৫:৫৬ অপরাহ্ন

রবিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৭, ২০২২ ১০:৪৭ অপরাহ্ন
নাটোরে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে এক ব্যক্তির মৃত্যু, অসুস্থ ৯
প্রাণিসম্পদ

নাটোরের লালপুরে অসুস্থ গবাদিপশুর জবাই করা মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। মাংস খেয়ে আক্রান্ত দুলাল হোসেন (৫৫) নামে একজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জবাই করা মাংস নাড়াচাড়া ও খাওয়ায় আরো ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

শনিবার (১৬ জুলাই ২০২২) লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি চিকিৎসক দল উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামে আক্রান্ত রোগীদের পরিদর্শন করেছেন।

চিকিৎসক দল বলেন, জরুরিভাবে ঢাকা থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞরা ডা. রায়হানের নেতৃত্বে রোববার (১৭ জুলাই) ভোরে রওনা দেবেন। তাঁরা এসে ওয়ালিয়ার দেলুয়া গ্রামের রোগীরা অ্যানথ্রাক্স-আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে নিশ্চিত করবেন। তার আগে রোগীদের অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

দেলুয়া গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, গত ৭ জুলাই পেটে বাচ্চা থাকা তার গাভী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে কসাই আজাহার সরদারকে দিয়ে নিজ বাড়িতেই জবাই করা হয়। সেই গরুর মাংস যারা নাড়াচাড়া করেছেন সবার শরীরে ক্ষত দেখা দেয়।

উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ওই গরুর অসুস্থ হওয়া পর তিনি চিকিৎসা দেন। ওই গরুর অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের সব লক্ষণ যেমন, দেহের লোম খাড়া, দেহের তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রির অধিক, নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ, পাতলা ও কালো পায়খানা দেখা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক ওয়ালিউজ্জামান পান্না বলেন, অ্যানথ্রাক্স-আক্রান্ত গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস, হাড়, নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে এলে মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগ গবাদিপশু থেকে মানুষে ছড়ায়, তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। মানুষের শরীরে এ রোগের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে চামড়ায় ঘা সৃষ্টি হওয়া। অসুস্থ গবাদিপশু জবাই না করা ও অসুস্থ প্রাণীর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, অ্যানথ্রাক্সের কারণ এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া (ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাকিস)। এরা মাটির নিচে বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষা মৌসুমে মাটির নিচ থেকে ওপরে উঠে আসে। গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়া ঘাস খাওয়ার সময় এদের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর গবাদিপশু খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) চন্দন কুমার সরকার বলেন, গবাদিপশুদের টিকা দিয়ে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ করা হয়। ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেলুয়া গ্রামে শনিবার (১৬ জুলাই ২০২২) ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক ৩০০টি গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে। কোনো গবাদিপশুতে রোগের লক্ষণ দেখা দিলে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় বা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২২ ৯:২৫ অপরাহ্ন
বিষযুক্ত ঘাস খেয়ে পল্লীচিকিৎসকের তিন গরুর মৃত্যু
প্রাণিসম্পদ

যশোরের চৌগাছায় বিষমাখা ঘাস খেয়ে শাহীদুল ইসলাম নামে এক পল্লীচিকিৎসকের তিনটি গরু মারা গেছে। এতে তার প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঁদবিলা গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্ত পল্লীচিকিৎসক শাহীদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরে মাঠ থেকে ঘাস কেটে এনে গরুকে খেতে দেন। এক ঘণ্টা পর মোবাইলে খবর পান একটি গাভী গরু মাটিতে পড়ে পা দাপাদাপি করছে। তিনি বাড়িতে গিয়ে দেখেন সেটি মারা গেছে।
তার চোখের সামনে বাকি দুটি গরু মাটিতে পড়ে মারা যায়।

6গরু তিনটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় একলাখ ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আমার সন্দেহ হয় কেউ শত্রুতা করে আমার গরুর ডাবায় বিষ জাতীয় কিছু দিতে পারে। বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পরে থানা পুলিশকেও জানিয়েছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২২ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
পুরো গ্রামের একসাথে কোরবানি, সমহারে মাংস বণ্টন
প্রাণিসম্পদ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী গ্রামে ৯৩টি গরু ও ৮টি খাসি কোরবানি করা হয়েছে। এই পশুর এক তৃতীয়াংশ মাংস গ্রামের ৫ হাজার ১৮৪ জন মানুষের এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিজন ৯০০ গ্রাম করে মাংস পেয়েছেন বলে জানা গেছে। গ্রামের লোকজন ২৭ বছর যাবত সমাজবদ্ধ হয়ে একত্রে এক জায়গায় পশু কোরবানি করছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার প্রতিনিধিসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ।

গ্রামের লোকজন জানান, পোষ্টকামুরী গ্রামটিতে পাঁচ হাজারের অধিক লোকজনের বসবাস। গ্রামবাসী সমাজবদ্ধ হয়ে দুই যুগের বেশি সময় ধরে একত্রে কোরবানি করে থাকেন। গ্রামের সব মানুষকে এক পরিবারের সদস্য মনে হয়। গ্রামটিতে কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে শতাধিক মানুষের। তবে কোরবানির মাংসের জন্য গ্রামের কাউকে কোথাও যেতে হয় না। যারা কোরবানি দেন তারাসহ গ্রামের সবাইকে সমহারে মাংস দেওয়া হয়। প্রতি বছর জনপ্রতি এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হলেও এ বছর গরু কোরবানি কম হওয়ায় জনপ্রতি ৯০০ গ্রাম করে সমহারে বিতরণ করা হয়।

প্রতি বছর পোষ্টকামুরী ক্লাব মাঠে গ্রামবাসী একত্রে কোরবানি করে থাকেন। এ বছর ক্লাবমাঠ সহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) পাশে এবং কয়েকজন বাড়িতে পশু কোরবানি করেন। বাড়িতে কোরবানি করা পশুর এক তৃতীয়াংশ মাংস নিজ দায়িত্বে ক্লাব মাঠে মাংস বিতরণ কাউন্টারে পৌছে দেন। মহাসড়কের পাশে কোরবানি করা পশুর মাংস স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পরে গ্রামটির এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে এই মাংস বিতরণ করা হয়।

গ্রামের মানুষের একসঙ্গে পশু কোরবানি দেওয়া গ্রামটির রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে সামাজিক হৃদ্যতা বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভালো কাজে উৎসাহ পাচ্ছে গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী জানায়, গ্রামটিতে ধনী-গরিব সবার মাঝে ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে একসঙ্গে পশু কোরবানি করেন গ্রামের পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ। ঈদের দিন কোরবানির পশু নিয়ে আসা হয় খোলা মাঠে। কোরবানির পর এক তৃতীয়াংশ মাংস একত্রিত করে তালিকা অনুযায়ী মাইকে নাম ডেকে মাংস বিতরণ করা হয়। মাংসের জন্য কাউতে ঘুরতে হয় না কারও দ্বারে দ্বারে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই মেলবন্ধন চলছে দুই যুগ ধরে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১১, ২০২২ ৬:০৪ অপরাহ্ন
চামড়া নিয়ে বিপাকে বিক্রেতারা
প্রাণিসম্পদ

চামড়া নিয়ে এবার বিপাকে বিক্রেতারা। লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকায়। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে না পেয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে মাদ্রাসা বা এতিমখানায়।
ফেনী সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুর গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, ‘আমি দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছি মাত্র ১৫০ টাকায়।’ ফেনী পৌরসভার শহীদ শহীদুল্লাহ সড়কের বাসিন্দা মীর হোসেন চামড়া নিয়ে বিকেল পর্যন্ত মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু, দুপুর পর্যন্ত কাউকে পাননি। বিকেলে একজন মৌসুমি ক্রেতা ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়াটি মাত্র ১০০ টাকা দাম বলে চলে যান। পরে তিনি চামড়াটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দিয়ে দেন।
একই শহরের দাগনভূঁঞার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, তার এলাকার একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী গ্রামে গ্রামে হেটে গড়ে ২০০ টাকা করে ২২টি চামড়া কিনেন। পরে কয়েকশ টাকা রিকশা ভাড়া করে বাজারে নিয়ে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
ফেনীতে এ বছর গ্রামে গ্রামে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দেখা মেলেনি। এলাকা ভেদে গরু ও মহিষের ছোট বড় সব ধরনের চামড়া ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এলাকায় কোনো মৌসুমি ব্যবসায়ীর দেখা না পেয়ে ৯৮ শতাংশ কোরবানির চামড়া স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কোরবানির ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই মাটিতে পুতে ফেলেছেন।
ফেনীর সব চেয়ে বড় চামড়ার মোকাম পাঁচগাছিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঢাকা থেকে তারা কোনো নির্দিষ্ট দর পাননি। তাছাড়া ঢাকায় ট্যানারিতে বা বড় আড়তে চামড়া বিক্রি করে বকেয়া টাকা ৫ বছরেও আদায় করা যায় না।
রোববার সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, তিনি গড়ে ৩৫০ টাকা করে ১১টি বড় গরুর চামড়া কিনে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে গড়ে ৫০ টাকা লাভে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। তবে, সংগ্রহ খরচ যোগ করা হলে কোনো লাভই হয়নি।
শহরের শান্তি কোম্পানি রোডের ইসলামিয়া এতিমখানার সভাপতি কেবিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের এতিমখানায় পাওয়া ২৬৭টি ছোট-বড় চামড়া গড়ে ৩৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আমরা কোনো ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করিনি।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১১, ২০২২ ৩:২৭ অপরাহ্ন
এবার কোরবানিতে ৯৯ লাখ ৫১ হাজার পশু জবেহ হয়েছে
প্রাণিসম্পদ

এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

তাদের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশে এবার প্রস্তুত করা হয়েছিল এক কোটি ২১ লাখ পশু। অবিক্রিত থেকে গেছে ২১ লাখ ৫০ হাজার ২৩৭টি পশু। আর এবার কোরবানি দেওয়া পশুর সংখ্যা ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি।

গতবছরও কোরবানিযোগ্য ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫২৩টি পশু অবিক্রিত থেকে যায়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এরমধ্যে কোরবানি হয় মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১১, ২০২২ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
ঈদের ২য় দিনেও চলছে পশু কোরবানি
প্রাণিসম্পদ

১০ জুলাইপালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার (১১ জুলাই) ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন। সারাদেশে ঈদের দ্বিতীয় দিনও চলছে পশু কোরবানি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লা ও প্রধান সড়কে পশু কোরবানি দিতে দেখা গেছে। ঈদের দিনের মতোই উৎসবমুখর পরিবেশে পশু কোরবানি করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও আ‌রো দু‌দিন তথা জিলহজ মাসের ১১ তারিখ (ঈদের দ্বিতীয় দিন) ও ১২ তারিখও (ঈদের তৃতীয় দিন) সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। এই বিধানের আলোকে দ্বিতীয় দিন অনেকে পশু কোরবানি করছেন।

ত্যাগের মহিমা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কেউ একাধিক কোরবানি দিচ্ছেন। আবার কেউ পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষায়, কেউ আবার ব্যবসা ও কাজের চাপ এবং কসাইয়ের অভাবে ঈদের দিন পশু জবাই দিতে পারেননি, তারাই দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিচ্ছেন।

দ্বিতীয় দিনের কোরবানির সংখ্যা পুরান ঢাকায় বেশি হলেও রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও দেখা গেছে কোরবানির ব্যস্ততা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন পশু কোরবানি দেওয়া রাজধানীর সবুজবাগের আব্দুল মর্শেদ জানান, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য হিসাবে প্রতিবছর তিনটি গরু কোরবানি দেই। একটি ঈদের দিন কোরবানি করেছি। আজ একটা দিচ্ছি; আগামীকালও আরেতকটা কোরবানি করব। দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাদের কোরবানি কবুল করেন।

উত্তর বাড্ডা এলাকার বাড়ির সামনে রাস্তার পাশেই পশু কোরবানি দিয়েছেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দুই ভাই দুটি গরু এনেছিলাম। এক সঙ্গে কাটতে সমস্যা, লোকবলের অভাব। তাই ঈদের দিন বড় ভাইয়ের গরু কোরবানি দিয়েছি। আজ আমারটা কোরবানি করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২২ ২:২৯ অপরাহ্ন
দুপুর থেকেই বর্জ্য অপসারণ শুরু রাজধানীতে
প্রাণ ও প্রকৃতি

ঢাকায় দুপুর ২টা থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বাসস জানায়, আজ সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেয়র একথা বলেন।

তিনি জানান, ‌ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে যে কোরবানি দেওয়া হবে, আমি সকলকে অনুরোধ করব- খুব সুষ্ঠুভাবে, পরিবেশ বজায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে যেন আমরা কোরবানি দিতে পারি। এরপর আমরা দুই মেয়র মিলে, ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য সকল বর্জ্য অপসারণে আমরা দুপুর ২টা থেকে কার্যক্রম শুরু করব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামও জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এসময় মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা দুই মেয়র প্রধান বিচারপতিসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির সাথে নামাজ আদায় করেছি।

বর্জ্য অপসারণে সকলের সহযোগিতা কামনা করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব, ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করব আপনারা আমাদেরকে সাহায্য করুন। আপনারা নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্যটা রেখে দিন। আমাদের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে, আমরা আশা করি খুব শিগগিরই সকল বর্জ্য অপসারণ করতে পারব।

এর আগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন। জামাত পরবর্তী এক বিশেষ মোনাজাতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জাতির পিতার পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আল্লাহপাকের রহমত প্রার্থনা করেন।

প্রধান ঈদ জামাতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নামাজ আদায় করেন। নামাজ পরবর্তী দুুই মেয়র একে অপরের সাথে এবং প্রধান বিচারপতিসহ উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কোলাকুলি করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামানসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২২ ৬:৩৫ অপরাহ্ন
কোরবানির গরু চুরি করে জবাই!
প্রাণিসম্পদ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য রাখা গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি করে জবাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

গরুর মালিক জালাল মোল্লা জানান, এবারের কোরবানির হাটে বিক্রি করার জন্য গোয়ালে পালিত একটি গরু গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় চন্ডিপুর পশুর হাটে নিয়ে যাই। ওই হাটে ৬০ হাজার টাকা দাম উঠলেও মাত্র এক হাজার টাকার জন্য গরুটি বিক্রি করি নাই।

কিন্তু গতকাল গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা গোয়াল ঘর থেকে আমার সেই গরুটি চুরি করে কচা নদীর পাড়ে জবাই করে নিয়ে গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল ফকির বলেন, গরুটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন কৃষক জালাল মোল্লা।

ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হক জানান, এ বিষয়ে শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২২ ১২:৪৫ অপরাহ্ন
আগামীকাল ঈদ, বর্জ্য পরিস্কারে রাজধানীতে কাজ করবে ২০ হাজার কর্মী
প্রাণ ও প্রকৃতি

আগামীকাল মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদুল আজহাতে রাজধানীতে হওয়া কোরবানির বর্জ্য খুব দ্রুত পরিস্কার করতে কাজ করবে প্রায় ২০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এমন আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়েছে আলাদা পরিকল্পনা৷ বাতিল করা হয়েছে কর্মীদের ছুটি৷

কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৯ হাজার কর্মী কাজ করবেন৷ পরিচ্ছন্নতার কাজে ডিএসসিসির নিজস্ব ময়লার গাড়ি ছাড়াও রাজউক, ওয়াসাসহ কয়েকটি সংস্থা থেকে নেওয়া মোট ৩০০ গাড়ি কাজ করবে। কোরবানিদাতাদের মধ্যে ২৫ মেট্রিক টন ব্লিচিং পাউডারসহ বিতরণ করা হবে পরিবেশবান্ধব ১ লাখ ২০ হাজার পলিথিন। ৫৪০ লিটার স্যাভলন দেওয়া হবে। ময়লা নেওয়ার পর পশু জবাইয়ের জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য মাঠে থাকবে পানির গাড়ি।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে সচিত্র তদারকি করতে ১০টি টিম গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থার আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি টিম গঠন করা হয়। ১০ জুলাই দুপুর ২টা থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টিমগুলো পশুর বর্জ্য অপসারণ সম্পর্কিত এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা ঈদের আগের দিন রাত ২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করব এবং কোরবানির বর্জ্য ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করবো।’

কোরবানির পশু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসির ৯ হাজার ৯০০ কর্মী কাজ করবেন। বর্জ্য সরাতে নিজস্ব ১৫০টি ডাম্প ট্রাক বা খোলা ট্রাক, ৪৭টি ভারী যান এবং ১০টি পানির গাড়ির পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহের কাজে ভাড়া করা আরও ১০৮টি পিকআপ কাজ করবে প্রথম দিন। এ ছাড়া দ্বিতীয় দিন কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে ৫৪টি পিকআপ। পরিবেশের ক্ষতিকারক না, এমন ৫ লাখ ব্যাগ দেওয়া হবে কোরবানিদাতাদের। স্যাভলন বিতরণ করা হবে ৪ হাজার ৩৩০ লিটার। এ ছাড়া বিতরণ করা হবে ৫৩ মেট্রিক টন ব্লিচিং পাউডার।

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ঈদে ১২ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে। কোরবানি বর্জ্য ১২ ঘণ্টায় পরিষ্কারের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কর্মী বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২২ ১২:০৫ অপরাহ্ন
বড় গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

বড় গরুর দাম জিগালেও ক্রেতারা কিনছেন ছোট গরু। বড় গরু নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে হতাশায় আছেন খামারিরা

গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় গরুর দাম হঠাৎ করেই পড়ে গেছে। ছোট গরু তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হলেও বড় গরুর দাম ততটা বলছেন না কেউ।

‘রাজা’ নামের একটি গরু নিয়ে মেহেরপুরের গাংনী থেকে এসেছেন আসমা বেগম। সাড়ে তিন বছর বয়সী ‘রাজা’র ৩০ মণ মাংস হবে বলে দাবি করছেন তিনি। দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। তবে কোনো ক্রেতা এখনও আশানুরূপ দাম বলেননি।

এত দূর থেকে এত খরচ করে গরুটি গাবতলী হাটে তুলে যেন বিপাকে পড়েছেন আসমা। গরু পরিবহনে ট্রাক ভাড়া বাবদ ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। এর সঙ্গে এই চারদিনের আনুসঙ্গিক খরচতো রয়েছেই। অবস্থা এমন হয়েছে যে গরুটি বিক্রি করতে পারলেই যেন মুক্তি পান তিনি! এখন সাত লাখ টাকা দাম পেলেই রাজাকে বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে চান, অথচ ক্রেতা মিলছে না।

আসমা বেগম বলেন, ‘১৪ লাখ টাকার বদলে ৭ লাখ দাম বলি। তবুও খদ্দের নাই।’

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে চারটা বড় গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন নাসির উদ্দীন ব্যাপারী। কয়েকদিন বসে থেকেও একটা গরুও বিক্রি হয়নি। অনেকটা আক্ষেপ করেই নাসির বলেন, ‘ঢাকার মানুষ মাংসের দামে গরু কোরবানি দেবে না। তারা আলুর দামে গরু কোরবানি দিতে চায়।’

এদিকে, ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকায় রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে ক্রেতাদের আনাগোনা ও বিক্রি দুটোই বেড়েছে। তবে হঠাৎ করেই কমে গেছে বড় গরুর দাম।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop