাজার ৮শ বেল।

এ বছর পাটের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৩ হাজার হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ২৬ হাজার ৪ শ বেল। এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১২ শ থেকে ১৮ শ পর্যন্ত। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ২ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ৯ শ ২৭ বেল।

এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১৫‘শ থেকে ১৮‘শ পর্যন্ত , ২০১৬-১৭ মৌসুমে ২ হাজার ৯২৯ হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৯১০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৩৯ হাজার ২‘শ ৯১ বেল। এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১৩‘শ থেকে ২ হাজার পর্যন্ত , ২০১৭-১৮ মৌসুমে ২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ১২০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ৪‘শ ৩২ বেল। এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১২‘শ থেকে ১৮‘শ পর্যন্ত , ২০১৯-২০ মৌসুমে ৩ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩৯ হাজার বেল পাট।

এ বছর প্রতিমন পাট বিক্রি হয় ১২‘শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত এবং ২০২০-২১ মৌসুমে ৩ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩৯ হাজার ৫‘শ বেল পাট। এ বছর প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ১৫‘শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি বাসস’কে জানান, চলতি ২০২১-২২ ফসল উৎপাদন মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৯‘শ ৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৩‘শ ৫০ হেক্টর। এবার বৃষ্টিপাত একটু দেরিতে হওয়ায় পাট চাষ এখনও অব্যাহত আছে। চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার বেল পাট উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১২, ২০২১ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
বগুড়ায় ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটায়। কৃষি বিভাগ আশা করছেন এবার সেখানে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে। সবমিলিয়ে এবার বগুড়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে হাসি কৃষকের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় বুধবার পর্যন্ত ৭২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ধানকাটতে বাগড়া দিচ্ছে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি থেমে যাবে। আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে কৃষকরা তাদের বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলে জানান ,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন।

জেলায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্র নির্ধারণ করা হয়। যা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল (চাল আকারে) ৭ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুক’ল থাকায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্র পূর্ণ হওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় হয়েছে । এবার উৎপাদন(চাল আকারে ) ৮ লাখ মেট্রিকটন অতিক্রম হওয়ার আশাবাদ করছেন জেলা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, বুধবার পর্যন্ত বগুড়ায় ৬৬ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হবে।

তিনি আরো বলেন জেলার শিবগঞ্জ , দুপচাঁচিয়া, কাহালু উপজেলায় আলু চাষ বেশি হয়ে থাকে । তাই এ তিন উপজেলায় বিলম্বে বোরো চাষ হয়েছে । এ তিন উপজেলয় ধান কাটতেও দেরী হবে। ৩ উপজেলা বাদ দিয়ে ৯ টি উপজেলায় ৯০ শতাংশ ধানকাটা শেষ হয়েছে। এবার শ্রমিক সমস্যা ছিল না। ধান কাটতে মাঠে ছিল সরকারের ভর্তুতি মূল্যে কম্পাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ।

এ ছাড়া করোনা কালে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। তারা ঘরে বসে না থেকে ধান ক্ষেতে ধান কেটেছে। ফলে ধান কাটা ্রনিয়ে কৃষকদের ভাবতে হয়নি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২১ ৭:২৩ অপরাহ্ন
হাওরে শতভাগ, সারা দেশের ৬৪ ভাগ বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ইতোমধ্যে হাওরের শতভাগ ও সারা দেশের শতকরা ৬৪ ভাগ বোরো ধান কর্তন শেষ হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান কর্তন সম্পন্ন হবে। সারা দেশে এবছর ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বোরো ধানের উৎপাদন পরিস্থিতি ও কৃষির সমসাময়িক বিষয়’ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।
এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, মহাপরিচালক(বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হাওরের শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারা অত্যন্ত আনন্দের ও স্বস্তির উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, হাওড়ভুক্ত ৭টি জেলায় এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে; যা দেশের মোট আবাদের প্রায় ২০ শতাংশ। আর শুধু হাওরে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে।
ধানকাটা মেশিন দ্রুত মাঠে দেয়া এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে শ্রমিকের সময়মত যাতায়াত সুগম করার ফলেই এ বছর দ্রুততার সাথে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর একই তারিখে সারা দেশের মাত্র ৩৩ ভাগ ধান কর্তন সম্ভব হয়েছিল। ধান কাটার মেশিন ও শ্রমিকের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, এবছর শুধু হাওড়ভুক্ত ৭ জেলাতেই বহিরাগত শ্রমিক আনা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার জন (৪৯১০৮ জন)। এছাড়া, এবছর ধান কাটতে ২৬২০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৭৮৯টি রিপার মাঠে চলমান আছে। ‘প্রতিবছর কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের ক্ষেত্রে এটি নতুন মাত্রাযোগ করেছে। এতে একদিকে শ্রমিক সংকট থাকলেও দ্রুত ধান কাটা যাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছে’ বলেও উল্লেখ করেন ড. রাজ্জাক। তিনি আরও বলেন, ‘অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদেরকে দেয়া হচ্ছে। এটি সারা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা’।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা । গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। এখন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত না আসলে বোরো ধান উৎপাদনে আর কোন প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা যায়। গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ১০ লাখ টন উৎপাদন বেশি হবে।
মন্ত্রী জানান, বোরো ধান দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বছরে মোট উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগের বেশি আসে এ বোরো থেকে। বছরে যে পরিমাণ (২ কোটি টনের মত) বোরো উৎপাদন হয়, তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, গত আউশ-আমনের ক্ষতি পোষাতে এবছর বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে, গত বছরের তুলনায় এবছর ১ লাখ ২৯ হাজার ৩১৩ হেক্টর বেশি (২.৭২% বেশি) জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭০ জন কৃষককে ২ লাখ হেক্টর জমি আবাদের জন্য ৭৬ কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়।
এবছর গড় ফলনের পরিমাণও বেশী হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গত বছর দেশে বোরো ধানের গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে ৩.৯৭ মেট্রিক টন; এবছর গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রতি হেক্টরে ৪.১৭ মে.টন। অর্থাৎ প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বেড়েছে এবছর ০.২০ মে.টন (৫.০৪%)। তবে সারা দেশের শতভাগ ধান কাটা হয়ে গেলে গড় ফলনের পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এই ফলন বেশি হওয়ার কারণ এ বছর হাইব্রিড ধানের উৎপাদন যেমন বেশি হয়েছে, উচ্চফলনশীল ধানের প্রচলন ও সম্প্রসারণও বেশি হয়েছে। এসময় তিনি ব্রি-৮১, ব্রি-৮৯, ব্রি-৯২ জাতের ধান-যেগুলোর ফলন প্রতি বিঘায় ২৫-৩০ মণ, চাষে কৃষকদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষিদেরকে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ১০৫জন কৃষককে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
চলতি আউশ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবছর ১৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্টিক টন চাল। এ লক্ষ্য অর্জনে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কৃষককে (কৃষক প্রতি ১ বিঘা) চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, মৌলভীবাজার জেলার পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে ১৫ মেট্রিক আউশ বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, আগামী ৩ বছরের মধ্যে পেঁয়াজ ও পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ অব্যাহত আছে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২১ ৪:১৮ অপরাহ্ন
কৃষিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনে সিসিডিবি’র “কৃষি বন্ধু চুলা” বিতরণ
কৃষি বিভাগ

স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ পর্যন্ত জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। জমি কমেছে অথচ খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। প্রতিবছর এক শতাংশ হারে ৫০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। অপরদিকে জনসংখ্যা প্রতি বছর ১.৫৪% হারে বাড়ছে। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য একই জমিতে প্রতিনিয়ত চাষাবাদ এবং মাত্রাঅতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে দিন দিন মাটি তার প্রান শক্তি কার্বন ও জৈব উপাদান হারাচ্ছে।

এভাবে ক্রমবর্ধমান হারে চলতে থাকলে মাটি অচিরেই কার্বন শূন্য হয়ে তার ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারাবে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে জৈব প্রযুক্তিতে চাষাবাদ অতীব জরুরী।

আন্তর্জাতিক জৈব প্রযুক্তি সম্মেলনে কৃষি বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ’শুধু জৈব প্রযুক্তি দিয়ে অতিরিক্ত ৩ কোটি মেট্টিক টন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব’। বলা বহুল্ল যে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য মাটিতে বায়োচার ও বায়োচার ইনরিচ অর্গানিক ফার্টিলাইজার ব্যবহার (কার্বন সমৃদ্ধ জৈব সার) হতে পারে একমাত্র হাতিয়ার।

বায়োচার এক ধরনের চার বা কয়লা যার মধ্যে ৩০-৫৫% কার্বন থাকে। এই কয়লা এক ধরণের চুলা (”কৃষি বন্ধু চুলা”) ৩০০-৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্বল্প অক্সিজেনের উপস্থিতিতে এবং পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে বায়োমাস (কাঠ, খড়-কুটা এবং কৃষি বজ্য) পুড়িয়ে বায়োচার তৈরী করা হয়। বায়োচার মাটিতে ব্যবহার করলে মাটির কার্বন/ জৈব উৎপাদান বৃদ্ধি পায়, লবনাক্ততা হ্রাস করে, পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, পুষ্টি উৎপাদান ধরে রাখে, মাটির বিষাক্ত পদার্থ ফসলে আসতে দেয় না, মাটিতে অবস্থানকারী অনুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট মোকাবেলায়- কৃষিতে বায়োচার একটি উত্তম অনুষঙ্গ।

বায়োচার তৈরীর নতুন প্রযুক্তি ”কৃষি বন্ধু চুলা”য় স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রান্না, জ্বালানী ও সময় স্বাশ্রয়, অগ্নি দূর্ঘটনা ও বায়ু দুষণরোধ, কার্বন নিঃস্বরণ কমানো এবং উৎপাদিত বায়োচার ব্যবহার করে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিকে সময় উপযোগী সুকৌশল বলে মনে করেন কৃষি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানি ও কর্মকর্তাগণ। অপরদিকে ”কৃষি বন্ধু চুলা” থেকে যে বায়োচার উৎপাদিত হবে তা বিক্রি করে ব্যবহারকরীর পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন হবে এবং বায়োচার জমিতে ব্যবহারের ফলে মাটির উন্নয়নের পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি পাবে। সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্প এলাকা শিবালয় ও মান্দা উপজেলায় বায়োচার ব্যবহার নিয়ে কৃষক-কৃষানীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা ICCO এবং Kerk in actie এর আর্থিক সহায়তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় ”খ্রীস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইর বাংলাদেশ” (সিসিডিবি) মাঠ পর্যায়ে বায়োচর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করছে। বায়োচার প্রকল্পের শিবালয় কর্ম এলাকায় ১২০টি পরিবার ”কৃষি বন্ধু চুলা” ব্যবহার করছেন এবং চুলা থেকে উৎপাদিত বায়োচার বিক্রি করে আর্থিকবাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি নিজের জমিতে বায়োচার ও কার্বন সমৃদ্ধ জৈব সার ব্যবহার করে অধিক ফসল ঘরে তুলছেন। সিসিডিবি বায়োচার প্রল্পের মাধ্যম চলতি মে’২০২১ মাসে অত্র শিবালয় কর্ম এলাকায় আরও ২৫০টি পরিবারে ”কৃষি বন্ধু চুলা” প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্থাপন করা হবে যা পর্যায়ক্রমে স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

বর্তমানে সিসিডিবি’র বায়োচার প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে বায়োচার ব্যবহারকারী কৃষকের জমিতে ডেমো স্থাপস, বায়োচারের কার্যকারীতা পরীক্ষণ ও বায়োচার ব্যবহার এবং গবেষণা কাজের সাথে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাট গবেষনা ইনস্টিটিউট, হাজী দানেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, শেরে-ই-বাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় সম্পৃক্ত রয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২১ ১:০২ অপরাহ্ন
মাগুরায় বাঙ্গির বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি মৌসুমে মাগুরা জেলার বিভিন্ন মাঠে বাঙ্গি চাষ করেছেন শতাধিক কৃষক। কম পুঁজিতে বেশি মুনাফা ও প্রচুর ফলন হওয়ার কারণে প্রতি বছর তারা বাঙ্গির চাষ করে আসছেন। তাছাড়া এলাকার কৃষি জমি বাঙ্গি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

জীবন-জীবিকার জন্য প্রধান ফসল হিসেবে এখানে দীর্ঘদিন ধরে বাঙ্গি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। অনেকে কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খেয়ে থাকেন। ফল পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। বাঙ্গি মূলত পাকা ফলের সুমিষ্ট সৌরভের কারণে বিখ্যাত। একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি ফেটে যায়। তাই অধিকাংশ বাঙ্গি ফাটা দেখতে পাওয়া যায়।

ফলের ওজন এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এটি চাষের খরচ তুলনামূলক কম, আয় বেশি। তাই চাষিরা বাঙ্গি চাষে বেশ আগ্রহী। বাঙ্গি চাষের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী। উর্বর বেলে দো-আঁশ ও পলি মাটি বাঙ্গি চাষের জন্য বেশি ভালো।

বাঙ্গি চাষি দেলোয়ার বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ করেছি। সব মিলিয়ে প্রায় চল্লি­শ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক লাখ বিশ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছি। আরো প্রায় ৮থেকে ১০ হাজার টাকার বাঙ্গি মাঠে রয়েছে।

আরেক কৃষক শরিফ বলেন, আমাদের বাঙ্গি বীজ নিজেরাই সংগ্রহ করে রাখি পরবর্তী বছরের জন্য। গতবছর বৃষ্টি ও শিলা হওয়াতে বাঙ্গি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তবে চলতি বছরে বাঙ্গির উৎপাদন থেকে প্রচুর লাভ হয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, চলতি মৌসুমে মাগুরায় বাঙ্গির চাষ তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ চাষ সফল করার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার বীজ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষকদের স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২১ ১২:১০ অপরাহ্ন
ব্রি হাইব্রিড ধান জাত ৩ ও ৫ চাষে লাভবান কৃষক
কৃষি বিভাগ

ব্রি হাইব্রিড-৩ ও ৫ জাতের ধান হেক্টর প্রতি ১০ থেকে ১০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন উৎপাদন ফলাফল প্রদর্শনীর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার(১০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অস-বাংলা এগ্রো কর্তৃক আয়োজিত ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর গ্রামে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মাঠ দিবসে অস-বাংলা এগ্রো-এর সিনিয়র ব্রিডার কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে অস-বাংলা এগ্রো ঈশ্বরদীর সহযোগিতায় গত তিন বছর থেকে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হেক্টর জমিতে ৪০০ কৃষক ব্রি হাইব্রিড ধান-জাত ৩ ও ৫ আবাদ করে লাভবান হয়েছেন। সেই কারণে প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবারও ঈশ্বরদীতে মাঠ দিবসের মাধ্যমে এই জাতের ধান চাষ করার জন্য অত্রাঞ্চলের কৃষকদের উব্ধুদ্ধ করা হচ্ছে।

অস-বাংলা এগ্রো-এর সিনিয়র ব্রিডার কৃষিবিদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে অস-বাংলা এগ্রো প্রোডাক্টশন সুপার ভাইজার হাবিবুর রহমান ও বিশিষ্ট কৃষক কবীর আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২১ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
জুড়ীতে নিম্নআয়ের লোকদের জন্য ‘ফ্রি সবজি বাজার’
কৃষি বিভাগ

করোনা সংক্রমণে নিম্নআয়ের মানুষের অর্থনিতক অবস্থা নাজেহাল। তাই পবিত্র রমজান ও ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি হতদরিদ্রদের সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় বাজার বসিয়ে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১০ মে) উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে ‘আল-ইখওয়ান সমাজ কল্যাণ সংস্থার সদস্য, প্রবাসী এবং এলাকাবাসীর অর্থায়নে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য ‘ফ্রি সবজি বাজার’ আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানের শেষ মুহূর্তে, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ সংকটময় মুহূর্তে দুস্থ ও অসহায়রা এখান থেকে বিনামূল্যে সবজি ও নিত্যপণ্য পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এ সংগঠনের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ফ্রি সবজি বাজারকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সবজি নিতে আসা হতদরিদ্র বড়ধামাই গ্রামের ইসলাম উদ্দিন (৪৫) জানান, ফ্রি সবজি বাজার থেকে সবজি, ডিম ও মুরগি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। এই মুহূর্তে এসব খাবার ফ্রিতে দেওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।

নয়াবাজার আল-ইখওয়ান সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন জানান, আমরা হতদরিদ্রদের মধ্যে ডিম, টমেটো, আলু, ঢেঁঢ়স, কাচা মরিচ, বেগুন, কুমড়া ও মুরগি ইত্যাদি বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আগামীতেও আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।লকডাউন চলাকালীন গত বছর এবং এবছর আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল সহ অনেক নিত্যপণ্য বিতরণ করেছি। এখন ঈদকে সামনে রেখে শাক-সবজি ও নিত্যপণ্য দরিদ্রদের জন্য ফ্রিতে বিতরণ করার ব্যবস্থা করেছি বলে জানান তিনি।

সংগঠনের সভাপতি আশরাফুজ্জামান রিশাদ জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কর্মহীন মানুষেরা খাবার সংকটে পড়েছেন। এ কারণে ফ্রি সবজির বাজার থেকে প্রায় তিন শতাধিক দরিদ্র মানুষকে ইচ্ছামতো সবজি ও নিত্যপণ্য দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদেরকে এলাকাবাসী সহ প্রবাসীরা সহযোগিতা করেছেন।

এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন, নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও অত্র সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা লিয়াকত আলী খান, সংগঠনের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন, সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১০, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ন
যশোরে এক বোঁটায় ৭ লাউ!
কৃষি বিভাগ

এক বোঁটায় ৭টি লাউ! এই যেন চাঞ্চল্যকর খবর। তবে প্রকৃতির নিয়মেই এক বোঁটাই একটি করে লাউ ধরলেও মাঝে মাঝে প্রকৃতিতেও আসে পরিবর্তন। আর ঠিক তেমনটি হয়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার কোটা গ্রামে স্থানীয় কামরুল হাসানের বাড়িতে। এতো লাউ ধরার চাঞ্চল্যকর খবর পেয়ে সেই গ্রামে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে উৎসুক জনতার।

এ বিষয়ে কামরুল হাসান জানান, তার রোপিত এই লাউগাছে প্রথমে এক বোটায় ১১টি লাউয়ের জালি ধরেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সাতটি লাউ বড় হয়েছে। বাকি লাউগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই লাউ দেখতে এলাকার লোকজন আমাদের বাড়িতে ভিড় ।

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী বলেন, জানান, হাইব্রিডসহ প্রায় ১২ রকম জাতের লাউ এ অঞ্চলে আবাদ হয়ে থাকে। এ রকম ঘটনা সচরাচর তেমন একটা ঘটে না। তবে জেনেটিকের কারণে একটি বোটায় একাধিক লাউ ধরতে পারে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop