১২:২৩ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৯:৫৭ অপরাহ্ন
গরু চুরির অভিযোগে রিকশাচালকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন
পাঁচমিশালি

গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তোতা মিয়া নামে এক রিকশাচালককে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে কোমর থেকে পা পর্যন্ত পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়। তার দুই হাতে দেয়া হয় সিগারেটের ছেঁক। এই ঘটনায় ধারকি পাথারপাড়া এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম নামে এক এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে জয়পুরহাটের ধারকি পাথারপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মেদ ভুঞা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার মাছুম জানান, এ ঘটনায় রোববার (২৫ এপ্রিল) সকালে জয়পুরহাট থানায় মামলা হলে ধারকি পাথারপাড়া এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম নামে এক এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট সদর উপজেলার ধারকি পাথারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিম মন্ডলের ছেলে এবং বম্বু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

পুলিশ সুপার জানান, রিকশাচালক তোতা মিয়া গরু চুরি করেছে এমন অভিযোগ তুলে শনিবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে মধ্যরাতে ইউপি সদস্যসহ একই গ্রামের জুয়েল, আবুল খয়ের ও নিজাম নামের তিন যুবক তাকে ডেকে নিয়ে গরু চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। তোতা মিয়া অস্বীকার করলে নির্জন মাঠের মধ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে হাতের তালুতে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছেঁকা দিয়ে তারা নির্যাতন চালায়। পরে তার কোমর থেকে পা পর্যন্ত পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলে দগ্ধ হয়ে তোতা মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় রাত ৩টা ২০ মিনিটে তারা তোতা মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় জেলা আধুনিক হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে রোববার ভোরে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তোতা মিয়ার স্ত্রী ডলি বেগম আজ সকালে জয়পুরহাট সদর থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৪:২৯ অপরাহ্ন
গর্ভবতী গাভীকে খাদ্য প্রদানে যেসব বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে
প্রাণিসম্পদ

গাভী গর্ভবতী হলে খাদ্য প্রদানে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে সেগুলো খামারিদের ভালোভাবে জেনে রাখতে হবে। লাভজনক হওয়ার কারণে দিন দিন গাভী পালনে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই। গাভী পালনকালে গর্ভবতী অবস্থায় বেশি যত্ন নিতে হয়। আজকে আমরা জানবো গাভী গর্ভবতী হলে খাদ্য প্রদানে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে সেই সম্পর্কে-

১। গর্ভবতী গাভীকে খাদ্য প্রদানে এমনভাবে খাদ্য প্রদান করতে হবে যাতে গাভীর দৈনিক খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর গাভীকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। এতে গাভী সুস্থ-সবল থাকবে ও বাচ্চাও পরিপুষ্ট হবে।

২।  গাভীকে   যতটা সম্ভব নরম ও তরল জাতীয় খাদ্য বেশি খাওয়াতে হবে। শুকনো খাদ্য প্রদানের পাশাপাশি নরম ও তরল খাদ্য প্রদান করলে গাভীর খাদ্য হজমে সমস্যা দেখা দিবে না এবং গাভী সুস্থ থাকবে।

৩।  গাভীকে খাদ্য প্রদানের সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে গাভীর খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদন বিদ্যমান থাকে। গর্ভবতী থাকা অবস্থায় গাভীর শরীরে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টির দরকার হয়। এছাড়াও গাভীকে পুষ্টিকর খাদ্য গাভীকে প্রদান করলে গর্ভের বাচ্চা সুস্থ ও সবল থাকে।

৪। গর্ভধারণ করা গাভী বেশি দুর্বল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গাভীর খাদ্য প্রদান করতে হবে। এছাড়াও গাভীকে সবল রাখার জন্য খাদ্যের সাথে অতিরিক্ত উপাদান মিশ্রিত করে গাভীকে খাওয়াতে হবে।

৫। গর্ভবতী গাভীকে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। গাভীকে নিয়মিত কাঁচা ঘাস খাওয়ালে গাভীর প্রয়োজনীয় সকল ভিটামিন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়াও গাভী আরও বেশি শক্তিশালী হবে। ফলে বাচ্চা প্রসবের সময় তেমন কোন জটিলতা দেখা দিবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
ছাগল পালনে কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর উপকারিতা
প্রাণিসম্পদ

গরু-ছাগল পালন এখন একাংশ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক চাকা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবে নিয়েছেন। বিশেষ করে কম দামে কিনতে পাওয়া যায় ছাগল। যা মোটামুটি গ্রামের প্রতিটা কৃষকের আছে। তারা ছাগল পালনে বড় কিছু করার প্রত্যাশায় এতে শ্রম দিয়ে থাকে। তবে এই শ্রমকে সফল করতে লাগবে অনেকগুলো পদ্ধতি। তম্মধ্যে অন্যতম হলো ছাগলকে খাওয়াতে হবে নিয়মিত কাঁচা ঘাস। কারণ ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগল শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে। এছাড়াও ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা উপকার পাওয়া যায়।

ছাগলকে কাঁচা ঘাস কেন খাওয়ানো প্রয়োজন:
১। মনে রাখবনে কাঁচা ঘাস কিনতে হয় না। এটি তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। যার কারণে এতে খরচ নেই বললেই চলে। আর তাই অর্থনৈতিক দিক বিবেচেনায় ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো উচিত।

২। নিয়মিত ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং ছাগলের শারীরিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং ছাগল বেশি পরিমাণ দুধ প্রদান করতে সক্ষম হয়ে থাকে।

৩। ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগল বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় বাচ্চা মৃত্যুর হার অনেকগুনে কমে যায়। নিয়মিত কাঁচা ঘাস খাদ্য হিসেবে ছাগলকে খাওয়ালে বাচ্চার মৃত্যু কম হয়।

৪। ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগলের শরীর সঠিক সময়ে প্রজননে সক্ষম হয়। এর ফলে ছাগলের প্রজননের জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফল হওয়া যায়।

৫। ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগলকে দানাদার খাদ্য কম দেওয়া লাগে। সেজন্য ছাগলকে দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হয় না। তাই ছাগলের জন্য দানাদার খাদ্য কেনার টাকা বেঁচে যায়।

৬। ছাগলকে নিয়মিত কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগল যখন বাচ্চা জন্ম দেয় তখন বাচ্চার ওজন সঠিক পাওয়া যায়। বাচ্চা সুস্থ সবল হয়ে জন্ম নেয়।

৭। কাঁচা ঘাস ছাগলকে নিয়মিত খাওয়ালে ছাগলের মৃত্যুর হার অনেকগুনে কমে যায়। কাঁচা ঘাস ছাগলকে নিয়মিত খাওয়ালে ছাগলের জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলে ছাগল অকালে মরা থেকে রক্ষা পায়।

৮। ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগলের চিকিৎসা খরচ অনেকগুনে কমে যায়। কাঁচা ঘাস খাওয়ার ফলে ছাগল জটিল কোন রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়না। এর ফলে ছাগলের চিকিৎসার খরচ বেঁচে যায়।

ঘাস চাষ
ছাগলের জন্য ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, খেসারি, মাসকলাই, দুর্বা, বাকসা ইত্যাদি দেশি ঘাসগুলো বেশ পুষ্টিকর। এছাড়া উচ্চফলনশীল নেপিয়ার, স্পেনডিডা, এন্ড্রোপোগন, পিকাটউলুম ইত্যাদি ঘাস চাষ করা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১১:৫৩ অপরাহ্ন
গর্ভবতী গাভী জবাই নিয়ে যা বললেন মাংস ব্যবসায়ী
প্রাণিসম্পদ

প্রাচীনতম এ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন নানা অভিযোগে দোকান থেকে বহিস্কৃত দোকান কর্মচারী ফারুক আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানান গর্ভবর্তী গাভী জবাইয়ের অভিযোগ ওঠা সিলেট নগরের শিবগঞ্জে ‘মাখন মিয়ার গোস্তের দোকান’র সত্বত্বাধিকারী মো. রিয়াজ উদ্দিন। একই সাথে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন মো. রিয়াজ উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উদ্দিনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার মেয়ে লিমা আক্তার মিম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, টাকা পয়সা হিসাবে গরমিলসহ নানা অনিয়মের কারণে প্রায় ২ মাস পূর্বে দোকানের প্রধান কারিগরের পদ থেকে বহিস্কার করি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে আমাদের দোকানের পার্শ্ববর্তী মাংসের দোকানে যোগ দেন ফারুক। সেই দোকানে থেকে তিনি আমাদের দোকানের কাষ্টমারদের ডেকে নিয়ে যান। তাছাড়া আমাদের ক্ষতি হোক এমন ধরনের আচরণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বহিস্কারের পর থেকে ফারুক আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মাখন মিয়ার গোস্তের দোকান’র বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যেপ্রনোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল সকালে আমাদের জবাইকৃত গরু অন্ত:সত্ত্বা ছিলো বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালান। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে ওই দিন সকালে আমরা একটি সুস্থ গরু স্বাস্থ্য নীতিমালা মেনে যথারীতি জবাই করি। কিন্তু গরু জবাই করার কয়েক ঘন্টা পর আমাদের দোকানের সাবেক কারিগর ফারুক ড্রেন থেকে একটি গরুর বাচ্চার ছবি তুলে আমাদের গরুর পেট থেকে বাচ্চা বের হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালান। অথচ গত ২০ এপ্রিল দক্ষিণ সুনামঞ্জের পাথারিয়াবাজার থেকে আব্দুশ শুকুর মিয়ার কাছ থেকে পাঁকা রশিদের মাধ্যমে (রশিদ নং-৭৫) জবাই করার জন্য উপযুক্ত একটি গরু ক্রয় করে আনি। সেই গরুটি আমরা ২২ এপ্রিল সকালে সকল নিয়ম মেনে জবাই করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করি। পরে ফারুকের অপপ্রচারে আমরা বিস্মিত হয়ে যাই। আমাদের ঐতিহ্যবাহি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করায় আমরা ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, আমরা সব সময় হালালভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে ক্রেতাদের উন্নত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতাদের আস্তায় থাকার কারণে শিবগঞ্জে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সাথে ব্যবসা করে আসছি। আমরা সকল ক্রেতাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ‘মাখন মিয়ার গোস্তের দোকান’র মালিক মো. রিয়াজ উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মোছা. নয়ন তারা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে নগরীর শিবগঞ্জে ‘মাখন মিয়ার গোস্তের দোকান’ -এ গর্ভবতী একটি গাভি জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন গঠন করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি।

ঘটনার ঠিক দুই দিন পর অভিযুক্ত দোকানদার তার দোকানে গাভী জবাইয়ের পর বাচ্চা পাওয়ার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাখ্যান করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১২:১৭ অপরাহ্ন
আজ বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস
প্রাণিসম্পদ

বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসে সারা বিশ্বের প্রাণী সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ একটি দিন। প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ শনিবার সারাবিশ্বে যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিনামূল্যে প্রাণীর চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান, টিকাদান কর্মসূচির মতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশ পালন করে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- “Veterinarian response to the COVID-19 crisis.”

ভেটেরিনারিয়ানরা কেবল প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখছে তা নয়, তারা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অশ্রান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মহামারিতে বিশ্বে ভেটেরিনারিয়ানদের বীরত্বগাথা রচিত হয়েছে। ফাইজারের কোভিড ভ্যাক্সিন আবিষ্কার টিমের প্রধান ড. আলবার্ট বোরলা একজন ভেটেরিনারিয়ান। পিপিই নিরাপদে পুনঃব্যবহারের কৌশলের আবিষ্কারক এফ. হ্যাঙ্কেনসনও ভেটেরিনারিয়ান।

বিজন কুমার শীল একজন আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ভাইরোলজিস্ট, ভ্যাকসিনোলজিস্ট এবং ভেটেরিনারিয়ান বিজ্ঞানী। এর আগে সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন অবস্থান করা এই ভেটেরিনারি বিজ্ঞানী সেখানে সার্স করোনা ভাইরাস-১ এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের র‌্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবন করেও অনেক আলোচিত হয়েছিলেন।

২০০১ সালে বিশ্ব ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন ভেটেরিনারি পেশার সঙ্গে কর্মরত সকল ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য একটি বিশেষ দিন আয়োজনের প্রস্তাব করে। যেটা নির্ধারিত হয় প্রতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ শনিবার। দিবসটির মূল লক্ষ্য ভেটেরিনারি পেশাকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রাণী, পরিবেশ ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী পরিবহন ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখা।

বাংলাদেশে ২০০৮ সালে প্রথম দি ভেট এক্সিকিউটিভ আয়োজন করে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসটি। বর্তমানে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ), দি ভেট এক্সিকিউটিভ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি ছাত্র সমিতি যৌথভাবে দিনটি নানা আয়োজনের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে।

একটি দেশের পুষ্টি বিশেষ করে প্রোটিন, আমিষের চাহিদার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন এই ভেটেরিনারিয়ানরা।দেশের মোট প্রাণিজ আমিষের ৭৬ শতাংশ আসে ডিম, দুধ ও মাংস থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, ইউনিসেফ, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে বেশি করে দুধ, ডিম, মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন। যেগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ভেটেরিনারিয়ানরা। গত দশ বছরে দেশে ডিম উৎপাদন বেড়েছে চারগুণ, দুধ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ, মাংস উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আটগুণ।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্ব ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হিউম্যান মেডিকেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিকেল সায়েন্সকে একীভূত করে ওয়ান হেলথ ইস্যুতে কাজ করছে। উন্নত দেশে ভেটেরিনারি ডাক্তার ও হিউম্যান মেডিকেল ডাক্তাররা এক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই সংকট মোকাবিলায়। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ভেটেরিনারি ডাক্তার ও মেডিকেল ডাক্তারদের সমন্বয় তেমন নেই বললেই চলে। উভয়েই সমন্বয় সাধন করে কাজ করলেই হতে পারে প্রাণিসম্পদ তথা মানবসম্পদের কল্যাণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে বাংলার ভেট সমাজের ভুমিকা ও আমার উপলব্ধি
প্রাণিসম্পদ

ডা. নাজমুল হুদাঃ আমি এমন একজন পেশাজীবি যার নামের ইংরেজী শব্দটি ব্যবহার করলে শিক্ষিত মানুষকে একটু দম নিতে হয় । কম শিক্ষিত মানুষেরা আবিষ্কার করেন এক নতুন শব্দ । আর আধা শিক্ষিত কীংবা অশিক্ষিত জনগণ সৃষ্টি করেন লেজে গোবরে পরিস্থিতি ।উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হবে । গ্রামের বাজারে কোন কারণে উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা এসেছেন । তাদের সম্মানে ও আপ্যায়নে এগিয়ে আসেন ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ ও বিত্তশালী লোকেরা । বিত্তশালীদের একজন হচ্ছেন এক ভেটেরিনারিয়ানের বাবা । সবাই পরিচয় করিয়ে দিলেন ইনি একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার বাবা । কর্মকর্তাগণ ভদ্রলোককে সম্মান জানিয়ে পাশে বসালেন । একজন কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করলেন ” চাচা আপনার ছেলে কিসে চাকুরি করে ? জবাবে ভেটেরিনারিয়ানের বাবা বললেন ” আমার ছেলে ব্যাটালিয়ান সার্জন ।”
সবাই একটু নীরব হয়ে চার পাশে তাকাতে লাগলেন । আকারে ইঙ্গিতে অন্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করলেন । পরিস্থিতি যে গোলা হয়ে যাচ্ছে তা চাচা বুঝতে পেরে নিজেই বললেন ” আমার ছেলে এগ্রিকালচার ইনিভার্সিটি পড়ছে । বিসিএস পাশ করছে ।” কৃষি অফিসার বলেই ফেললেন তাহলে আপনার ছেলে ভেটেরিনারি সার্জন । গ্রামের সহজ সরল বাবা তাঁর ছেলেকে এমন একটি ডিসিপ্লিনে পড়াশুনা করালেন যার নামটাই তিনি সঠিক করে বলতে পারেন না । আরেকটু যদি উপরের দিকে যাই যারা কিছু পড়াশুনা করেছেন , দুই একটা সনদও সংগ্রহ করেছেন সরকারের নিকট থেকে । তারা আমার ডিসিপ্লিনকে কীভাবে উচ্চারণ করেন ? হয় তারা ভেটানি সাইন্স অথবা ভেটারি সাইন্স এর মত একটা উচ্চারণ করেন । যারা এই উচ্চারণগত জটিলতায় যেতে চান না তাদের হাতে সহজ একটা শব্দ আছে তা হচ্ছে পশু ডাক্তার । আরেকটু শ্রুতি মধুর শব্দ ব্যবহার করলে প্রাণি চিকিৎসক । জেনে রাখা দরকার পশু ডাক্তার/প্রাণি চিকিৎসক শব্দগুলি ভেটেরিনারিয়ান এর প্রতিস্থাপন নয় ।
কিছুটা তৃপ্তিবোধ নিয়ে লিখছি । বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য সিটিকর্পোরেশন এলাকায় পোষা প্রাণি-পাখি লালন পালন এর ক্ষেত্রে একটা ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে । আমি হাসপাতালে গেলে সিএনজি কীংবা উবারে যাই । কিন্তু পোষা খরগোশ যখন আমার কাছে আসে সে মালিকের প্রাইভেট কারে আসে । আর ঐ মালিক কিন্তু আমাকে ভেট বলেই ডাকেন । আমাকে প্রাণি চিকিৎসক বললে আমাকে সংক্ষিপ্ত করা হয় । ছাটাই করা হয় আমার অনেক ভূমিকাকে । ভেটেরিনারি শব্দটার ব্রান্ডিং চাই । শুরু হয়ে গেছে । উপজেলা লাইভস্টক অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল লিখতে এখন আমরা বাধ্য । জেলায় জেলায় বসে পড়েছেন জেলা ভেটেরিনারি অফিসার । বিভাগীয় পর্যায়ে উপ-পরিচালক, ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের বর্ষপূর্তি হয়ে গেল । ইতিমধ্যে নতুন ভেরিয়েন্ট এর আমদানী হয়ে গেছে । শেষ কোথায় না পারছি আমরা বলতে না পারছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলতে । চলুন দেখি জীবন না থামিয়ে রেখে কীভাবে মোকাবেলা করে যাচ্ছে বাংলার ভেট সমাজ ।
০১) ভেটেরিনারিয়ানগণ জুনুটিক ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করেন ওয়ান হেলথ এর মাধ্যমে । কোভিড-১৯ সংক্রমনের সাথে সাথে পথে বসতে যাচ্ছিল প্রাণিসম্পদ প্রোডাক্টসমূহ । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যানার ফেস্টুনে পশু পাখির মাধ্যমেও ছড়ায় ধরণের তথ্যগুলি আসছিল মিডিয়াতে । ভেটসমাজ এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দিয়েছেন । এক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন ।বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ কো-অর্ডিনেটর একজন ভেটেরিনারিয়ান যিনি আউটব্রেকের পর থেকে অদ্যবধি ওয়েবিনার , সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ মুভমেন্টের সাথে জড়িত । ভেটেরিনারি নেতৃবৃন্দকে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসের শুভেচ্ছা ও লাল আমার সালাম ।
০২. প্রাণিজ প্রোটিনের উৎপাদন ও নিরবিচ্ছিন সরবরাহে ভেট সমাজ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কোভিড প্রতিরোধ এর জন্য লক ডাউনের শিকল ভেঙ্গে মাঠে নেমেছে ভেট সমাজ । উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য থাকছে খামারীর পাশে । উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য সররকার চালু করেছেন ডিম, দুধ, মাংসের ভ্রাম্যমান বাজার । তাতে মনিটরিং করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেট সমাজ । অনেকেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন । অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন কেউবা ফিরে এসেছেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে তবু পেশাগত দায়িত্বে থেকেছেন অটুট ।
০৩) কোভিড-১৯ ডায়াগনোসিস এ ভেট সমাজ ।
তৃণমূল পর্যায়ে পিসিআর ব্যবহারে যখন হিমশিম খাচ্ছিল সরকার তখনই রেপিড ডট ব্লট এর মাধমে কোভিড-১৯ সনাক্তকরণ কিট আবিষ্কারের ঘোষনা দিয়েছেন ভেট সমাজের অহংকার ড. বিজন কুমার শীল । কিট সরকার কিনেনি সেটা ভিন্ন কথা । কিন্তু তাঁর গবেষণা অব্যাহত । হয়তো আরও কোন বড় চাপটারে দেখা যাবে ড. শীলকে । স্বল্প প্রশিক্ষণে পিসিআর অপারেশনে যখন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকগণ তখন তাদের পাশে টেকনোলজি নিয়ে হাজির হয়েছে আইসিডিডিআরবি’র ভেটেরিনারিয়ান ড. সৈয়দ মাজেদুর রহমান শাকিল । ভেটদের ভূমিকায় সন্তুষ্ট হয আইইডিসিআর । পরবর্তীতে পিসিআর ল্যাবগুলিকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য গঠন করে ন্যাশনাল এক্সপার্ট পুল যেখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ০৩ জন ভেটেরিনারি একাডেমিশিয়ান । তারা হলেন ড. নাজমুল হুসাইন নাজির, প্রফেসর (মাইক্রোবায়োলজি), এবং প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নুরুজ্জামান খোকন এবং ড. রোকসানা পরভীন মিথুন ।
সবার আগে হাত তোলে নিজেদের পিসিআর ল্যাবে মানুষের করোনা শনাক্তের দায়িত্ব নিলেন বিএলআরআই এর ভেটেরিনারিয়ানগণ । কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে ইহা বাংলাদেশের ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায় । চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারিয়ানগণও তাদের পিসিআর ল্যাবে করেছেন কোভিড-১৯ টেস্ট । শুধু তাই না ভেটিরিনারি শিক্ষার এই চমৎকার বিদ্যাপিঠ জামালপুরস্থ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজকে পিসিআর মেশিন দিয়ে সহযোগীতা করেছে ।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পিসিআর মেশিন সরবরাহ থেকে শুরু করে অন্যান্য সাপোর্ট সার্ভিস ক দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক । তার মধ্যে ড. পূর্বা ইসলাম, প্রফেসর (ফার্মাকোলজি) অন্যতম ।
০৪) কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের পাশে ভেট সমাজ
কোভিড-১৯ ক্রাইসিস এ ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের প্রণোদনা দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর এলডিডিপি প্রকল্প । আর তা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন অধিদপ্তরে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানগণ ।
উপসংহার :
প্রাণি চিকিৎসক কীংবা পশু চিকিৎসক নয় আমার ভেটেরিনারিয়ান বা ভেট শব্দটা চাই । হিউম্যান ডিজিজ কন্ট্রোলে ভেটদের যে ভূমিকা আছে তার ব্রান্ডিং চাই । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল ভেটেরিনারিয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস সফল হউক । করোনার কবল থেকে মুক্তি পাক মানব সমাজ ।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কৃষককে দুটি গরু কিনে দিলেন যুবক
পাঁচমিশালি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে দুটি গরু মারা যায় দরিদ্র কৃষক ফরিদের। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন এই কৃষক। মারা যাওয়া ষাঁড় দুটির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় লাখ টাকা। তার এই অসহায়ত্ব দেখে ফেসবুকে সহযোগিতা চেয়ে পোস্ট দেন মামুন বিশ্বাস নামের এক যুবক। সকলের করা সহযোগিতায় কৃষককে দুটি ষাঁড় কিনে দিয়েছেন মামুন।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামে ফরিদের বাড়িতে গিয়ে দুটি গরু তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে এনায়েতপুর হাট থেকে ৬২ হাজার ৩০০ টাকায় গরু দুটি কেনেন।

কৃষক ফরিদ বলেন, ‘ষাঁড় দুটির মৃত্যুতে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আজকে সত্যি অনেক খুশি লাগছে নতুন দুটি ষাঁড় পেয়ে। এই গরু দুটি ভালোভাবে লালন-পালন করে আমার স্বপ্ন পূরণ করবে ইনশা আল্লাহ।’

যুবক মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখীর বজ্রপাতে ফরিদের দুটি গরুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আমি সকালে ফরিদের বাড়িতে গেলে সবার কান্নাকাটি দেখে বিস্তারিত ঘটনা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেই। পোস্ট দেখে আমার ফেসবুক বন্ধুরা ৬২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে আজকে গরু দুটি কিনে দিলাম।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৭:৩৪ অপরাহ্ন
রাজধানীর ২০টি স্থানে কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি অব্যাহত
প্রাণিসম্পদ

করোনায় জনদূর্ভোগ কমাতে সরকারের উদ্যোগে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করায় বেশ উপকৃত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। আর এসব খাদ্যপণ্য তারা পাচ্ছেন একেবারেই কম দামে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুধ ঢাকা সিটিতেই ২০টি পয়েন্টে চলছে এই কার্যক্রম।

খামারে উৎপাদিত দুধ প্রতি লিটার ৬০, প্রতিপিস ডিম ৬ টাকা ও এককেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। সরকারের এ উদ্যোগে সন্তুষ্ট সব শ্রেণির ক্রেতা।

ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী রফিকুজ্জামান জানান, দেশব্যাপি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে খামারিদের কাছ থেকে কেনা দামেই সরকার ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অস্থায়ী ডিপো থেকে রাজধানীতে দুই শিফটে ২০টি পয়েন্টে প্রতিটি গাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে সাড়ে তিনশ’ লিটার দুধ, দুই হাজার পিস ডিম ও ৫০ কেজি মাংস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৭:০৬ অপরাহ্ন
গাইবান্ধার প্রান্তিক খামারিরা পাচ্ছে না সঠিক কোন সেবা!
প্রাণিসম্পদ

দীর্ঘদিন থেকে গাইবান্ধায় প্রাণিসম্পদ দফতরের (পশু হাসপাতাল) সেবা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। আর এতে করে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে তাদের। অনেক পুরাতন খামার বন্ধ হয়ে গিয়েছে আবার সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতার অভাবে অনেক নতুন খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ অবস্থায় সাধারণ খামারি ও পশু পালনকারীরা গবাদিপশুকে বাঁচাতে অর্থের বিনিময়ে ব্র্যাক কিংবা যুব উন্নয়ন থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে একদিকে খামারিরা আর্থিকভাবে হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তবে প্রাণিসম্পদ দফতর বলছে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে খামারিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা শহরসহ ও বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে সরেজমিনে গেলে প্রাণিসম্পদ দফতরের অসহযোগিতার কথা জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। অনেকে সরকারি দফতরের নাম শুনলেও বাস্তবে কোনো ভেটেরিনারি সার্জনের সেবা তো দূরের কথা, চোখেও দেখেনি বলে জানিয়েছেন। এমন চিত্র জেলার সাত উপজেলাজুড়েই।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার চক মোমরোজপুর গ্রামের খামারি গোলাম মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গরুর খামারের সঙ্গে যুক্ত আমি। আমার খামারে বর্তমানে ৭টি গরু আছে। প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে কোনো পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পাইনি। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতেও তাদের দেখা পাইনি আমরা। বাধ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে বেসরকারি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিই আমি।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংহা গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি মতিয়ার রহমান বলেন, পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাধারণত গ্রামে আসেন না। গবাদিপশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে তাদের অফিসে নিয়ে যেতে বলা হয়। অফিসে গরু নিতে গেলে কমপক্ষে ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা খরচ হয়। আমাদের মতো ছোট খামারির পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। কয়েকবার ফোন করার পর যদি কোনো চিকিৎসক আসেন, চিকিৎসা শেষে তাদের আবার তেল খরচ বাবদ টাকা দিতে হয়।

একই গ্রামের ইসলাম আকন্দ বলেন, পশু হাসপাতালের নাম শুনি। অনেকে সেবা পায়। কিন্তু ৩০ বছর থেকে গরু পালন করি, তাদের কোনো সেবা পাইনি আমি। গত বছর সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার একটা বড় গরু মারা গেছে। গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আমরা গরু বাছুর লালন-পালন করি।

আরিফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, প্রাণিসম্পদ দফতর জেলার বড় খামারগুলোয় সেবা দেয় শুনেছি। গ্রাম পর্যায়ে তারা কোনো সেবা দেয় না। গ্রামের ছোট খামারিরা তো টাকা দিতে পারেন না। তাই তাদের ভাগ্যে সেবাও জোটে না।

দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের পারুল বেগম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করি। কোনো দিনও পশু হাসপাতালের কেউ আসেনি। হাঁস-মুরগি ছাগলের অসুখ হলে টাকা দিয়ে ব্র্যাক থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেই।

সেবা না পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের সঙ্গে এখন অনেক মানুষ করে। প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে কৃত্রিম প্রজননকারী ও একজন করে ভ্যাকসিনেটর ও লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার গ্রামে গ্রামে ঘুরে খামারিদের সেবা দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, এ ছাড়া উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন খামার ও গ্রাম পর্যায়ের খামারিদের সেবা দেন। ভেটেরিনারি সার্জনরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কল এলে সেখানে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে সবার কাছে সেবাটা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবু আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।সূত্র: ঢাকা পোস্ট

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৫:২৩ অপরাহ্ন
বরিশালে ভ্রাম্যমাণ দুধ-ডিম ও মাংস বিক্রি উদ্বোধন
প্রাণিসম্পদ

করোনাকালীন প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বরিশালের উদ্যোগে এবং বরিশাল জেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় গত ৮ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ দুধ, ডিম এবং পোল্ট্রি বিক্রয় কেন্দ্র বরিশাল শহরে এবং ১০টি উপজেলায় চালু করা করা হয়েছে।

এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি এবং সচিব রওনক মাহমুদ এর নির্দশেনায় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বরিশাল নগরিতে ন্যায্যমূ্ল্যে মাংস বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বরিশাল বিভাগ, এডিএম সাইফুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডা.মো. নুরুল আলম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল, ডা. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,বরিশাল, ডা.প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল সদর, ডা. মো. আশরাফুল আলম,ভেটেরিনারী সার্জন, জেলা ভেটেরিনারী হাসপাতাল,বরিশাল,ডেইরী ফার্মস এসোসিয়েশন,বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ,ভোক্তাগণ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃ্ন্দ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop