৫:১৮ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১, ২০২১ ১১:১০ পূর্বাহ্ন
সোনালী মুরগির ডিম উৎপাদনে খামারি যা করবেন
পোলট্রি

আমাদের দেশে মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা ব্যাপক। এই মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে নানান মুরগির খামার। আর এসব খামারের মধ্যে অন্যতম হলো সোনালি মুরগির খামার। যা অনেক আগ থেকেই আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে পালন করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে কেবল ডিমের চাহিদা পূরণেও এই সোনালি মুরগির খামার করে থাকেন।

ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালী মুরগি পালনে যা করা জরুরি:

সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে শুরুতেই মনে রাখতে হবে এটি একটি ব্যবসা। আর ব্যবসাকে হেলার চোখে দেখার কিছু নেই। সোনালী মুরগি পালনে উদাসীনতা দেখালে মুরগি পালনে লোকসান দেখা দিতে পারে। সেজন্য সোনালি মুরগি পালনের প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।  ব্রূডিং এর সময় “এস্পারজিলোসিস” হবার অনেক সম্ভবনা থাকে। সেজন্য মুরগির ব্রূডিং কালে লিটারে তুঁতের পানি ছিটিয়ে ব্রূডিং করাতে হবে। এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে অনেক খামারিরা ভ্যাকসিন প্রদান নিয়ে অনেকটা উদাসীনতা দেখায়। সময়মতো মুরগিকে ভ্যাকসিন দিনে না পারলে অনেক সময় খামারিদের লোকসানে পড়তে হয়। আর সেজন্য ভ্যাকসিনসূচী অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে। লেয়ার মুরগির মতোই আলোকসূচি মেনে চলতে হবে। লেয়ার মুরগির মতোই সোনালি মুরগিতে আলোক নিয়ম মানলে সবচেয়ে ভাল হয়।

বয়স ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ হলে পুরুষ ও স্ত্রী সোনালী মুরগীগুলোকে পৃথক করতে হবে। সাধারনত মুরগী গুলোর ঝুটি ও পালক দেখেই পুরুষ ও স্ত্রী সোনালী মুরগী চেনা যায়। যেহেতু আপনার উদ্দেশ্য ডিম উৎপাদন তাই পুরুষ গুলো রাখার কোন প্রয়োজন নেই। এই মুরগি সাধারণত দিনে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম খাবার গ্রহন করে। অতিরিক্ত বা কম খাবার দেয়া কোনটিই ঠিক না। এক্ষেত্রে মোট খাদ্যের ৬০% সকালে দিয়ে দিতে হবে। আর বাকি ৪০% খাবার ২০% -২০% করে দুপুরে ও বিকেলে দিতে হবে।

খামারের মুরগিগুলোর বয়স ১৪ থেকে ১৬ সপ্তাহ হলে মুরগীগুলোকে খাঁচায় তুলতে হবে। মেঝেতে মুরগিগুলোকে না রেখে খাঁচায় রাখলে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১, ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহে প্রস্তুত ৭১হাজার গরু, শঙ্কায় ১৮হাজার খামারি!
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির জন্য ঝিনাইদহের ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮ হাজার খামারি প্রায় ৭১ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করেছে। তবে, গত কোরবানিতে গরুর দামে ধস নামলে এবার পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকলেও করোনাভাইরাস এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা কাজ করছে তাদের মাঝে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, করোনার প্রভাব থাকলেও অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রি হবে। ফলে ভারতীয় সীমান্তের জেলা ঝিনাইদহের চাষিরা সঠিক দাম পাবেন।

ঝিনাইদহের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় ও ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র খামার রয়েছে ১৭ হাজার ৪৫০টি। এসব খামারে আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুতকৃত গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৪১৫টি। এছাড়া ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৫৪ হাজার ৪৪৪টি। ঝিনাইদহে সরকারিভাবে বড় ধরনের কোনো খামার বা গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প না থাকলেও গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়তি লাভের আশায় কোরবানিকে সামনে রেখে গরু-ছাগল লালন-পালন করে থাকেন। তবে গরু পালনে তারা কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন ব্যবহার করেন না বলে দাবি করেন।

কৃষিকাজে তারা যে গম, খৈল ও ভুষি পেয়ে থাকেন, তা থেকেই গরুর খাবার যোগান দেন। এছাড়া মাঠের ঘাস তাদের গরু-ছাগলের প্রধান খাদ্য।

আরও জানান, ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুর পরিচর্যা করেন। সম্পূর্ণ দেশি খাবার দিয়ে তাদের গরু মোটাতাজা করা হয়।

গরুর গ্রাম বলে পরিচিত হরিণাকুন্ডের কুলবাড়ীয়ায় এ বছরও হাজারো গরু রয়েছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়ক পথে গেলে ফলসি ইউনিয়নে ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে কুলবাড়িয়া গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় তিন হাজার লোকের বসবাস। এখানে বাড়ি আছে পাঁচ শতাধিক। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুই থেকে ২৫টি গরু। প্রতিবছর এই গ্রাম থেকে এক থেকে দেড় হাজার গরু কোরবানির বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।

এ গ্রামে বড় খামারি হলেন শামছুল আলী। বর্তমানে তার ২৪টি গরু রয়েছে। হরিয়ানা, নেপালি ও ক্রসবিড জাতের গরু রয়েছে। এরমধ্যে সব থেকে বড় গরুর ওজন ১৩শ’ কেজি। দাম ভালো থাকলে এ বছর ছয়টি গরু ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, করোনার প্রকোপ থাকলে গরু-ছাগলের বাজার অনলাইনভিত্তিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খামারিদের নাম-ঠিকানা ও গরুর ছবি সংগ্রহ করে অনলাইনে প্রচার করা হবে। ক্রেতারা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে ছবি দেখে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পছন্দের পশুটি কিনতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৩০, ২০২১ ১১:৪৬ অপরাহ্ন
কোরবানির জন্য প্রস্তুত ‘সাকিব খান’
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রস্তত করা হয়েছে ‘সাকিব খান’ নামের একটি ষাঁড় গরু। সাকিব খানকে লালন পালন করা হচ্ছে উপজেলার মিরিকপুর গ্রামের কলেজছাত্র জোবায়ের ইসলাম জিসানের খামারে। সাকিব খানের ওজন প্রায় ৩১ মণ। এ ষাঁড় গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। শাকিব খান লম্বায় সাত ফিট। এ ষাঁড় গরুটি দেখতে প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছেন।

জানা যায়, দুই বছর সাত মাস আগে তরুণ উদ্যোক্তা জোবায়ের ইসলাম জিসানের খামারেই জন্ম হয় শাকিব খানের। এরপর থেকে তাকে কোনও ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। ষাঁড়টির নাম শাকিব খান ও বেশি বড় হওয়ায় আগ্রহ নিয়ে তাকে দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ভিড় করছেন। মাঝে মধ্যে ক্রেতারাও আসছেন ষাঁড়টি কিনতে।

জোবায়ের ইসলাম জিসান জানান, ‘ষাঁড়টি দেখতে সাদা। ষাঁড়টি খুবই শান্ত প্রকৃতির। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শক্রমে কোনও ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করেছি। ষাঁড়টির দাম চাচ্ছি ১৩ লাখ টাকা, তবে আলোচনা সাপেক্ষে কম টাকায় বিক্রি করতে পারি।’

তিনি আরও জানান, ‘২০১৭ সালের শেষের দিকে আমার পরিকল্পানায় তিনটি গাভি দিয়ে খামারটি শুরু করা হয়। বর্তমানে খামারে ২৫টি ষাঁড় ও গাভি রয়েছে। এদের মধ্যে ছয়টি ষাঁড় এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তত করা হয়েছে। খামারে শাকিব খান ছাড়াও প্রায় একই ওজনের আরও একটি ষাঁড় রয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে দিপজল। সেটা দেখতে কালো। ষাঁড় দুইটির জন্মের পরপরই খামারের ম্যানেজার তাদের নাম রাখে শাকিব খান ও দিপজল। আমার অবর্তমানে বাবা খামারটি দেখাশোনা করেন। এছাড়াও খামারে একজন কর্মচারি রয়েছে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রৌশনী আকতার জানান, ‘জিসানের খামারে দেশীয় খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। আমরা ষাঁড়টিকে নিয়মিত দেখাশোনা করছি। উপজেলায় এই ষাঁড়টিই সবচেয়ে বড়।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৩০, ২০২১ ৪:৩৮ অপরাহ্ন
বাছুরের ডায়রিয়া দেখা দিলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে এখন শহরেও দেখা মিলে অনেক গরুর খামার। আর গরু পালন করতে গিয়ে খামারিরা নানাবিধ সমস্যায় পড়ছেন। অনেক সময় বাছুরের ডায়রিয়া রোগ দেখা দিয়ে থাকে। আর তখন একজন খামারিকে কি করতে হবে সেটা জানা উচিত।

বাছুরেরডায়রিয়া সমস্যায় খামারিদের করণীয়ঃ

বাছুরের তীব্র ডায়রিয়ার কারণ:
বাছুরকে অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত দুধ খাওয়ানো, অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো বা খেয়ে ফেলা, খাবারের পাত্র এবং ফিডার নোংরা বা ময়লা হলে, বাছুর কৃমিতে আক্রান্ত হলে, শাল দুধের গুণাগুণ ভাল না হলে, বাছুরের থাকার জায়গাটা নোংরা, স্যাঁতসেঁতে হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে।

বাছুরের এই তীব্র ডায়রিয়ায় খামারি যা করবে:
ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথে আলাদা করে শুকনা পরিষ্কার জায়গায় রাখতে হবে বাছুরকে।খাবারের পাত্র এবং ফিডার বোতল পরিষ্কার করে খাওয়াতে হবে। বাছুরকে তার বড়ি ওয়েটের ১০% দুধ খাওয়াবেন অর্থাৎ ৪০ কেজি ওজনের বাচ্ছাকে দুধ খাওয়াবেন ৪ লিটার। শালদুধের গুণাগুণ পরিমাপ করে দেখতে হবে। ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথেই স্যালাইন খাওয়াতে হবে দিনে ৩ বার ২৫০ মিলি করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৩০, ২০২১ ২:১৪ অপরাহ্ন
দুধ বিক্রি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে মাগুরার ৪৯৯ খামারি
প্রাণিসম্পদ

করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউনে বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়ছেন মাগুরা জেলার ৪৯৯ খামারি। বিক্রি করতে না পেরে অনেক খামারিই দুধ ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে খামারিদের উৎপাদিত দুধ বহনকারী কোনো যানবাহন শহরে ঢুকতে না পারায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়েছে। এতে আর্থিক সংকটের কারণে অনেক খামার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকে খামারের শ্রমিকদের পাওনা বেতন ও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গরু পর্যন্ত বিক্রি করছেন খামার মালিকরা।

জানা যায়, মাত্র ৩ বছর আগে ৪টি ফ্রিজিয়ান গরু নিয়ে সদরের বেলনগর গ্রামে নিজের বাড়িতে খামার গড়েছিলেন শামীমা সুলতানা। শুরুতে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের পরিশ্রমে খামারটির গরুগুলো লালিত পালিত হতো। বর্তমানে নিজের পরিশ্রম ও সার্বিক চেষ্টায় খামারটির আয়তন বাড়ছে। এখন তার খামারে গরুর বাছুরসহ মোট ২০টি গরু হয়েছে। তার মধ্যে ১১টি গরু দুধ দেয়।

প্রতিদিন খামারটিতে ১৩০ কেজি দুধ পায় শামীমা। যা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সংশ্লিষ্টরা সংগ্রহ করতো। খামারি শামীমা সুলতানা জানান, প্রতিদিন আমার ১১টি গরুর দুধ বিক্রি করে প্রায় ৬ হাজার টাকা পেতাম। যা দিয়ে শ্রমিক ও খামারের বিভিন্ন খরচ মেটানো হতো। বর্তমানে চলমান লকডাউনে খামারের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে। দুধ পরিবহন গাড়ি শহরে প্রবেশ করতে পারছে না। হোটেল ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ থাকায় তারাও আর যোগাযোগ করছে না। আমার উৎপাদন খরচ না উঠায় প্রতি মাসে ভর্তুকি নিয়ে চালাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার বন্ধ হয়ে যাবে।

একই গ্রামের অপর খামারি হাজেরা খাতুন জানান, লকডাউনে খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তার খামারে ৮টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খরচ বাদে ৩/৪ হাজার টাকার দুধ বিক্রি হতো। লকডাউনে দুধ বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। এদিকে দুধ বাছুরগুলোকে খাওয়ালে তারাও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাই বাধ্য হয়ে দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাদিউজ্জামান জানান, বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। লকডাউনের এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি জেলার খামারিদের ঐক্যবদ্ধ করে ভ্রাম্যমাণ পরিবহনের মাধ্যমে দুধ বিক্রি করার ব্যবস্থার জন্য কাজ করছি বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৯, ২০২১ ১০:৪৬ অপরাহ্ন
তৃতীয় লিঙ্গের খামারী খুকুমনির ভাগ্যবদল
প্রাণিসম্পদ

তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠির এক সদস্যের নাম খুকুমনি। শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের বাদাতেগরিয়া গ্রামের খুকুমনি কিছুদিন আগেও ছিলেন অসহায় ও ভবঘুরে। আজ সে স্বাবলম্বী। দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ে। অন্যের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে এখন নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন বড় একটি হাঁসের খামার। বর্তমানে তার খামারে হাঁস রয়েছে ১ হাজারেরও অধিক। হাঁসগুলোর সঙ্গে খুকুমনির দারুণ বন্ধুত্ব।

খুকুমণি বলেন, “বাজার থেকে প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা কেনা পড়েছে ২৫ টাকা ধরে। মোট বাচ্চা কিনেছি ১ হাজার ২০০ এর মতো। এখন সব মিলিয়ে ১ হাজারের মতো বড় হাঁস রয়েছে আমার খামারে”।

তিনি আরও বলেন, “এর আগেও হাঁস পালন করে ৪০ হাজার টাকা লাভ করেছি। ওই লাভের টাকা দিয়েই ধীরে-ধীরে খামার বড় করছি। এখন যে হাঁসগুলো রয়েছে, প্রতিটির বর্তমান বাজারদর ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা করে হবে। আড়াই মাস পর সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে ধারণা করছি। তৃতীয় লিঙ্গের একজন হলেও মানুষের কাছে আমি হাত পাততে চাই না। আমি কর্ম করে বাঁচতে চাই। সরকার আমাকে একটি ঘর আর জমি দিয়েছে। আমি এখানেই হাঁস-মুরগি পালন করে বেঁচে থাকতে চাই। আমার দাবি, অন্যদের মতো যেন আমাকেও সরকার সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থাটা করে দেয়”।

জানা যায়, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় যেখানে-সেখানে তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হতো খুকুমণিকে। তাই বেঁচে থাকার জন্য একসময় হাত পাতা আর চাঁদা তোলা শুরু করেন তিনি। এত করে তাকে অপমান-বঞ্চনা সইতে হতো। একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নেন আর ওইসব কাজ করবেন না। এরপর প্রশিক্ষণ নেন যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে হাঁসের খামার গড়ে তুলেন। দিনে দিনে বড় হতে থাকে ওই খামার। অল্পদিনেই আসে সফলতা। খুকুমনি আজ স্বাবলম্বী।

এদিকে, প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় বসবাসকারী তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যসংখ্যা ৫২। প্রশিক্ষণ পেয়ে তাদের সবাই এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

স্থানীয় অধিবাসী জুবাইদুল ইসলাম বলেন, খুকুমণি ছোট থেকেই বুদ্ধিমতী। কারণ, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে নিজে কিছু করার চেষ্টা করতো। সে সমাজের অন্যদের মতো চাঁদাবাজি, বাজারে বাজারে টাকা তোলা, জোর করে নেওয়া, এগুলো করতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার গড়েছেন। অল্প কিছু হাঁস পালন করে আজ তার খামারে ১ হাজারেরও বেশি হাঁস রয়েছে। খুকুমণির জন্য আমরা এলাকাবাসী গর্বিত।

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিশি সরকার জানান, আমরাও সমাজের অন্যদের মতোই মানুষ। আমাদেরও পরিবার ছিল। মা, বাবা, ভাই-বোন ছিল। শারীরিক পরিবর্তনের কারণে আমরা পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমরাও যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। কিছু একটা করে স্বাবলম্বী হতে পারি, তার জ্বলন্ত উদাহরণ খুকুমণি।

তিনি বলেন, শুধু তা-ই নয়, শেরপুরের অনেক হিজড়া আছে, যারা মাস্টার্স শেষ করেছে। কেউ আবার শেরপুর সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট বা অনার্স পরছে। অনেকেই সেলাই, বুটিক, কম্পিউটার, গবাদিপশু পালনসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

শেরপুরের তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সংগঠন জন উদ্যোগ। সংগঠনটির শেরপুর জেলার আহ্বায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “একসময় ট্রান্সজেন্ডারদের (তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য) কেউ ঘর ভাড়াও দিতে চাইত না। সময়ের পরিবর্তনে আমরা সব দাবি আদায় করেছি। শেরপুর সদরের কামারিয়া ইউনিয়নে ২ একর জায়গায় ৬৯ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য বাসস্থান ‘স্বপ্নের ঠিাকানা’ আবাসন প্রকল্প। ইতোমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ সদস্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন ঘরের চাবি”।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) ফিরোজ আল মামুন জানান, আমরা তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের জমি ও ঘরের ব্যবস্থা করেছি। প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। বর্তমানে ঋণ প্রদানও শুরু করেছি। খুকুমণির বিষয়টি আমাদের ধারণায় রয়েছে। তার মতো অন্যরাও যেন স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৯, ২০২১ ১২:১৮ অপরাহ্ন
একদিনেই মরল দেড় হাজার মুরগি,আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি!
পোলট্রি

নাটোরের বড়াইগ্রামে রাণীক্ষেত রোগে এক খামারির এক দিনে দেড় হাজার মুরগি মারা গেছে।রোববার রাত ও সোমবারের মধ্যে উপজেলার জোয়াড়ি গ্রামে এসব মুরগি মারা যায় বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু।

মুরগি খামারি আবু সাঈদ জানান, সম্প্রতি সরকারের কাছ থেকে পাওয়া দুই কক্ষের ঘরে তিনি মুরগির খামার করেন। ঋণ করে দেড় হাজার মুরগির বাচ্চা কিনে এনে পালন শুরু করেন। মুরগিগুলোর বয়স হয়েছিল ৪৫ দিন। প্রতিটির ওজন হয় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। আর কিছুদিন বাদেই মুরগি বিক্রি করা যেত।

“হঠাৎ রোববার থেকে এক এক করে খামারের মুরগি অসুস্থ হতে থাকে। সোমবার দুপুরের মধ্যে সব মুরগি মারা যায়। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু আরও জানান, মারা যাওয়া মুরগির ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রাণীক্ষেত রোগে মুরগিগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মুরগিকে রাণীক্ষেত রোগের প্রথম টিকা দিলেও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়নি; তাই বাঁচানো যায়নি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৯, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
গাছের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে গরু হত্যা!
প্রাণিসম্পদ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ভাইদের উপর আক্রোশের জেরে গরুকে গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে হারুনুর রশিদ হারুনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কৃষক আব্দুল মন্নান।

সোমবার ভোর রাতে হাসেম নগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মির্জাকালু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসআই মুহাইমিন জানান, ঘটনাটি নির্মম। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করে দুর্বৃত্তদের খুঁজে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ওই এলাকায় দুই দফা অভিযান চালানো হয়েছে।

কৃষক আব্দুল মন্নানের স্ত্রী সাজেদা বেগম সাজু জানান, রোববার বিকালে হারুনের স্ত্রী সীমা বেগমের সঙ্গে ঝগড়া হয়। ওই সময় সীমা বেগম তাদের দেখিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। রাত ১টা পর্যন্ত ৪টি গরু গোয়ালে ছিল। এরপর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। দুটি বাছুর , একটি গাভীন গরু ছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখেন গাভীন ( গর্ভধারণ ) গরুটি নেই। সেটি বাগানের পাশে গলায় ফাঁস লাগানো (পায়ুপথে লাঠি ঢোকানো ) অবস্থায় গরুটিকে মারা হয়।

সাজু বেগম জানান, তারা ফারুক বিল্লাহ ও মোতাছিন বিল্লার জমিতে থাকেন। একই সঙ্গে তাদের জমি ও সুপারি বাগান দেখা দেখাশোনা করেন। এই কারণে মোতাছিন বিল্লার ভাই হারুন মিয়া সহ্য করতে পারেন না। নানা সময় কৃষক আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারকে ওই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গরুটি এভাবে মারার জন্য সাজু বেগম হারুনকেই দায়ী করেন।

অপরদিকে হারুন মিয়া জানান, তারা ৬ ভাই। তিন ভাই বাড়ি থাকেন না। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তার ছেলে আরিফ বাড়িতে এসে তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাঙ্গামা করে।

অপরদিকে লালমোহনে থাকেন মোতাছিন গগণ । তার সুপারি বাগান দেখার জন্য দায়িত্বে নিয়ে আব্দুল মান্নান অপকর্ম করে বেড়ায়। তাকে ফাঁসাতে গরুটি এভাবে মারা হয়েছে বলে মনে করেন হারুন অর রশিদ হারুন। সূত্র:যুগান্তর

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৮, ২০২১ ১১:২৯ অপরাহ্ন
দ্বিতীয় ধাপে প্রণোদনা পেলেন ১৭৯২১ ক্ষতিগ্রস্ত খামারি 
পোলট্রি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ১ লাখ ৭৯ হাজার ২১ জন খামারিকে দ্বিতীয় ধাপে ২১৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৭ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রণোদনা দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অতীতে কখনোই আমরা প্রণোদনা দিতে পারিনি। এর একটা শুভসূচনা এ বছর আমরা করলাম, যার পুরো কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়েছে। এ দু’টি খাতকে কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সেজন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।

আরও বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য আমরা প্রণোদনা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪ জন খামারিকে ৮৪৬ কোটি টাকা প্রণোদনার সংস্থান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮১ জন খামারিকে ৫৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৭৪ টাকা নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২১ জন খামারিকে ২১৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যাচাই-বাছাই করে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অবশিষ্ট খামারিদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত যাতে কোনোভাবেই হয়ে না যায়। ভেঙে না পড়ে। আশা করি, এ প্রণোদনা দিয়ে খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। শেখ হাসিনা সরকার খামারিদের পাশে আছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ। মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৮, ২০২১ ১১:০৩ অপরাহ্ন
ভারতীয় গরুর প্রবেশ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা!
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিদের মাঝে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সারাদেশে খামারিরা তাদের গরু-ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তেমনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১২ হাজার খামারি প্রায় সাড়ে প্রায় সোয়া লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত করেছে আসন্ন কোরবানির জন্য।

এত কষ্ট করে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারিদের অনেকে জানায়, সীমান্তবর্তী এই জেলায় ভারতীয় গরুর আধিক্য ঠেকানো না গেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা। এছাড়া ভারতীয় গরু এবং সঙ্গে আসা লোকদের মাধ্যমে ছড়াবে করোনা। ত

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর গরু বাজারে আসা প্রায় শতভাগ গরু ভারতীয়। এসব গরু সীমান্তের বিভিন্ন পকেট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গরুর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় নাগরিকেরাও এ দেশে গরু নিয়ে প্রবেশ করছেন। ফলে করোনার ভারতীয় ধরন আরও বড় আকারে ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম বড় খামার নিউ প্রিন্স ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. নাসির উদ্দিন জানান, বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত মোটাতাজা গরু সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তার খামারে বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে শাহিওয়াল, ফাইটার, নেপালী ঘির, রাজস্থানি, ওয়েস্টার্ন ফ্রিজিয়ান, উরবারী ষাঁড়, গইয়াল এবং মহিষ রয়েছে। সবমিলিয়ে অন্তত আড়াই শতাধিক গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে তিনি এ বছর ১২৮টি গরু-মহিষ বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার খামারে দেড় লাখ থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে।

তার প্রত্যাশা বাজারে ভারতীয় গরুর আধিক্য না থাকলে ১২৮টি গরু অন্তত চার কোটি টাকা বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে যেন ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। অন্যথায় গত দুই বছর ধরে খামারিরা লোকসান দিয়ে আসছেন। এ বছরও যদি লোকসান হয় তাহলে খামারিরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

আরেকজন খামারি জানান, আমরা খামারিরা গরুর যত্ন নিয়ে বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, এবার কোরবানির ঈদে গরুর ভালো দাম পাবো। ভারত থেকে যদি গরু আসে, তাহলে আমরা ন্যায্য মূল্য পাবো না। আমাদের লোকসানের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। আর ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম সাইফুজ্জামান জানান, ইতোপূর্বে প্রতি উপজেলা থেকে ২০ জন করে মোট ১৮০ জন খামারিদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার গড়ে তুলেছেন। সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় গরুর প্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবিকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। কারণ ভারতীয় গরু আনা নেওয়ার সময় লোকজন আসা যাওয়া করবে। এতে করে করোনা ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এক লাখ সাত হাজার গরু কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এক লাখ ২৪ হাজার ৭২৭টি গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop