২:০৯ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে ভাসমান ধাপে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য
কৃষি গবেষনা

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার নকড়ীরচর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বর্ণির বাঁওড়ে ১২ ভাসমান ধাপে পেঁয়াজ চাষের জন্য কৃষককে আর্থিক সহায়তা, বীজ ও পরামর্শ দেয় সদর উপজেলা কৃষি অফিস। আর তাতে নানারকম সবজি চাষ শেষে এই সময়ের প্রচুর চাহিদাসম্পন্ন ফসল পেঁয়াজ পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য এসেছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, বর্ষা শেষে নভেম্বর মাসে যখন পানি নামতে শুরু করে তখন কচুরিপানা দিয়ে পেঁয়াজ চাষের ধাপ তৈরি করতে হয় ।

কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ভাসমান ধাপে পেঁয়াজ চাষে দেশে প্রথমবারের মতো এই সফলতা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাসমান ধাপে সবজি ও মসলা চাষে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে এসেছে আধুনিক পদ্ধতি। আগে ভাসমান ধাপ দিয়ে বেড বানিয়ে ওপর লতাবিহীন বিভিন্ন শাক ও সবজি উৎপাদন করা হতো।

বর্তমানে লাউ, কুমড়া, ঢ্যাঁড়স, করলার পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে মসলা জাতীয় ফসল হলুদ ও আদা। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষ।

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাসের পরামর্শে ভাসমান ধাপে প্রথম পরীক্ষামূলক পেঁয়াজ চাষ করা হয়। ভাসমান বেডে সাধারণত পেঁয়াজ ভালো হয় না। কিন্তু গোপালগঞ্জে ভাসমান বেডে পরীক্ষামূলক পেঁয়াজ চাষ সফল হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৫:৩৫ অপরাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ বছর বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি গবেষনা

চলতি মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলায় ২লাখ ৩৮ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা অধিক জমিতে বোরো চাষ করেছেন বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলা হচ্ছে-নড়াইল, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতিে মৗসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ ৪ জেলায় মোট ২লাখ ৩৮ হাজার ২শ’৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০লাখ ৬১হাজার ৪শ’৪৯ মেট্রিক মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে নড়াইল জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭হাজার ৮শ’৭০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৬ হাজার ৬শ’১০ মেট্রিক মেট্রিক টন চাল।খুলনা জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭হাজার ৫শ’৪০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৫৭হাজার ৫শ’৪ মেট্রিক টন চাল। সাতক্ষীরা জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০হাজার হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩লাখ ৫১ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন চাল এবং বাগেরহাট জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২হাজার ৮শ’৮০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৪৬ হাজার ১শ’৩৫ মেট্রিক টন চাল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নড়াইল সদর উপজেলার, লোহাগড়া উপজেলার মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ।কৃষাণ-কৃষাণীরা বোরো ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।আগাম জাতের পাকা বোরো ধান চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কাটা শুরু হবে বলে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা জানিয়েছেন। সবুজ ও আধাপাকা বোরো ধানের শীষে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে তেমনি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার স্বপ্নে বিভোর কৃষাণ-কৃষাণীরা।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় জানান,কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বোরো চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ,পরামর্শ,মাঠ দিবস,উঠান বৈঠক,নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক চাষিদের প্রয়োজনীয় কৃষি লোন প্রদান করেছে।বাজারে সারেরও কোন সংকট নেই। বিভিন্ন জাতের চালের চাহিদা ব্যাপক থাকায় এ অঞ্চলে বোরো চাষ দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি জানান।বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৪:৫৪ অপরাহ্ন
স্ট্রবেরি চাষে সাড়া ফেলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

আমের রাজধানী বলে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আর সেখানেই এবার স্ট্রবেরি চাষে দারুণ সাড়া ফেলেছেন সেখানকার চাষিরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্চের স্ট্রবেরি।

দুলোভপুর গ্রামের স্ট্রবেরি চাষি আবদুল সোহেল জানান, তিন বছর আগে দুই বিঘা নিজের জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। তখন হতেই তিনি লাভবান হচ্ছেন। এবার আরও অন্যের দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে স্ট্রবেরি চাষ করছেন।

তিনি আরো জানান, স্ট্রবেরি চাষে বেশি খরচ হয় সেচ দিতে। এখন পর্যন্ত ২৫-৩০ বার সেচ দিয়েছেন। তাতে মোট খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। সে জমি হতে এবার তিনি সাড়ে চার লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রির আশা করছেন।

কৃষকরা জানান, কয়েক বছর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে। শীতকালীন দেশের ফল হলেও লাভবান হওয়ায় এর প্রতি ঝুঁকছেন এখানকার চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২১ হেক্টোর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। স্ট্রবেরির চাহিদা ব্যাপক থাকায় দিন দিন এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ফলন যেন ভালো হয় এবং কৃষরা যেন আরও উদ্ধুদ্ধ হয়-সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

তিনি আরও বলেন, স্ট্রবেরি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারাবিশ্বে সমাদৃত। দেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাসই (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরির রোপণের উপযুক্ত সময়।

তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। অল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফা হওয়ায় এটি চাষে কৃষকদের আগ্রহ অনেক বেশি বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত
কৃষি বিভাগ

সুনামগঞ্জের ডুংরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন।বৃহস্পতিবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আব্দুল তাহিদ ও রিপন মিয়া।

পুলিশ জানায়, জমিজমা নিয়ে গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে আব্দুল তাহিদের (৬২) সঙ্গে তার ভাই রাফিদ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়ার (৪২) বিরোধ ছিল। বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে চাচা-ভাতিজার পরিবারের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারি শুরু হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন আব্দুল তাহিদ ও রিপন মিয়া। আহত অবস্থায় তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি মুক্তাদীর আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সম্পদ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
ধানে হঠাৎ চিটা হওয়ার কারণ ও সমাধান
কৃষি বিভাগ

বোরো ধান উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব –
মার্চ মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে দিনের বেলার তাপমাত্রা প্রায়শই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেড়ে যাচ্ছে। যা ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে চিটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ধান গাছের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রায় গাছের বাড়-বাড়তি প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশে চাষকৃত জাতসমূহ সাধারনত: ২০-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রায় বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সবচেয়ে ভালো হয়। তাপমাত্রা এর চেয়ে উপরে বা নিচে চলে গেলে ধান গাছের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ব্যহত হয়।
তবে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সাধারনত: প্রজনন পর্যায় যথাঃ শীষ গঠন ও ফুলফোটা/পরাগায়ন এবং দানা ভরাট/গঠন পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয়।
ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও ফুলফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারনত: ফুলফোটা পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর বেশী হলে ঐদিন যে ফুলসমূহ ফুটবে তা চিটা হয়ে যাবে এ কারনে সম্পূর্ন শীষ চিটা হবে না।
আমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ, নাবী বোরো ও আউস ধানে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে চিটা সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এসময়ে চাষকৃত জাতসমূহ রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে ফলে বীজ ও ধানের মান এবং ফলন কমে যায়।
উচ্চ তাপমাত্রার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাবঃ
প্রজনন পর্যায়ে অতি উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) শিষে ধানের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ধানের পরাগায়ন বাধাগ্রস্থ হয় ফলে চিটার সংখ্যা বেশী হয়।
রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা (২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ও ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় ইট-ভাটার আশে-পাশের জমিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবের কারণে ধানের শীষ আগুনে-ঝলসে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা যায় ফলে চিটার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যায় ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও ফলন ব্যাপকহারে কমে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবস্থাপনাঃ
চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রা প্রাকৃতিক বিধায় প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে বোরো ধানের জাত নির্বাচন এবং এদের বপন ও রোপন সময় সমন্বয় করে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
স্বল্প জীবনকালের বোরো ধানের জাত যথা: ব্রি ধান২৮, অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ যথা: ব্রি ধান২৯ ও ব্রি ধান৫৮, কার্তিক মাসের ৩য়-৪র্থ সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
জমিতে সেচ প্রদান করে এবং পানি ধরে রেখে চৈত্র ও বৈশাখ মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে।
ধানের জমির আশে-পাশে ইট-ভাটা স্থাপনের অনুমোদন না দেওয়া অথবা ইট-ভাটার আশে-পাশে ধান চাষ না করা।
উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু ধানের জাত চাষ করতে হবে।
এসময় করণীয়:-
ক)জমিতে পানি ধরে রাখুন।
খ) কাইচ থোর পর্যায়ে পটাশ, জিবি বোরন, মাইটিভিট, জিবি জিংক এবং কেমোজল জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে পারেন।
গ) ১০লিটার পানিতে ৬০গ্রাম পটাশ সার+৬০গ্রাম মাইটিভিট একত্রে মিশিয়ে ৫শতক জমিতে স্প্রে করতে পারেন।
বিস্তারিত পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ইউনিয়ন/ ব্লক পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিন।
তথ্যসূত্র :
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুড়ছে খরায়, বৃষ্টির অপেক্ষায় তরমুজ চাষি
কৃষি বিভাগ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুড়ছে খরায়। দুর্যোগপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষ মধ্যচৈত্রে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে বারবার।কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। আর এই বৃষ্টিহীনতায় খরার বিরূপ প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে তরমুজের উপর।

জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় উৎপাদিত রসালো ফল তরমুজের সুনাম জেলা উপজেলার বাইরে রয়েছে। উপজেলার ধূমঘাট গ্রাম ও কৈখালী ইউনিয়নের উৎপাদিত তরমুজের স্বাদ সবার অজানা নয়। বাজারে ক্রেতাদের মুখে শোনা যায়, ধূমঘাট ও কৈখালীর তরমুজের গুণকীর্তনের কথা। সুস্বাদু রসালো ফল তরমুজ এবার খরায় স্বাদ ও সাইজে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খরার কারণে তরমুজ চাষিরা এবার উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছেন।

তরমুজ চাষি কৈখালী ইউপির আলমগীর হোসেন জানান, ‘তিনি নিজে এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু এ বছর প্রচণ্ড খরার কারণে তরমুজের সাইজ ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং তরমুজ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে নিচের দিকে।’ তরমুজ চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘খরার কারণে তরমুজে ভাইরাস লেগেছে। এর ফলে তরমুজের ভেতরে গাড় লাল রঙ হচ্ছে না এবং মিষ্টি কম হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলী হাসান জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় এক হাজার ২০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে উপজেলার কৈখালী ইউপিতে। এছাড়া ঈশ্বরীপুর ইউপির ধূমঘাট, কাশিমাড়ী, মুন্সীগঞ্জে তরমুজ চাষ হয়ে থাকে। কৈখালী ইউপির বোশখালী, পশ্চিম কৈখালীতে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে এবার।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোদাচ্ছের বিল্লাহ জানান, ‘উপজেলায় গতবার তরমুজ চাষ হয়েছিল মাত্র ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ছিল ৩০ মে. টন। গতবার চাষিরা ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার তিনগুণ জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তরমুজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে।’

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া জানান, ‘অন্যান্য বছর শ্যামনগরে বৃষ্টির কারণে তরমুজের ওজন ছিল ১০ থেকে ১২ কেজি। এবার বৃষ্টির অভাবে তরমুজের ওজন হয়েছে ৪ থেকে ৫ কেজি। বৃষ্টি না হওয়ায় এবার তরমুজ বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, শুকিয়ে যাচ্ছে তরমুজ ক্ষেত। প্রকৃতিনির্ভর বৃষ্টির উপর ভরসা করে উপজেলার শ্যামনগর ইউপি, কৈখালী, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় চাষিরা শত শত বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু শ্যামনগরে ভূগর্ভস্থ পানি না পাওয়ায় চাষিরা নিজস্ব পুকুর বা জলাশয়ের পানির উপর নির্ভর করে তরমুজসহ অন্যান্য ফসল চাষ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সেটিও শেষ হওয়ায় এখন চাষিদের অপেক্ষা এক পশলা বৃষ্টি।’ তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফসল চাষের সুবিধার্থে মিষ্টি পানি সংরক্ষণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পুকুর খননের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ‘বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন, বিশেষ করে, নাইট্রোজেন থাকে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার তরমুজের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ জানা যায়, এই উপজেলায় উচ্চ ফলন জাত ভারতের ভিফটপ, ড্রাগন, পাকিজা, বাংলালিংকসহ অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম জানান, ‘পানি সংকটের কারণে শ্যামনগরে তরমুজের সাইজ ছোট হচ্ছে, বাঁকা হচ্ছে। আবার কোথাও পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।’ তিনি সরেজমিন কৈখালী ইউনিয়নের কয়েকটি তরমুজ চাষির ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তরমুজ ফসলের ক্ষেতে পানি সংকটের অভাব মেটাতে সন্ধ্যার পর পানি স্প্রে করতে চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে এবং মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাকড়নাশক থিওভিট সঠিক মাত্রায় স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাষিদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৭, ২০২১ ৮:৪৪ অপরাহ্ন
কৃষি ও খামার যান্ত্রিকীকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে, কৃষি উন্নয়নে ও খামার যান্ত্রিকীকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে কৃষকের মাঝে ‘কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র’ বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ১০-১৫ বছর আগেও বাংলাদেশের কৃষি ছিল সনাতন পদ্ধতির। চাষাবাদ, মাড়াইসহ সব কাজ মানুষকে শারীরিকভাবে করতে হতো। লাঙলে চাষ হতো। এখন যন্ত্রের মাধ্যমে জমি চাষ ও ফসল মাড়াই হচ্ছে। কিন্তু ধান কাটা ও রোপণ মানুষকে করতে হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি ও সময় সাপেক্ষ। সেজন্য বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে গত ১২ বছর ধরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫০% ও হাওর-উপকূলীয় এলাকায় ৭০% ভর্তুকিতে কৃষকদেরকে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বিপ্লব ঘটবে। বাংলাদেশের কৃষিও পশ্চিমা বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশের কৃষির মতো উন্নত ও আধুনিক হবে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে কৃষিতে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে আধুনিকায়ন ও লাভজনক করা। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিকায়ন ও লাভজনক করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রকল্প হলো তার অনন্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে কৃষি লাভজনক হবে ও গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০ -২১ অর্থবছর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হবে। চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে ৫০০টি উপজেলায় ১৬১৭টি কম্বাইন হারভেস্টার, ৭০১টি রিপার, ১৮৪টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ মোট ৫ হাজার ৭৭৬টি বিভিন্ন ধরণের কৃষিযন্ত্র কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে হাওরে ধান সফলভাবে কাটার জন্য ৫১০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ২৩১টি রিপার বিতরণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন ও কৃষিযন্ত্র বিতরণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো: আশরাফ আলী খান খসরু এমপি। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ড. মো: আবদুর রৌফ, অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো: রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মোঃ মাহবুবুল ইসলাম, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা) মোঃ আব্দুল কাদের এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইড় থেকে যুক্ত হন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মনিরুল আলম ও প্রকল্প পরিচালক বেনজীর আলম। এছাড়া, ১৩টি কৃষি অঞ্চলের ১৩টি উপজেলা থেকে প্রায় ৫ শতাধিক কর্মকর্তা ও কৃষক ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো: আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষিতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলেই কৃষিতে আজকের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর সরকার দ্রুততার সাথে ভর্তুকির মাধ্যমে ধান কাটার যন্ত্র দিয়েছিল, ফলে হাওরের ধান সফলভাবে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সরকার এ বছরও কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ ধান কাটার যন্ত্র বিতরণ করছে। আশা করি, এবারও সফলভাবে ধান ঘরে তোলা যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২১ ৬:৫৬ অপরাহ্ন
উজিরপুরে কৃষকের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষিমন্ত্রীর ভার্চুয়ালী উদ্বোধনের অংশ হিসেবে বরিশালের উজিরপুরে উন্নয়ন সহায়তায় ভর্তুকিমূল্যে কৃষকের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার(৬ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন, উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত, উপজেলা নির্বাহি অফিসার প্রনতি বিশ্বাস, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদ, উজিরপুর পৌরসভার মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান অপূর্ব কুমার বাইন, উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান সীমা রানী শীল, কৃষি প্রকৌশলী মো, মশিউর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রশান্ত হালদার, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে ২ জন কৃষক এবং ১ জন কৃষাণীর হাতে এ অত্যাধুনিক কৃষিযন্ত্রের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, কম্বাইন হারভেস্টারের বাজার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। কৃষকরা ভর্তুকি পেয়েছেন ১৪ লাখ টাকা। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটা এবং মাড়াই করলে শতকরা ৭০-৮০ ভাগ খরচ সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি শ্রম ও সময় অনেক কম লাগে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় উপকূল ও হাওরাঞ্চলের জন্য ৭০% আর অন্যান্য এলাকায় ৫০% ভর্তুকিমূল্যে কৃষকের জন্য উন্নয়ন সহায়তার এ কার্যক্রম চলমান আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২১ ১১:১১ পূর্বাহ্ন
নাটোরে বাড়ন্ত তরমুজ কুপিয়ে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা!
কৃষি বিভাগ

প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বর্গা নেয়া সাত বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছিলেন নাটোরে মাছেম আলী নামের এক চাষি। সেই চাষ করা বাড়ন্ত তরমুজ কুপিয়ে নষ্ট করেছেন কিছু দুর্বৃত্তরা। রোববার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বড়হরিশপুর ইউনিয়নের ভেদরার বিলে এ ঘটনা ঘটে। কৃষকের মাথায় নেমে আসে হতাশার চাপ।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে মাছুম খেতে গিয়ে দেখেন বড় সাইজের প্রায় ২০০ তরমুজ কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে রাখা হয়েছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে কিছু গাছ।

জানা যায়, চাষি মাছেম আলীর খেতের তরমুজগুলোর অধিকাংশই আকারে ছোট। বেশ কিছু তরমুজ পরিপক্ব হওয়ায় সেগুলো বাজারে বিক্রির চিন্তা করছিলেন তিনি। তবে বেশ কিছু দিন ধরে তরমুজগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছিল। তাই তরমুজ রক্ষায় দিনরাত খেত পাহারা দেয়া শুরু করেন মাছেম আলীর ও তার পরিবারের সদস্যরা।

গত শুক্রবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় দুই শিশু তরমুজ চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি তাদের অভিভাবককে জানানো হয়। চুরির ঘটনা অভিভাবকদের জানানোয় দিয়ারভিটা গ্রামের কসাই শহিদ ও আক্কুর নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত গত শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে তরমুজ খেত থেকে ফেরার পথে মাছেম আলী ও তার ছেলে আমির হামজাকে মারপিট করে।

এ বিষয় স্থানীয় ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় মীমাংসার কথা ছিল রোববার সন্ধ্যায়। কিন্তু কসাই শহীদ সালিশে আসবেন না বলে জানান। পরে মাছেম আলী নাটোর সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। ওই রাতে টং ঘরে বসে খেত পাহারা দিচ্ছিল মাছেম এবং তার বড় ছেলে সেলিম। হঠাৎ করে ৮-১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করলে বাবা ও ছেলে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে।

সোমবার বিকেলে ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় অশ্রুসজল চোখে বসে আছেন চাষি মাছেম আলী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। অনেক কষ্ট করে দিনরাত শ্রম দিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি এর বিচার চাই।’

‘জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাঙ্গাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৫, ২০২১ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন করেও বিপাকে চাষি!
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাটের চাষিরা আলু চাষ করে গত বছরের মত প্রচুর মুনাফার আশায় এবারও অধিকাংশ চাষি অন্যান্য ফসল না চাষ করে আলুই চাষ করেছে। তবে এবার ন্যায্য মুল্য আর আলু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আলু চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আলু চাষিরা ভেবেছিল এবারও আলুতে প্রচুর লাভ হবে। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। তাই আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা।

জানা যায়, লালমনিরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলুর উৎপাদন হয়েছে। এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছর এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদিত হয়। এখানকার উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে আলুর চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে স্বল্প সময়ে আলু চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ার ফলে এখানকার চাষীরা ধানের পর প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে আলু চাষেই অধিক মনোযোগী হয়ে পড়ে।

একদশক পূর্বেও এ অঞ্চলে এভাবে আলুর চাষ করতে পারতো না কৃষকেরা। আগাম জাতের আলু চাষ করে অনেক কৃষক লাভবান হওয়ায় বর্তমানে কৃষকেরা আলু চাষে ব্যাপক মনোযোগী হয়েছেন। ইতঃপূর্বে এই এলাকার কৃষকেরা নিয়মনীতি না মেনে সনাতন পদ্ধতিতে আলু চাষ করায় তেমন লাভবান হতে পারেনি।

বর্তমানে সঠিক নিয়মে উন্নত পদ্ধতি প্রয়োগ করে আগাম জাতের ধান চাষের পর আবার ওই জমিতেই আলুর চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। তাই আলু এখন এই এলাকার চাষীদের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে সারের সংকট না থাকায় এবং সরকার সারের দাম কমানোর ফলে কৃষকদের মনে উৎফুল্লতা দেখা দিয়েছে এবং ব্যাপক হারে আলু চাষ হয়েছে।

চাষিরা নিজ নিজ স্বপ্ন পূরণে ব্যাপক হারে আলু চাষের জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। গত বছরেও লালমনিরহাটে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল, এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে।

একজন কৃষক জানান, আলুর ব্যাপক ফলনের কারণে আলুর চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে একজন চাষির প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর সেই আলু বাজারে বিক্রি করতে গেলে দাম হবে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এতে প্রতি বিঘায় ১০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। আর তাই জমিতেই পঁচে যাচ্ছে কৃষকের আলু।

তিনি আরো বলেন , অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই আলুর বাজারদর তেমন ভাবে বাড়তেছে না, যার কারণে কৃষকরা তেমন একটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেনা।

লালমনিরহাট জেলার জন্য আলু একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ফসল। এবছর কৃষকদের আলু চাষে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যায় এবং জেলায় ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়। তবে বাজারে সঠিক মুল্য আর আলু সংরক্ষনের পর্যাপ্ত জায়গায় না থাকায় আলু চাষিরা একটু চিন্তিত বলে জানান লালমনিরহাটে আলু ব্যাপক উৎপাদন সম্পর্কে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কৃষিবিদ মোঃ শামসুজ্জামান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop