১:৫১ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ৬ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ৫, ২০২৬ ৯:০০ পূর্বাহ্ন
চুয়াডাঙ্গায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে, ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি
কৃষি বিভাগ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সব ধরনের সবজির দাম কমেছে । এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে সবজির দাম বেড়ে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। আবার রমজান মাস শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে কমতে থাকে সবজিসহ মসলার দাম।

রমজানের শুরুর দিকেও যেসব সবজির দাম ছিল আকাশছোঁয়া তা এখন ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে। তবে দেশি ও বিদেশী ফলের দাম বেড়েই চলেছে। প্রকার ভেদে বিভিন্ন ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন রমজান উপলক্ষে ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।

বুধবার চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার, নিচের বাজার ও রেলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির দাম কমেছে। রমজানের শুরুতে যেখানে কাগুজে লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা হালি এবং শসা ছিল ১২০ টাকা কেজি। সেখানে বর্তমানে লেবু ৪০ টাকা হালি এবং শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৩০/৩৫ টাকা, রসুন ৫০/৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০/৭৫ টাকা, আদা ১৩০/১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০/৪৫ টাকা, সজনে ডাটা (চিকন) ৩৫০/৪০০ টাকা, বেগুন ৩০/৪০ টাকা, শিম ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আটি, কাঁচাকলা ২০ টাকা, টমেটো ১০/২০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাল গোল আলু ২৫ টাকা, পালং শাক ৫ টাকা, করলা ১০০ টাকা ও আলু ১২/১৩ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু সবজির দাম রমজানের শুরুতে দ্বিগুনের বেশি ছিলো।

অন্যদিকে শহরের বড়বাজার ও রেলবাজার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আপেল ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৪০০ টাকা, কমলা চাইনা ৩৩০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৫০/৬০ টাকা, ৫/৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৪০০/৪৫০ টাকা, কুল ৫০/৬০, পাকা কলা প্রতি হালি ২০/৩০ টাকা ও পেয়ারা ৯০/১০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ফলের দাম রমজানের শুরুতে কিছুটা কমে পাওয়া যেত।

এ বিষয়ে কাঁচামাল আড়ৎদার ডিউক বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া ছিল। কিন্তু এখন বাজারে প্রচুর সবজি আসছে, ফলে দাম আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা এখন পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারছেন। আমরাও স্বাচ্ছন্দের সাথে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি বিক্রি করতে পারছি।

সবজি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। সামনের দিনে সবজির দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। রমজানের শুরুর দিকে অনেকে একবারেই এক মাসের বাজার করায় সবজির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সবজি বাজার করতে আসা শিপন বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে বাজার করেছিলাম তখন প্রতিটা সবজির দাম ছিল বেশি। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। তবে লেবুর দামটা বরাবরই বেশি।

সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রোজাদাররা ফল কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছে। আপেল, আঙুর, কমলা ও মাল্টার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফল বিক্রেতা রিয়াজ জানান, দেশি ফলের পাশাপাশি আমদানিকৃত কমলা, আঙুর ও আপেলের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩, ২০২৬ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
রাঙ্গামাটিতে কৃষকদের মধ্যে হলুদ বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ (১) মৌসুমি হলুদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে হলুদ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন লংদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান, এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী শামসুল আলম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী, মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান (বাবু) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচির আওতায় ৩৫ জন কৃষকের প্রত্যেককে একশ’ কেজি করে ‘বারি’ জাতের হলুদ বীজ এবং ১০ কেজি করে সার প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
পঞ্চগড়ে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা
কৃষি বিভাগ

পঞ্চগড় জেলায় কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় এ মেলার আয়োজন করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন করেন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন।

এসময় ‘দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’র প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান, জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবোধ চন্দ্র রায়, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসাদুন্নবী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অর্জুন চন্দ্র রায় প্রমুখ।

কৃষি প্রযুক্তি মেলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূলসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য দিয়ে স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। এসব স্টলে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন সম্পর্কে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কাছে কৃষকদের পরামর্শ পাবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬ ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

গোপালগঞ্জ, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সরকারি প্রণোদনা ও ভালো দাম পেয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে পেঁয়াজের আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর আবাদ খরচ দ্বিগুণ বাড়লেও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে।

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মাত্র ৮৪২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল। এ বছর সেখানে ১ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে বারি-৪ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন কৃষকরা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত ৩ থেকে ৪ বছর আগেও উপজেলার কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদ করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেনি। কিন্তু পেঁয়াজের বাজার চড়া। এ কারণে তারা অন্যান্য ফসল ছেড়ে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন।

কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর গ্রামের কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গতবছর আমি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি।

একই উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক তুহিন মোল্যা বলেন, এ বছর আমি প্রথম ৪০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছি। ভালো দাম পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করবো।

ধোপড়া গ্রামের সাধন মজুমদার বলেন, পাঁচ বছর আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো ছিল না। আমি পেঁয়াজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল চাষ করেছিলাম। তবে দুই-তিন বছর ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশ চড়া যাচ্ছে। এরপর থেকে আবার পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছি।

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এজাজুল করিম বলেন, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি আগামীতেও পেঁয়াজের আবাদে ঝুঁকবেন কৃষকরা। এসব অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বেলে দোআঁশ মাটিতে উৎপাদন বেশ ভালো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬ ১:৫০ অপরাহ্ন
দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো দুটি হাইব্রিডসহ ছয়টি নতুন ধানের জাত
কৃষি বিভাগ

দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো দুটি হাইব্রিডসহ আরো ছয়টি নতুন ধানের জাত। ৫ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষেণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন এই ছয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সারা দেশজুড়ে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্রি মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ, ১টি লবণাক্ততা সহনশীল, একটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ও ঠান্ডা সহনশীল এবং দুটি লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত রয়েছে। সর্বশেষ-এ ৬টি জাতসহ বিআরআরআই উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৭টিতে।

নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান ১১৫ একটি ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত, যা এন্ডের কালচার পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৪ টন এবং জীবনকাল ১৩৭-১৪২ দিন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সে. মি.। ধান লম্বা ও চিকন। এই ধান কালচে বাদামি রঙের এবং ধানের দানার রং কালো। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ১৭.৮ গ্রাম। এ ধানের অ্যামাইলোজ ২৩ শতাংশ। ধানের দানায় ভিটামিন ই এবং সায়ানিডিন-৩- গ্লুকোসাইডের (সি৩জি) পরিমাণ যথাক্রমে ১৪.৯৮ মিলিগ্রাম/কেজি এবং ২৯.১২ মিলিগ্রাম/কেজি। এছাড়াও ধানের দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে ৫৩৬.৬১ ইউএম এএই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

ব্রি ১১৬ বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল একটি নাবি জাত ধান। ব্রি ১১৬ জাতটি ব্রি ধান ৯২ এর সমসাময়িক একটি দীর্ঘ জীবনকালের জাত। গড় জীবনকাল ১৫৪ দিন। এ জাতের চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং ব্রি ধান ৯২ এর চালের চেয়ে সরু। গাছ শক্ত এবং মজবুত বিধায় এ জাতটি সহজে হেলে পড়ে না। এর ডিগ পাতা খাড়া ও লম্বা বিধায় ধানের শীষ উপর থেকে দেখা যায় না। ধান পাকলেও এর পাতা সবুজ থাকে। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ৯২ এর চেয়ে প্রায় ১৩.৭৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের ধান হেক্টরে গড় ফলন ৮.৫৯ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ১০.৩৬ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এর চাষাবাদ পদ্ধতি ব্রি ধান ৯২ এর অনুরূপ বিধায় এটি বিকল্প হিসেবে আবাদ করা যাবে।

ব্রি ১১৭ বোরো মওসুমের স্বল্প জীবনকালীন লবণাক্ততা সহনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৬ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এর ফলন হেক্টর প্রতি ৯.৯০ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ জাতের দানা মাঝারি মোটা এবং সোনালী বর্ণের। এ জাতের জীবনকাল ১২৯-১৩৫ দিন (গড় জীবনকাল ১২৯ দিন), যা বোরো মওসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান-২৮ এর সমান জীবনকাল। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৪.২ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯.৩ ভাগ। ভাত ঝরঝরে। জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো লবণাক্ততা সহনশীলতা ছাড়াও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী এবং আর্টিফিশিয়াল ইনোকুলেশনে উচ্চ মাত্রার ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী (স্কোর-০-৩) ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

ব্রি ১১৮ জাতটি হাওর অঞ্চলের উপযোগী ঠান্ডা সহনশীল ধানের জাত। এ জাতটি প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহনশীল হওয়ায় হাওরে আকস্মিক বন্যায় আধাপাকা থেকে পাকা পর্যায়ে ধান ডুবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এ জাতটি আগাম বপন (২৫ অক্টোবর-১ নভেম্বর) করলেও ধান চিটা হবেনা এবং কমপক্ষে ৬.০ টন ফলন দিতে সক্ষম, তবে স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ১৫-২০ নভেম্বর বপনে ১৪৫ দিনে ৬.৯-৮.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ ধানের চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা। ভাত ঝরঝরে এবং সাদা। এ ধানের চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৮.৩ ভাগ। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯.১ ভাগ। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে প্রায় ২২.৮৩ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে।

ব্রি হাইব্রিড ধান ৯ লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী এবং মাঝারি মাত্রায় লবণাক্ততা সহনশীল। এটি চারা থেকে পরিপক্ব অবস্থা পর্যন্ত ৪-৮ ডিএস মাত্রায় লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এর দানার আকৃতি মাঝারি ও দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.৬ শতাংশ। এক হাজার দানার ওজন ২৫.৫ গ্রাম ও দানায় প্রোটিনের পরিমাণ ৯.৩ শতাংশ। জীবনকাল ১৪৫-১৪৭ দিন। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফলন ৯.৫-১০.৫ টন। উপকূলীয় অঞ্চলে ফলন ৬.৫-৭ টন।

ব্রি হাইব্রিড ধান ১০ লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী। দানার আকৃতি চিকন ও দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.৫ শতাংশ। এক হাজার দানার ওজন ২৩.৭ গ্রাম ও দানায় প্রোটিনের পরিমাণ ৯.১ শতাংশ। জীবনকাল ১৪৫-১৪৭ দিন। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফলন ৯.৭-১০.৭ টন।

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোসহ ব্রি’র ৩৯টি জাত রয়েছে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বৈরী পরিবেশ সহনশীল। ব্রি উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ফলেই বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়। যেখানে স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে লোকসংখ্যা আড়াই গুণ বেড়েছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের
কৃষি বিভাগ

সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রসিদ্ধ ফলের নাম ‘কুল’। এ জেলার নামকরণে গাণিতিকভাবে যে সাতটি জিনিস প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম ফল কুল। সাতক্ষীরা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের কুল।

সাতক্ষীরার বেলে-দোঁয়াশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। খেতে সুস্বাধু হওয়ায় সাতক্ষীরার কুলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তবে সাতক্ষীরার আমের পাশাপাশি সু-স্বাধু এই কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনেকরে কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এদিকে ঝুঁকে পড়েছেন । ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা কুল চাষের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের চাষ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের।

ভাল ফলন, কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু করে চাষীরা। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় সাতক্ষীরার বেশির ভাগ অনাবাদি জমি এখন সারি সারি কুল গাছে ছেয়ে গেছে। গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি, টক কুলসহ নানা জাতের কুল।

সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তার ভবানীপুর মাঠে ২ বিঘা কুলের বাগানে তিন রকমের কুল রয়েছে। সেগুলো হলো ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল। গত বছরের তুলনায় তার বাগানে ফলন অনেক ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে বিশেষ করে কীটনাশক ও সারের যে পরিমাণে দাম তাতে চাষে খরচ বেশী পড়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, তার ২ বিঘা জমিতে কুল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। তবে, সার কীট নাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভটা কম হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

একই এলাকার কুলচাষী মোরশেদুল আলম জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে চার প্রকারের কুল চাষ করেছেন।

টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল।

তিনি জানান, বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যগুলো ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুল বাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, সারাদিন কুল বাগানে কাজ করে তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা পান।

বাঁশদহা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এবার কুল চাষ হয়েছে। এসব জমিতে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল ও টক কুল চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ থেকে এসব কুল চাষীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটনের উপরে কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতোমধ্যে এসব কুল বাজারে আসা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার নামকরণে যে সাতটি প্রসিদ্ধ জিনিস রয়েছে তার মধ্যে কুল একটি অন্যতম ফল।

সাতক্ষীরার নামের সঙ্গে কুলের যে ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে, সে ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ জেলায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ন
নড়াইলে শীতকালীন সবজির ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির ব্যাপক  উৎপাদনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিদরা।

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, অনুকূল জলবায়ু, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় শীতকালীন সবজির ব্যাপক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সদর, লোহাগড়া এবং কালিয়া উপজেলায় শীতকালীন সবজির চাষ সম্পূর্ণ সফল করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক পর্যাপ্ত কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। শীতকালীন সবজির চাহিদা মেটাতে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের চাষযোগ্য জমিতে সবজি চাষে প্রণোদনা ও সহায়তা প্রদান করছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কম জমিতে বেশি সবজি উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা আশা করছি, এই মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে।

ডিএই অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় জেলার ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমি থেকে ৭৪ হাজার ৭৩ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৮৫ হেক্টর, লোহাগড়া উপজেলায় ৬৯৫ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় ১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।

নড়াইল ডিএইর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার বলেন, জেলার কৃষিজমি সবজি চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় কৃষকরা বেগুন, ফুলকপি, লাউ, শিম, টমেটো, বাঁধাকপি, মূলা, ব্রকলি, শসা, কুমড়া, লাল ও সবুজ শাক, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উৎপাদিত এসব সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তারা সহজেই বেশি নগদ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
মুন্সীগঞ্জে আলু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল আলু। দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জ। বর্তমানে কৃষকরা আবাদি জমিতে আগাছা পরিষ্কার, পানি সেচসহ আলু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সার ও বীজের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকায় কম খরচে প্রান্তিক কৃষক এবার লাভের আশা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। আলুর আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৯ হাজার ৫৮১ হেক্টর, টংগীবাড়ীতে ৯ হাজার ৭০ হেক্টর, শ্রীনগরে ১ হাজার ৯৪৪ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮ হাজার ৯৫৮ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩ হাজার ১০৯ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ১ হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

এদিকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টন। জেলায় গত মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। ফলন হয়েছিল প্রায় ১২ লাখ টন।

সদর উপজেলার আমঘাটার ক…ষক মোঃ আজমীর হোসেন বাসসকে জানান , এ বছর সাড়ে পাঁচ কানি জমিতে আলু চাষ করেছি । আগামী ১৫/২০ দিন জমিতে পানি জমে থাকার মতো বৃষ্টি না হলে ফলন আশানুরুপ হবে। গত বছরের ক্ষতি পুশিয়ে যাবে।এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো রয়েছে। আলু গাছে কোন রোগ বালাই নাই।

সদর উপজেলার কাঠাদিয়া  গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে বীজ ও সারের মূল্য কম থাকায় আবাদের খরচ কম হয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসসকে জানান, আবহাওয়া অনুক’লে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য আলুর আবাদকে লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে সারের মূল্য সাড়ে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। খামারি অ্যাপস এর মাধমে জেলার ২০৬টি ব্লকে আলু চাষে সুষম সার ব্যবহার করে ব্লকভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এ বছর ৬ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে রপ্তানী উপযোগী আলুর আবাদ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
খুলনায় কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)এর ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে এই অঞ্চলের ৭০ হাজার ৫০ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে প্রনোদনার বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে।।

চলতি মৌসুমে রবি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এক বিঘা (৩৩ শতক) জমির বিপরীতে ১১ ধরণের কৃষি ফসলের জন্য প্রতিটি কৃষক প্রণোদনা পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি রবি মৌসুমে ১১ ধরণের বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের সহায়তা করার জন্য বীজ ও সার প্রদানের মাধ্যমে এই প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বোরো ধান, গম, সরিষা, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, পেঁয়াজ, শাকসবজি এবং চার ধরণের ডালের (মুগ, মসুর, খেসারি, অড়হর) জন্য কৃষি-প্রণোদনা বিতরণ করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি সুবিধাভোগী কৃষক এক বিঘা জমিতে ফসল চাষের জন্য বিনামূল্যে এক থেকে ২০ কেজি বিভিন্ন ফসলের বীজ, ১০ থেকে ২০ কেজি অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং পাঁচ থেকে ১০ কেজি মিউরেট অফ পটাশ (এমওপি) সার পাচ্ছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কৃষকরা প্রণোদনা পাচ্ছেন। তারা সরকারের অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে বীজ এবং সার পাচ্ছেন।

প্রতিটি উপজেলায় ইউএনওর নেতৃত্বে তদারকি ও পুনর্বাসন কমিটি সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা এখন রবি শস্য, শাকসবজি উৎপাদনে খুবই ব্যস্ত রয়েছে।অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২২, ২০২৬ ৯:৫২ পূর্বাহ্ন
১২ লাখ মে:টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ। খুলনা কৃষি অঞ্চলের চারটি জেলায় শীত এবং কুয়াশা উপেক্ষা করে বোরো ধানের চাষ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন ধান।

স্থানীয় কৃষকরা এখন জমি এবং বীজতলা প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ মাত্রায় চারা রোপণ শুরু হবে। কৃষি বিভাগের এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে  আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সূত্র জানায়, গত বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭১ মেট্রিক টন। খুলনা বিভাগে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বোরো ধান রোপণ সাধারণত জানুয়ারির প্রথম দিকে শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে থাকে। যা জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এ অঞ্চলে ম্যানুয়াল (হাতে) রোপণ এবং যান্ত্রিক ধান রোপণ যন্ত্র উভয়ই ব্যবহার করা হয়। কিছু এলাকায় যান্ত্রিক ধান রোপণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জানা যায়, খুলনা জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ২৮ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।

একইভাবে বাগেরহাটে ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন।

সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫৫ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে  বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন। নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন।

কৃষকরা আধুনিক, উচ্চ ফলনশীল এবং খরা-সহিষ্ণু জাত যেমন : বোরো ধান, ২৮, ২৯, ৪৮, ৫৮, ৭৪, ৮৪, ৮৯, ৯২ এবং ১০০ ব্যবহার করছেন। একই সাথে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষা করার জন্য সু-রক্ষামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্বল্পমেয়াদি এবং খরা-সহিষ্ণু জাতগুলির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এই জাতগুলি তুলনামূলকভাবে কম সেচের মাধ্যমে ভালো ফলন নিশ্চিত করে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কদমতলা গ্রামের কৃষক শমসের আলী জানান, তিনি এই মৌসুমে ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য ৪০ শতাংশ জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করেছেন।

শীতজনিত জটিলতা থেকে বীজতলা রক্ষা করার জন্য তিনি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং গত সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ করছেন।

তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মৌসুমে ভালো ফলন এবং ন্যায্য বাজার মূল্য তাদের বোরো চাষ তীব্রতর করতে উৎসাহিত করেছে। যা এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য চাষ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী, এক ইঞ্চিও আবাদি জমি পতিত রাখা যাবে না। কৃষকদের সব পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সেচ সংকট নেই এবং সরকারি প্রণোদনা বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বোরো চাষ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছে উচ্চ ফলনশীল জাত সরবরাহ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop