৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ১১:৫৮ অপরাহ্ন
বাড়ির ছাদে হরেক রকম ফুল-ফল-সবজি চাষে সফল মিন্টু
কৃষি বিভাগ

পেশায় ঠাকুরগাঁও শহরের ঘোষপাড়া এলাকার মিন্টু আহমেদ একজন ব্যবসায়ী। শহরে দুই হাজার ১০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের পাঁচতলা ছাদে জলপাইসহ ২০০টি টবে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফুল, ফল ও সবজির গাছ লাগিয়ে ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন তিনি। মিন্টুর মতো ঠাকুরগাঁও শহরে অনেকেই ছাদ কৃষিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

মিন্টুর ছাদে দেখা যায়, কয়েক রকমের আম, জাম, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, সফেদা, তেঁতুল, আঙুর, ড্রাগন, করমচা। শাকসবজির মধ্যে লাউ, টমেটো, শসা, তরই, ক্যাপসিকাম, কারিপাতা, লেটুস পাতা ও ধনেপাতা। ওষধি গাছের মধ্যে রয়েছে অ্যালোভেরা, তুলসী, আমলকী, অর্জুন। ফুলের মধ্যে আছে ক্যাকটাস, ডালিয়া, নাইটকুইন, অর্কিড, কাটা মুকুট, অপরাজিতা ইত্যাদি। আঙুর ফলের মাচায় ঝুলছে শসা, লাউ আর তরই।

মিন্টু বলেন, প্রথম ২০১৫ সালে কয়েকটি ফুলের গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে সবজি ও ফল গাছ লাগাই। পরিমাণে কম হলেও বছরের সব সময়ই কোনো না কোনো গাছের ফল খেতে পারি। তার এই বাগানের পরিচর্যা দেখে আশপাশের অনেকেই এখন ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন। অনেককে তিনি চারা ও বীজ সরবরাহও করেন।

ছাদে শতাধিক টবে গাছ লাগানো আছে গোয়ালপাড়া এলাকার তুহিন প্রধানের। তিনি বলেন, অন্য সময়ে তেমন যত্ন নিতে না পারলেও বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে থাকায় ছাদ বাগানের যত্ন নিতে পারছেন।

ঠাকুরগাঁও শহরে দুই তলা থেকে শুরু করে পাঁচতলা তিন শতাধিক ভবন আছে বলে জানান পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন, ছাদ কৃষি যেহেতু পরিবেশে রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। গুরুত্ব দিয়ে কেউ এই ছাদ কৃষির উদ্যোগ গ্রহণ করলে সেই বাড়ির পৌর করের বিষয়েও শিথিলতা আনা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও শতাধিক ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি আছে। প্রতিটি ছাদে ৬০ থেকে শুরু করে তিন শতাধিক ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে। তবে শহরের ঘোষপাড়া, হাজীপাড়া, শাহাপাড়া, সরকারপাড়া, ইসলামনগর এলাকায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, ছাদ কৃষির একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, ছাদ সব সময়ের জন্য ঠাণ্ডা থাকে। এক দিকে পরিবেশ রক্ষা হয়। অন্যদিকে পারিবারিক সবজি চাহিদা ও পুষ্টির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা কৃষির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে ছাদ কৃষির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যারা ছাদ কৃষি শুরু করেছেন, তাদের নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছে। গাছের টবে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা ছাড়াও নিয়মিত গাছের পরিচর্যার কথা বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ইতোমধ্যে ছাদ কৃষির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার সব সরকারি অফিসের ছাদে এই ছাদ কৃষি গড়ে তুলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ১১:০৯ অপরাহ্ন
মেছড়ার চরে এসএমইর প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ও প্রণোদনা কার্যক্রম পরিদর্শন
কৃষি বিভাগ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ সদর এর আয়োজনে মেছড়ার চরে এসএমইর প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ও প্রণোদনা কার্যক্রম পরিদর্শনীর উপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল,তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এর আওতায় এসএমই প্রদর্শনীর উপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেছড়া ইউনিয়নের রুপসা গ্রামে রুপসা স্কুল মাঠে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপ পরিচালক, কৃষিবিদ মোঃ কামাল উদ্দিন তালুকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলার উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আবু হানিফ। উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ আরিফুর রহমান, অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান), কৃষিবিদ মোঃ রোস্তম আলী, উপজেলা কৃষি অফিসার, সিরাজগঞ্জ সদর ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আব্দুল মজিদ ভুঁইয়া।

মাঠ দিবস শেষে কর্মকর্তাগণ মেছড়া ইউনিয়নের প্রণোদনা ও পুর্নবাসন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী গম,ভুট্টা,সুর্যমুখীসহ
বিভিন্ন ফসল ক্ষেত পরিদর্শন করেন। অতিথিবৃন্দ চরের বৈচিত্রময় ফসল পরিবেক্ষণ ও সফল ভাবে প্রণোদনা ও পুর্নবাসন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মেছড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
খুলনায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিনা চাষে আলু আবাদ
কৃষি বিভাগ

খুলনার কয়রা উপজেলায় বিনা চাষে আলুর আবাদ করা হচ্ছে। দিন দিন এই পদ্ধতি কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো চাষ ছাড়াই কাদার মধ্যে রবি ফসল আলু উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ এমএলটি সাইট কয়রা কৃষকদেরকে আলু উৎপাদনে দিচ্ছেন ফ্রি বীজ, সার, কীটনাশক ও নানান রকম পরামর্শ।

২০২০ সালে কয়রা উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩নং কয়রা গ্রামে রবীন্দ্র ঢালী ১৬ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে আলু আবাদ শুরু করেন। তার এ অভিনব চাষাবাদ দেখে এলাকার অনেক কৃষক সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শক্রমে বিনা চাষে আলু আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

কৃষক আব্দুল হালিম জানান, বিগত বছর স্থানীয় কৃষক রবীন্দ্র ঢালীর বাড়িতে বিনা চাষে আলু উৎপাদন দেখে তার মধ্যে আগ্রহ জাগে। তিনি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই সরেজমিন গবেষণা বিভাগের সহযোগিতায় পানি সরে যাওয়ার পরই কাদার মধ্যে ৩৩ শতক জমিতে বিনা চাষে আলু রোপন করেন। উক্ত আলুর খেতে খড়কুটা দিয়ে ঢেকে দেন।

মহারাজপুর গ্রামের আব্দুল হালিম ও রবীন্দ্র ঢালী বিনা চাষে আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এদিকে, বিনা চাষে আলুর বাম্পার ফলন দেখে আগামীতে এ ধরনের আলু আবাদ বৃদ্ধি পাবে এমনটি ধারণা অনেকের।

উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে আলুর ভালো ফলন দেখে কৃষি গবেষণা বিভাগ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা এ পদ্ধতিতে আলু চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।

তারা বলছেন, কম খরচ, কম সার ও পানি ব্যবহার করে বেশি ফসল পাওয়া যাবে।

ওই বিভাগের এমএলটি সাইটের কয়রার দায়িত্বরত বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান এলাকায় পতিত জমি দেখে বিনা চাষে আলু রোপন করতে উদ্বুদ্ধ করেন কৃষকদের।

প্রথমে কেউ রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে ঝুঁকি নেন কৃষক আব্দুল হালিম। ৩৩ শতক জমিতে রোপন করেন ২২০ কেজি আলুর বীজ। কৃষক আব্দুল হালিমের বিশ্বাস ছিল না বিনা চাষে গাছের গোড়ায় এত আলু হবে।

আব্দুল হালিমের স্ত্রী তানজিলা বিনা চাষের আলুর খেতের নাড়া সরিয়ে গাছ তুলে দুই হাত ভরে আলু দেখিয়ে বলেন, আলুর আকার বেশ বড়। কয়েকদিন পর বাজারে বিক্রি করা যাবে।

চাষের ধরণ ব্যাখ্যা করে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শাহাদাৎ বলেন, ধান কাটার পর জমি তখনো পুরোপুরি শুকায় না, জমিতে কাদা থাকে। সেই কাদা মাটির ওপর দড়ি টানিয়ে সারি সোজা করে বীজ আলু বসিয়ে দিতে হয়। আলুর ওপর গোবর ছড়িয়ে তার ওপর নাড়া দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান কাটার পর বিস্তীর্ণ জমি পতিত থাকে। মূল কারণ দীর্ঘ জীবনকাল সম্পন্ন আমন ধান, এটেল মাটি, স্বল্পমেয়াদি শীত এবং জমিতে ‘জো’ না আসা। এই সব প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লবণ ও তাপ সহনশীল আলুর জাত বারি আলু- ৭২, ৭৩, ও ৭৮ এ ধানের খড় ব্যবহার করে বিনা চাষে আলু উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। যা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য মুজিব শতবর্ষের এক নতুন উপহার।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে খরচ কম, চাষের প্রয়োজন নেই। মাটিতে লবণ উঠার আগেই বাড়তি একটা ফসল ঘরে তুলতে পারা যায়।সূত্র : ইউএনবি

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ৮:৪০ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কৃষি অর্থনীতিবিদদের শ্রদ্ধা
কৃষি বিভাগ

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

সোমবার (১ মার্চ) দুপুরে তারা শ্রদ্ধা জানায়। সমিতির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান, সমিতির সহ-সভাপতি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, খাদ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ।

এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল, যুগ্ম-সম্পাদক মিটুল কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মো. গোলাম ফারুকসহ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ১০:৩৫ অপরাহ্ন
রাঙ্গুনিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মধু উৎপাদনে সফল চাষিরা
কৃষি বিভাগ

রাঙ্গুনিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মধু উৎপাদন করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। এতে তারা আর্থিকভাবেও দারুণ লাভবান হয়েছেন। ভালো লাভ হওয়ায় এলাকায় সরিষা ও মৌচাষে আগ্রহ বাড়ছে। বসন্ত বাতাসে মাঠে দোল খাচ্ছে সরিষা গাছ। সরিষা ক্ষেতে স্থাপন করা হয়েছে মৌ-বাক্স। কিছুদিন পরপর সরিষা ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। ক্ষেতে মৌমাছির আনাগোনা বেড়ে যায়, সরিষার ফলনও হয়েছে দারুণ।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ায় সরিষার আবাদ ভালো হয়। তাই যারা সরিষা চাষাবাদ করেন তাদের মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করা গেলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। এতে একদিকে সরিষার উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে অল্প খরচে মৌচাষ করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রাঙ্গুনিয়ায় সরিষার চাষ বেড়েছে। গত বছর ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এবার ১০২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে সরিষার। অল্প পরিশ্রম, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে কৃষকদের সরিষার পাশাপাশি মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে একজন কৃষককে প্রায় ৫৪ হাজার টাকার মৌচাষের সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৌ-বাক্স, মধু সংগ্রহের মেশিন, ড্রাম, ওজন মেশিন।

স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের সরিষা চাষি আবদুল সালাম বলেন, ‘আমি এবার ১ একর জমিতে সরিষার চাষ করেছি। এতে আমার ৫-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবাদের মাত্র ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফলন এসেছে। ১ হেক্টর জমিতে ২ থেকে আড়াই টন সরিষা পাওয়া যায়।’ তিনি বলেন, প্রতি কেজি সরিষা ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। ৩ কেজি সরিষা থেকে ১ কেজি তেল এবং ১ কেজি খৈল পাওয়া যায়। খৈল গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১ কেজি তেলের দাম ২৫০-২৮০ টাকা এবং ১ কেজি খৈল ২৫-৩৫ টাকায় বিক্রি করা যায়। সরিষার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে মৌ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, ‘রাঙ্গুনিয়ায় আগে মৌ-চাষ হতো না বললেই চলে। তাই এখন মৌ-চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ কার্যক্রম শুরুহয়েছে। এবার একজন কৃষকের মাধ্যমে সরিষার পাশাপাশি মৌ-চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি মধু আহরণ শুরু করেছেন। তার সাফল্যের কথা শুনে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।’ এবছর সরিষার পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ায় নতুন করে পেঁয়াজ, গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ভালো হয়েছে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান জানান, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে সরিষার চাষাবাদ ও ফলন হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার চাষাবাদ বেড়েছে, সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা। সরিষার ক্ষেতে মৌমাছি ফুলের ওপর বসলে পরাগায়নে ফসলের পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। শুধু সরিষাই নয়, মৌমাছি ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবি শস্যের ফলন বৃদ্ধি করে।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ৯:১৬ অপরাহ্ন
মেহেরপুরের কপি এখন বিশ্ববাজারে
কৃষি বিভাগ

মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পর এবার তাইওয়ানের বাজারে মেহেরপুরে উৎপাদিত নিরাপদ সবজি পাতাকপি যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬’শ মেট্রিকটন কপি রপ্তানী হয়েছে। বিশ্ব বাজারে কপি রপ্তানিতে চাষিরা উৎসাহ পাচ্ছে কীটনাশকমুক্ত কপি চাষে। সঠিক দাম পেলে আগামীতে মেহেরপুরের মাঠময় কপিচাষ হবে বলে কৃষিবিভাগসহ সব শ্রেণীর মানুষ আশা করছেন।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুর জেলায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। দেশের সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে মেহেরপুরের কৃষকদের। এবার নিরাপদ সবজি হিসেবে অগ্রাধিকার পেয়েছে গাংনী উপজেলার চাষিদের উৎপাদিত পাতাকপি। গাংনীর পাতাকপি এখন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে যাচ্ছে। এ রপ্তানীতে সবজি চাষের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কৃষিবিভাগ। আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ও বিদেশে নিরাপদ সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মেহেরপুর। এভাবে বিদেশে বেশি বেশি রপ্তানী করতে পারলে চাষিরা যেমন উপকৃত হবে তেমন আর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। এ লক্ষ্যে কীটনাশক সহনশীল ও নিরাপদ সবজি হিসেবে পাতাকপি চাষ করছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ইতোমধ্যে ৬শ মেট্রিকটন পাতা কপি সংগ্রহ করছেন রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান। ক্ষেত থেকে সাদা কাগজে মুড়িয়ে বস্তা ভর্তি করে রপ্তানী উপযোগী করা হচ্ছে। রপ্তানীকারকদের মাধ্যমে বাঁধাকপি বিক্রি করে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চুক্তিবদ্ধ বেশ কয়েকজন কৃষক। রপ্তানীকারকরা কৃষকের জমি থেকেই নিরাপদ বাঁধাকপি সংগ্রহ করেছেন।

এগ্রো ফ্রেশ নামের একটি রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানটি গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুধুমাত্র গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে বাঁধাকপি সংগ্রহ করছেন।

সরেজমিনে গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি গ্রামের কৃষক আজগর আলীর পাতাকপির জমিতে গিয়ে দেখা যায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায় পাতাকপি ক্ষেত থেকে সংগ্রহের আগেই নিরাপদ সবজির প্রক্রিয়া করা হয়। কপি সংগ্রহর পর সাদা কাগজে জড়িয়ে নেট বস্তায় ভর্তি করা হচ্ছে।

কপিচাষি আজগর আলী বলেন, প্রতি বছরেই শীতকালের সবজি চাষে আমাদের লোকসান হয় প্রতিবছর এভাবে সবজি বিদেশে রপ্তানী করতে পারলে আমরা অতি আনন্দে সবজি চাষ বৃদ্ধি করতে পারবো। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সবজি গ্রামখ্যাত সাহারবাটির নিরাপদ সবজি চাষি আবুল কাশেমসহ অনেকেই।

এগ্রো ফ্রেশ নামের রপ্তনীকারক প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার রুবেল আহমেদ বলেন, এবছর চুক্তিবদ্ধ ৪৫ জন কৃষকের ৭৫ একর জমি থেকে নিরাপদ উপায়ে চাষ করা হয়েছে পাতাকপি। জমিতে চারা রোপণের পর থেকে কপি সংগ্রহ করা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে রপ্তানী উপযোগী করা হয়। এ বছর রপ্তানীতে বেশ চাহিদা আছে। গত বছর মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানী করা হয়েছিলো। এবছর নতুন দেশ হিসেবে তাইওয়ানেও রপ্তানী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬শ মেট্রিক টন বাঁধাকপি রপ্তানী করা হয়েছে। এখনো ৪শ টনের চাহিদা রয়েছে তাই নিবন্ধিত চাষি ছাড়াও অন্যান্য নিরাপদ সবজি চাষির থেকে কপি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর আরও অনেক বেশি সবজি রপ্তানী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, কৃষিবিভাগ সব সময়ই নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করে। বিদেশে রপ্তানীর জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি কর্মকর্তা।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ৭:৪৮ অপরাহ্ন
চা উৎপাদনে চট্টগ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে পঞ্চগড়
এগ্রিবিজনেস

পঞ্চগড়ের সমতলের চা শিল্প চা উৎপাদনে বৃহত্তর চট্টগ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। এরইমধ্যে জেলায় সমতলে নতুন মৌসুমের চা তোলা শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে চা তোলার পাশাপাশি চালু হয়েছে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোও।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাস চা বাগান প্রুনিংয়ের জন্য চা উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এবার চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক কোটি কেজি (তৈরি চা)। এরই মধ্যে পঞ্চগড়ের সমতলের চা শিল্প চা উৎপাদনে বৃহত্তর চট্টগ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছর পঞ্চগড়ের সমতলে তৈরি চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ কেজি। পঞ্চগড়ে ২০০০ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। জেলায় বর্তমানে ৯টি নিবন্ধিত চা বাগান (টি এস্টেট), ১৬ টি অনিবন্ধিত চা বাগান, ৯৯৮টি নিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান এবং ৫ হাজার ৫০০ অনিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর পরিধি আরো বাড়ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
চাষাবাদে বদলে যাচ্ছে তিস্তা পাড়ের জীবনযাত্রা
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাটে তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন লাখো কৃষক। আর এতে করে নতুন রুপ ধারণ করেছে তিস্তার পাড়ও। চরের পতিত জমিতে কীটনাশক ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করে অভাব দূর করছেন তারা।

চাষিরা জানান, চরের জমিতে সবজি চাষ করা কষ্টের কাজ। তবে পুঁজি কম হওয়ায় অনেক লাভ। চর এলাকায় ফসলও ভালো হয়।

চর গোকুন্ডার কৃষক ফয়জার আলী বলেন, আমার যেটুকু জমি ছিল তা তিস্তার পেটে চলে গেছে। এ কারণে প্রতি বছর এই সময় তিস্তা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে জৈব সার ব্যবহার করে আলু, শিম, করলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম চাষ করি। ফলন ভালো হওয়ায় আমরা পরিবার নিয়ে ভালোভাবে দিন কাটাতে পারি।

তিস্তার চরের চাষাবাদ নিয়ে আশাবাদী লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামীম আশরাফ।

তিনি বলেন, চরের জমিতে পানির যে লেভেল আছে, তাতে সেচ দেয়ার সময় কিছুটা সমস্যা হয়। চরাঞ্চলের এ জমিকে কাজে লাগাতে আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি। আশা করছি, তিস্তার চরে উৎপাদিত সবজি কিছুটা হলেও চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর চরাঞ্চলে ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। কম খরচে লাভবান হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরে সবজির আবাদ হয়েছে অনেক বেশি। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে চাষিরা জৈব সার ব্যবহার করায় আলু, শিম, করলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাদামসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিস্তা নদীর তীরবর্তী চর বালাপাড়া, কুটিরপাড় বাঁধসহ লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রামে মিষ্টি কুমড়া, লাল শাক, কলমি শাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির ব্যাপক আবাদ হয়েছে। চরে সেচ পাম্প বসিয়ে তা দিয়ে পানির ব্যবস্থা করে এসব ফসল চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ১০:১৫ অপরাহ্ন
রংপুরে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

দেশের কৃষিখাতকে উন্নত ও বেগবান করার লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে খামার যান্ত্রিকীকরণের তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রংপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রকল্পের কর্মসূচি অবহিত করণের জন্য এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শিত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল ধান ও গম কাঁটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী করার অত্যাধুনিক মেশিন জাপানের ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার ও চারা লাগানোর মেশিন রাইস ট্রান্সপ্লান্টার। এ সময় বিক্রয়োত্তর সেবাকে আরও আধুনিক করার জন্য প্রদর্শিত হয় ইয়ানমার সার্ভিস এক্সপ্রেস ভ্যান, যা দ্বারা হাওর ও অন্যান্য এলাকায় অন দ্যা স্পট সার্ভিস প্রদান করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ লক্ষ্যে এসিআই মোটরস প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে আসছে। আধুনিক ও উন্নতমানের সব কৃষি যন্ত্রপাতি সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছে তারা। ২০২০ সালের বোরো মৌসুমে করোনার কঠিন বিপর্যয়ের সময়ও ৭৫০টিরও বেশি ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার সরবরাহ করে বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে এক বিপ্লব সৃষ্টি করেছে এসিআই মোটরস্। শুধু তাই নয়, দেশব্যাপী দক্ষ নেটওয়ার্ক ও লোকবলের মাধ্যমে বিক্রয়োত্তর সেবাও নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ।

আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো বেনজীর আলমসহ কৃষি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। কর্মশালায় দেশের প্রধান কৃষি যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরস্ জাপানী ইয়ানমার সহ অন্যান্য আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ৮:৩৮ অপরাহ্ন
পঙ্গপাল বিক্রি করে স্বাবলম্বী কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সমুদ্রের পানি ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে এবং তাতে বাড়ছে সাইক্লোন বা অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগ। অসময়ের অতিবৃষ্টি পঙ্গপালের বংশবৃদ্ধি আচমকাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা ছারখার করছে আশপাশের ক্ষেতের ফসল।

কেনিয়ার রুমুরুতি শহর এখন রাক্ষুসে পঙ্গপালের দখলে। খাবারের খোঁজে এরা দলবেঁধে বিস্তীর্ণ মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে। নিমিষেই সাবাড় করছে সবুজ পাতা আর ক্ষেতের ফসল। যে অঞ্চলে পঙ্গপালের ঝাঁক আসছে, সেখানকার কৃষকরা ফসলের আশা ছেড়ে ঘরেই বসে থাকছেন।

যদিও কৃষকদের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে স্টার্ট আপ কোম্পানি ‘দ্য বাগ পিকচার’। বিজ্ঞানীদের সহায়তায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে অভিনব উপায় বের করেছে তারা। ফলে কৃষকদের মলিন মুখেও দেখা মিলছে মৃদু হাসি।

অতি কষ্টের ফসল পঙ্গপালের পেটে যেতে দেখে শুধু শুধু হায় হায় না করে কৃষকরা পঙ্গপাল বিক্রি করে আয় করছেন। দ্য বাগ পিকচার এ সুযোগ করেছে। ক্ষেত থেকে পঙ্গপাল ধরে তা বিক্রি করে আনন্দের সঙ্গে অর্থও পাচ্ছেন তারা।

পঙ্গপাল ধরে বস্তায় ভরে কৃষকরা বাগ পিকচারের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। কেজি প্রতি ৫০ কেনিয় শিলিং (০.৪৫৬ ডলার) পাচ্ছেন তারা। কৃষকদের কাছ থেকে কেনা পঙ্গপাল বস্তায় ভরে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে বাগ পিকচারের কর্মীরা।

বাগ পিকচারের কর্মীরা জানিয়েছেন, বস্তায় ভরে আনা রাক্ষুসে পঙ্গপাল প্রথমে ভালো করে শুকানো হচ্ছে। এরপর তা গুঁড়ো করা হচ্ছে। পরে পরীক্ষাগারে নেওয়া হচ্ছে সেই গুঁড়ো।

তারা আরও বলছেন, প্রোটিনের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখার পর তা মানসম্মত হলে গুঁড়ো পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ফসলের ক্ষেতে জৈবসার হিসেবেও দারুণ কার্যকর।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পঙ্গপালের গুঁড়োয় প্রোটিনের মাত্রা যথেষ্ট। এই গুঁড়ো খাদ্য হিসেবে পশুকে খাওয়ালে যথেষ্ট প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিকে খাওয়ানো যাবে।

জৈবসার হিসেবে ফসলের ক্ষেতেও পঙ্গপালের গুঁড়ো ব্যবহার করা যাবে। ফসলের ক্ষেতে পঙ্গপালের গুঁড়ো ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। -ডয়েচে ভেলে

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop