হিমায়িত মৎস্য রফতানি বৃদ্ধিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে
প্রাণিসম্পদ
৪:২৫ পূর্বাহ্ন
সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করে ও স্বাস্থ্য সম্মতভাবে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদান বিষয়ে চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (২০ জুন) নগরীর মোটেল সৈকত সাম্পান হলে অনুষ্ঠিত হয়।
থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাকিয়া খাতুন ও ক্যাব চট্টগ্রামের মনিটরিং কর্মকর্তা কৃিষবিদ আরিফ আহমেদ পোল্ট্রি উৎপাদনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত বিষয়ে করনীয় বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন। প্রশিক্ষণে খামারিরা কিভাবে তা নিশ্চিত করবে সেজন্য চেকলিস্ট, রেকর্ডপত্র কিভাবে সংরক্ষণ করবেন সে বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এম নাছিরুল হকের সভাপতিত্বে ও ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সংঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রেয়াজুল হক জসিম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশবিদ প্রফেসর ডঃ ইদ্রিস আলী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু ও বন গবেষণাগার শারিরীক শিক্ষা কলেজের অধ্যাপক এবিএম হুমায়ুন কবির।
সভায় বক্তারা খামারিদের উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিলে পরিবেশেন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার নিশ্চিতের করনীয় বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরনের আহ্বান জানান।
প্রতিযোগিতামুলক বাজারে একজন খামারী যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদান নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে সে অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারবে না। আর উৎপাদনের কলাকৌশল প্রতিনিয়কই পরিবর্তন হচ্ছে। সেকারনে একজন উৎপাদককে কম খরচে উৎপাদনের বিষয়টি যেভাবে দেখতে হবে। একই সাথে পুষ্টিমান ও নিরাপদ পোল্ট্রি ভোক্তার কাছে যাচ্ছে কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এই পোল্ট্রির বাজার অন্যের হাতে চলে যাবে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ সংক্রান্ত জ্ঞান আহরণ ও কলাকৌশলগুলি জানা আবশ্যক। পোল্টি খাবার ও বাচ্চায় আন্টিবায়েটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার বিষয়ে ভোক্তাদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে সার্টিফাইট পশু চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জসিম আরও বলেন, বায়ো সিকিউরিটি সমৃদ্ধ (কন্ট্রোল শেড) খামারে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করলে অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আর যত্রতত্র, অপরিস্কার, অপরিছন্ন স্থানে মুরগি জবাই করে ভোক্তার কাছে মুরগি সরবরাহ করার কারনে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি পৌঁছানো অনেকাংশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি পেতে হলে ফ্রোজেন (প্রক্রিয়াজাতকৃত) মুরগির বিকল্প নেই।
আবার সুপারশপগুলিও তাদের ভেন্ডরদের মাধ্যমে যে সমস্ত উৎস থেকে মুরগি ক্রয় করে থাকেন, সেখানেও নিরাপদ উপায়ে পোল্ট্রি উৎপাদন হচ্ছে কি না তদারকি দরকার। তাই ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ব্রয়লার মুরগির মাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে উৎস স্থল পোল্ট্রি খামার থেকে গৃহিনীর রান্নায় পরিবেশন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের অনুসরনীয় নিয়মাবলী কঠোর ভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই।
এছাড়াও সুপার শপগুলিতে বায়োসিকিউরিটিযুক্ত, প্রাণীসম্পদ অফিসের সনদপ্রাপ্ত, যথাযথ মান পরীক্ষা নিশ্চিত করে বাজারজাতকৃত মুরগি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ড্রেসড(প্রক্রিয়াজাতকৃত) ব্রয়লার মুরগি বাজারজাতকরনে তদারকি জোরদার করতে হবে। কর্মশালায় ২০জন খামারী ও ১০জন স্থানীয় ক্যাব নেতৃবৃন্দসহ ৩৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।
টাঙ্গাইল ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।গত শুক্রবার (১৮ জুন) টাঙ্গাইল জেলার আগবিক্রমহাটিতে সারাদিন ব্যাপী এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রানা মিয়া। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক কৃষি পদকপ্রাপ্ত বগুড়ার শেরপুরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ রায়হান পিএএ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সালাউদ্দিন, সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদুল ইসলাম, এনিম্যাল হেলথ কেয়ার এন্ড লিজেন্ড ফিডের সিইও ডাঃ মোকাদ্দেস আলী ইমন, এস.এফ মেডিসিন এন্ড সার্ভিসেস এর স্বত্বাধিকারী ডাঃ রেজাউল ইসলাম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও TVSA সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
ডাঃ মুহাম্মদ হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন TVSA এর সম্মানিত সভাপতি নাঈম আল হাসান।
উক্ত ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত প্রাণীর চিকিৎসা সেবা এবং প্রায় দুই শতাধিক ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ভেটেরিনারি সেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও সচেতনতা তৈরি করা TVSA এর অন্যতম লক্ষ্য।
দেশের বেকারত্বকে দূর করতে গবাদিপশু লালন-পালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আর দেশের সিংহভাগ প্রাণিজ আমিষ আসছে তৃণমূল পর্যায়ের গবাদি পশু থেকে। তাই এই বিষয়ে আমরা যদি আরো যত্নবান হই তাহলে আগামীতে আরো লাভবান হবো।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই দেশের মৎস্য খাতে সমৃদ্ধির সূচনা হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: ইলিশ উৎপাদনে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ও জাটকা সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মৎস্য খাতকে দেখেছিলেন দূরদৃষ্টি দিয়ে। স্বাধীনতাত্তোর তিনি বলেছিলেন ‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।’ মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য জলাশয়ে মৎস্য অবমুক্ত করা, মৎস্য চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া, সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ১০টি ফিশিং ট্রলার সংগ্রহ, বাণিজ্যিকভাবে বঙ্গোপসাগর হতে মৎস্য আহরণের লক্ষ্যে মেরিন ফিশারিজ ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং মৎস্য জরিপ কাজ শুরু করা ছিল তাঁর অন্যতম দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পদক্ষেপ। তাই তিনি আমাদের পাথেয়, আমাদের আদর্শ, আমাদের দর্শন।”
মন্ত্রী আরো বলেন, “জাটকা সংরক্ষণে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য সরকার ভিজিএফ দিচ্ছে। পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভ্যান বিতরণসহ নানা উপকরণ দিয়ে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাটকা ধরা বেআইনী। তবু শেখ হাসিনা সরকার কেউ অনিয়মের মধ্যে থাকলেও তাকে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভালোভাবে পুনর্বাসন করতে চায়। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সৎ, সাহসী, পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়ক। মানুষের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ শেখ হাসিনা যা নিতে পেরেছেন, তা অতীতে কেউ করেন নি।”
এসময় তিনি আরো যোগ করেন, “নানাভাবে সরকার মৎস্য খাতের বিকাশে সহযোগিতা করছে। এ খাতের বিকাশের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। শুধু ঢাকায়ই নয়, দেশের যে যায়গায় প্রয়োজন সেখানে গবেষণা ইনস্টিটিউট করা হচ্ছে। এ খাতে যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যারা ফিড মিল বা অন্যান্য মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করতে চান, তাদেরকে মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে মাছ রফতানির সুযোগ সৃষ্টির জন্য হাইকমিশন সহযোগিতা করছে। তবে এ খাতের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি দেশের নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “বিএফআরআই-এর প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও মোহনা অঞ্চলে ইলিশ গবেষণার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন উন্নতমানের ভেসেল কেনা হয়েছে। এতে দেশের নদ-নদী এবং সাগর উপকূলে ইলিশ বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা সম্ভব হবে। গবেষণালব্ধ ফলাফল ইলিশের সহনশীল উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে। বিএফআরআই এর গবেষণা থেকে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা ও নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখায় ইলিশের প্রজনন সফলতা এসেছে। সর্বশেষ ২০২০ সালে ২২ দিন নিষিদ্ধকালে ইলিশের প্রজনন হার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ নিরূপন করা হয়েছে। গবেষণায় নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনে মৎস্য বিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে। গবেষণা হতে হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের স্বার্থে।”
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআই-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. ইয়ামিন হোসেন ও মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মোঃ ইমদাদুল হক ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, মৎস্য বিজ্ঞানী এবং মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান মো. রাসেল। একটি ছাগলে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করে তিনি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তার খামারে ৫০টি ছাগল ও ২৭টি গরু রয়েছে। সবমিলিয়ে এখন তিনি কোটি টাকার মালিক।
গরু পালন, দুধ বিক্রি, গোবর, বায়োগ্যাস প্লান্ট, কেঁচো দিয়ে জৈবসার প্রস্তুত করে ১২ বছরে কোটিপতি বনে যান সফল এ উদ্যোক্তা। নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘রাসেল ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বাবা আবদুল হালিম, মা, ভাই ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেখভাল করেন এ খামার।
জানা যায়, ছোটবেলা থেকে ব্যাংকার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের চাপে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে পড়তে হয়েছে বিজ্ঞান বিভাগে। কিন্তু পড়াশুনা বেশিদূর আর এগোয়নি। ছাত্রজীবন থেকে বাবার কাছ থেকে নেওয়া ১০/২০ করে টাকা জমিয়ে শখের বশে ২০ হাজার টাকায় একটি ছাগল কেনেন তিনি। ওই ছাগল থেকে ৩টি বাচ্চা হয়। বাচ্চাগুলো বড় করে বিক্রি করেন এক লাখ টাকা। ব্যবসার এক লাখ ও জমানো আরও ১ লাখ টাকা দিয়ে একটি শংকর জাতের গাভী ও উন্নত জাতের দুইটি ছাগল কেনেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ১২ বছরেই কোটিপতি বনে যান সফল এই উদ্যোক্তা।
রাসেল ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ জমির উপর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। খামারে লোহার খাঁচায় সারি সারি বাঁধা রয়েছে বকনা গরু ও ছাগল।
সফল খামারি রাসেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ২০১০ সালে ফিজিয়ান জাতের একটি গাভী থেকেই প্রজনন সম্প্রসারণ শুরু। বর্তমানে খামারে ২টি ষাঁড়, ১৫টি গাভী ও ১০টি বাছুরসহ ২৭টি গরু রয়েছে। বর্তমানে ১৫টি গাভী থেকে প্রতিদিন ১০০ লিটার দুধ পান তিনি। এছাড়া দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল, দেশি মোরগ-মুরগি, কবুতর পালনও শুরু করেছেন তিনি।
খামারি রাসেল বলেন, খামারে বাছুর হলো লাভের অংশ। বছর শেষে ৪০টি বাচ্চা হয় সাধারণত। বাছুর থেকে বছরে আয় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে খামারে তার দেড় কোটি টাকার গরু ও ছাগল রয়েছে। বোয়ার, তোতাপুরি, হারিয়ানা, বিটল, শিরহি ও যমুনাপারি নামের জাতের ছাগল রয়েছে। গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচ কমাতে কাঁচা ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। খরচ সাশ্রয় হলে খামারি লাভবান হতে পারবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আহাম্মদ জানান, এ এলাকায় রাসেল বেকার যুবকদের একটা উদাহরণ। স্বল্প সময়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি খামারের পরিসর বাড়াতে পেরেছেন। আত্মপ্রত্যয়ী এই যুবকের খামার দেখে বেকারত্ব দূর করতে অন্যরাও এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আইয়ুব মিঞাঁ রানা বলেন, রায়পুরের খামারি রাসেল গরু ও ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী। তার খামারের গবাদি পশুগুলোকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পশু লালন-পালনে তাকে নানা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা। সূত্র:রাইজিংবিডি.কম
মাত্র সাত মাস বয়সী একটি গরুর বাছুরে প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন লিটার। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য হলেও এমনি ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম রজপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম হাওলাদারের গরুর খামারে।হরমোন জনিত কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা প্রাণীসম্পদ বিভাগের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে নুরুল ইসলাম হাওলাদার গরু পালন করছেন। এলাকায় ছোট খামারী হিসেবে তার বেশ পরিচিতি। দুইটি দেশি গরু নিয়ে পালন শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৩ টি গরু।
নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, প্রায় ১০ মাস আগে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী বাছুর জন্ম নেয় তার খামারে। ৫ মাস যেতে না যেতেই বাছুরের (স্থানীয় ভাষায়) স্তন অস্বাভাবিক আকার দেখতে পান। পরে বাছুরটির স্তন থেকে দুধ বের হলে অবাক হয়ে যান তিনি। প্রথমে চমকে গেলেও বাছুরটি সকালে দুই লিটার এবং বিকালে এক থেকে দের লিটার করে দুধ দিচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, সাধারণত গাভীন হওয়ার পরেই গরু দুধ দিয়ে থাকে এটাই স্বাভাবিক। আমি এধরণের ঘটনা শুনেছি, নিজ চোখে দেখিনি। এটা হরমোন জনিত কারণে হয়ে থাকতে পারে। তবে এটা একটি বিরল ঘটনা। বাছুরটির খোঁজ নিতে খামারির বাড়িতে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।’
দু‘হাজার লেয়ার দিয়ে শরু করে এখন সাড়ে আট হাজার লেয়ার এবং তেরো‘শ ব্রয়লারের মালিক ভোলার লালমোহনের হাফেজ সোহেল। হাফেজী, ক্বওমী এবং ভোকেশনাল পড়া অবস্থায় স্বাবলম্বী এবং পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার নেশায় শুরু করেন মুরগি এবং মাছের খামার। যাতে একজন সফল খামারিও হয়েছেন তিনি। এগ্রিভিউ২৪.কম এর একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে আসে তার জীবনের এমন গল্প।
তিনি এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে বলেন, তিনি নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে পুরো পরিবারের দ্বায়িত্ব চলে আসে তার কাঁধে। আর ঢাকাতে তার অন্য একজন বন্ধুর সাথে কিছু মাস মুরগির খামারে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শুরু করেন খামার।
সোহেল জানান, তিনি ১০ লাখ টাকা চালান দিয়ে এবং ডিলারের কাছে ৯লাখ টাকা বকেয়া রেখে শুরু করেন খামার। তবে তার সেই ব্যাচ শেষ হওয়ার আগেই শোধ করে দেন ডিলারের বকেয়া। তারপর ২০১৭ সালের প্রথম দিকের ১ম ব্যাচ এর লাভ দিয়ে পরে তিন হাজারের একটা পুরো সেট তিনি সম্পূর্ণ করেন। যেখানে তার লাভ হয়েছিলো প্রায় ১৫ লাখ টাকার মত।
তিনি জানান, তখন খামারের রেজাল্ট এবং ডিমের দাম ভালো থাকায় আর খামারে তিনি নিজেই কাজ করাতে তখন খুব ভালো করেছিলেন। লকডাউনের ভিতরে লাভ কিছুটা কম হলেও লস হয়নি বলে জানান এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে।
আজ ৫বছর ধরে করে যাচ্ছি খামার তবে, ২০২১ সালটাতে এসে খুব একটু সুবিধা করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে ফিডের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা খামারিদের নাগালের বাইরে। যে হারে ফিডের দাম বাড়ছে সেই হারে বাড়ছেনা বাজারে মুরগির দাম। এছাড়া ডিমের দামও খুব কম। বেশি টাকা দিয়ে ফিড কিনে যদি চালানও না উঠে তবে সেখানে খামারিদের হতাশ হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
তিনি বলেন, ফিডের সাথে সাথে বাজারে মুরগি এবং ডিমের দামও বাড়াতে হবে। একদিকে ফিডের দাম বাড়বে আর অন্যদিকে মুরগি আর ডিমের দাম কমবে এতে করে খামারিদের লস ই হবে।
তিনি জানান, এই সেক্টরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরো কিছু করতে চাই। তবে এই চার ধাপে ফিডের বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় ৩২৫ টাকা। যা একজন নতুন খামারির জন্য খুবই কষ্টকর। তবে এই সেক্টরে দাম উঠা-নামা করলেও সঠিক পরিচর্যা আর নিয়ম মেনে খামার করতে পারলে লাভের অংকটাই বেশি বলে জানান সোহেল।
আগামী ২৩ জুন(বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাগল ভেড়া খামারিদের নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ এবং দিনব্যাপি মিলনমেলা। সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম ও সচিবগণ এবং বিএলআরআই এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
যেসকল খামারিরা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার ও খামারের নামসহ ০১৯৭৭৯৯৫৫৬২ অথবা ০১৯০২৪৪৪৪২৪ এই নাম্বারে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ গোট এন্ড ফিশ ফার্মারস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সকল ছাগল এবং ভেড়া খামারিদের এই প্রাণের মেলায় অংশগ্রহণ করে আয়োজনকে আরো প্রাণবন্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামে ব্যবসায়ী কিসমত আলীর ৮ মাসের প্রথম গর্ভবতী এক বকনা বাছুর দিনে ৬ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। এর আগে একই গ্রামের ১০ মাস বয়সী এক বকনা বাছুর দিনে ৩ লিটার দুধ দেওয়ার ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায় এমন ঘটনা আরো ঘটছে তবে, এই দুধ স্বাস্থ্যসম্মত।
জানা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) কিসমত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ৮ মাসের গর্ভবতী বকনা গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। প্রায় ২০-২৫ দিন ধরে তিনি দিনে ৬-৭ লিটার করে দুধ সংগ্রহ করছেন।
কিসমত আলী জানান, বেশ কিছুদিন আগে ৩৫ হাজার টাকায় ১৩ মাস বয়সী ফিজিয়াম জাতের বকনা বাছুরটি তিনি কিনেছেন। এর কিছুদিন পর বকনা বাছুরটির দেহে প্রথম জোয়ার আসে (তাপ)। পরে কৃত্রিম ভাবে প্রজনন দেওয়া হয়। বর্তমানে বকনাটি ৮ মাসের গর্ভবতী। কিছুদিন আগে বকনাটির কাছে গেলে ওলান ফোলা দেখে দুধ জমেছে বুঝতে পারি। তাৎক্ষণিক ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করি। আমরা এই দুধ পান করি এবং বাকি অংশ স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে ৬০ টাকা লিটারে বিক্রি করে দেই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল জানান, এর আগেও উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম তার ১০ মাস বয়সী এক বকনা বাছুর থেকে দিনে ৩ লিটার করে দুধ সংগ্রহ করছে। এমন ঘটনায় বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই। হরমোনজনিত কারণে এমনটা হয়। তবে এই দুধ স্বাস্থ্যসম্মত বলে জানিয়েছেন তিনি।