৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ১৬, ২০২১ ৭:০৪ অপরাহ্ন
পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের কলাগাছ নিধন
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাদৎ হোসেন নামের এক কৃষকের কলা বাগানের প্রায় শতাধিক কলা গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই কৃষকের প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আয়মারসুল ইউনিয়নের মালিদহ গ্রামে। শাহাদৎ হোসেন মালিদহ গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের পুত্র শফিকুল ইসলাম (৪০) এর নামে পাঁচবিবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ এর বাড়ীর সন্নিকটে গরু দিয়ে ঘাস খাওয়ানোর সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় শফিকুল ইসলাম শাহাদৎ কে দেখে নেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতি করার হুমকি দেয়। পরে ঐ রাতেই শাহাদৎ ইসলামের ৪৫শতক জমির কলা বাগানের কলার মোছা বের হওয়া প্রায় শতাধিক কলা গাছ কর্তন করে।
এলাকাবাসীরা জানায়, ঘটনার আগের দিন তাদের দু’জনের মধ্যে গরুর ঘাস খাওয়া নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়েছে। তবে কলার গাছ কে কেটেছে তা তারা জানেন না।

আয়মারসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম বেনু বলেন, শাহাদৎ হোসেনের জমির কলার গাছ কাটার কথা জেনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে যেই এ অপরাধ করুক তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

অভিযুক্ত শফিকুলের বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, কলা বাগানের কলা গাছ কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৫, ২০২১ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
যেকারণে নরসিংদীর কৃষকরা ঝুঁকছেন লটকন চাষে
কৃষি বিভাগ

অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় নরসিংদীর অনেক কৃষকই ঝুঁকছেন লটকন চাষে। লটকন চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্যও পেয়েছে অনেকে। এছাড়া এই লটকন দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে দেশের সীমানা পেড়িয়ে বিদেশেও।

জেলায় এবছর ১ হাজার ৬শত ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লটকন চাষ হয়েছে শিবপুর উপজেলায়। সুস্বাধু লটকন ঔষধিগুণ সম্পন্ন হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এর চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ।

এছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় কয়েকগুণ লাভ বেশি হওয়ায় লটকন চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। বাজারে আকার ভেদে প্রতি কেজি লটকন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

নরসিংদী জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়।

চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬শত ১০ হেক্টর জমিতে লটনকনের বাগান করা হয়েছে। যা হেক্টর প্রতি ১৫ টন হারে ২৪ হাজার মেট্রিক টন লটকনের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। আর উৎপাদিত এ লটকন পাইকারি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার মূল্য পাওয়া যাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।

কৃষি অধিদপ্তর জানায়, রোপণের তিন বছরের মধ্যে লটকন গাছে ফলন আসে। প্রতিটি গাছ ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না। ফল সংগ্রহের ৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোঁড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা ও আকার বৃদ্ধি পায়।

এ ফল চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিক্রির জন্য কোন টেনশন করতে হয় না। পাইকারী ব্যবসায়ীরা লটকন কাঁচা থাকা অবস্থায় চাষিদের কাছ থেকে বাগান খরিদ করে নেয়। বাগান খরিদের পদ্ধতিতে রয়েছে ভিন্নতা।

প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে একদল পাইকার দাম-দর করে বাগান ক্রয় করেন, পরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পাকা লটকন বাগান থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। প্রকারভেদে পাইকারি মণ প্রতি দাম ওঠে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

এদিকে মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল, বেলাবরের বাড়ৈচা, পলাশের রাবান ও শিবপুর উপজেলা সদরে ও যোশরে বসছে লটকনের পাইকারী বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা এসে এসব বাজার থেকে কিনে নিয়ে যায় লটকন।

পর্যায়ক্রমে হাত বদল হয়ে লটকন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজারে। অনেকে সরাসরি বাগান থেকে লটকন কিনে সরবরাহ করছেন।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শোভন কুমার ধর জানান, লটকন চাষ বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চারা উৎপাদন করাসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রপ্তানি হওয়াতে কৃষকরা লটকনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন । চলতি মৌসুমে ১৬১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে।

প্রতি হেক্টরে ১৫ মেট্রিকটন ফলন হিসেবে লটকনের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ হাজার মেট্রিকটন যার পাইকারি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ১৬৮ কোটি টাকা।

মানুষের শরীরে একদিনে যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন মাত্র তিন থেকে চারটি লটকন সে চাহিদা মেটাতে পারে। ছোট এ ফলটি ভিটামিন ‘বি-টু’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। যা এই করোনাকালে আমাদের সবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৫, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ন
ভোলায় শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষ
এগ্রিবিজনেস

ভোলায় বাণিজ্যিকভাবে আদার চাষ শুরু হয়েছে। জেলায় চলতি বছরের রবি মৌসুমের শেষের দিকে জেলার ৭ উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের পাহাড়ি আদার চাষ হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে ৪২০ মেট্রিক টন আদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৩ মেট্রিক টন আদা উৎপাদন করা সম্ভব। ৭-৮ মাসব্যাপী আদা চাষে ৪’শ ৩২ জন কৃষককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বীজ বিতরণ ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ জানান, আদা মূলত দামি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি মসলা। দেশে আদা চাহিদার তুলনায় বড় একটি অংশ অন্যদেশ থেকে আনতে হয়। এ জেলায় সুপারি ও নারকেল বাগান রয়েছে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে এবং ৩ হাজার মিলিমিটারের উপরে বৃষ্টিপাত হয়। যা আদা চাষে অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে ছায়াযুক্ত জমিতে অন্য জমির চেয়ে ২০ ভাগ বেশি আদার উৎপাদন হয়। এমন ধারনা থেকে প্রথমবারের মতো বান্দরবন থেকে আদা এনে তা বিনামূল্যে কৃষকদের বীজ হিসেবে প্রদান করি।

কৃষকরা জানান, মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে তারা আদার বীজ রোপণ করেছেন। নভেম্বর-ডিসেম্বর দিকে ফলন ঘরে তুলবেন। পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে এর চাষ হওয়ায় জমির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এক শতাংশ জমির জন্য ৪ কেজি আদার বীজ প্রয়োজন হয়। আর একটি গাছ থেকে আড়াই কেজি বা তারচেয়ে বেশি আদা পাওয়া যায়। তাই পরিশ্রম কম হওয়াতে আদা চাষে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসার এ এফ এম শাহাবুদ্দিন জানান, তার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জমিতে আদার চাষ হয়েছে। মূলত সুপারির বাগানগুলোতেই বেশি আবাদ হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব বাগানকে দুই ফসলী জমিতে রুপান্তর করা হলো। তারা কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছেন। ২৯ জন কৃষককে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার একান্ত উদ্যোগে চাষ হওয়া আদা প্রথম দিকে চ্যালেঞ্জ মনে হলেও তা এখন সফলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৪, ২০২১ ৪:৪৭ অপরাহ্ন
৮ মাস পর শুরু হলো কাঁচা মরিচ আমদানি
এগ্রিবিজনেস

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৮ মাস পর ভারত থেকে আমদানি শুরু করা হয়েছে কাঁচা মরিচ। আমদানি শুরুর খবরে বন্দর এলাকায় ভিড়তে শুরু করেছেন পাইকাররা।

শনিবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় হিলির আমিরুল মল্লিক রয়েল নামের সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রথম কাঁচা মরিচের একটি গাড়ি এ বন্দরে প্রবেশ করে।

সিএন্ডএফ আমিরুল মল্লিক রয়ে জানান, দীর্ঘ দিন কাঁচা মরিচের আমদানি বন্ধ থাকার পর এখন পারমিট পেয়েছি। আজ সকালে প্রথম আমার এক গাড়ি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। ৩০০ টাকা ডলারে প্রায় ১৩ মেট্রিকটন কাঁচা মরিচ আনা হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধের পর হিলির কাঁচা মরিচ আমদানি কারকরা পারমিট পেয়েছেন। ভারত থেকে মরিচ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি বাজারে মরিচের দাম অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করছি, দেশি বাজারে মরিচের দাম স্বাভাবিক হবে।

এদিকে দেশের বাজারে পণ্যটির দাম স্বাভাবিক রাখতে কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৪, ২০২১ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
তালায় কাজু বাদাম চাষে তাক লাগিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য
কৃষি বিভাগ

তালা উপজেলার শিবপুর গ্রামের কাজু বাদাম চাষ করা হচ্ছে। ঐ গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম এই কাজু বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কাজু বাদাম সাধারণত খাগড়াছড়ির নারানখাইয়া, পানখাইয়াপাড়া, কমলছড়ি জামতলী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় চাষ হয়ে থাকে।

তালা উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম কাজু বাদাম চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন। তিনি মিষ্টি পানির মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধের ওপর রোপণ করেন পাঁচটি কাজু বাদাম গাছ। চাষ করার পর ফলন ধরেছে দুই বছর। কাজু বাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করেছেন এই কৃষক।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচ বছর আগে এই কাজু বাদামের চাষ করেন। গত দুই বছর গাছে কাজু বাদাম ধরেছে। কাজু বাদামের বীজগুলো চারা দেওয়ার জন্য রেখেছেন। বাড়িতে বীজ রোপণ করার পর নতুন চারাও গজিয়েছে। তাছাড়া কলম পদ্ধতিতে গাছের বংশবিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজু বাদাম চাষের গবেষণা ও পিএইচডি অধ্যয়নরত কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানাকে দেখে এই কাজু বাদাম চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এই কাজু বাদাম চাষের জন্য তার কাছ থেকে কিছু বীজ এনে বাড়িতে চারা উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, শারীরিক উপকারিতার দিক থেকে কাজু বাদামের কোনো বিকল্প নেই। এতে প্রোটিন,
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ এবং ভিটামিন রয়েছে। তবে কাজু বাদাম দামে একটু চড়া। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাজু বাদাম বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ১০০ টাকায়।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, কাজু বাদাম একটি বিদেশি ফল। দেশে পাহাড়ি অঞ্চলে এই ফলের চাষ হয়ে থাকে। তালা উপজেলায় কাজু বাদামের চাষ হয়েছে, অফিসের পক্ষ থেকে প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে। গত বছর থেকে গাছে কাজু বাদাম ধরেছে। এই উপজেলায় কাজু বাদাম চাষের বিস্তার ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৪, ২০২১ ১০:১০ পূর্বাহ্ন
করোলা ও উচ্ছে চাষে আগ্রহ বাড়ছে বগুড়ার কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বগুড়ার সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, গাবতলী উপজেলা। সবজির মধ্যে করোলাও উচেছ ব্যাপক উৎপাদন হয়ে থাকে বগুড়া জেলায়। বগুড়া কৃষকরা করোলা ও উচ্ছে চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়ে থকে।

বগুড়া সদরের শাখারিয়ার কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, মানুষ স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়ায় খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তন করেছে। করোলানহ বাজারে বিভিন্ন সবজির চাহিদা বেড়েছে। করোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছে ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপতরের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন জানান, বিঘা প্রতি করোলা উৎপাদনে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সেখানে বিঘা প্রতি করোলা ও উচ্ছে উৎপাদন হয়ে থকে ৬৫ থেকে৭৫ মণ। এখন আর তাদের জমিরফসল বিক্রি করতে হাটে যেতে হয়না। পাইকাররা ক্ষেতে এসে টাটকা সবজি কিনে নিয়ে যায়। এ সবজি ৩ হাত বদল হয়ে ভোক্তাদের কাছে পৌছায়। এ অঞ্চলে সব রকমে সবজি নিয়ে বিরাট কর্মযজ্ঞচলে।বগুড়ার মহাস্থান হাট ভরে ওঠে সবজিতে। হাটে তারা ফসল তোলার শুরুতে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করে । উৎপাদন বেড়ে গেলে হাটে বাজারে যোগান বেড়ে গেলে দাম কমে আসে।তখন তারা পাইকারি বিক্রি করে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজিতে নেমে আসে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি অফিসার ফরিদ উদ্দিন জানান, বছরের রবি ও খরিপ দুই মৌসুমে করোলা ও উচ্ছে উৎপাদন হয়ে থাকে । অঞ্চল ভেদে জমিতে ৬৫ থেকে ৭০ মণ করোলা পেয়ে থাকে কৃষক। করোলা উঠা শেষ হলে তারা এ জমিতে স্বল্প খরচে আলু উৎপাদন করে থাকে । তখন তাদের জমিতে বেশি সার দিতে হয় না। আলু চাষেও কৃষকরা লাভবান হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৩, ২০২১ ৫:৪৬ অপরাহ্ন
ধানে নয়, ঘাসে ঝুঁকছেন চাষি!
কৃষি বিভাগ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী বীরচরণের যুবক আবুল কাশেম ৯ শতক জমিতে নেপিয়ার ঘাস লাগিয়ে প্রতিবছর ২৮ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করছেন। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় সারাবছরই সহজে বিক্রি করা যায় এ ঘাস।

আবুল কাশেম জানান, বাড়ির সামনে গাছের জন্য ওই জমিতে সারাবছর ছায়া থাকত। কোনো ফসল আবাদ হতো না। এরপর পার্শ্ববর্তী একজনের ঘাস চাষ দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হই। লাইন করে ঘাসের চারা রোপণ করি ও স্বল্প সেচ ও গোবর সার দিই। অল্পদিনের মধ্যে ঘাস বড় হয়ে ওঠে। আমি বছরে ৭ থেকে ৮ বার এ ঘাস কাটতে পারি। এতে করে প্রতিবছর ওই ঘাস বিক্রি করে আমি প্রায় ২৮ হাজার টাকা উপার্জন করি। ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষে অনেক ঝুঁকি রয়েছে।

এ ছাড়া যে পরিমাণ ওষুধ দিতে হয়, ধান বিক্রি করে আর কোনো কিছু হাতে থাকে না। এ ছাড়া ধান আবাদ করলে বছরে দু’বার ফসল পেতাম। ৩ থেকে ৪ মণ ধান হতো এবং ধান ও খড় বিক্রি করে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আসত। আমি মনে করি ধানের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসেই বেশি লাভ।

কাউনিয়ার কাচু গ্রামের খামারি রফিকুল ইসলাম ১৪ শতক জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এ ঘাস আবাদ করেছেন। নিজ খামারের গরুর চাহিদা মিটিয়ে তিনি এ ঘাস বিক্রি করছেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যে জমিতে ঘাস আবাদ করি সেই জমিতে ধান আবাদ করলে আমার ১০ হাজার টাকা লাভ হতো। কিন্তু ঘাস আবাদ করে নিজ খামারের গরুদের খাইয়ে আমার প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর জেলার আট উপজেলায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে গো-খাদ্য হিসেবে ঘাস ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে নেপিয়ার ঘাস।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানান, সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি, ঝুঁকি কম থাকা এবং লাভ বেশি হওয়ার কারণে দিন দিন এ ঘাস চাষের আওতা বাড়ছে। বর্তমানে অনেক কৃষক এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন। আমরা তাদের নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৩, ২০২১ ৫:০০ অপরাহ্ন
পাট আবাদ করে বিপাকে দিনাজপুরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

গত বছরের তুলনায় দিনাজপুরে এবার পাটের আবাদ বাড়লেও খাল-বিলে তেমন পানি না থাকায় পাট ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা। তাই বাধ্য হয়েই কেউ কেউ রিবন রেটিং পদ্ধতিতে কাঁচা পাট থেকেই আঁশ ছাড়িয়ে অল্প পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন।

এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে অবশেষে কাঁচা পাট কেটে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে মেশিন দিয়ে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে, সেই আঁশ পানিতে ভিজিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, এ পদ্ধতি পাট চাষের জন্য কষ্টকর এবং পরিশ্রম বেশি। কিন্তু খাল-বিলে পানি না থাকায় বাধ্য হয়েই এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়েছে তাকে।

বিরল উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কৃষক দিলীপ কুমার রায় জানান, গত বছর অল্প জমিতে পাট আবাদ করলেও সে বছর বাজারে ভালো দাম থাকায় এবার পরিমাণ বাড়িয়ে দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। কিন্তু জমির সেই পাট নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন তিনি। পাট জাগ দেওয়ার জন্য খাল-বিলে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় পরিপক্ব হলেও কাটতে পারছেন না। শুধু দিলীপ কুমার নয়, এ অবস্থা জেলার অন্য পাটচাষিরও।

চাষিরা জানান, গত বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। কিন্তু এবার বাজারে সেই পাট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এ অবস্থায় অন্যান্য ফসল আবাদ করে লাভের মুখ দেখলেও পাট আবাদ করে এবার লোকসান গুনতে হবে বলে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, জুলাই মাস পাট কাটার প্রকৃত সময়। কিন্তু গত বছর জুলাই মাসে দিনাজপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ মিলিমিটার। আর এ বছর জুলাই মাসে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৫০ মিলিমিটার। এ কারণে খাল-বিলে পানি না থাকায় পাটচাষিরা পাট কাটতে সমস্যায় পড়েছেন। এ অবস্থায় রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১২, ২০২১ ৬:২৯ অপরাহ্ন
আ.লীগ সরকারের আমলে কেউ না খেয়ে মারা যাবে না: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো দিন দুর্ভিক্ষে বা না খেয়ে কেউ মারা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২১ উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে ‘করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধানে ছিল মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ।

বক্তব্যের শুরুতে কৃষিমন্ত্রী ১৫ আগস্টে শহীদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির সময় দেশে খাদ্য সংকট লেগেই থাকত। প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাস এলেই উত্তরবঙ্গে মঙ্গা দেখা দিত। দুর্ভিক্ষ হতো, মানুষ খেতে পেত না। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সাল থেকে বিগত ১৩ বছরে মানুষ না খেয়ে আছে, খাবারের কষ্ট করছে ও না খেয়ে মানুষ মারা গেছে তার একটি নজিরও নেই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল যেটি ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সব সময় মানুষের পাশে থাকে। এ সরকারের আমলে খাদ্য নিরাপত্তায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। দেশে আর কোনো দিন দুর্ভিক্ষে কেউ মারা যাবে না।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সহ-সভাপতি সাদেক খান এমপি, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিয়াচান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১২, ২০২১ ৫:৫৬ অপরাহ্ন
করোনায় মাল্টা চাষে চমক দেখিয়েছেন ভোলার স্কুল শিক্ষক মনিরুল
কৃষি বিভাগ

ভোলা জেলার উপজেলা সদরে ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামে ২ একর ১০ শতাংশ জমিতে নিজ উদ্যোগে মাল্টা বাগান গড়ে তুলেছেন স্কুল শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। করোনা মহামারীতে গত দেড় বছরে স্কুল বন্ধ থাকায়  নিরলস পরিশ্রমে এবার ব্যাপক ফলন এসেছে তার সবুজ বাগানে।

জানা যায়, বাঢ়ি-১ দেশিয় জাতের এ মাল্টা বিদেশি মাল্টার চেয়ে অধিক মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদা অনেক বেশি। এছাড়াও মাল্টা চাষের পাশাপাশি তিনি একই স্থানে মোট ৬ একর জমিতে সবজি চাষ, মাছ, মুরগী ও গরু পালন করে আসছেন। এ জমির মধ্যে ৪ একর নিজের বাকিটা লিজ নিয়েছেন তিনি।

মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি মাল্টা চাষ শুরু করেন। তখন স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে তাকে ১১০ টি গাছ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। মোট ৮’শ মাল্টা গাছ থেকে ২০১৯ সাল থেকেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা বিক্রি করে আসছেন। গাছ যত বড় হয় এবং বয়স বাড়ে মাল্টার ফলন তত বৃদ্ধি পায়। এবার ব্যাপক ফলন এসেছে। আশা করছেন ৩ হাজার কেজির চেয়ে অধিক ফলন হবে। একটি গাছে ১০ কেজি থেকে সর্বচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত মাল্টা হয়। সাধারণত ৭ থেকে ৮টিতে এক কেজি হয় বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রিয়াজ উদ্দিন জানান, সদর উপজেলায় কৃষি অফিসের উদ্যোগে ২০১৭ সালে বাংলাশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’র আবিস্কৃত বাঢ়ি মাল্টা-১ জাতের চাষ করা হয়।। পুষ্টিগুণে ভরপপুর মাল্টা চাষে অনেকেই পেয়েছেন সফলতা। এ জাতটা আকারে বড় এবং মিষ্টি বেশি। বর্তমান সময়ে অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop