১০:৩৬ অপরাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২১ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
বরিশালের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ফল-সবজির ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বিএআরআই উদ্ভাবিত সবজি ও ফলউৎপাদনের আধুনিক কৌশল শীর্ষক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে (আরএআরএস) এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরএআরএস’র আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিউদ্দিন।

রফিউদ্দিন বলেন, কোনো বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জনই হলো প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। শিখার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য চেষ্টা করতে হবে যত জানা যায়। এমন মানসিকতা থাকলেই প্রশিক্ষণ ফলপ্রসু হবে। আর এ থেকে সংগ্রহীত জ্ঞান মাঠে প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন আশানুরূপ হবে।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ এবং চর এলাকায় উদ্যান ও মাঠফসলের প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবু তাহের মাসুদ। আরএআরএস’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিএসও ড. মো. আলিমুর রহমান।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো.রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান। প্রশিক্ষণে আরএআরএস’র ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনওয়ারুল মোনিম, এসএসও মো. রফিকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, এসও শর্মীলা দাস সেতু, স্মৃতি হাসনা এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাবুগঞ্জ এবং উজিরপুরের ৪০ জন কৃষাণ-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২১ ৭:২৪ অপরাহ্ন
বুদ্ধিজীবী সেই যার মধ্যে দেশপ্রেম রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন,‘আজকে ২০ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, ডা. জাফরুল্লাহ, আসিফ নজরুল বিবৃতি দিয়েছেন মোদীর বিরুদ্ধে হরতাল করা না-কি গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি জানি না তারা কি ধরনের বুদ্ধিজীবী। বুদ্ধিজীবী সেই যার মধ্যে দেশপ্রেম রয়েছে।

রবিবার (২৮ মার্চ) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের’ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলতে চাই রেললাইনে আগুন, এসিল্যান্ডের অফিসে অগ্নিসংযোগ, কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়া কি গণতান্ত্রিক অধিকার? আমার মনে হয় এটা বলতেও তারা দ্বিধা করবেন না। তারা দাবি করবেন ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে, ৩০ লাখ মানুষকে শহীদ করেছে, এটাও তো পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার ছিলো। যারা রেললাইন উপড়ে ফেলে, মানুষকে হত্যা করে, তাদের কি বিচার হওয়া উচিত প্রশ্ন রাখেন কৃষিমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফ্রিডমের (স্বাধীনতার) ৪ টা পিলার রয়েছে। ফ্রিডম ফর ফেয়ার, ফ্রিডম ফর হাঙ্গার, ফ্রিডম ফর স্পিচ। শুধু ফ্রিডম ফর স্পিচ হলে চলবে না। মানুষের যাতে ভয়ভীতি না থাকে, সন্ত্রাস যাতে না থাকে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারে দায়িত্ব হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া, সম্পদের নিরাপত্তা দেয়া। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও জাতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করার স্বার্থে আমাদের পুলিশ, তাদের যে দায়িত্ব ছিলো; তারা সে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি আরো বলেন, বুদ্ধিজীবীদের আমি হুঁশিয়ার করতে চাই; আপনারা বিবেক দ্বারা পরিচালিত হন। রাশিয়ান দার্শনিক খুব সুন্দর কথা বলেছেন, ‘যে সকল বুদ্ধিজীবী জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিরব ভূমিকা পালন করে, জাতির বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে, তাদের আমি দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করতে চাই।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও বলতে চাই, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা জাতির বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ যখন সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছে। আজকে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, আবার ওই পাকিস্তানি ধারায় ফিরে যেতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলার মাটি থেকে তাদের চিরতরে সরিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকালীন রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকবাহিনী, রাজাকার আল-বদররা আমাদের পায়ের নিচে অস্ত্র সমর্পণ করেছে। আজকে আমরা বলছে চাই, তোমরা যত রকমের ষড়যন্ত্র করো না কেনো এই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মূল উৎপাটন করবো; বাংলার মাটি থেকে।

ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না। সুপরিকল্পিতভাবে একটা আন্তর্জাতিক চক্র পাকিস্তানের লেজুড়বৃত্তি যারা করে, পাকিস্তানের উচ্ছিষ্টভোগী, পা-চাটা কুকুর, আজকে যারা স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ আবারও তারা পাকিস্তানের অংশ বানাবে। বাংলাদেশকে ধর্মান্ধ দেশ করবে, ধর্ম ভিত্তিক দেশ করবে, তাদের আমি বলতে চাই এটি কোনো দিনই বাংলাদেশে সম্ভব হবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২১ ৫:৪৮ অপরাহ্ন
আলুর বাম্পার ফলন হলেও হতাশ কৃষকরা!
কৃষি বিভাগ

আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম কম থাকাই ক্ষেতে আলুর হাসি থাকলেও কৃষকের মুখে নেই হাসির রেখা। এতে করে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। আর বীজের তুলনায় আলুর বাজার কম হলে সামনে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সাধারণ কৃষকরা।

জানা যায়, জমি থেকে আলু উত্তোলন করে কোল্ডস্টোরে রেখে দিচ্ছেন অনেক কৃষক। আলুর বীজ ও সারের দাম বেশি দিয়ে আলু রোপণ করতে হয়েছে কৃষকদের। যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তার তুলনায় আলুর দাম তলানিতে হওয়ায় অনেক কৃষকের মাথায় হাত।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ও আলীরটেক ইউনিয়নের কয়েক কয়েকজন কৃষক জানান, আমরা বহু বছর ধরে আলু চাষ করে আসছি। গত ১০ বছরে আলু চাষ করে তেমন দাম পাইনি। গত দুই বছর আলু চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাই। এ বছর লাভের আশায় ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। কিন্তু আলু চাষের সময় আলুর বীজ ও সারের দাম অনেক বেশি ছিল। আর উত্তোলনের পর আলুর বাজার কম হওয়ায় এবার আলু চাষ করে অনেক লোকসান হবে। এভাবে যদি প্রতি বছর আলু করে লোকসান হয় তাহলে সামনে আলু চাষ থেকে বিরত থাকতে হবে।

তারা বলেন, এ বছর আলুর ফলন হলেও আলুর বাজার কম হওয়ায় আলু চাষিদের মাথায় হাত। গত বছর আলু বাজার ভালো হওয়ায় বেশ লাভ হয়েছে। কিন্তু এ বছর আলু চাষ করতে গিয়ে বীজ ও সারের দাম অনেক বেশি হওয়ায় খরচ বেশি পড়ে। খরচের তুলনায় বিক্রি করার সময় দাম না পাইলে হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ৭:৫১ অপরাহ্ন
টিভির খবর পাল্টে দিলো বাতেনের জীবন
কৃষি বিভাগ

২০১৯ সাল। ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম। হঠাৎ খবরে দেখতে পাই বাজার থেকে কেনা তরমুজ খেয়ে এক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওই সময় আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার বাচ্চাকে বাজার থেকে কেনা তরমুজ খাওয়াব না। পরের বছর নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ২০-২৫টি তরমুজের চারা রোপন করি। কিছুদিন পর লক্ষ্য করি পাহাড়ি মাটিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে।

ওই সময়ে ৭০-৮০টি তরমুজ পাই, প্রতিটির ওজন ছিল ১২-১৮ কেজি। তরমুজগুলো খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি, রঙও খুব সুন্দর ছিল। তরমুজগুলো ছিল ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের। পরে চিন্তা করলাম ফলন যেহেতু ভালো হয়েছে তাহলে বাণিজ্যিকভাবে তা চাষ করা সম্ভব। এ বছর বাণিজ্যিকভাবেই তরমুজের আবাদ করেছি। তরমুজের ভালো ফলনে আমার জীবন বদলে গেছে।

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন, শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বাতেন। তিনি পেশায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের গাড়িচালক।

পাহাড়ের এটেল মাটিতে আব্দুল বাতেনের তরমুজ ক্ষেত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিনই আশপাশের উপজেলা থেকে অনেকে এখানে আসেন তরমুজের ক্ষেত দেখতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তরমুজ চাষে আগ্রহও দেখিয়েছেন।

আব্দুল বাতেন জানান, বাড়তি আয়ের আশায় ২০১৩ সালে হলদি গ্রামে নিজের ৭৫০ শতাংশ জমিতে নানা জাতের ফলের মিশ্র বাগান গড়ে তোলেন। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে আম, কাগজি ক্রস লেবু, সিডলেস এলাচি লেবু, মাল্টা, পেঁপে, জাম্বুরা ও কমলা চাষ করেন। বাগান থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এবং সন্তানকে বিষমুক্ত তরমুজ খাওয়ানোর ইচ্ছা থেকেই ১০০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেন।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসের বীজের ডিলারের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের ১০০ গ্রাম তরমুজ বীজ সংগ্রহ করেন। মাল্টা বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ২৪০০ চারা করেন। প্রতিটি গাছে ৭-৮টি করে তরমুজ আসে। বয়স ভেদে একেকটি তরমুজের ওজন হয়েছে ৩-৫ কেজি। পরিপক্ক হলে প্রতিটি তরমুজের ওজন হবে প্রায় ১২-১৮ কেজি।

আব্দুল বাতেন জানান, পোঁকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পুরো তরমুজ বাগানে বসিয়েছেন সেক্সফেরোমন ফাঁদ। ওই বাগান থেকে ১২ হাজার ৫শ’ পিস তরমুজ পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

পাহাড়ি জমিতে তরমুজের ফলন অবাক করেছেন অনেককে। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জীবনে প্রথম শুনলাম
পাহাড়েও তরমুজের ফলন হয়। এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। আব্দুল বাতেনকে দেখে অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন।

পাহাড়ে তরমুজ চাষের সফলতা দেখতে আসা পাশর্^বর্তী শ্রীবরদী উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, পাহাড়ে তরমুজ চাষ তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগামী বছর ২০০ শতাংশ জমিতে তিনি তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান।

ঝিনাইগাতী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি বিভাগে চাকরি জীবনে পাহাড়ে তরমুজ ফলনের ঘটনা এবারই প্রথম দেখলাম। আব্দুল বাতেনকে তরমুজের পরিচর্যায় আমরা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। এরই মধ্যে তার তরমুজ ক্ষেত কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ৬:০৮ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

আবহাওয়া অনুকূলে থাকা আর পরিমিত পরিচর্যার কারণে এবার পেঁয়াজে ভালো ফলন পেয়েছেন ঝিনাইদহের কৃষকেরা। চার মাসের পরিচর্যা শেষে ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে পেঁয়াজ তোলার ধুম পড়েছে। দেখা মিলে পেঁয়াজ নানা ব্যস্ততা কৃষকদের। যার কারণে খুশি সেখানকার কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, তারা অনেকেই হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের চাষ করেছে। ফলনও হয়েছে বেশ। একজন কৃষক জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে প্রায় ৮০ মন করে পাচ্ছে। অন্য একজন কৃষক জানান, যে বিঘা জমিতে গতবার ৬০ মন পেয়েছি এবার সেখানে পাচ্ছি প্রায় ৮০ মন পেঁয়াজ।

কৃষকদের দাবি,এখনও পেঁয়াজের দাম ভালো।কিন্তু কয়দিন পর যদি দাম কমে যায় তাহলে লোকসান হবে। আগামী ৪ টা মাস বিদেশ থেকে যদি পিয়াজ আমদানী না করে সরকার তাহলে লাভবান হবেন কৃষক।”

ঝিনাইদহ জেলার কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান,গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ হাজার ৮’শ ২২ হেক্টর বেশি আবাদ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না থাকায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভালো দাম পেতে পরিপক্ক হওয়ার পর মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে তা কিছুদিন সংরক্ষণ করে বিক্রি করলে কৃষক লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
স্বাধীনতার ৫০ বছরে কৃষিতেও বিপ্লব
কৃষি গবেষনা

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের কৃষিতেও ঘটেছে বিপ্লব। রেকর্ড হয়েছে অল্প জমিতে বেশি পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের। এই সময়ে কৃষিতে সংযুক্ত হয়েছে পরিবেশসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল শস্যের জাত। এক-ফসলি জমিতেও সারা দেশে আবাদ হয়েছে গড়ে দুটি ফসল। এলাকাভেদে এ চাষাবাদ গড়িয়েছে তিন থেকে চার ফসলেও।

কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে জাতিসংঘ। প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনে বিশ্বে এখন তৃতীয় থেকে চতুর্থ অবস্থানে ওঠানামা করছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার আগে বেশি পরিমাণ জমি চাষাবাদে ফসল মিলত কম। এতে তখনকার সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠেরই তিন বেলা দুই মুঠো খাবার জোটানো কষ্টকর হতো। এখন সময় বদলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি হেক্টরে শস্যের গড় উৎপাদনহার যেখানে প্রায় তিন টন, সেখানে বাংলাদেশে তা সোয়া চার টনে উন্নীত হয়েছে। ৫০ বছরে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। গমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ।

১৯৭১ সালে দেশে যেখানে মোট দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ টন, সেখানে ২০২০ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টন। ২০১৯ সালে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে চার লাখ টন খাদ্যশস্য। তবে দেশে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয় ২০১৭ সালে। তখন দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হয় ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬২ হাজার টন।

শুধু দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনেই নয়, কৃষির আরেক উপখাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদেও সমৃদ্ধির স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার জরিপ বলছে, সবজি ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনের ৮৬ শতাংশই হয় এ দেশে।

পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে পাট রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশই প্রথম। ছাগল উৎপাদনেও অবস্থান চতুর্থ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনে পঞ্চম। আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চা উৎপাদনে অবস্থান নবমে। সার্বিক ফল উৎপাদনে রয়েছে দশম অবস্থানে। গবাদিপশু পালনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য বলছে, যে বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে, সে বছর দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর। এসব জমিতে গড়ে ফসল ফলত একটি। ফলে খাদ্য চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি অনুদান ও খাদ্য সহায়তার ওপর দেশকে নির্ভর করতে হতো।

৫০ বছর পর আবাদযোগ্য ৬০ শতাংশ জমি কমে যাওয়া সত্তেও আগের চেয়ে সোয়া দুই গুণ জনসংখ্যার চাপ নিয়েও নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে পুরো খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে বাংলাদেশ।

কৃষির এই বিপ্লবের স্বীকৃতি এসেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে। সংস্থাটির বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে শীর্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী ১১ দেশের কাতারে বাংলাদেশকে গণ্য করা হয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূলত কৃষিতে পাওয়া ঈর্ষণীয় সাফল্যকে পুঁজি করেই বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। একসময়ের দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশ এখন দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে নিরাপদ স্তরে আপৎকালীন মজুদ রেখেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে উদ্বৃত্ত খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য।

আর কৃষি অর্থনীতিবিদরা দাবি করছেন, বর্তমান সরকারের কৃষিতে যুগোপযোগী পরিকল্পনা, উন্নত প্রযুক্তি, বীজ ও সারের ব্যবহার, কৃষিবিজ্ঞানীদের উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন বাংলাদেশের এই অর্জনের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টন খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আপৎকালীন হিসেবে মজুদ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, ‘দেশে প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম ও ভুট্টা। করোনা পরিস্থিতির আগে দেশে চাহিদা মেটানোর পরও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সংগ্রহের মাধ্যমে শুধু সরকারি গুদামেই চালের মজুদ স্তর ছিল ১১ লাখ টনের কাছাকাছি।

‘ধান উৎপাদনে আমরা বিশ্বে চতুর্থ। উৎপাদিত ধান থেকে পাওয়া চাল আমরা রপ্তানি করারও নজির তৈরি করেছি। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে আমরা গম ও ভুট্টা আমদানি করলেও প্রতি বছর এসব খাদ্যশস্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, সংগ্রহ ও মজুদ বাড়ছে এবং আমদানি কমছে। এটা বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে কৃষি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। বীজে নতুন নতুন উদ্ভাবনী জাত সংযুক্ত হয়েছে। চাষাবাদে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে।

‘পারিবারিক পর্যায়ের উৎপাদন বৃত্ত থেকে বেরিয়ে কৃষি এখন বাণিজ্যিকীকরণ খামারে পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রতি মৌসুমেই উৎপাদন উৎকর্ষতার শীর্ষে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কিছুর সুফলই হলো দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।’

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘দেশে আজ দারিদ্র্য দূর করায় যে সফলতা এসেছে, তার নেপথ্যেও ভূমিকা রেখেছে কৃষি খাত। এ কারণে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বেড়েছে। এটি মানুষের উপার্জনে প্রভাব ফেলেছে এবং পারিবারিক খাদ্য সংকট দূর করতে সক্ষম হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের হেক্টরপ্রতি শস্যের গড় উৎপাদন সোয়া চার টনের মতো হলেও আমাদের উপরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গড় উৎপাদন ১০ টনের উপরে। উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আমাদের যেতে হবে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে শুধু খামারভিত্তিক নয়, প্রান্তিক পর্যায়ের চাষাবাদকেও আধুনিকায়নের আওতায় আনতে হবে।

‘গবেষণার ক্ষেত্র আরও বাড়াতে হবে। কৃষকের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কৃষিপণ্যের ন্যায্য দামও নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আরও কম জমিতে আমরা বর্তমানের চেয়েও বেশি পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে সক্ষম হব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আগামীর লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষিজ উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণে উন্নীত করা। এর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে প্রতিকূলতাসহিষ্ণু নতুন নতুন জাত চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে।

‘চরাঞ্চল ও পাহাড়ে চাষাবাদকে টেকসই করা জরুরি। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে ভাসমান সবজি চাষ বাড়াতে হবে।’-নিউজ বাংলা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
কুয়েতের ওয়াফরা অঞ্চলে সবজি চাষে প্রবাসীদের সাফল্য
কৃষি বিভাগ

আরবের উত্তরাঞ্চলীয় পারস্য উপসাগরের প্রান্তে ১৭ হাজার ৮২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ পশ্চিম এশিয়ার কুয়েতের অবস্থান। মধ্যপ্রাচ্যের তেল-সম্পদে সমৃদ্ধশালী দেশ কুয়েত। দেশটিতে প্রায় তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, এদের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার প্রবাসী এদেশের মাজারা বা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কৃষিপ্রধান অপার সম্ভাবনার নিজ দেশ ছেড়ে প্রবাসে এসে শত প্রতিকূলতা নিয়েও সবজি চাষ ও কুয়েতের সবজি চাহিদা মেটাতে কৃষিখাতে এক উজ্জ্বল ও অনবদ্য দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন বাংলার সূর্যসন্তান প্রবাসীরা।

জানা যায়, উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে কৃষিঅঞ্চল বলে খ্যাত দুটি এলাকা, দেশটির এক প্রান্তে ‘ওয়াফরা’ ও অন্য প্রান্তে ‘আব্দালি’ এলাকা। আর এ দুটি এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা কুয়েতের সিংহভাগ সবজির চাহিদা মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কুয়েতের উত্তর সীমান্তের নিকটবর্তী ইরাকের বাসরা এর ৮০ নম্বর রোডের পূর্বদিকে অবস্থিত কৃষি খামারের একটি বৃহৎ অঞ্চল এর নাম আব্দালি। অন্যদিকে, কুয়েতের প্রাক্তন নিউট্রাল জোনের সীমানার মধ্যে দক্ষিণ অঞ্চলের নাম ওয়াফরা। দেশটির আহমদি গভর্নরেটের অংশ এটি। উর্বর মাটির পাশাপাশি গবাদি পশু-পাখির খামারের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত এ অঞ্চলটি। কুয়েত-সৌদি আরব সীমান্তের সমান্তরালে অবস্থিত এ এলাকাটি দেশটির রাজধানী শহর থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে।

ওই এলাকায় বাংলাদেশি কৃষকরা চাষাবাদ করছেন মাসকলাই, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টম্যাটো, ক্যাপসিকাম, বেগুন, লেট্যাসসহ বিভিন্ন সবজি ও আবাদি ফসল। অবশ্য প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে সবজি উৎপাদনের জন্য তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন বলে জানা যায়।

প্রচণ্ড গরমের দেশ কুয়েত, ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রার এ দেশে শীতকালীন সবজি চাষ করে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজি সহজেই চাষ সম্ভব হলেও গরমের সময় বিশেষ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে হয়, ওই এলাকায় কৃষিকর্মে নিয়োজিত বাংলাদেশি শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে লোকবল কম থাকার কারণে সবজি চাষ ও বাজারজাত এর ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদেরকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
আমেরিকার জনপ্রিয় কিনোয়া চাষে সফল বাংলাদেশের কৃষক
কৃষি বিভাগ

প্রথমবারের মতো এবছর উত্তর আমেরিকার ফসল কিনোয়ার চাষ হয়েছে বাংলাদেশে। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ কিনোয়া চাষ করে সাফল্য পেয়েছে লালমনিরহাট জেলার কৃষকরা। এই ফসল ধান চাষের চেয়েও লাভজনক। কিনোয়া কাউনের মতো দেখতে। এটি উচ্চমান সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য ও ক্যালোরি যুক্ত দানাদার খাবার। ভাত, রুটির বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, আমেরিকার, উত্তর আমেরিকা, চীন ও ভারতের মানুষ খায়।

শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কিনোয়া জাতের ফসল নিয়ে গবেষণা করেছে। সেই গবেষণার পর মাঠ পর্যায়ে এবছর প্রথম কিনোয়ার চাষ হয়েছে বাংলাদেশে। সারাদেশে ৫টি পরীক্ষামূলক প্লটে মাঠ পর্যায়ে তৃণমূল কৃষকে দিয়ে কিনোয়া চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই ফসলের চাষ হয়েছে লালমনিরহাটে দুটি, কুড়িগ্রামে একটি ও পটুয়াখালীতে দু’টি প্লটে ।

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিনটি কিনোয়া চাষের প্লটে কিনোয়া চাষ হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে। কিনোয়ার ফলন হয়েছে আশানুরুপ। উৎপাদন কৃষক আশা করছে বাম্পার। এই ফসল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। কিনোয়া ফসরের শস্য দানার রং তিন ধরণের হয়ে থাকে সাদা, লাল ও কালো।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার চিনিপাড়া গ্রামের কৃষক ইসরাইল হোসেন(৫৫) জানান, কিনোয়া ফসল সম্পর্কে তার কোন পূর্বে থারণা ছিলনা। কৃষিবিদ ইকবাল হাসান এই কিনোয়া লাভজনক ফসল হিসেবে চাষের সহায়তা ও পরামর্শ দেয়। ২৫ শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেছি। কিনোয়া চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ২৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৮০-৯০ কেজি কিনোয়া শস্য দানা জাতীয় ফসল উৎপাদন হবে। এই কিনোয়া চাষে কোন রাসায়নিক সারের ব্যবহার করা হয়নি। শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে আশানুরুপ কিনোয়া চাষে সাফল্য পেয়েছি। সরকার বাজারজাত করণে সহায়তা দিলে আগামীতে কয়েক গুন বেশি জমিতে কিনোয়া ফসল চাষ করার আগ্রহ আছে। বিদেশে এই শস্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মাটি বেলে-দোআঁশ যুক্ত মাটি। শীতের সময় আবহাওয়াও কিনোয়া ফসল চাষের উপযোগী থাকে। তাই কিনোয়া চাষে সাফল্যে এসেছে। এখন জনপ্রিয় করা গেলে এই ফসল কৃষিকে বিশ্বে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনৈতিকে মর্যাদার আসনে বসাবে। কৃষি ঘুরে দাঁড়াবে।

কৃষিবিদ ইকবাল হাসান, কিনোয়া চাষ করতে প্রতি শতাংশ জমিতে খরচ হয় আনুমানিক প্রায় ৫-৬ শত টাকা। কিনোয়া ফসল উৎপাদন হয় (শস্যদানা) উৎপাদন হয় প্রায় ৪-৬ কেজি। ব্যক্তিগত ভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠ পর্যায়ে তৃণমূলের তিন জন কৃষককে কিনোয়া চাষে আগ্রহী করে তুলেছি। এই তিনজন কৃষক ছিল কিনোয়া চাষের পাইলট প্রজেক্ট। উৎপাদন খুবেই (ফলাফল) সন্তোষজনক পেয়েছি। কিনোয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ঢাকা শের-ই- বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেনট অব এগ্রোনমি’র প্রফেসর ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস জানান, কিনোয়া হলো হাই প্রোটিন সম্পন্ন খাবার। এটিকে সুপার ফুডও বলা হয়। কিনোয়াতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং লাইসিন সমৃদ্ধ, যা সারা শরীর জুড়ে স্বাস্থ্যকর টিস্যু বৃদ্ধিকে সহায়তা করে। কিনোয়া আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। রান্না করা হলে এর দানাগুলি আকারে চারগুণ হয়ে যায়।

ড. পরিকমল জানান, ৫ বছর গবেষণার পর পাইলটিং করতে মাঠ পর্যায়ে কিনোয়া চাষ তৃণমূলে পর্যায়ের কৃষকদের দ্বারা শুরু করেছি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে কিনোয়া চাষের অনুমোদন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি এই ফসল চাষ শুরু করতে হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঝামাঝি সময় সফল ঘরে তোলা যায়। খাদ্য চাহিদা মেটাতে উৎপাদিত কিনোয়া বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে।

ফসলটির পুষ্টি সমৃদ্ধতার কারণে খ্রিস্টপূর্ব ৫ হাজার বছর পূর্ব থেকেই ল্যাটিন আমেরিকাভূক্ত দেশে দানা, ফ্লেক্স, পাস্তা, রুটি, বিস্কুট, বেভারেজ হিসেবে কিনোয়া ব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালী, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ভারতসহ ৯৫ টিরও অধিক দেশে কিনোয়া চাষাবাদ হচ্ছে। এসব দেশের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উজিরপুরে ভেজাল সার শনাক্তকরণের ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): মাটির নমুনা সংগ্রহ, সুষম সার ব্যবহার ও ভেজাল সার শনাক্তকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা কৃষি সমবায় সমিতির কার্যালয়ে প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন।

তিনি বলেন, ফসলের আশানুরূপ ফলন পেতে জমিতে সার দেয়া দরকার। তবে তা অবশ্যই সুষম হতে হবে। এর চেয়ে আরো গুরুত্ব হচ্ছে সার যেন ভেজাল না হয়। তাই সার ব্যবহারের পূর্বে যাচাই করা জরুরি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসআরডিআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জগলুল পাশা এবং আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এসআরডিআই’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইসরাত জাহান। প্রশিক্ষণে ২৫ জন কৃষক ও সার ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৫, ২০২১ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
বরুড়ায় পরিত্যক্ত জায়গায় শীম চাষে সফল চাষিরা
কৃষি বিভাগ

পরিত্যক্ত স্থানে শিম চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করেছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার চাষিরা।

জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে এ প্রক্রিয়ায় শিম চাষে কৃষকদের পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে শিম চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করেন স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া।

স্থানীয় উওর দিঘলি গ্রামের কৃষক মো. খোকন মিয়া জানান, আমরা সড়কের পাশের জমিতে ধান চাষ করেছি। কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া একদিন এসে জানালেন,সড়কের পাশে যেন শিম চাষ করি। প্রথমে বাড়তি কাজ মনে হলেও তার আহ্বানে শিম লাগাই। সার কীটনাশক ছাড়াই ভালো ফলন পেয়েছি। তিনি বিনামূল্যে আমাদের বীজ দিয়েছেন।

জানা যায়, ইউনিয়নের উত্তর দিঘলি, শালুকি, বৈশখোল, নরিন গ্রামের সড়কের পাশ জুড়ে শিমের মাচা। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলায় গাছের পাতা ধূসর হয়ে গেলেও শিমের ফলনে খুশিতে উজ্জ্বল কৃষকের মুখ। কৃষকরা শিম তোলা ও বাজারজাতে ব্যস্ত।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া জানান, কৃষকদের জন্য ব্যতিক্রম ও সাশ্রয়ী কিছু করার আগ্রহ সব সময়ই থাকে। ব্যক্তিগত অর্থ থেকে শতাধিক কৃষককে ইফসা আগাম জাতের শিমের বীজ ক্রয় করে দেই। বীজের দাম টাকার অংকে খুব বেশি নয়, তবে কৃষকরা নিরাপদ সবজির সাথে বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop