৩:৪১ অপরাহ্ন

শনিবার, ৫ এপ্রিল , ২০২৫
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২৫ ১২:০৬ অপরাহ্ন
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বিএলআরআই এ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
প্রাণিসম্পদ

অদ্য ২৬/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এসময় মহাপরিচালক মহোদয়ের সাথে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, দপ্তর প্রধানগণ, প্রকল্প পরিচালকগণসহ ইনস্টিটিউটের সকল পর্যায়ের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

এছাড়াও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ আসর ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন বিভাগীয় ভবনে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা করা হয়। এছাড়াও গত ২৫/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখ বাদ আসর ২৫ মার্চ কালোরাতে নিহতদের স্মরণে ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়

পাশাপাশি বিএলআরআই এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহও পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জাকরণসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অন্যান্য কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৫ ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
মহিষ পালনে জীবিকা নির্বাহ ভোলার চরাঞ্চলের মানুষের
প্রাণিসম্পদ

দ্বীপ জেলা ভোলায় মহিষ পালন একটি ঐতিহ্যগত পেশা। এখানকার অর্ধশতাধিক চরের মানুষ বংশপরাম্পরায় মহিষ পালন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক বিছিন্ন দ্বীপ চরগুলোতো প্রায় দুইশ’ বছর ধরে মহিষ বাতান আকারে পালন করে আসছেন চাষীরা। প্রতিটি মহিষের বাতানে দু’শ থেকে হাজার পর্যন্ত মহিষ পালন হয়ে থাকে। যা ঘরোয়া পরিবেশে একেবারেই অসম্ভব।

কিন্তু বর্তমানে এ মহিষ পালন অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয়রা বসত বাড়ির গোয়ালঘরে পালন শুরু করেছেন। মহিষ পালনের ব্যাপকতায় এলাকার দরিদ্র কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। একদিকে মহিষ বিক্রি অন্যদিকে মহিষের দুধ বিক্রিতে লাভবান হয়ে উপকূলের চাষীরা দেখছেন দিন বদলের স্বপ্ন। কালের বিবর্তনে দক্ষিণ উপকূলবাসী আধুনিক নিয়মে উন্নতজাতের মহিষ পালন করে নিজেরা যেমনি স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি এখানকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তাদের অর্থনৈতিক ভিতকে আরো মজবুত করে গড়ে তুলছেন।

সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রমতে, জেলা সদর ভোলা, দৌলতখান,বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন,চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বিচ্ছিন্ন চর রয়েছে। এসব চরে সরকারি হিসেবে ২ লক্ষ ৬০ হাজার মহিষের হিসেব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এ সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক। এখানে ৯৭ টি মহিষের বড় বাতান (খামার) সহ প্রায় ৭০৫ দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার দুধ আসে। এসব দুধ ও দুধের তৈরি দই দিয়ে জেলার ২১ লক্ষ মানুষের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা পূরণ করছে। নদীর মাঝখানে এসব চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এলাকা জুড়ে সবুজ ঘাসের সমারোহ। আর এসব চরে পালন করা হয় হাজার হাজার মহিষ। সবুজ ঘাস খেয়ে পালিত হয় এসব মহিষ। যুগ যুগ ধরে বংশপরাম্পরায় বহু পরিবার এখানে মহিষ ও দই বিক্রির পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

অনেকে আবার নিজস্ব মহিষের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন করে দই তৈরি করেন। দই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরে গড়ে উঠেছে শত শত মহিষের বিশাল বাতান। প্রতিদিন সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গেএসব বাতান থেকে শত শত লিটার দুধ আসতে শুরু করে শহর ও বাজারগুলোতে। গ্রামাঞ্চলে হাটের দিনে মহিষা দই এর টালির পসরা সাজিয়ে বসেন অনেক বিক্রেতারা। বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় মহিষের দুধের দই। নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে,প্রায় ১২২০ সালে বঙ্গোপসাগর মোহনায় জেগে উঠে দ্বীপ জেলা ভোলা। এরপর এখানে গত ৪শ’ বছর ধরে ক্রমশই জনবসতি গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তারা মহিষ,গরু, ছাগল,ভেড়াসহ নানা জাতের গবাদিপশু পালন শুরু করেন। ভোলা দ্বীপ জনপদ হওয়াতে এখানকার ছোট বড় অসংখ্য চরে মহিষ পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলোর শত শত মহিষ পালন করতে তেমন বেগ পেতে হয়না।

স্থানীয় জানান,প্রায় ২শ’বছর ধরে এ জেলায় মহিষের দুধ থেকে কাঁচা দই উৎপাদন শুরু করে। যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময়েও জনপ্রিয়। এখানে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ এমন কোন সামাজিক অনুষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়নি।

মহিষ পালনকারী ভোলার চরের মিন্টু খাঁ বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০১ সালে চারটি মহিষ নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন আমার ৪১টি মহিষ। বর্তমানে তার দুই একর জমি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ মহিষের দুধ বেঁচে তিনি তার সংসারের খরচ মেটান। ভোলায় এখন মহিষ পালনে চরাঞ্চলের সবাই ঝুঁকছে। এতোদিন শুধু বাতানে পালন হলেও এখন তা বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশেও পালন হচ্ছে। মহিষ পালনে দিন বদলের এ গল্প জেলার অনেক কৃষকের। ভোলার চর বৈরাগিয়ার মহিষের বাতান মালিক জাকির হাওলাদার বলেন, তার ৯৫টি মহিষ রয়েছে। এটা আমার দাদা পালন করেছে। তারপর চাচা,এখন আমি করছি। তবে আগে মহিষ একটু সামান্য রোগেই মরে যেত। তাই অনেকে বেশি পালন করতে চাইতো না। কিন্তু এখন কৃমি নাশক ওষুধও বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে মহিষ মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে। অন্যদিকে মাংস ও দুধের দাম বাড়ার কারণে লাভের পরিমানও বেড়েছে। তাই অনেকের মতো আমারও বেশি মহিষ পালনের আগ্রহ বেড়েছে। আমি এ মহিষ পালন করে প্রায় ৫ একর জমি কিনেছি।

মহিষের বাতানের অপর মালিক মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে তাদের বাতানে প্রায় আড়াই শত মহিষ রয়েছে। যা তারা চার পুরুষ ধরে লালন করে আসছেন। দৈনিক এখান থেকে ১৩০ থেকে ১৫০ কেজি দুধ হয়। জেলায় অনেকেই ঐতিহ্য ধারণ করে মহিষ পালন করে আসছেন। যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

স্থানীয় দধি বিক্রেতারা বলেন, সাধারণত দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের দই (টালির) চাহিদা বেশি। বর্তমানে দেড় কেজি ওজনের দধি ২৫০ ও দুই কেজি ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দই থেকে মাখন, ঘি ও ঘোল বানানো হয়। মাখনের কেজি ৯শ’ ও ঘিয়ের কেজি ১৬ শত ১৮ শত টাকায় বিক্রি হয়। এর ভালো দাম পাওয়ায় তাদের লাভও ভালো হয়। তবে দুধের দাম বৃদ্ধি পেলে দইর দামও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

এ বিষয় ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, ভোলায় সরকারী হিসেবে জেলায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মহিষ রয়েছে।

এতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার দুধ আসে। এগুলো জলা মহিষ নামে পরিচিত। মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য তারা এসব মহিষ পালন করে থাকে। তিনি বলেন,আমাদের মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য বাগেরহাট ও টাংগাইলে দু’টি মহিষ প্রজনন খামার রয়েছে। সেখান থেকে ভোলাতে আমরা ১৫০টির মত চেলা মহিষ বিতরণ করেছি । এ চেলা মহিষ দিয়ে বাতানের মহিষগুলোকে কোড়াছ করে উন্নত জাতের মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য কাজ করছি, যাতে প্রতিটি মহিষ প্রথম থেকেই ১০ থেকে ১৫ কেজি দুধ উৎপাদন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমরা ভোলা জেলায় ১শ’ একর জমির উপর ডি এল আরই ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের যৌথ উদ্যোগে উন্নত মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের খামার করার কাজ করে যাচ্ছি, আশা করি ভোলার মহিষের বাতান মালিকরা খুব শীঘ্রই এর সুফল পাবেন। সব মিলিয়ে দ্বীপাঞ্চল ভোলার জনপদে আধুনিক প্রযুক্তিতে মহিষ পালন ও এর ব্যাপক প্রজনন সক্ষমতা

দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৫ ৮:৪৩ অপরাহ্ন
মহিষ আমাদের সম্পদ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
প্রাণিসম্পদ

“মহিষ আমাদের সম্পদ। মহিষ পালনকারীরা আমাদের সম্পদ। মহিষের মাংসে কোলেস্টেরল কম, তাই মহিষের মাংসকে জনপ্রিয় করতে হবে। দেশের নানা স্থানে মহিষের দুধ থেকে তৈরি দইয়ের নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়। মহিষের দইকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মহিষ পালনকারী খামারিদের সকল প্রকার সহাযোগিতা প্রদান করতে হবে। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, সংগৃহীত তথ্য নিয়ে গবেষণা করতে হবে।”

“মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা মহোদয় এসময় আরও বলেন, ক্লাইমেট চেঞ্জ এখন বাস্তব। তাই ক্লাইমেট চেঞ্জের সাথে খাই খাইয়ে নিতে পারে এমন প্রাণী হিসেবে মহিষকে অনেক গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। মহিষ বৈষম্যের শিকার হওয়া একটি প্রাণী। তাই মহিষ পালনকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞ মহিষ খামারিরা মহিষের হিটে আসা শনাক্ত করতে পারেন, মহিষ সংক্রান্ত নানাবিধ জ্ঞান ধারন করেন। তাদের জ্ঞানকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প শেষে গবেষণা কার্যক্রমগুলোকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেনো কোন গ্যাপ না থাকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমি অতিথি হয়ে নই, বরং সাথে থাকতে চাই। সাথে থাকার সুযোগ হতে বঞ্চিত হতে চাই না। পাশাপাশি তিনি বিএলআরআই এর নানাবিধ সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও, উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বিএআরসি এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজমুন নাহার করিম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

সকালে প্রকল্পের গবেষণা অর্জনের উপরে পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন শুরু হয়। এরপর দুপুরে বেলা ০২.০০ ঘটিকায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হতে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু্ হয়। শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান। এরপর মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, অগ্রগতি ও অর্জন তুলে ধরেন উক্ত প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব। এসময় তিনি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অর্জনসমূহও তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষজ্ঞ আলোচনা। এসময় আলোচনা করেন বিএলআরআই এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তালুকদার নূরুন্নাহার এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক।

বিশেষজ্ঞ আলোচনার পরে অনুষ্ঠিত হয় কারিগরি সেশন ও উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনা অংশ পরিচালনা করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন বিএরআরআই এর সাবেক মহাপরিচালকগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অধ্যাপক ও শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক তার সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালাটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেগুলো যেনো ধরে রাখা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৫ ৭:১৩ অপরাহ্ন
বিএলআরআই উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভ্যাকসিন সিড প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর
প্রাণিসম্পদ

বিএলআরআই উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভ্যাকসিন সিড প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত “জুনোসিস এবং আন্তঃসীমান্তীয় প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) ভ্যাকসিন সিড হস্তান্তর অনুষ্ঠান আজ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রি. তারিখে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর ক্রিস্টাল বল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন ও খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

ভ্যাকসিন সিড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়াও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। আর উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

পবিত্র গ্রন্থ হতে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেলা ১১.০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠানটি শুরু্ হয়। শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান। এরপর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পটভূমি, ভ্যাকসিন উদ্ভাবন প্রক্রিয়া, উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ব্যবহার বিধি ও গুরুত্ব ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ট্রান্সবাউন্ডারি এ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের দপ্তর প্রধান ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ। এসময় উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের উপরে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষজ্ঞ আলোচনা। এসময় আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর ভেটেরিনারি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান এবং বাংলাদেশ সিস্টেমস স্ট্রেন্থেনিং ফর ওয়ান হেলথ এর চীফ অফ পার্টি ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ।

বিশেষজ্ঞ আলোচনার পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনা অংশে বক্তব্য রাখেন বিএরআরআই এর সাবেক মহাপরিচালকগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অধ্যাপক ও শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে বিএলআরআই উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) ভ্যাকসিন সিডটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আনু্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এসময় ভ্যাকসিন বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ভ্যাকসিনটির প্রোডাকশন ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এলএসডি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের মাধ্যমে সার্ক অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের লিডারশিপ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ভাবন এবং হস্তান্তর করেই খুশি হলে চলবে না। আরও পথ আমাদের বাকি রয়েছে, সেগুলোও সঠিকভাবে অতিক্রম করতে হবে। মাঠে যাওয়ার আগে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা দেখতে হবে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেই তথ্যের আলোকে প্রয়োজনে ভ্যাকসিনের মানোন্নয়ন করতে হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিনের মান ঠিক থাকলে বিদেশেও রপ্তানি করার সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশে এলএসডি ভ্যাকসিন রপ্তানি করা হবে।

পাশাপাশি গবেষণার উপরে গুরুত্ব আরোপ করে তিনি আরও বলেন, গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট) সক্ষমতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। এলএসডি আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কতোটা ক্ষতি করছে তা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি হচ্ছে কি না তা মনিটরিংয়ের পাশাপাশি রোগাক্রান্ত পশুর মাংস গ্রহণের কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া আছে কি না সেটিও গবেষণা করে দেখতে হবে। নতুন নতুন রোগ আসবেই। সেগুলো মোকাবেলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও তিনি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর প্রতিকারের বিকল্প নেই। সেই ক্ষেত্রে বিএলআরআই উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে। এই ভ্যাকসিন যেনো প্রান্তিক খামারিদের দোঁরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, সেই লক্ষ্যে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। ভ্যাকসিনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে যাবতীয় সকল সহযোগিতা বিএলআরআই হতে করা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৫ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
রংপুর প্রাইভেট ভেটেরিনারি ডক্টরস এসোসিয়েশন “এর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

গত ৭ ই ফেব্রুয়ারী “রংপুর প্রাইভেট ভেটেরিনারি ডক্টরস এসোসিয়েশন “এর বার্ষিক বনভোজন ” স্বপ্নপুরি, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।
ঐদিন খুব সকাল বেলা রওনা দিয়ে ১১ টার দিকে ফ্যামিলি এবং স্পন্সর মেম্বার সহ প্রায় ১০০জন স্বপ্নপুরি পৌছায়।নাস্তা সেরে সবাই ফ্যামিলি নিয়ে বিভিন্ন রাইট এ চড়া সহ, স্বপ্নপুরির সৌন্দর্য উপভোগ করে। এদিকে সবার ঘুরাঘুরি চলার ফাঁকে বাবুর্চি দুপুরের খাবার রান্না শেষ হয়ে গেলে সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া সারে।

এ পিকনিকের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ডাঃমাহমুদ এবং সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন ডাঃ বাপ্পী।কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে ছিলেন ডাঃশ্যামল সরকার, ডাঃ শাহ আযম, ডা: মিলকান, ডাঃ রাফসান জনি, ডাঃ রাহী এবং ডাঃ জিম। এছাড়াও সবাই সহযোগিতা করেন।

দুপুরের খাওয়ার পরে স্পন্সরদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সন্চালনা করেন ডাঃ মাহমুদ।
শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি ডাঃএ এফ এম শামীম। উনি সকল স্পন্সরদের স্বাগত জানান এবং আয়োজক কমিটি এবং ফ্যামিলি মেম্বারদের ধন্যবাদ জানান।অতীতে সংগঠনের বিভিন্ন সেবামূলক কাজের কথা তুলে ধরেন এবং এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

এরপরে সকল স্পন্সরদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে এসিআই এনিমেল হেলথ লি. থেকে ক্রেস্ট নেন সেলস্ ম্যানজার কামরুল হুদা, এমএম এগ্রো লি., এর পক্ষ থেকে আরিফ। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রালস্ এগ্রো লি, এর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট নেন ন্যাসনাল সেলস ম্যানেজার মোফাক্কারুল ইসলাম।সিলভার স্পন্সর হিসেবে ইনসেপটার পক্ষ থেকে রিজওনাল ম্যানেজার আর এম রুমান কবির,অপসোনিন এগ্রোভেট এর পক্ষ থেকে রিজিওনাল ম্যানেজার এমডি.ইব্রাহীম , ইমপপাল্স এগ্রিসায়েন্স এর পক্ষ থেকে মো:সাজ্জাদ এবং এসএমজি এর পক্ষ থেকে ম্যানেজার মি.ফারুক হোসেন।

কোম্পানির সকল প্রতিনিধি গণ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগি হিসেবে থাকার আশ্বাস দেন।এজন্যে তারা এসোসিয়েশন সকল ডাক্তারদের কাছে সহযোগিতা চান।

এরপরে র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবার এবং বাচ্চাদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

সবশেষে সংগঠনটির সভাপতি ডাঃ ভূবনানন্দ রায়(সবুজ) আয়োজক, স্পন্সর এবং অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং সকল স্পন্সরদের এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের বন্ধন যেন আরও মজবুত থাকে, এজন্যে ছোট খাট অনুষ্ঠান আয়োজনের উপর জোর দেন।
এছাড়াও সামনের বছর আরও বড় পরিসরে জমকালো আয়োজন করার আশা ব্যক্ত করেন এবং সবার সুস্হতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৫ ২:৪৮ অপরাহ্ন
গবাদিপ্রাণী বীমা: খামারিদের জন্য ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের বিশেষ উদ্যোগ
প্রাণিসম্পদ

জাহিদ হাসান ইরফান, কৃষি প্রতিবেদকঃ গবাদিপ্রাণী পালন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। তবে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা প্রাণীর মৃত্যুর কারণে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। এই সংকট নিরসনে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড নিয়ে এসেছে বিশেষ গবাদিপ্রাণী বীমা সেবা। ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুর রহমান জানান, “এই বীমা সেবা খামারিদের আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে তাদের প্রাণিসম্পদ পালনে স্বস্তি দেবে। বীমাকৃত গবাদিপ্রাণী যদি দুর্ঘটনা বা রোগের কারণে মারা যায়, তাহলে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। প্রিমিয়ামের হার নির্ধারণ করা হয় প্রাণীর বয়স, স্বাস্থ্য ও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে।”

প্রতি বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করে সহজেই খামারিরা একাধিক প্রাণীর জন্য বীমা করতে পারবেন। বীমার মেয়াদ ছয় মাস থেকে শুরু করা যায়। ক্ষতিপূরণ পেতে খামারিদের পশু চিকিৎসকের সার্টিফিকেট ও বীমার কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যে কোনো প্রয়োজনে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের স্থানীয় অফিসে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

কুমিল্লার একজন খামারি আসলাম আলী জানান, “গবাদিপ্রাণী বীমা গ্রহণের পর থেকে আমি ঝুঁকিমুক্তভাবে প্রাণিসম্পদ পালন করতে পারছি। আমার কোনো পশু মারা গেলে কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাই। এই সেবা গ্রহণ করা অনেক সহজ, তাই আমি অন্য খামারিদেরও এটি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, “গবাদিপ্রাণী বীমা খামারিদের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এটি আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নেও অবদান রাখবে।” ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের এই উদ্যোগ খামারিদের জন্য শুধু নিরাপত্তার আশ্বাসই দিচ্ছে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদানকে আরও শক্তিশালী করার পথ তৈরি করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৫ ১২:৪০ অপরাহ্ন
মৎস্যচাষীদের কল্যাণে ব্লুটেক লাইফ সাইন্স এন্ড এগ্রো লিঃ এর তৃতীয় বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

ঢাকার দক্ষিণখানে বিপিকেএস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হলো ব্লুটেক লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের তৃতীয় বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ২০২৫। “নীল পানিই সম্পদ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং চাষিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল ইসলাম নিজাম।

রেজাউল ইসলাম নিজাম তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা শুধু ব্যবসার জন্য কাজ করছি না, বরং চাষীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো উন্নতমানের পণ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, যাতে দেশের মৎস্যচাষীরা লাভবান হতে পারেন। আমাদের দক্ষ প্রযুক্তি-পরামর্শক দল সার্বক্ষণিক চাষিদের পাশে থেকে আধুনিক ও টেকসই মৎস্যচাষের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ হলো চাষীর সমস্যার সমাধান করা। যখন একজন চাষি আমাদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট হন, তখন তিনি অন্য চাষিদেরও আমাদের সম্পর্কে জানান। এভাবেই আমরা সারা দেশে আমাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পেরেছি। আমরা চাই, দেশের মৎস্যচাষীরা লাভবান হোক এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর মাছ গ্রহণ করুক।”
চাষিদের জন্য উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করতে ব্লুটেক লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেড খুব শিগগিরই একটি পুষ্টি গবেষণাগার স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে জানান রেজাউল ইসলাম নিজাম। এই গবেষণাগারের মাধ্যমে মাছের খাদ্যমান উন্নত করা সম্ভব হবে, যা চাষীদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। এছাড়া, সমুদ্র অর্থনীতির যথাযথ ব্যবহার করে সামুদ্রিক মাছ চাষের প্রসার ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ব্লুটেকের।
ব্লুটেকের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্লুটেক অ্যাকোয়া পণ্য, ব্লুটেক হ্যাচারি, ব্লুটেক অ্যাকোয়া কালচার, ব্লুটেক শুকনো মাছের বাণিজ্য এবং ব্লুটেক সামুদ্রিক খাদ্য বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করছে, যা মাছ ও চিংড়ি চাষের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।”

তিনি তার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বিক্রয় কর্মীরাই আমাদের প্রাণশক্তি। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই ব্লুটেক আজ দেশের মৎস্য খাতে একটি সুপরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিক্রয় ও বিপণন প্রধান মো. মোসলেম উদ্দিন, পরিচালক শাবনাম বেগম শমী, হিসাব ও অর্থ প্রধান মো. ফারুক হোসেন, যশোর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামমীম হোসেন শিমুল, ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইবরাহীম খলিলসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা ও বিক্রয় প্রতিনিধি।
“নীল পানিই সম্পদ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্লুটেক মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। উন্নতমানের পণ্য ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মৎস্যচাষকে আরও লাভজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তৃতীয় বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন-২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে ব্লুটেক আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২৫ ৭:২১ অপরাহ্ন
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম এর বিএলআরআই পরিদর্শন
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুবিভাগের নব দায়িত্ব প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জনাব আমেনা বেগম আজ ০৪/০১/২০২৫ খ্রি. তারিখে দেশের একমাত্র প্রাণিসম্পদ গবেষণার জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মো. আরমান হায়দার।

পরিদর্শনকালে তিনি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী-কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব জনাব আমেনা বেগম, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপসচিব জনাব মো. আরমান হায়দার। আর সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

বেলা ১১.০০ ঘটিকায় ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে (চতুর্থ তলা) মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই প্রধান অতিথি জনাব আমেনা বেগম উপস্থিত বিজ্ঞানী-কর্মকর্তাগণের সাথে পরিচিতি হন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান। সভায় বিএলআরআই এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং বর্তমান গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মহিষ উন্নয়ন ও গবেষণা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব। এসময় জনাব আমেনা বেগম ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্নের মাধ্যমে অবগত হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব আমেনা বেগম বলেন, ভোক্তার চাহিদা, জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ মানুষের আয়-উপার্জন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, গ্রামীণ নারীদের কর্ম-সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএলআরআই এর কাজের পরিধি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বিশ্ব বাজারে মাংস রপ্তানির ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

গবেষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষকদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের জন্য প্রণোদনার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এলক্ষ্যে বিএলআরআইকেই উদ্যোগী হতে হবে। বিএলআরআই এর বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে মন্ত্রণালয়ের সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাসও তিনি ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভা শেষ করে অতিরিক্ত সচিব মহোদয় ইনস্টিটিউটের ট্রান্সবাউন্ডারি এ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের ভ্যাকসিন এন্ড বায়োলজিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি এবং এপিডেমিওলজি রিসার্চ ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২৫ ৩:৫২ অপরাহ্ন
বাছুরের ডায়রিয়া হলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে এখন শহরেও দেখা মিলে অনেক গরুর খামার। আর গরু পালন করতে গিয়ে খামারিরা নানাবিধ সমস্যায় পড়ছেন। অনেক সময় বাছুরের ডায়রিয়া রোগ দেখা দিয়ে থাকে। আর তখন একজন খামারিকে কি করতে হবে সেটা জানা উচিত।

 

বাছুরের তীব্র ডায়রিয়ার কারণ:
বাছুরকে অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত দুধ খাওয়ানো, অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো বা খেয়ে ফেলা, খাবারের পাত্র এবং ফিডার নোংরা বা ময়লা হলে, বাছুর কৃমিতে আক্রান্ত হলে, শাল দুধের গুণাগুণ ভাল না হলে, বাছুরের থাকার জায়গাটা নোংরা, স্যাঁতসেঁতে হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে।

বাছুরের এই তীব্র ডায়রিয়ায় খামারি যা করবে:
ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথে আলাদা করে শুকনা পরিষ্কার জায়গায় রাখতে হবে বাছুরকে।খাবারের পাত্র এবং ফিডার বোতল পরিষ্কার করে খাওয়াতে হবে। বাছুরকে তার বড়ি ওয়েটের ১০% দুধ খাওয়াবেন অর্থাৎ ৪০ কেজি ওজনের বাচ্ছাকে দুধ খাওয়াবেন ৪ লিটার। শালদুধের গুণাগুণ পরিমাপ করে দেখতে হবে। ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথেই স্যালাইন খাওয়াতে হবে দিনে ৩ বার ২৫০ মিলি করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১৭, ২০২৪ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
ভোলার চরাঞ্চলের মানুষ মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে
প্রাণিসম্পদ

দ্বীপ জেলা ভোলায় মহিষ পালন একটি ঐতিহ্যগত পেশা। এখানকার অর্ধশতাধিক চরের মানুষ বংশপরাম্পরায় মহিষ পালন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক বিছিন্ন দ্বীপ চরগুলোতো প্রায় দুইশ’ বছর ধরে মহিষ বাতান আকারে পালন করে আসছেন চাষীরা। প্রতিটি মহিষের বাতানে দু’শ থেকে হাজার পর্যন্ত মহিষ পালন হয়ে থাকে। যা ঘরোয়া পরিবেশে একেবারেই অসম্ভব।

কিন্তু বর্তমানে এ মহিষ পালন অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয়রা বসত বাড়ির গোয়ালঘরে পালন শুরু করেছেন। মহিষ পালনের ব্যাপকতায় এলাকার দরিদ্র কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। একদিকে মহিষ বিক্রি অন্যদিকে মহিষের দুধ বিক্রিতে লাভবান হয়ে উপকূলের চাষীরা দেখছেন দিন বদলের স্বপ্ন। কালের বিবর্তনে দক্ষিণ উপকূলবাসী আধুনিক নিয়মে উন্নতজাতের মহিষ পালন করে নিজেরা যেমনি স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি এখানকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তাদের অর্থনৈতিক ভিতকে আরো মজবুত করে গড়ে তুলছেন।

সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রমতে, জেলা সদর ভোলা, দৌলতখান,বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন,চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বিচ্ছিন্ন চর রয়েছে। এসব চরে সরকারি হিসেবে ২ লক্ষ ৬০ হাজার মহিষের হিসেব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এ সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক। এখানে ৯৭ টি মহিষের বড় বাতান (খামার) সহ প্রায় ৭০৫ দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার দুধ আসে। এসব দুধ ও দুধের তৈরি দই দিয়ে জেলার ২১ লক্ষ মানুষের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা পূরণ করছে। নদীর মাঝখানে এসব চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এলাকা জুড়ে সবুজ ঘাসের সমারোহ। আর এসব চরে পালন করা হয় হাজার হাজার মহিষ। সবুজ ঘাস খেয়ে পালিত হয় এসব মহিষ। যুগ যুগ ধরে বংশপরাম্পরায় বহু পরিবার এখানে মহিষ ও দই বিক্রির পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

অনেকে আবার নিজস্ব মহিষের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন করে দই তৈরি করেন। দই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরে গড়ে উঠেছে শত শত মহিষের বিশাল বাতান। প্রতিদিন সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গেএসব বাতান থেকে শত শত লিটার দুধ আসতে শুরু করে শহর ও বাজারগুলোতে। গ্রামাঞ্চলে হাটের দিনে মহিষা দই এর টালির পসরা সাজিয়ে বসেন অনেক বিক্রেতারা। বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় মহিষের দুধের দই। নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে,প্রায় ১২২০ সালে বঙ্গোপসাগর মোহনায় জেগে উঠে দ্বীপ জেলা ভোলা। এরপর এখানে গত ৪শ’ বছর ধরে ক্রমশই জনবসতি গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তারা মহিষ,গরু, ছাগল,ভেড়াসহ নানা জাতের গবাদিপশু পালন শুরু করেন। ভোলা দ্বীপ জনপদ হওয়াতে এখানকার ছোট বড় অসংখ্য চরে মহিষ পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলোর শত শত মহিষ পালন করতে তেমন বেগ পেতে হয়না।

স্থানীয় জানান,প্রায় ২শ’বছর ধরে এ জেলায় মহিষের দুধ থেকে কাঁচা দই উৎপাদন শুরু করে। যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময়েও জনপ্রিয়। এখানে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ এমন কোন সামাজিক অনুষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়নি।

মহিষ পালনকারী ভোলার চরের মিন্টু খাঁ বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০১ সালে চারটি মহিষ নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন আমার ৪১টি মহিষ। বর্তমানে তার দুই একর জমি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ মহিষের দুধ বেঁচে তিনি তার সংসারের খরচ মেটান। ভোলায় এখন মহিষ পালনে চরাঞ্চলের সবাই ঝুঁকছে। এতোদিন শুধু বাতানে পালন হলেও এখন তা বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশেও পালন হচ্ছে। মহিষ পালনে দিন বদলের এ গল্প জেলার অনেক কৃষকের। ভোলার চর বৈরাগিয়ার মহিষের বাতান মালিক জাকির হাওলাদার বলেন, তার ৯৫টি মহিষ রয়েছে। এটা আমার দাদা পালন করেছে। তারপর চাচা,এখন আমি করছি। তবে আগে মহিষ একটু সামান্য রোগেই মরে যেত। তাই অনেকে বেশি পালন করতে চাইতো না। কিন্তু এখন কৃমি নাশক ওষুধও বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে মহিষ মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে। অন্যদিকে মাংস ও দুধের দাম বাড়ার কারণে লাভের পরিমানও বেড়েছে। তাই অনেকের মতো আমারও বেশি মহিষ পালনের আগ্রহ বেড়েছে। আমি এ মহিষ পালন করে প্রায় ৫ একর জমি কিনেছি।

মহিষের বাতানের অপর মালিক মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে তাদের বাতানে প্রায় আড়াই শত মহিষ রয়েছে। যা তারা চার পুরুষ ধরে লালন করে আসছেন। দৈনিক এখান থেকে ১৩০ থেকে ১৫০ কেজি দুধ হয়। জেলায় অনেকেই ঐতিহ্য ধারণ করে মহিষ পালন করে আসছেন। যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

স্থানীয় দধি বিক্রেতারা বলেন, সাধারণত দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের দই (টালির) চাহিদা বেশি। বর্তমানে দেড় কেজি ওজনের দধি ২৫০ ও দুই কেজি ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দই থেকে মাখন, ঘি ও ঘোল বানানো হয়। মাখনের কেজি ৯শ’ ও ঘিয়ের কেজি ১৬ শত ১৮ শত টাকায় বিক্রি হয়। এর ভালো দাম পাওয়ায় তাদের লাভও ভালো হয়। তবে দুধের দাম বৃদ্ধি পেলে দইর দামও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

এ বিষয় ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, ভোলায় সরকারী হিসেবে জেলায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মহিষ রয়েছে।

এতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার দুধ আসে। এগুলো জলা মহিষ নামে পরিচিত। মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য তারা এসব মহিষ পালন করে থাকে। তিনি বলেন,আমাদের মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য বাগেরহাট ও টাংগাইলে দু’টি মহিষ প্রজনন খামার রয়েছে। সেখান থেকে ভোলাতে আমরা ১৫০টির মত চেলা মহিষ বিতরণ করেছি । এ চেলা মহিষ দিয়ে বাতানের মহিষগুলোকে কোড়াছ করে উন্নত জাতের মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য কাজ করছি, যাতে প্রতিটি মহিষ প্রথম থেকেই ১০ থেকে ১৫ কেজি দুধ উৎপাদন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমরা ভোলা জেলায় ১শ’ একর জমির উপর ডি এল আরই ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের যৌথ উদ্যোগে উন্নত মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের খামার করার কাজ করে যাচ্ছি, আশা করি ভোলার মহিষের বাতান মালিকরা খুব শীঘ্রই এর সুফল পাবেন। সব মিলিয়ে দ্বীপাঞ্চল ভোলার জনপদে আধুনিক প্রযুক্তিতে মহিষ পালন ও এর ব্যাপক প্রজনন সক্ষমতা

দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop