১:১৪ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৫:২১ অপরাহ্ন
সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমে চলছে মা কাঁকড়া নিধন
মৎস্য

প্রজনন মৌসুমেও কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে চলছে মা কাঁকড়া নিধন। জেলেরা কতিপয় অসাধু বনকর্মীদের যোগসাজশে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অবৈধভাবে আহরণ করছে মা কাঁকড়া। ফলে রপ্তানিযোগ্য শিলা কাঁকড়া সহ বিভিন্ন ধরনের কাঁকড়ার প্রজনন ব্যহত হবার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১ জানুয়ারী থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবনের আওতাধীন ১৩টি নদ-নদী, প্রায় ২৫০টি ছোট-বড় খাল ও জলাভূমিতে নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষনের লক্ষ্যে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়া আহরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে বনবিভাগ। শিলা কাঁকড়ার প্রধান উৎস সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া

অধিক লাভের আশায় বন সংলগ্ন দাদন ব্যবসায়ীরা চরপাটা, গুড়ি জাল দিয়ে মাছ ধরার পাশের (অনুমতি) আড়ালে জেলেদের দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখা শিলা কাঁকড়া নিধন করছে এবং এতে বনবিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া, পুর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জ কার্য্যালয়ের সম্মুখে স্থানীয় শরনখোলা বাজারের ব্যবসায়ী রিপন রয়াতী, ডালিম আকন, আলতাফ মাতুব্বর, ইসমাইল হাওলাদার, ডালিম মুন্সী, মিজান খাঁন, জামাল গাজী, নুরু হাওলাদার, ফরিদ খাঁন, ফেরদৌস খাঁন এবং চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর টহল ফাঁড়ি এলাকায় রফিকুল হাওলাদার, কালাম মুন্সী ও কালু সহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিদিনই প্রকাশ্যে সুন্দরবন হতে ধরে আনা ১৫/২০ মন কাঁকড়া ক্রয় বিক্রয় করলেও বনরক্ষীরা দেখেও না দেখার ভান করছে।

অন্যদিকে, কাঁকড়া আহরন নিষিদ্ধ মৌসুমে শুটকি পল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় রামপাল ও মোংলা এলাকার প্রায় অর্ধশত জেলেদের কাছ থেকে প্রতি (১৫দিনে) দুই হাজার টাকা করে উৎকোচ নিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, মেহের আলী, নারিকেলবাড়িয়া সহ বিভিন্ন এলাকা হতে কাঁকড়া আহরণে জেলেদের সহায়তা করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলেরা জানান।

জানতে চাইলে দুবলা ফাঁড়ির কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমানে মাছ ধরার জন্য চরপাটা ও গুড়ি জালের পাশ থাকলেও কাঁকড়ার পাশ বন্ধ রয়েছে। তবে, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।

শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বিনয় কুমার রায় বলেন, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলে উৎপাদন চরম ভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাঁকড়ার প্রজনন সহ প্রাকৃতিক এ সম্পদ রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরী।

পুর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) সামছুল আরেফিন জানান, বর্তমানে কাঁকড়া আহরণ ও বিপনন নিষিদ্ধ। গোপনে অন্য পাশ নিয়ে যদি কেউ কাঁকড়া ধরে ও বিক্রি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সহ টহল জোরদার করা হবে।

পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া আহরণের অনুমতি নাই। তবে, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৪:৪৬ অপরাহ্ন
ভোলায় শুটকি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা
মৎস্য

ভোলা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুটকি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাসন ও মনপুরায় গড়ে উঠছে মৌসুম ভিত্তিক একাধিক শুটকির পল্লী। বছরে এসব স্থানে শত শত টন শুটকি উৎপাদন হয়।

ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, লক্ষীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব শুটকি সরবরাহ করা হয়। মূলত এসব শুটকির মধ্যে মানুষের খাওয়ার শুটকি ও  মাছের খাদ্য তৈরির শুটকি বেশি উৎপাদন করা হয়। প্রথম দিকে সীমিত আকারে শুটকি হলেও সাম্প্রতিক তা বৃদ্ধি পেয়েছে। নভেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে ব্যাপক আকারে শুটকি হয়ে থাকে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে বৃহৎ আকারে শুটকি উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

চরফ্যাসন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের পূর্ব ঢালচর, কুকরি-মুকরি ইউপির চর পাতিলা ও মনুরা, চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া, হাজারিগঞ্জের চর ফকিরা এবং দুলার হাট থানার আশার চরে শুটকি উৎপাদন হয়ে আসছে বেশ কয়েক বছর যাবত। নতুন করে আসলামপুর ও চরমাদ্রাজ ইউনিয়নে শুটকি তৈরি হচ্ছে। মুজিবনগর ইউনিয়নেও শুটকি উৎপাদনের পরিকল্পনা চলছে।

এছাড়া মনপুরা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে শুটকি উৎপাদন চলছে ৮/৯ বছর ধরে। শীত মৌসুমে ইলিশের সংকট থাকায় অনেক জেলেই বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় তাই বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে  শুটকি পল্লীতে কাজ বেছে নিয়েছেন অনেক জেলে। মাছ ধরার পাশাপাশি শুটকি অনেকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তৈরি করছে।

চরফ্যাসন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানান, এখানে সাধারণত চেউয়া মাছের শুটকিটা বেশি হয়। এছাড়া রুপচাঁদা, লাইট্রা, অনুফা, কাচকি মাছেরও শুটকি হয়। বিশেষ করে কুকরি-মুকরির চর পাতিলা, মনুরা, ঢালচরের পূর্ব ঢালচর শুটকি’র জন্য বিখ্যাত। এ শুটকিতে প্রটিনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মাছের ফিস ফিড তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। মাছ চাষের সময়টাতে এসব শুটকির ব্যাপক দাম পাওয়া যায়।

স্থানীয়ভাবে সবচে বড় বাজার হচ্ছে দুলার হাট মাছ বাজার। এ উপজেলায় কয়েক হাজার পরিবার এ খাতের সাথে সরাসরি জড়িত বলে জানান তিনি।
দুলার হাট মাছ বাজারের শুটকি আড়ৎদার মো: আব্বাস মিয়া বলেন, এটি শুটকির জন্য এ অঞ্চলের সর্ব বৃহৎ একটি বাজার। এখানে প্রাণি খাদ্যের জন্য এক প্রকার শুটকি কেজি বিক্রি হয় ৪০-৪৫ টাকা ও অন্য প্রকার ৬০-৬৫ টাকা। আর মানুষের খাওয়ার শুটকি বিক্রি হয় কেজি প্রতি ১০০-১২০ টাকা দরে। তবে এ মূল্য উঠা নামা করে।

তিনি বলেন, মৌসুমের এ সময়টাতে মাসে এ বাজারে প্রায় ১৮’শ টন করে শুটকি বিক্রি হয়। সর্বনিন্ম ৪০ টাকা কেজি দরে হলেও দাম দাঁড়ায় ৭২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার শুটকি বেঁচা-কেনা হয়। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুটকি পাঠান তারা।

শুটকি উৎপাদনের সাথে জড়িতরা জানান, নদী ও সাগর থেকে মাছ ধরার পর ২/৩ দিন ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর মাঁচা তৈরী করে সেখানে আরো কিছুদিন সংরক্ষণ করতে হয়। পরে উৎকৃষ্ট মানের শুটকি প্রস্তুত সম্পন্ন হলে তা বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। দুলার হাট থানার সাগর মোহনার আশার চরে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি শুটকি উৎপাদনের সাথে জড়িত। তাদের এসব পল্লীতে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছে। সেখানে দেখা যায় জেলেদের কর্ম ব্যস্ততা। কেউ রোদে শুটকি শুকাচ্ছেন, কেউ আপনমনে পরিচর্যা করছেন। কেউ আবার মাঁচার ভিতর শুটকি প্রস্তুত করছেন। কেউবা বিক্রির জন্য প্যাকেটজাত করছেন।

এখানকার ব্যবসায়ী মো: বাবুল ব্যাপরী জানান, সাগর কূলের তাদের এ চরের আবহাওয়া সম্পূর্ণ শুটকি তৈরির উপযোগী। গত ৬ দিন আগে তার চাতালের শুটকি বিক্রি করেছেন। ১৬’শ টাকা মণে প্রায় ৪’শ মণ শুটকি বিক্রি করেন। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নতুন শুটকির জন্য মাছ উঠাবেন বলে জানান তিনি। অপর ব্যবসায়ী মো: আলআমিন বলেন, বর্তমানে শুটকি উৎপাদনে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে। এসময় মাছ কিছুটা কম থাকায় শ্রমিক হিসাবে প্রচুর জেলেদের পাওয়া যায়। আরো বৃহৎ পরিসরে শুটকি তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, সাম্প্রতি মনপুরায় শুটকির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর পুরো গ্রামটাই শুটকি উৎপাদন হয়। এ গ্রামটি আর্শ গ্রাম হতে পারে শুটকি তৈরিতে। এছাড়া মনপুরা ইউনিয়নের কলাতুলি চরেও শুটকি তৈরি হয়ে আসছে। প্রত্যেক বছরই এর চাহিদা বাড়ছে। তাই উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুটকি পল্লীর শ্রমিক নাসির মিয়া, জুলহাস আলী ও রফিক হোসেন বলেন, তারা গত চার বছর ধরে শুটকি পল্লীতে কাজ করছেন। ফলে নদীতে মাছ না থাকার সময়টাতে তারা স্বচ্ছল রয়েছেন। জেলে মো: আলাউদ্দিন সিকদার, আক্তার হোসেন ও মো: শফিকুল বেপারী জানান, শুটকি উৎপাদনের আয়ে তাদের ভালো চলছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ২:১৭ অপরাহ্ন
এক জালে উঠলো ৬ লাখ টাকার মাছ
মৎস্য

টেকনাফের শাহপরী এলাকায় মো. কলিম উল্লাহর বাইস্যা জালে ধরা পড়েছে প্রায় তিনশ’ মণ মাছ।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া নৌকার ঘাটে ৬ লাখ টাকায় মাছগুলো বিক্রি হয়।

জেলে কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সোমবার ভোরে পশ্চিম পাড়া সৈকতে বাইস্যা জাল ফেলি। সকাল ১০টার দিকে জাল টেনে তুলে দেখতে পাই প্রচুর মাছ। এরমধ্যে রয়েছে ছোট পোয়া, ছোট ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় তিনশ’ মণ মাছ জালে ধরা পড়ে। পরে মাছগুলো ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করি।’

জেলে বদি আলম বলেন, ‘মাছগুলো পাইকারি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়। এরআগে রবিবারও চার লাখ টাকার মাছ পেয়েছি আমরা। অন্য বছরের চেয়ে এ বছর জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে।’

শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়ার সাবেক মেম্বার নুরুল আমিন বলেন, জেলেদের হইচই শুনে এগিয়ে দেখি সেখানে মাছের স্তূপ। এসময়  স্থানীয়রা ভিড় করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ১:৫১ অপরাহ্ন
হাতিয়ায় ৭শত কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ
মৎস্য

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভায় অভিযান চালিয়ে ৭০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এসময় টমটমের দুই চালককে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ওছখালি ব্রিকফিল্ড এলাকা থেকে মাছগুলো জব্দ করা হয়।

কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড বিসিজি স্টেশান হাতিয়ার একটি দল ওছখালি এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ব্রিকফিল্ড এলাকায় দুটি টমটমের গতিরোধ করা হয়। পরে ওই গাড়ীগুলোতে থাকা ঝুড়িতে রাখা অবস্থায় প্রায় ৭০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়।

পরে সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. শাহজাহান ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র দাসের উপস্থিতিতে মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানা ও গরিব ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এম হারুন কাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ১২:৪০ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ছে মাছ চাষ
মৎস্য

ত্রিশালে মাছ চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভবান হওয়ায় চাষিরা মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। দেশের শতকরা ২২ ভাগ মাছ উৎপাদন হয় ময়মনসিংহ জেলায়।

জানা গেছে, উপজেলায় মাছের মোট উৎপাদন ৮৫ হাজার ১২২ টন। মাছের চাহিদা ৮ হাজার ২২০ টন এবং উপজেলায় মাছ উদ্বৃত্ত ৭৬ হাজার ৯০২ টন। উপজেলা মৎস্য অফিসের অধীনে দুটি মৎস্য প্রকল্প চলমান। প্রকল্পগুলো হলো ন্যাশনাল টেকনোলজি প্রজেক্ট (এন.এ.টিপি-২) এবং ইউনিয়ন মৎস্য চাষ প্রকল্প। উপজেলায় ধান, সবজি চষের পাশাপাশি মাছ চাষও সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেখা গেছে, পৌর শহরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও পাঙাশ মাছের জন্য দুটি পৃথক মৎস্য আড়তে প্রতিদিন মাছ বিক্রি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে এই মাছগুলো। দেশীয় প্রজাতির মাছের ‘দয়াল নবী’ মৎস্য আড়তের মালিক আবুল মুনসুর জানান, এ মৎস্য আড়ত থেকে প্রতিদিন ১৫/২০ টন মাছ বিক্রি হচ্ছে যার আনুমানিক মূল্য ১৫/২০ লাখ টাকা। অপর দিকে পাঙাশ মৎস্য আড়তের প্রগতি ফিস কমিশন এজেন্টের মালিক তাজুল ইসলাম গং জানান, এ আড়ত থেকে ৮০ থেকে ৯০ টন মাছ বিক্রি হচ্ছে যার আনুমানিক মূল্য ৬৫/৭৩ লাখ টাকা।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামের মাহাবুব মৎস্য হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারিজের মালিক খাইরুল বাসার মাহাবুব জানান, আমার হ্যাচারিতে শিং, পাবদা, গুলশা, টেংরা, মাগুর ও দেশীয় প্রজাতির সব প্রকার রেণু ও পোনা বিক্রি করা হয়। গুণমান ভালো হওয়ায় ত্রিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাষিরা আমার হ্যাচারি থেকে রেণু ও পোনা কিনে নিয়ে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মৎস্যচাষি আশিক আহমেদ জানান, মৎস্য খাদ্যের দাম দিন দিন বৃদ্ধির ফলে মাছ চাষে বর্তমানে কৃষকের লাভের পরিমাণ কম হচ্ছে। সরকার যদি মৎস্য খাদ্যের দাম নির্ধারণ করে দেয় তবে মৎস্যচাষিরা লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া মৎস্য ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে মৎস্যচাষিরা মাছ চাষে আরো উৎসাহী হবেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, এন.এ টিপি প্রজেক্টের আওতায় ত্রিশালে একটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। যার নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি নির্মাণকাজ শেষ হলে মৎস্যচাষিরা অনলাইনে সরাসরি তাদের উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে লাভবান হবেন। তিনি বলেন, মাছ চাষে ত্রিশাল একটি মডেল উপজেলা। উপজেলা মৎস্য অফিসের সঠিক তদারকির কারণে ত্রিশালে মাছ চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ত্রিশাল থেকে মাছ সরাসরি এবং পাইকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৮, ২০২২ ১১:০২ পূর্বাহ্ন
দেশি মাগুরের পোনা উৎপাদনে যেভাবে তৈরি করবেন পুকুর
মৎস্য

দেশে মাছ চাষিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর মাছ চাষিদের অন্যতম চাহিদার জায়গা হলো মাগুরের চাষ। পুকুরে তৈরি হচ্ছে এই মাগুরের পোনা চাষ। এতে লাভবানও হচ্ছেন তারা। পুকুরে এই মাছ চাষে কতগুলো নিয়ম পালন করলে আরো লাভবান হবেন চাষিরা।

দেশি মাগুরের পোনা উৎপাদনে পুকুর তৈরিতে করণীয়ঃ
দেশি মাগুরের রেনু থেকে পোনা উৎপাদনের জন্য পুকুর তৈরি একটা বড় ভূমিকা পালন করে। পুকুর তৈরিতে কোনো ত্রুটি থাকলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। পুকুরের তলায় পানি থাকলে প্রথমেই সেচ দিতে হবে।

প্রতি শতকে ১ কেজি হারে চুন পানির সাথে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর মই দিয়ে রোদে শুকিয়ে পুকুরের চারপাশ পরিষ্কার করতে হবে। পুকুরের পাড়ে জাল দিয়ে ভালভাবে বেড়া দিতে হবে। মাটি থেকে এ জালের উচ্চতা হবে কমপক্ষে চার ফুটের মত।

স্যালো মেশিন দিয়ে ১ ফুট থেকে ১.৫ ফুট পরিষ্কার পানিতে পুকুর ভরতে হবে।

মনে রাখতে হবে, অপরিষ্কার পানি কিছুতেই পুকুরে দেয়া যাবে না আবার বেশি পানিও দেয়া যাবে না। অনেক খামারি ২/৩ ফুট পানির মধ্যেই রেনু ছাড়েন বলে দশ ভাগের একভাগ পোনাও উৎপাদন হয় না শুধুমাত্র পানির উচ্চতার কারণে।

চুন প্রয়োগ: পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে হালকাভাবে চাষ দিয়ে তলার মাটির অম্ল বা খরতা পরীক্ষা সাপেক্ষে প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের পর পুকুর ১৫ সেন্টিমিটার (৬ ইঞ্চি) পরিমাণ পানি ঢুকিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে রাখতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ: চুন প্রয়োগের ৭ থেকে ১৫ দিন পর প্রতি শতাংশে ১০ কেজি হারে গোবর সার অথবা ৫ কেজি হারে মুরগির বিষ্ঠা ছিটিয়ে দিতে হবে।

অজৈব সার প্রয়োগ: জৈব সার প্রয়োগের সাত দিন পর পানির উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বজায় থাকা অবস্খায় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পানির রঙ বাদামি সবুজ, লালচে বাদামি, হালকা সবুজ, লালচে সবুজ অথবা সবুজ থাকাকালীন অজৈব সার (রাসায়নিক) প্রয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই।

পোনা মজুদ: ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যরে সুস্থ্য সবল পোনা প্রতি বর্গমিটারে ৫০ থেকে ৮০টি হারে পুকুরে ছাড়া যেতে পারে। মে থেকে জুন মাস মাগুরের পোনা ছাড়ার যথার্থ সময়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৭, ২০২২ ৭:৫১ অপরাহ্ন
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে স্বাবলম্বী তারিক
মৎস্য

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাংলাদেশের জন্য কিছুটা নতুন হলেও এটি ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও চায়নাতে অনেক আগ থেকে বহু জনপ্রিয়। আর সেই বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সন্তান তারিক হাসান প্রথম বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সাড়া ফেলে জাগিয়েছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়া ডাঙ্গী (মুসলিম) গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা তারিক হাসান উপজেলায় প্রথম এই বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। তার এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে আশেপাশের অন্যান্য যুবকদের মধ্যেও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে নানা রকম কৌতুহুল ও আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা যায়।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অল্প জায়গাতে উচ্চ ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায় এবং এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ তুলনামূলকভাবে অন্য পদ্ধতি অপেক্ষা খরচ সাশ্রয়ী ও কম ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের মতো অধিক জনসংখ্যা ও স্বল্প আয়তনের দেশে এই পদ্ধতিটা ছড়িয়ে পড়া খুবই জরুরি। এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে যাবে।

জানা যায়, তারিক হাসান প্রাথমিকভাবে তার বাড়ির পেছনে ১৫ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৬ হাজার লিটারের দুটি ট্যাংকিতে ৫৪ হাজার কৈ মাছ ২ লাখ শিং জাতীয় মাছের চাষ শুরু করছেন।

তারিক জানান, তার এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে প্রায় ১২ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। তিনি আশা করেন এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফল হলে ৫ মাস পর সে এই ট্যাংকি থেকে ন্যূনতম তার ১০ হাজার কেজি মাছ উৎপাদিত হবে এবং এবং প্রায় ৬ লাখ টাকার মত লাভ করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানান, আমরা উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তা তারিক হাসানের বায়োফ্লক মৎস্য খামারটি এর আগে পরিদর্শন করেছি।

এ ছাড়া তার বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে আমরা সত্যি খুব আনন্দিত, এটি একটি সফল প্রকল্প বলা চলে। আমরা তার বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করার পাশাপাশি আমরা তাকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করবেন বলেও জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৬, ২০২২ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
যেভাবে করবেন শোল মাছের চাষ
মৎস্য

শোল মাছ একটি জনপ্রিয় মাছ। এই মাছকে অনেকে রাক্ষুসে মাছ বললেও এর চাহিদা রয়েছে অনেক। এই মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। এই মাছ চাষে অনেকেই লাভবান হতে পারবেন খুব সহজে।

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ২:৫৪ অপরাহ্ন
ভোলায় ৪০০ কেজি জাটকা জব্দ
মৎস্য

ভোলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে জাটকা পরিবহনের সময় একটি মাছবাহী ট্রাক থেকে ৪০০ কেজি জাটকা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।

সোমবার (০৩ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভোলার সদরের খেয়াঘাট এলাকা থেকে এ জাটকা জব্দ করা হয়।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. তাহসিন রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলা থেকে বরিশালগামী একটি মাছের ট্রাকে খেয়াঘাট এলাকায় তল্লাশি করে ৪০০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত জাটকা স্থানীয় মৎস্য বিভাগের উপস্থিতিতে এতিমখানা ও গরিব অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে জাটকা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ২:০৬ অপরাহ্ন
হালদা থেকে ১ বছরে ৫৫ হাজার মিটার জাল জব্দ
মৎস্য

হালদা নদী বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র। যে নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে সরকার। তাই বছরজুড়ে হালদা নদী রক্ষায় হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি থাকে চোখে পড়ার মতো। হালদা নদীতে গত এক বছরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে প্রায় ৫৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৬ মাস হাটহাজারী উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন হালদা নদী রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছেন। পরে নতুন ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন শাহিদুল আলম। তিনি ১১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি ২৩টি অভিযানে পরিচালনা করে প্রায় ৩১ হাজার মিটার জাল জব্দ করেন। এ ছাড়াও ২টি ঘেরা জাল বসানোর নৌকা ও ৩টি বালু উত্তোলনে ব্যবহার করা নৌকা ধ্বংস করা হয়। জরিমানা আদায় করা হয় ৬০ হাজার টাকা। একটি ১৫ কেজি ওজনের মা-মাছ উদ্ধার করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। হালদা নদীতে অভিযান পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩টি নৌকা নামানো হয়। অবৈধভাবে উত্তোলিত মোট জব্দকৃত বালুর পরিমাণের সঠিক হিসাব জানা যায়নি। হালদা নদীতে অবৈধভাবে ঘেরাজাল বসানোর কাজে ব্যবহৃত ৮টি নৌকা আটক করে ধ্বংস করা হয়। হালদা নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ২টি টাক্টর ধ্বংস করা হয়। এসব অভিযানে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়াও বালু উত্তোলনে ব্যবহার করা ইঞ্জিন চালিত নৌকা ধ্বংস করা হয় ৮টি।

সাবেক ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, হালদার পাহারাদার হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নয় দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই করেছি। হালদা শুধু নদীই নয়, একটা অনুভূতির নাম।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল আলম বলেন, হালদা নদী থেকে অবৈধ জাল পেতে মা-মাছ ধরা, ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল বন্ধ, বালু উত্তোলন, ডলফিন রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হালদা নদী রক্ষায় আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop