৬:৩৬ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২১ ৩:৪১ অপরাহ্ন
ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনে ৫৯২ টাকায় গরু যাবে ঢাকায়
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য আগামী ১৭ থেকে ১৯ জুলাই থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা (তেজগাঁও) রুটে চালু করা হচ্ছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস। ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনে প্রতিটি গরুর জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯২ টাকা।

শনিবার (১০ জুলাই) চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল্লাহ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্টেশন মাস্টার জানান, ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালানোর বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গতকাল শুক্রবার (৯ জুলাই) চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়। এখন ট্রেনে পশু পরিবহনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি ওয়াগনে ২০টি করে গরু পরিবহন করা যাবে। ট্রেনটি বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন ছাড়বে। রাত আড়াইটা থেকে পৌনে ৪টার মধ্যে তেজগাঁওয়ে পৌঁছাবে। ফিরতি ট্রেন ভোর ৫টায় তেজগাঁও থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবে।

তিনি আরও জানান, এ ট্রেনে করে ঢাকায় গরু পাঠাতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই এ ট্রেন ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ১৭ জুলাই ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হলেও এর আগেই যদি ব্যবসায়ীরা ওয়াগন বুক করেন, তাহলে ওয়াগন এনে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে।

এগ্রিভিই/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২১ ১২:১৭ অপরাহ্ন
কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে হতাশায় খামার মালিকরা
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এই সময় মহা ব্যস্ত থাকার কথা কোরবানির পশু খামারিদের। করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউন অব্যাহত থাকায় পশুর হাট বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারেনি খামারি ও মালিকরা। পশু বিক্রি অনিশ্চিত হওয়ায় চরম বিপাকে খামার মালিকরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্র জানায়, গাইবান্ধায় বাণিজ্যিক ও ক্ষুদ্র প্রান্তিক খামারের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৭৭টি। এবার জেলায় মোট ৬৭ হাজার পশু কোরবানির লক্ষমাত্রা রয়েছে। এরপরও ২২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

জেলায় কোরবানির ইদকে সামনে রেখে লাভবান হওয়ার আশায় বাণিজ্যিক খামারিরা বিশেষ করে দেশি-বিদেশি গরু পালন করেছেন। স্থাপনা নির্মাণ, গো খাদ্য, পরিচর্যা, কর্মচারীদের বেতন, চিকিৎসাসহ নানা খাতে অর্থ ব্যয় করে মোটা তাজা করা হয় গরুগুলোকে। ব্যক্তিগত অর্থের বাইরে এ জন্য ব্যাংক লোন, সুদের ওপর ধারদেনাও করেন তারা। গত বছর সীমিতভাবে পশুর হাট চালু হওয়ায় লোকসান তেমন গুনতে হয়নি। কিন্তু এবার বিধিনিষেধের কড়াকড়িতে বেচা কেনা তেমন নেই বললেই চলে। যানবাহন বন্ধ থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বড় শহর থেকে গরু কিনতে আসছেন না ক্রেতারা। তাই বিপাকে খামারিরা। তারা চান স্বাস্থবিধি মেনে হাট বাজার খুলে দেওয়া হোক।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপরের ভাতগ্রামের গরু খামারি আবদুর রশিদ জানান, সরকারি বিধিনিষেধের আওতায় থেকেই গরু বিক্রি করতে চাই। এক বছরের প্রাণান্তকর চেষ্টাতে এই গরুগুলোকে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু হাট বন্ধ, তাই লোকসানের আশংকায় রয়েছি। অনলাইনে ক্রেতাদের তেমন আগ্রহ নেই বলেই মনে হচ্ছে। এখন আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সহস্রাধিক  খামার রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলে প্রান্তিক খামার ও ব্যক্তিগত পশু পালনের সংখ্যা অনেক। প্রতি বছর কোরবানির সময় উপজেলার চরাঞ্চলের কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হত। আসন্ন কোরবানির ঈদে তা করতে না পারায় পশু বিক্রি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্বল্পপুঁজির গরুর খামারিরা সারা বছর এই সময়ের আয় দিয়েই পাড়ি দেন।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর জানায়, উপজেলায় বিক্রয়ের জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলে কমপক্ষে ২০ হাজার কোরবানির পশু রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৮০ কোটি টাকা। এর বেশির ভাগই চরাঞ্চলে। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে নারী উদ্যোক্তাদের খামারেও রয়েছে অসংখ্য গরু ছাগল। এই নারী উদ্যোক্তাদের ১০০টি গরু ইতিমধ্যে অনলাইন পোর্টাল দরাজ বাংলাদেশের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে।

বেলকার প্রান্তিক খামারি আকবর আলী জানান, তিনি প্রতি বছর কোরবানির ইদে কমপক্ষে ১০টি গরু বিক্রি করেন। বর্তমানে তার খামারে ৬টি গরু রয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করতে না পারলে তার অনেক লোকসান হবে। তাছাড়া ওইসব গরু আর খামারে রাখা যাবে না। শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষতি করে বিক্রি করতে হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। তবে সরকারি নিদের্শনা পেলে পশুর হাট চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত হাট চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্রেতারা গ্রামে গ্রামে খোঁজ নিয়ে যাতে পছন্দের পশুটি কিনতে পারেন যে জন্য বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী মাঠ কর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। প্রচারণাও চলছে। যেহেতু সময় আছে তাই ক্রেতারা  আসবেন। শেষ পর্যন্ত ক্রেতা বিক্রেতা কারও কোনো অসুবিধা হবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২১ ১১:২১ পূর্বাহ্ন
কোটি টাকা আয় করা খামারী নাসিরের স্বপ্নভঙ্গ!
প্রাণিসম্পদ

বর্তমানে প্রায় ৪‘শ গরুর খামারী বেনাপোলের পুটখালী গ্রামের খামারি নাসির উদ্দিন (৩৬)। আর এই খামার থেকে তিনি প্রতিবছর লাভ করেন প্রায় কোটি টাকার উপরে। তবে এবার করোনা সংক্রমণে কঠিন লকডাউনে তার স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়া অবস্থা। কোটি টাকার স্বপ্ন এবার লসে পরিণত হতে যাচ্ছে তার।

জানা গেছে, খামারে আছে প্রায় ৪০০ গরু। ছাগল ও ভেড়া আছে শতাধিক। মহিষ আছে প্রায় অর্ধশতাধিক। তবে এবছর করোনার দাপটে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তের এই খামার ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। হতাশা প্রকাশ করেছে ওই ব্যবসায়ীসহ খামারের প্রায় ৭০ জন কর্মচারী। পরিস্থিতি এমন থাকলে এবার লোকশান গুনতে হবে বলে ধারণা করছেন তারা।

৮ বছর আগে তিনি সামান্য কিছু গরু দিয়ে শুরু করেন খামার। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। একের পর এক তিনি গরু খামার বৃদ্ধি করে এগিয়ে যায়। এখন ওই খামারে আছে প্রায় ৪০০ গরু। শতাধিক ছাগল ও ভেড়া। আরো আছে প্রায় অর্ধশতাধিক মহিষ। এছাড়া তার খামারে আছে উন্নত জাতের গাভী গরু। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এই খামারের প্রতিটি গরুর মূল্য নিম্ন ৪ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এবছর যেভাবে করোনা মহামারি সংক্রমণে দেশে ‘লকডাউন’ চলছে তাতে গরু পশুহাটে তুলতে না পারলে তিনি লোকসানের মুখে পড়বেন। এমনটাই জানালেন খামারি নাসির উদ্দিন।

নাসির জানান, প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার খাদ্য দিতে হয়। প্রতিবছর রাজধানী ঢাকা সহ চট্রগ্রাম থেকে আসে ব্যপারীরা। এছাড়া ট্রাকে করে এসব গরু ঢাকা চট্রগ্রাম নিয়েও বিক্রি করা হয়। তবে এবার পড়েছি মহাসংকটে। করোনা মহামারির কারণে পশুহাট বন্ধ করে দেওয়ায় গরুর ব্যপারীও আসছে না আবার বড় বড় শহরেও নিতে পারছি না।

আর কোরাবানি আসার আগে গরুর পিছনে খরচও বেড়ে যায়। গায়ে মাংস বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন একটু বেশি বেশি করে খাবার দিতে হয়। যাতে প্রতিটি গরুর প্রতিদিন এক কেজি করে মাংস বৃদ্ধি পায়। সারাবছর গরু লালন পালন করে কোরবানির বাজার ধরে গরু ছাগল মহিষ ভেড়া বিক্রি করে তার প্রায় এক কোটি টাকার উপরে লাভ থাকে। তবে এবছর কি হবে জানি না। প্রতিটি কর্মচারীকে মাসে ১০ থেকে ১৪ হাজার পর্যন্ত বেতন দিতে হয় বলে জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
দিনে ৪ লিটার করে দুধ দিচ্ছে বাছুর!
প্রাণিসম্পদ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের হায়দার আলী (৫২) নামে এক কৃষকের ‘ময়না’ নামের এক বকনা বাছুর দিনে চার লিটার করে দুধ দিচ্ছে। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দুধ কিনে নিচ্ছেন, কেউ কেউ গরুটি বেশি দাম দিয়ে কিনে নিতেও আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

কৃষক হায়দার আলী জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল ও বিকালে দুধ সংগ্রহ করেন। বিকালেও এ পরিমাণ দুধ সংগ্রহ করেন। এক বেলা দুধ সংগ্রহ না করলে এই বাছুর গরুটির ওলান ফুলে শক্ত হয়ে যায়। তিনি গত এক মাস ছয় দিন ধরে এভাবে দুধ সংগ্রহ করছেন।দিনে দুইবার চার লিটারের বেশি দুধ দেয় গরুটি। প্রথম প্রথম সবাইকে টাকা ছাড়াই দুধ দিতাম। গত দুই সপ্তাহ ধরে দুধ বিক্রি শুরু করেছি বলে জানা হায়দার।

কৃষক হায়দার আলী জানান, গত দুই বছর আগে একটি বিদেশি জাতের গাভী এই বাছুরটিসহ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনেন। পরে তার মেজো মেয়ে বাছুরটির নাম রাখে ‘ময়না’। গত চার মাস আগে গাভীটি আরেকটি বাছুর জন্ম দিলে তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় সেটি বিক্রি করেন। আর ময়না নামের বাছুরকে লালন-পালন করে আসছেন। মাসখানেক আগে সেটিকে গোসল করাতে গেলে গরুটির ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন- এর ওলানে দুধ জমেছে।

তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম দুই দিন এক লিটার দুধ পান তিনি। এখন চার লিটার, কখনো সাড়ে চার লিটার দুধ সংগ্রহ করেন। বিষয়টি শুনে আশ্চর্য হয়ে প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তা দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন।

তিনি জানান, অনেকেই আমার এই গরুডারে বেশি টেহার লোভ দেখাইয়া কিন্না নিত চাইতাছে। আমি গরিব মানুষ। গরুডা বিক্রি করতাম না। এইডা অহন আমার সোনার হরিণ। প্রত্যেক দিন চার কেজি দুধ বেচি। ৩২০ টেহা পাই। তা দিয়া সংসারের খরচ করি। আল্লার কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান জানান, হরমোনের কারণে এমনটা হয়। অক্সিটোসিন হরমোন যদি বেড়ে যায় তাহলে এরকম বকনা গরু থেকে দুধ আসতে পারে। এটা নিয়ে কৌতূহলের কিছু নেই। যদি এই দুধ স্বাস্থ্যসম্মত হয় তাহলে এটা যে কেউ খেতে পারেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২১ ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
গরু নিয়ে শঙ্কায় কুমিল্লার ৩০ হাজার খামারী
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও কুমিল্লা জেলায় দুই লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৫ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। কোরবানি যত সন্নিকটে খামারিদের দুশ্চিন্তা যেন ততই বাড়ছে। চলমান কঠোর বিধিনিষেধে জেলার সব পশুর হাট বন্ধ রয়েছে। কবে উন্মুক্ত হবে সেটিও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলার ৩০ হাজার ১৮৮ জন খামারী।

জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন খামারে এক লাখ ৮১ হাজার ১৬৮ টি ষাঁড়, ৪০ হাজার ৭৪১টি ছাগল ও তিন হাজার ৪৪৯টি ভেড়া রয়েছে। এছাড়া সাধারণ কৃষকদের লালনপালনে রয়েছে ১২ হাজার ৯৮৭ টি গবাদিপশু। গত বছর এর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৭২৮টি পশু। কোনো প্রকার মেডিসিন ছাড়াই কৃত্রিম উপায়ে এসব গরু মোটাতাজা করায় দেশব্যাপী এ অঞ্চলের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, লকডাউন শেষে সরকারি নিদের্শনা অনুসারে অস্থায়ী হাটের বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ‘অনলাইন পশুর হাট কুমিল্লা’ অ্যাপস ডাউনলোড করে ক্রয়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, করোনা সংক্রমণের হার কমে এলে ১৪ জুলাইয়ের পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জেলায় ৩৬৩টি অস্থায়ী হাট বসার কথা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পশুর হাট বন্ধ থাকায় জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের ‘অনলাইন পশুর হাট কুমিল্লা’ নামে একটি অ্যাপস্ তৈরি করে তথ্য আপলোডের কাজ চলছে। আশা করি ক্রেতারা অ্যাপসটি ব্যবহার করে গরু ক্রয় করতে পারবেন।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২১ ৮:১৬ অপরাহ্ন
বেড়েছে সবজি-মাছের দাম, কমেছে ব্রয়লারের
প্রাণ ও প্রকৃতি

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মাছের দাম। তবে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম।

শুক্রবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা পর্যন্ত। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে সব থেকে বেশি বেড়েছে গাজরের দাম। এক সপ্তাহ আগে কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে ১৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এটিই এখন বাজারের সব থেকে দামি সবজি।

কেজি একশ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়ার তালিকায় রয়েছে পাকা টমেটো। আগের সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এর সঙ্গে দাম বেড়েছে বেগুন, ঝিঙে, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গার। বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঝিঙের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।

করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। চিচিঙ্গার কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা হয়ে গেছে। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বেশিরভাগ সবজির দাম বাড়ার মধ্যে অপরিবর্তিত রয়েছে ঢেঁড়স, পটল, পেঁপে, কাঁচকলার দাম। আগের মতো ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আয়নাল বলেন, বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে সামনে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।

খিলগাঁও তালতলা বাজার থেকে সবজি কেনা আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে আসলে তেমন কিছুই কেনা যায় না। করোনার কারণে এমনিতেই আয় কমে গেছে। এখন সবকিছুর দাম বাড়লে, আমাদের কী অবস্থা বুঝে দেখেন?

এদিকে দুই সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া আদা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। মৃগেল মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।

চিংড়ি আগের মতো ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। রূপচাঁদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এ দুটি মাছের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছের দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী সুবল বলেন, বাজারে মাছের আমদানি কম। এ কারণে দাম একটু বেশি। সামনে মাছের দাম আরও বাড়তে পারে।

মাছ ও সবজি দাম বাড়ার মধ্যে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বেশিরভাগ বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা কেজি।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগি এবং লাল লেয়ার মুরগি। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। আর সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।

মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

এর সঙ্গে গত সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু, ডিম ও পেঁয়াজের। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সালাম বলেন, লকডাউনের কারণে হোটেলগুলোতে বিক্রি কমেছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কম এবং দাম কমেছে।

সুত্রঃ জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২১ ৩:৩৮ অপরাহ্ন
দিনে ৪ হাজারের বেশি গরু–ছাগল বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে!
প্রাণিসম্পদ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনলাইনে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। ২ জুলাই অনলাইন লাইনে পশুর হাটের কার্যক্রম শুরুর পর ৭ জুলাই পর্যন্ত ৬ দিনে বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার গবাদিপশু। ক্রেতারা ২০৬ কোটি টাকায় ওই সংখ্যক পশু কিনেছেন। ৪ হাজার ৩৮৪টি গরু গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন।

জানা যায়, এই ৬ দিনে কোরবানিযোগ্য এক লাখ ৪১ হাজার গবাদিপশুর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (খামার) জিনাত সুলতানা জানান, গত বছর ৯৪ লাখ ৫০ হাজারের মতো পশু কোরবানি হয়েছে। তার মধ্যে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। এবার এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩০৮টি পশু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার করোনা পরিস্থিতি খারাপ। তাই অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির সম্ভাবনাও বেশি।’

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে সবচেয়ে বেশি কোরবানিযোগ্য পশু বিক্রি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে ৫১ হাজার ৬৪৯টি গবাদিপশুর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তার মধ্যে ১১১ কোটি টাকায় ১৫ হাজার ৭৫টি পশু কেনাবেচা হয়েছে। অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রিতে দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা, তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. দেবাশীষ দাশ জানান, ‘করোনা আসার পরে অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রি জোরদার হয়েছে। গতবারের তুলনা এ বছর অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রির পরিস্থিতি ভালো। গতবারের তুলনায় মানুষ বেশি সচেতনও হয়েছে।’

চলতি বছর কোরবানিযোগ্য মোট গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ। তার মধ্যে গরু-মহিষ ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার, ছাগল-ভেড়া ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৭৬৫টি। কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মধ্যে গৃহপালিত গবাদিপশুর সংখ্যা ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৫২টি। খামারে পালন ৬২ লাখ ৩৬ হাজার। এসব কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনের খামারির সংখ্যা ৬ লাখ ৯৮ হাজার।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২১ ২:৫৭ অপরাহ্ন
গরু মোটাতাজা করতে খামারিরা যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

গরু পালন লাভজনক হওয়াতে এখন আমাদের দেশের অনেকেই গরুর খামার করার প্রতি ঝুঁকছেন। তবে, এই গরু যদি হয় আরেকটু মোটাতাজা তাহলে আর কথা ই নাই। আর এর জন্য দরকার গরুর সুষম খাদ্য। আর সুষম খাদ্য প্রয়োগে আপনি আরো লাভবান হতে পারেন গরু পালনে।

খামারে গরু মোটাতাজাকরণে যেসকল আমিষ খাবার আপনার গরুকে খাওয়াবেন:
শুকনা খড়: ২ বছর বয়সের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে সরবরাহ করতে হবে।

কাঁচা ঘাস: গরুকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি কাঁচা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি খাওয়াতে হবে।

দানাদার খাদ্য: গরুকে প্রত্যেক দিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো- গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি। উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: খড় = ৩ কেজি কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী) লবন = ৩৫ গ্রাম।

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: ধানের খড় = ২ কেজি সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী) চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম লবণ = ২৫ গ্রাম দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কৃমিমুক্তকরণ ও টিকা প্রদান
গরুকে ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। নতুন গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসঙ্গে কৃমিমুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

পূর্ব থেকে টিকা না দেয়া থাকলে খামারে আনার পর পরই সব গরুকে তড়কা, বাদলা ও ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

ঘর তৈরি ও আবাসন ব্যবস্থাপনা
আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারণত আধুনিক শেড করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক, ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়, সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরি করতে হবে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২১ ২:৪২ অপরাহ্ন
মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসছে থাইল্যান্ডের গরু!
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র চালাচ্ছে অবৈধভাবে গরু আমদানি। বিদেশি গরুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের খামারিরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় খামারিদের কথা ভেবেই মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তারপরও একটি চক্র সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে গরু আমদানি করছে। র

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশীয় বাজারে ইতিমধ্যে থাইল্যান্ডের ব্রাহামা জাতের বিপুল গরু দেখা গেছে। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে গরু আমদানি প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর থাকলেও কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে থাইল্যান্ডের এই জাতীয় গরু। যদিও ২০১৬ সালে সরকারের কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালার অধীনে বেসরকারিভাবে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ব্রাহমা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সূত্রমতে জানা যায়, মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর অসাধু সদস্য ও দেশীয় দালালদের সহযোগিতায় নদীপথে গরুগুলো নিয়ে আসা হচ্ছে। গত এক বছর ধরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ডের গরু বাংলাদেশে এলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এইসব গরু ক্রয় করতে গত এক বছরে কয়েক শ’ কোটি টাকা অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছে একটি চক্র।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে ও জুন মাসে মিয়ানমার থেকে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ এসেছে। এর আগে মার্চ-এপ্রিল মাসে ১১ হাজার ৮৮৬টি গরু ও ২ হাজার ৪২৪টি মহিষ এসেছে দেশে। তবে অবৈধভাবে দেশে আসা গরুর পরিসংখ্যান জানা যায়নি। টেকনাফ কাস্টমস শুল্ক স্টেশনের আওতাধীন মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পশুর একমাত্র পথ শাহপরীর দ্বীপ করিডোর। মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে পশু আসা রোধ করতে ২০০৩ সালের ২৫শে মে এটি চালু করা হয়। তবে এতে নিষিদ্ধ গরু আনার কোনো সুযোগ নেই। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আমদানি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ব্রাহমা গরু।

গরুর খামারি শাহজাহান জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গরু পালন করেও আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছে না। অতি মুনাফা করছে অবৈধভাবে পশু আমদানিকারীরা। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু আনা প্রসঙ্গে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, সীমান্ত দিয়ে এইসব হাইব্রিড গরু আসার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এইসব গরু আনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৮, ২০২১ ৭:৪৮ অপরাহ্ন
শাকিব খান, ডিপজলের পর এবার কাঁপাবে “হিরো আলম”
প্রাণিসম্পদ

শাকিব খান, ডিপজল, সুলতান, সিনবাদ, মানিক, রতন, রাজা-বাদশা, খোকাবাবু আর কালো মানিক এবং বাদশা মিয়ার পর এবার আসলো হিরো আলম। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বটতলা গ্রামের প্রবাসী কামরুজ্জামানের স্ত্রী জয়নব বেগমের খামারের ফ্রিজিয়ান জাতের ৩১ মণ ওজনের ষাঁড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘হিরো আলম’। ষাঁড়টির বয়স প্রায় ৪ বছর, লম্বায় সাড়ে ৮ ফুট। উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। এর দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।

গরুটির মালিক জয়নব বেগম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে গরুর খামার করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য তিনটি গরু প্রস্তুত করেছেন। তিনটির মধ্যে সব চেয়ে বড় ষাঁড়টির নাম ‘হিরো আলম’। এর ওজন প্রায় ৩১ মণ। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি তিনি প্রায় দেড় বছর আগে পাবনা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। এরপর ষাঁড়টির নামকরণ করা হয় আলোচনার শীর্ষে থাকা হিরো আলমের নামে। হিরো আলমের নামে নামকরণ আর এটি অনেক বড় আকৃতির হওয়ায় স্থানীয় লোকজন প্রতিদিনই বাড়িতে ষাঁড়টি দেখতে আসেন। হিরো আলমকে এবার ঢাকার গাবতলীর হাটে বিক্রির জন্য ওঠানো হবে। এই ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।

গরুর নামকরণ সম্পর্কে জয়নব জানান, অনেকেই গরুর নাম রাখে শাকিব খান, ডিপজল, সুলতান, সিনবাদ, মানিক, রতন, রাজা-বাদশা, খোকাবাবু ইত্যাদি। তাই আমিও তাদের মতো আমার গরুর নাম রেখেছি হিরো আলম। হিরো আলম এখন অনেক জনপ্রিয় নাম। তাই তার নামেই নামকরণ করেছি। হিরো আলম উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনায়েত করিম বলেন, ‘নিয়মিত ষাঁড়টিকে দেখাশোনা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ষাঁড়টি লালন-পালন করছেন জয়নব বেগম। তার ষাঁড়টিই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়। তবে লকডাউনের কারণে কোরবানির পশু বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে খামারিরা চিন্তিত রয়েছেন। আমরা অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য অ্যাপস তৈরি করেছি। ওই অ্যাপসের মাধ্যমে যে কেউ কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারবেন। তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপসে হিরো আলমের দরদাম হয়নি। হিরো আলম বিক্রিতে আমরাও জয়নব বেগমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।’

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop