৬:৩০ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ১০, ২০২১ ৭:৫১ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ কৃষিবিদ পরিষদের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জ কৃষিবিদ পরিষদের উদ্যোগে গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার(১০ মে) সকাল ১১ টায় হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. আবু জাহির।

হবিগঞ্জ কৃষিবিদ পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট আবু জাহির বলেন, ‘হবিগঞ্জের কৃষিবিদদের উদ্যোগে দুঃস্থ অসহায় মানুষরা আজ সহযোগিতা পাচ্ছেন। বর্তমান সরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। হবিগঞ্জের কৃষিবিদরা ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রামে পড়াশুনা করে কৃষিবিদ হয়েছেন। বর্তমানে হবিগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের সুযোগ বাড়বে ও কৃষিখাতের উন্নয়ন হবে।

অনুষ্ঠানে মোট ৮৫ জন দুঃস্থ অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম, হবিগঞ্জ কৃষিবিদ পরিষদের আহবায়ক মোঃ আলাউদ্দিন ও সদস্য সচিব শেখ সাজিদুর রহমান,উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ,সুমিত সরকার, যুগ্ম আহবায়ক তারেক আহমেদ চৌধুরী, মোঃ নাদিরুজ্জামান, সুদীপ কুমার দেব, সদস্য সজল চন্দ্র শীল, উপমা দেবনাথ কেয়া, ইফতেখার আহমেদ ফাগুন সহ অন্যন্য নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১০, ২০২১ ৫:১৯ অপরাহ্ন
বরিশালে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরোর আবাদ
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি বরিশালের কৃষকরা। ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় জেলার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে এবার। জেলার ১০ উপজেলায় ৫২ হাজার ৮’শ ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে বরিশালের ১০ উপজেলায় ৫২ হাজার ৮’শ ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ২৫ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে উফসি ও দুই হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো ধান উৎপাদিত হচ্ছে। যা চলতি বোরো মৌসুমে জেলার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ১৩’শ ২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। বিনামূল্যে কৃষকদের সার-বীজ ও প্রণোদনা দেওয়ায় এ অর্জন বলে মনে করেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, এখানকার প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৪ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হলেও মোট উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯’শ ৩৪ মেট্রিক টন ধান। জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ফল হয়েছে আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায়।
প্রান্তিক কৃষক জলিল হাওলাদার জানান, ৪০ বছর বয়সেও বোরো ধানের এত বেশি ফলন দেখিনি। এবার ধান বিক্রি করেও লাভবান হওয়া যাবে। ফলন ভালো হওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি।

কৃষক খলিল জমাদ্দার জানান, ধান-চালের ন্যায্য দাম পেলে আগামীতেও বোরো ধান চাষ করবো। আর এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ভালো ভাবেই ধান কেটে শুকিয়ে মজুদ করতে পেরেছি।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তাওফিকুল আলম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে সময় মতো সব ধরনের সহায়তা দেয়া হয়েছে। কৃষকরা গত বছর ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়েছে। বিনামূল্যে কৃষকদের সার-বীজ ও প্রণোদনা দেওয়ায় কৃষকদের মাঝে বোরো ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এতে জেলায় বোরোর কাঙ্খিত লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। যা দেশের কৃষি জিডিভিতে প্রভাব ফেলবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১০, ২০২১ ৪:০৪ অপরাহ্ন
চেরাগি পাহাড়ে নিম্নআয়ের লোকদের জন্য ফ্রি সবজি বাজার
কৃষি বিভাগ

চেরাগি পাহাড় মোড়ে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষকে আলু, টমেটো, বেগুন, লাউ, শাক, ঢেঁড়সসহ রকমারি সবজি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (৯ মে) কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমানের নির্দেশে চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক কেবিএম শাহজাহান ও সালাউদ্দীন আহমেদের পরামর্শে এ সবজি বাজারের উদ্যোগ নেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ২০২১ এর আপ্যায়ন উপ পরিষদের আহ্বায়ক মো. হেলাল উদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ওসমান গণি মানিক, হায়দার আলী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. মকসুদ আলী, আসিবুল আলম, সাইফুল ইসলাম মামুন, আরিফ মঈনুদ্দীন, মো. নাসির, সুজয়মান বড়ুয়া জিতু, নগর ছাত্রলীগের উপ ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবির আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন শুভ, মহিউদ্দীন রিসাত, মো. নাজিম, রাহুল দত্ত, নগর ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল ওয়াজেদ, আব্দুল্লাহ আল মঈন, মুবিনুল হক, হাসান রেজা কায়েস, জয় মহাজন, আব্দুল ওয়াজেদ রিফাত, মনিরুল মোস্তফা, মোন্তাকিম রহমান চৌধুরী, জাহেদুল আলম শাকিল প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৯, ২০২১ ৭:২৫ অপরাহ্ন
পীরগঞ্জের ১৩ সহস্রাধিক কৃষক পেয়েছেন পুনর্বাসন ও প্রণোদনা
কৃষি বিভাগ

২০২০-২০২১ অর্থবছরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১৩ হাজার ৪শ’৩০জন কৃষক বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়ে উপকৃত হয়েছে। কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কার্যক্রমে ওই সংখ্যক কৃষককে সার ও বীজ দেয়া হয়।

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাদেকুজ্জামান সরকার জানান, কৃষি বান্ধব সরকারের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের বরাদ্দ বীজ ও সার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১৩ হাজার ৪শ’৩০জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়। এর মধ্য প্রণোদনা কার্যক্রমে ৮ হাজার ১শ’১০জন কৃষককে বোরো হাইব্রিড ধান, চিনা বাদাম, পেঁয়াজ, সূর্যমূখী, ভুট্টা, আউশের বীজ ও চিনা বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টা চাষিদের বীজের পাশাপাশি সার দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও পুনর্বাসন কার্যক্রমে ৫হাজার ৩শ’৬০ জন কৃষককে গম, সরিষা, মসুর, টমেটো, মরিচ, খেসারি বীজ ও সরিষা, টমোটো, মরিচ চাষিদের বীজের পাশাপাশি সার দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রণোদনা কার্যক্রমে ৫ হাজার ৮শ’ কৃষককে বিঘা প্রতি ২কেজি করে হাইব্রিড ধান, ২০জন কৃষককে বিঘা প্রতি ৭কেজি করে চিনা বাদাম ও সার, ৬০ জন কৃষককে বিঘা প্রতি ২৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজের বীজ ও সার, ১শ’৯০জন কৃষককে বিঘা প্রতি কেজি করে সুর্যমুখী, ৮শ’কৃষককে বিঘা প্রতি ২ কেজি করে ভুট্টার বীজ ও সার, ১ হাজার ২শ’কৃষককে কেজি করে আউশ ধানের বীজ ও সার দেয়া হয়েছে।

পুনর্বাসন কার্যক্রমে ১ হাজার ৩০জন কৃষককে বিঘা প্রতি ১৫ কেজি করে গম, ১ হাজার ৩০জন কৃষককে বিঘা প্রতি ১কেজি করে সরিষা বীজ ও সার, ৬শ’২০জন কৃষককে বিঘা প্রতি ৮কেজি মসুর ডাল, ১ হাজার ৩০জন কৃষককে বিঘা প্রতি ৫০গ্রাম করে টমেটো বীজ ও সার, ১ হাজার ৫০জন কৃষককে বিঘা প্রতি ৩০০ গ্রাম মরিচের বীজ ও সার, ৬শ’কৃষককে বিঘা প্রতি ৬কেজি করে খেসারি ডাল বীজ দেয়া হয়েছে।

বড়দরগাহ ইউনিয়নের জীবানন্দপুর ও হাজীপুর গ্রামের কৃষক নয়ন চন্দ্র বর্মন, মধু চন্দ্র বর্মন, আব্দুল কাফি মিয়া, জামাল উদ্দিন জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে আমরা উপকৃত। পাশাপাশি নিয়মিত কৃষি অফিসের মাঠ কর্মীরা ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।

পেঁয়াজ চাষি মিঠিপুর ইউনিয়নের একবারপুর পুর্বপাড়ার মুসা মিয়া ও মিঠিপুরের আব্দুর রউফ, রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুরের আব্দুস সালাম জানান, কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ পেয়ে লাভবান হয়েছি।

শানেরহাট ইউনিয়নের ধল্লাকান্দির আতিকুর রহমান, পালানুসাহাপুরের আলতাব, দামোদরপুরের রহিমা বেগম, রায়পুর ইউনিয়নের কাঞ্চনগাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ফারুক মিয়া, মদনখালি ইউনিয়নের জাফরপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন ও মন্টু মিয়া জানান, নিজেরা সর্বনিম্ন ২৫শতক থেকে সর্বোচ্চ ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফসল চাষ করেছি। স্বল্প সময়ে এ ফসল গড়ে উঠেছে, মুনাফার সম্ভাবনা দেখছি আমরা।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৯, ২০২১ ১২:১৭ অপরাহ্ন
দু‘হাজার হেক্টর জমিতে মেহেরপুরে কচু চাষ
কৃষি বিভাগ

অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক যত্নের কারণে এবার মেহেরপুর জেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে কচু। মেহেরপুরের কচুর চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে মনে করেন এবার এই জেলার চাাষিরা কচু চাষে ভালো দাম পাবেন এবং এতে করে তারা লাভবানও হবেন। ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার মেহেরপুরের কচু চাষিরা খুশি।

অন্যান্য বছরের চেয়ে জেলায় এবার আউশ কচুর আবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। বাজারমূল্যও ভালো। বিঘা প্রতি ১৪/১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪০/৪৫ হাজার টাকা ঘরে তুলেছেন চাষিরা। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে এবার জেলায় আউশ কচুর আবাদ হয়েছে এক হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে।

সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন কচু চাষি জানান, এবছর সাত বিঘা জমিতে আউশ কচুর চাষ করেছি আমরা। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে ধান চাষের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো।

জেলা সদরের কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান- মেহেরপুর জেলার কচু সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার বাজারে এর চাহিদা যথেষ্ট। মেহেরপুরের কচু নামেই কচু বিক্রি হয়। ফলে ব্যবসায়ীরাও চাষিদের জমি থেকে কচু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ জানান- সবজি উদ্বৃত্ত জেলা মেহেরপুরে প্রতি বছরই চাষিরা আউশ জাতের কচুর চাষ করে থাকেন। কৃষকরা ধান চাষে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কচু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চাষিদের ভালো বীজের চাষ ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করাসহ মাঠ পর্যায়ে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শও দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৯, ২০২১ ১২:০১ অপরাহ্ন
যমুনার বালু চরে কাউন চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

সাঘাটায় যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালু চরে কাউন চাষের দিকে ঝুঁকছেন সেখানকার চাষিরা। চরে এখন ব্যাপকভাবে কাউন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। সারাদেশে কাউন চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে গেলেও আবার কৃষি বিভাগের উদ্যোগে নতুন করে উচ্চ ফলনশীল বারী-২ জাতের কাউন চাষের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর চিনিরপটল, কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, হলদিয়া, কানাইপাড়া, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি ও পাতিলবাড়িসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকরা নতুন উদ্যোমে কাউন চাষ শুরু করেছে। একসময় যমুনা নদীর ভাঙন আর বন্যার কারণে দরিদ্রসীমার নীচে ছিল চরাঞ্চলের মানুষের বসবাস। সে সময় এই এলাকাকে মঙ্গাপীড়িত অঞ্চল বলা হতো।

তৎকালীন কাউনের চালের ভাত, পায়েস ও পান্তা খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো চরাঞ্চলের মানুষ। সেই কাউন এখন আর দরিদ্র মানুষের খাবার নয়, কাউনের চালের পিঠা, পায়েস ও মলাসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী গ্রাম বাংলার পাশাপাশি শহরের মানুষের শখের খাবারে পরিণত হয়েছে।

একসময় চরাঞ্চল জুড়েই ছিল শুধু বালু আর বালু, এখানে কোনো ফসল হতো না, কিছু কিছু জমিতে কেবল কাউনের আবাদ হতো তখন চরের মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসাই ছিল কাউনের আবাদ করা আর নদীতে মাছ ধরা।

এর আগে, দেশি জাতের কাউনের ফলন কম হওয়ায় দিন দিন কাউনের আবাদ সারাদেশের ন্যায় সাঘাটায় চরাঞ্চল থেকেও হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান কৃষি গবেষণায় নতুন উদ্ভাবিত বারী কাউন-২ জাতের বাম্পার ফলন হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষক এখন আবার কাউন চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

কৃষক ময়নুল হোসেন জানান, চরের একজন কৃষক ১৫ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত জমি কাউনের চাষ করে থাকে। এর আগে, ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা ব্যয়ে দেশি জাতের কাউনের আবাদ করে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ কাউন ফলন হতো। ফলনও কম, বাজারে দামও ছিল অনেক কম। ফলে কাউন চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় দিনদিন কাউন চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ছিল কৃষকরা। বর্তমানে একই পরিমাণ টাকা ও শ্রম খরচ করে বারী কাউন-২ জাতের প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন হয় ১০ থেকে ১২ মণ। প্রতি মণ কাউন বাজারে বিক্রি হয় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। খরচও কম, লাভও বেশি।

গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাহমুদ জানান, বিগত ৫ বছর ধরে বাংলাদেশ কৃষি গবেণার উদ্ভাবিত বারী কাউন-২ সহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের পরামর্শে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন উদ্ভাবিত জাতের শস্য বীজ ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে চরাঞ্চলের কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষিখাতে আরো এগিয়ে নিতে গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৮:০৬ অপরাহ্ন
কৃষির উন্নয়ন হয়েছে কৃষকের হয়নি
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের শহুরে নিম্নবিত্তের আয়ের প্রায় শতভাগই খাদ্যসংক্রান্ত খাতে ব্যয় হয়ে যায়। মধ্যবিত্তের সিংহভাগ উপার্জনও বাসা ভাড়া ও খাদ্যপণ্য ক্রয়ে ব্যয় হয়।জলাশয়ের পানির স্বল্পতা, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের উচ্চ খরচ কিংবা দুষ্প্রাপ্যতা, ঋতু পরিবর্তন, খরা, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জঞ্জাল, উচ্চ সুদের কৃষিঋণ এবং কৃষি উপকরণের কোম্পানিনির্ভরতার প্রত্যক্ষ কারণে দিন দিন বাড়ছে কৃষি উৎপাদন ব্যয়। মূল্যবৃদ্ধির কিছু পরোক্ষ কারণও রয়েছে।

চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বাম্পার ফলন
বাংলাদেশে বিশেষ এলাকায় বিশেষ ফলন বেশি হয়। সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় বাম্পার ফলন হলেই দাম পড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক। উৎপাদনমূল্যের বিপরীতে বাজারমূল্য কম হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি স্বাধীনতার ৫০ বছরেও চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ।

সারে সরকারের দেওয়া ভর্তুকিতেও পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে। জমির পরিমাণ ও ফসলের চাহিদামাফিক সারের ডিজিটাল সরবরাহব্যবস্থা নেই, ফলে নিবন্ধনের বিপরীতে মোবাইল পের মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া যা না। শেষপর্যন্ত লাভবান হয় দলীয় ডিলার। সরকার–নির্ধারিত মূল্যে কখনোই সার বিক্রি করে না ডিলার, কৃষকের কাছ থেকে আদায় করে ঘুষ ও অতিরিক্ত মূল্য। কৃষিভর্তুকির আমূল ডিজিটাল সংস্কার জরুরি। জাতীয় পরিচয়পত্র, চাষাবাদের জমি ও পেশাভিত্তিক ফলন নিবন্ধন, সার সরবরাহ, ঋণ-প্রণোদনা-ভর্তুকি প্রদানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় যেতে হবে। দালালদের পাশ কাটিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় সরাসরি কৃষক থেকে ধান কেনার মডেলে যেতে হবে।

বৈচিত্র্যহীন চাষের একচেটিয়া মডেলে একটি এলাকায় সবাই ধান করলে চাইলেও অন্য ফলন করা যায় না। ফলন বৈচিত্র্য ও বাজার চাহিদামাফিক নিবন্ধন কৃষি প্রশাসনের কাজ। দেশীয় জাতের ফলন থেকে চাষি একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়া বিশেষ জাত দু-তিন বছরে নাই হয়ে যায়। কৃষক জিএমও বীজ ও চারা নির্ভর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই এরা রোগবালাই এবং পতঙ্গ–প্রতিরোধী নয় বলে অতিরিক্ত সার, কীট-ছত্রাক ব্যবহার করতে হয়। এগুলোর ব্যবহারে উপকারী পোকার প্রজাতি নষ্ট হচ্ছে, শক্তিশালী হয়ে উঠছে ক্ষতিকারক পোকামাকড়-ছত্রাক। ক্রমবর্ধমান রাসায়নিক নির্ভরতার বিপরীতে জৈব-রাসায়নিক সমন্বিত চাষাবাদের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বানানো দরকার।

এক দিকে মুলা, ফুলকপির অতিরিক্ত ফলন হচ্ছে অথচ অন্য ফসলের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদনই হচ্ছে না। প্রতিবছর আদা, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

খরুচে এবং নিরানন্দ কৃষিশ্রম
উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোকে আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কৃষক সস্তায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ভাড়া নিতে পারতেন। কায়িক শ্রম, উচ্চ মূল্য থেকে মুক্তি পেলে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে উৎসাহিত হবেন। কৃষি সরঞ্জাম ক্রয়ে সরকার ভর্তুকি দেয়, কিন্তু নষ্ট যন্ত্র মেরামত ও সংরক্ষণের কারিগরি সেবা নেই বলে এই ভর্তুকি কাজে আসে না।

পাইকারি বাজারে কৃষকের অধিকার
কারওয়ান বাজারসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক বাজারগুলো পাইকারদের দখলে থাকে, দালালদের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা বাজারসংলগ্ন রাস্তা পর্যন্ত ভাড়া দেয়। ব্যক্তি কৃষকের এখানে ফসল নিয়ে আসার সুযোগ নেই। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদনের পেছনে যে মান, পরিশ্রম, পরিবেশ ও বৈচিত্র্যগত বহু গল্প থাকে, ক্রেতার তা অজানাই থাকে। নেই মূল কৃষক ও দালালদের মধ্যে মূল্য প্রতিযোগিতাও।

মানহীন কৃষিপণ্য পরিবহন
শাকসবজি, ফল, খাদ্যশস্য, মাছ প্রায় সবই খোলা ট্রাকে, বাসের ছাদে কিংবা বাক্সে অত্যন্ত গরমের মধ্যে, অত্যধিক বাতাসে, রোদে পরিবহন করা হয়। শ্রেণীকৃত, হিমায়িত, তাপানুকূল ‘ফুডগ্রেড’ পরিবহন ব্যবস্থা নেই। মহাসড়কের পাশে, ফেরিঘাটে, যানজটে মাইলের পর মাইল দাঁড়িয়ে থাকে কৃষি পণ্যবাহী ট্রাক। এতে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, জ্বালানি খরচ বাড়ে, পণ্য নষ্ট হয়, দামও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য শুধু পরিবহনে নষ্ট হয়।

দাম বাড়াচ্ছে চাঁদাবাজি
রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মহাস্থান হাট থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে আসতেই সব ধরনের সবজির দর বেড়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত। পথে পথে চাঁদাবাজি। পণ্যবাহী ১০ টনের একটি ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকা। হাইওয়ে পুলিশের পণ্য পরিবহনে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া কথা, অথচ তারাই বেশি চাঁদাবাজি করে। যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীই চাঁদাবাজি করে, সেখানে কৃষিপণ্যের দাম কীভাবে কমবে। এর সঙ্গে যোগ হয় স্থানীয় সমিতির চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, পাইকারি বাজারের স্থান ও দালালের খরচ। দালালেরা স্থানীয় বাজারে সিন্ডিকেট নির্ধারিত পাইকারি মূল্যে পণ্য বিক্রিতে কৃষককে বাধ্য করে। কৃষিপণ্যের জন্য বিশেষ সুবিধার সড়ক পরিবহনের চিন্তা সরকারের নেই। দেশের সবজি ও কৃষি উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে বিভাগীয় শহরের সঙ্গে ট্রেন সংযুক্ত করার কাজ এখনো বাকি। বগুড়া-সিরাজগঞ্জের মতো দরকারি কৃষি রেল রুট কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহনবান্ধব বিশেষ রেল কোচ এখনো চালু করা যায়নি। কৃষি হাবগুলো থেকে মহানগরে পণ্য পরিবহনের জন্য শ্রেণীকৃত তাপানুকূল, হিমায়িত ট্রেন কোচ বা বিশেষ সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলে বহুস্তরের চাঁদাবাজির লাগাম টানা যেত। তরমুজের দাম বাড়ার পর জেলা প্রশাসনকে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ধরনের লোকদেখানো সস্তা কাজ না করে পুলিশের উচিত বহুস্তরের চাঁদাবাজি থামানো। বাজারব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে দালাল ও পাইকার গোষ্ঠী সাময়িকভাবে ক্রয় বন্ধ করে পচনশীল কৃষিপণ্যের সমূহ ক্ষতি করতে সক্ষম।

চাই টেকসই স্টোরেজ অবকাঠামো
ঋণের কারণে ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না কৃষক, উৎপাদনের অব্যবহিত পরেই বিক্রি করে ঋণের কিস্তি কিংবা দেনা শোধ করতে হয়। তার ওপর উচ্চ আর্দ্রতার এবং উচ্চ তাপমাত্রায় পচনশীল সবজিজাতীয় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কোনো উপায়ই দেশে নেই, নেই অঞ্চল ও পণ্যভিত্তিক অবকাঠামো। ভিন্ন ভিন্ন ফসলের চাহিদা মোতাবেক আমাদের কোল্ডস্টোরেজ শ্রেণীকৃত নয়, দেখা যায় পুরোটাই আলুর উপযোগী! ফলে কৃষকেরা অ্যান্টি ক্লোরিনেটেড ওয়াটার, কার্বাইড কিংবা ফরমালিন ব্যবহার করছেন! উৎপাদিত পচনশীল শাকসবজি, ফল-ফুল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না–থাকায় মৌসুমের বাইরে ফলনের কোনো বাজার নেই। এতে কৃষক বেশি উৎপাদিত পণ্য মৌসুমেই কম দামে বাজারে ছাড়াতে বাধ্য হন। ভিন্ন ভিন্ন জাতের আম পাড়ার মধ্যে ফারাক তিন-চার সপ্তাহ, লিচুর মাত্র দুই সপ্তাহ, কাঁঠালের তিন-চার সপ্তাহ, সবজি ও ফুলের ক্ষেত্রেও দু-তিন সপ্তাহ। সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই কৃষককে বাজারজাত করতে হয়। তাই সমন্বিত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে বাড়তি পচনশীল পণ্য পানির দরে বিক্রি হয়। অথচ মৌসুমের পরেই কিন্তু বাজারে এগুলোর ভালো দাম থাকে। এতে বিষ মিশিয়ে সংরক্ষণের প্রবণতা বাড়ে। উপরন্তু বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিক্রির বড় কোন আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হয়নি। এর প্রধান কারণ হতে পারে, মানসম্পন্ন বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফুডগ্রেড সংরক্ষণ, মানসম্পন্ন প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় সংযুক্ত হওয়ার বিপণন ব্যর্থতা।

স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশের যত অর্জন, তার মধ্যে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম কৃষি উৎপাদনকারী দেশ। এই অর্জনকে নিবন্ধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামোগত উৎকর্ষে সঞ্চারিত করে প্রকৃত কৃষকদের ধনী করা গেলে সেটাই হবে টেকসই উন্নয়ন।

 

লেখক

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৭:১১ অপরাহ্ন
ফেনীতে ধানের বদলে কুমড়া চাষে তিন গুণ লাভ!
কৃষি বিভাগ

দাম ভালো পাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নে ধানের পরিবর্তে কুমড়া চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন বেশ পেয়েছেন চাষিরা। এবং তিনগুণ বেশি লাভ হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৪’শ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া ও চাল কুমড়া চাষ করে অনেক টাকা আয় করেছেন কৃষকরা। আগামীতে তারা আরও বেশি কুমড়া চাষ করবেন বলে জানান। কালিদহ ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য আইপিএম নামের একটি ক্লাব রয়েছে। এখন ঐ ক্লাবের সদস্য ২০ জন।

কৃষক মহিউদ্দিন জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আমার ২০ শতক জমিতে কুমড়া চাষ করেছি। সঠিক নিয়মে পরিচর্যা করায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আগামীতে দ্বিগুণ কুমড়া চাষ করার ইচ্ছা আছে। প্রতি শতক কুমড়া চাষে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা। প্রতি শতক কুমড়া বিক্রি করেছি ১ হাজার টাকায়।

চাষি শাহজালাল অনিক জানান, তিনি এবছর মাত্র ৩০ শতক জমিতে চাল কুমড়ার চাষ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। কুমড়া বিক্রি করে তার প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।

উপজেলার কৃষি অফিসার মাসুদ রানা জানান, কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এর ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৬:২৯ অপরাহ্ন
ঘাটাইলে সরকারি খাদ্য গুদামে বোরো ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন
এগ্রিবিজনেস

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার(৮ মে) দুপুরে জাতীয় সংসদে খাদ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

ঘাটাইল খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম মাসুদ জানান, এবারের বোরো মৌসুমে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ এক হাজার ৮০ টাকা দরে দুই হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন ধান ও ৪০ টাকা কেজিতে ছয় হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে। যা ধান ও চালের আর্দ্রতা থাকতে হবে ১৪ শতাংশ। সংগ্রহ কার্যক্রম ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১১ টার দিকে ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকির হোসেন খান, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক সফিকুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী, স্থানীয় কৃষক আব্দুল বাসেত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৪:২৬ অপরাহ্ন
নতুন করে কৃষি বিপ্লব ঘটবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি ব্রি–৮১, ব্রি- ৮৯, ব্রি ৯২, মুজিববর্ষে ব্রি- ১০০সহ অনেকগুলো উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে। ব্রি-৮১, ব্রি- ৮৯ ও ব্রি ৯২ জাতের ধানের ফলন অনেক বেশি। প্রতি বিঘায় ২৫- ৩০ মণ, প্রতি শতকে প্রায় ১ মণ। এ জাতগুলো চাষের মাধ্যমে দেশে নতুন করে সবুজ বিপ্লব ঘটবে। দেশে খাদ্য উৎপাদন অনেকগুণ বাড়বে ও ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট হবে না।
কৃষিমন্ত্রী আজ শনিবার টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি কামারপাড়ায় ‘ব্রি-৮৯ ও ৯২ জাতের ধান কর্তন ও কৃষক সমাবেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ব্রি ৮৯ ও ব্রি- ৯২ চাষের মাধ্যমে উন্নত শস্য বিন্যাসে বোরো ধান ও আমন ধান চাষ করে পতিত সময়ে সরিষা করা যাবে। প্রতিবছর আমাদেরকে বিদেশ থেকে ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। এ জাত দুটি চাষ করলে অতিরিক্ত ফসল হিসাবে সরিষা উৎপাদন করা যাবে। ফলে সরিষার উৎপাদন বাড়বে ও তেল আমদানির পরিমাণ কমবে।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, বারির মহাপরিচালক ড. মো: নাজিরুল ইসলাম, বিনার ডিজি ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো: আতাউল গণি, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ব্রির তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রোপণকৃত ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ আজ কাটা হয়। আগে এই এলাকায় ব্রি ধান২৮ এবং ব্রি ধান২৯ আবাদ করা হতো যেখানে ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান২৯ এর ফলন ছিল বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মন, সেখানে ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ ধানের ফলন পাওয়া যায় বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ মন। এছাড়াও, ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে পাঁচ থেকে সাত দিন পূর্বেই কর্তন করা যায় এই দুটি জাত।
ব্রির তথ্যে জানা যায়, বোরো-পতিত-রোপা আমন বাংলাদেশের একটি প্রধান শস্যবিন্যাস, যা সারাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির প্রায় ২৭% জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এই দ্বিফসলী শস্যবিন্যাসের নানাভাবে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে- বিশেষ করে উঁচু এবং মধ্যম উঁচু জমিতে।এ শস্যবিন্যাসের উন্নয়নের জন্য প্রথমত বোরো এবং রোপা আমন ধানের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ  করা হয়। ভোজ্য তেলের জন্য বোরো-পতিত-রোপা আমন শস্যবিন্যাসে সরিষা অর্ন্তভূক্তি করতে পারলে ২.৬০ মিলিয়ন টন সরিষা উৎপাদন সম্ভব, যা থেকে বছরে ১.০৪ মিলিয়ন টন সরিষা তৈল পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে সকালে মন্ত্রী মধুপুরের গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ৩১,১৮৭ টি পরিবারকে ৪৫০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার ভিজিএফ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোন সংকট নেই। এখন সারা দেশে বোরো ধান কাটা চলছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপলক্ষ্যে এই উপহার দিচ্ছেন যাতে করে কোনক্রমেই একটি মানুষকেও যেন ঈদে খাদ্যের জন্য কষ্ট করতে না হয়। ঈদের আনন্দ যাতে ম্লান না হয়।
শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop