৮:৪০ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১২:৪৪ অপরাহ্ন
শখের কবুতরে হচ্ছে আয়, মিটছে প্রোটিন চাহিদা
প্রাণিসম্পদ

মো. বিপ্লব হোসেন। কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোরা গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশেই দোতলা বাড়ি। এলাকায় তাকে বিপ্লব মাস্টার বলেই জানেন। শিক্ষকতা করেন উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সেন্ট নিকোলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি এখানকার শিক্ষার্থীও ছিলেন। আজ থেকে প্রায় ২১ বছর আগে নিতান্তই শখের বসে কবুতর পালন শুরু করেন শিক্ষক বিপ্লব।

তিনি তখন ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বাবা-মায়ের দেওয়া টিফিনের খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে মাত্র চার জোড়া কবুতর কেনেন। সেই কবুতর আস্তে আস্তে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। কিন্তু একদিন রাতে তার শখের কবুতরগুলো বাঘডাসে খেয়ে ফেলে। ভেঙে যায় কিশোর বিপ্লবের স্বপ্ন।

ছাত্র থাকায় অতিরিক্ত কোনো পয়সা ছিল না তার হাতে। তাই হঠাৎ করেই থেমে যায় শখের কবুতর পালন। কিন্তু সহজে থেমে যাওয়ার পাত্র নন বিপ্লব। বেশ কয়েক বছর বন্ধ রেখে ২০১৮ সালে নতুন করে নিজের বাড়ি তৈরির পর ছাদের ওপর ঢেউটিনের ছাউনিতে ৬ জোড়া কবুতর দিয়ে গড়ে তোলেন বর্তমান কবুতর খামারটি। এখন তার শেডে শোভা পাচ্ছে প্রায় ১০০ জোড়া কবুতর। সেই শখের কবুতর পালনে এখন আয় করার পাশাপাশি পরিবারের প্রেটিন চাহিদাও মিটছে বেশ।

শিক্ষক বিপ্লব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়ির ছাদে একটি কাঠ ও ডেউটিন দিয়ে তৈরি কবুতরের ঘর। ভেতরে বসানো হয়েছে প্রায় শতাধিক খোপ। আকারে বড় বিদেশি কবুতরগুলোর জন্য রয়েছে আলাদা লোহার খাচা। নিচে দেওয়া আছে খাবার ও স্বচ্ছ পানি। কবুতরগুলো প্রয়োজন মতো যে যার মতো করে খাবার খাচ্ছে আবার উড়ে গিয়ে বসছে নিজের কামরাতে। সেখানে বসে কেউ ডিম তা দিচ্ছে। কেউ নিজের বাচ্চাকে খাইয়ে দিচ্ছে। আবার কেউ অপরের সাথে হট্টগোলে ব্যস্ত। কেউ বা আবার দল বলে সাঁতার কাটছে।

একটি সাধারণ কবুতর ১২ মাসে ১৩ জোড়া বাচ্চা দিলেও উন্নত জাতের কবুতর সাধারণত বছরে ৩ জোড়ার অধিক বাচ্চা দিতে পারে না। তবে শিক্ষক বিপ্লব তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১ জোড়া উন্নত জাতের কবুুতরের পাশে ৫ জোড়া ফোস্টার কবুতরের সঙ্গে একটি নির্ধারিত সময়ে ডিম পরিবর্তনের মাধ্যমে বছরে কমপক্ষে ৮/১০ জোড়া উন্নত জাতের কবুতরের বাচ্চা উৎপাদন করছেন। কবুতর পালনের শুরুতে শিক্ষক বিপ্লব মাত্র ৩৪ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেও এখন তার শখের কবুতর ফার্মে মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখেরও বেশি টাকা। বর্তমানে ১০০ জোড়া কবুতরের পেছনে মাসে ৬/৭ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি মাসিক নিট মুনাফা পাচ্ছেন কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা। ওই ফার্মের প্রতি জোড়া কবুতরের সর্বনিম্ন মূল্য ২ হাজার টাকা। তবে সেখানে প্রতি জোড়া ৭/৮ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের উন্নত জাতের কবুতরও রয়েছে। কবুতর পালন, খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও বাসস্থানের ব্যাপারে বিপ্লব তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিপ্লব বলেন, কবুতরের বাসস্থান তৈরি করতে হলে বাড়ির ছাদে অথবা কোনো খোলা জায়গায় তাপ নিয়ন্ত্রণ উপযোগী একটি শেড নির্মাণ করতে হবে। সেখানে ছোট কবুতরের জন্য আড়াই ফুট স্কয়ার সাইজের এবং বড় কবুতরের জন্য সাড়ে তিন ফুট স্কয়ার সাইজের লোহার খাঁচায় কবুতর পালন করতে হবে। ওই খাঁচায় নিয়মিত পানি ও খাদ্য সরবরাহ করতে হবে এবং নিয়মিত শেডের ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

কবুতরের খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে সাদা সরিষা, গম, ভুট্টা ভাঙা, কুসুম ফুলের বিচি, মসুর কালাই, খেসারি কালাই, মুগ কালাই, মাস কালাই, রেইঙ্কল ও বুট কালাইসহ ১১টি শস্যের সমপরিমাণ মিশ্রণে সুষম খাদ্য তৈরি করেন। তবে শীতকালে শীতজনিত রোগবালাই থেকে রক্ষার্থে কবুতরের খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে রেইঙ্কল, বুট ও মাস কালাই মিশ্রণ বাদ রাখেন। এ সুষম খাদ্যে কবুতরের স্বাস্থ্য সর্বদাই ভালো থাকে এবং নিয়মিত ডিম দিতে ও বাচ্চা ফোটাতে সহায়ক হয় বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার কবুতর পোষার স্বপ্ন ছিল প্রবল। উড়ন্ত কবুতর দেখতে তার খুব ভালো লাগত। তাই শখের বশে এ খামার গড়ে তুলেন। খামারে প্রায় ১০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। তার খামারে বর্তমানে কবুতরের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি এসব কবুতর সংগ্রহ করেছেন। কখনো বিনিময় পদ্ধতি অর্থাৎ এক জাতের কবুতর দিয়ে অন্য জাতের নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে তার সংগ্রহশালা বাড়িয়েছেন। একজোড়া কিং কবুতরের বর্তমান বাজারমূল্য ৮ হাজার টাকা। আর একজোড়া মুক্ষী কবুতরের দাম ৩ হাজার টাকা। তবে কবুতরের ওড়ার ক্ষমতার ওপর এর দাম নির্ধারণ হয় বলে জানান শখের এ খামারি। তবে তার এই খামার কোনো বাণিজ্যিক খামার নয়। এখান থেকে তিনি কোনো রোজগারের আশাও করেন না। এটা নিতান্তই তার শখের খামার। তার মতে, কেউ চাইলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এমন কবুতরের খামার করতে পারেন। এর মাধ্যমে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার ফার্মের কবুতর খুব একটা অসুস্থ্য হয় না। তারপরও কবুতরের ঠান্ডা লাগা, সর্দি, কাশি, আমাশয় ও কৃমি প্রতিরোধে মানুষের জন্য তৈরি ওষুধের ৮ ভাগের ১ ভাগ প্রয়োগে এবং অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে হাঁস-মুরগির জন্য তৈরি ওষুধের ৪ ভাগের ১ ভাগ প্রয়োগ করে কবুতরের রোগ-বালাই প্রতিরোধে কার্যকর সুফল পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষক বিপ্লব কবুতরের চিকিৎসায় কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতা নিয়ে নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে শখের কবুতর পালন করতে পারছেন।

বিপ্লবের কাছ থেকে কবুতর ও পরামর্শ নিয়ে কবুতর পালন করছেন স্থানীয় তামজিম খান, তাসকিন খান, সজল, সোহেল।  শখের এই কবুতর প্রেমীদের ঘরে ঘরে এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন রঙয়ের কিং, মুক্ষী, বুম্বে, গিরিবাজ, গিয়ারছলী, মুসলদ্যম, গোল্লাসহ প্রায় ১০ জাতের কবুতর।

মাঝেমধ্যে তিনি সব কবুতর খোপ থেকে বের করে উড়িয়ে দেন। ২০০ কবুতর যখন এক সঙ্গে আকাশে ওড়ে, কোনো কোনোটি ডিগবাজি দেয়, তখন তিনি কবুতর পোষার সার্থকতা খুঁজে পান। দৃষ্টিনন্দন এ দৃশ্য দেখে তার প্রাণ ভরে যায়। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টায় উঠে কবুতর পরিচর্যায় হাত দেন, আর একটানা সকাল ৯টা অবধি চলে এ কাজ। এ কাজে স্ত্রী সিলভীয়া হোসেন সুমি এবং সাড়ে তিন বছরের একমাত্র ছেলে মো. সায়াদ হোসেন ছোয়াদ তাকে নানাভাবে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, এ দু’জন না থাকলে একা এমন খামার সামলানো যেত না।

স্ত্রী সিলভীয়া হোসেন সুমি বলেন, খামারের কবুতর বিপ্লব নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। এই খামার তার ধ্যান-জ্ঞান। অবসরের পুরোটা সময় আমার স্বামী এ খামার ও ছাদ বাগানে ব্যয় করেন। ছোটবেলা থেকে বিপ্লব কবুতর পালন করে আসছেন। এজন্য অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে গালমন্দও শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু তার সখের কাজ কখনো বন্ধ করেননি। আজ বাড়িতে কবুতরের খামার করেছেন। সেখান থেকে এখন বেশ পয়সাও রোজগার হচ্ছে। পাশাপাশি শখের সেই কবুতর পালনে পরিবারের পুষ্টি চাহিদাও মিটছে বেশ। বাড়ির সবাই এখন তার কাজে সহযোগিতা করছেন।

খামারের পাশে থরে থরে সাজানো রয়েছে গম, ভুট্টা, ধান, গম ও ভুট্টার ছাল, সরিষা, ডিমের খোসা, ইটের সুরকি, চুনসহ নানা জাতের খাবার। এছাড়া কবুতররা সবুজ শাকসবজি খেতেও ভালোবাসে। এ কারণে বিপ্লব খামারের পাশে ছাদে নানা জাতের গাছপালা ও শাকসবজির চাষ করেছেন। কবুতর ইচ্ছেমতো উড়ে এসব গাছের পাতা খায়। এদের খুব বেশি রোগবালাই না হলেও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন তিনি।

মজার বিষয় তিনি কবুতর বিক্রি করেন না। মাঝে মধ্যে খুব পরিচিত জন কেউ অনুরোধ করলে তাদের তিনি বিনামূল্যে দিয়ে দেন। বাচ্চা বিক্রি করেন। পাশাপাশি পরিবার ও স্বজনদের পুষ্টির চাহিদা মেটান। তবে তিনি স্থানীয় বেকার যুবকদের এই কবুতর পালনের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোচাতে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ তিনি মনে করেন, কবুতর পালন খুব লাভজনক। এতে সময় ও শ্রম দিয়ে যথাযথ পরিচর্চা করলে খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।  চাষিদের মধ্যে বিপণনে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করে এবং সরকারি অথবা বেসরকারি উদ্যোগে চাষিদের মাঝে পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নত জাতের কবুতর পালনে উৎসাহিত করে দেশের হাজার হাজার যুবকের বেকারত্ব দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, সাধারণত রানীক্ষেত ও বসন্ত রোগে কবুতর বেশি আক্রান্ত হয়। তবে এ রোগের টিকা আমাদের প্রাণিসম্পদ অফিসে পর্যাপ্ত রয়েছে। পিজন ম্যালেরিয়া রোগেও কবুতর আক্রান্ত হয়। এই রোগের জন্য মানুষের চিকিৎসায় যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা কবুতরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় হাস-মুরগি বা কবুতর আক্রান্ত হলে প্রাণিসম্পদ অফিসে খামারিরা আসেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী হাস-মুরগি বা কবুতরকে প্রতি ৩/৪ মাস অন্তর অন্তর টিকা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার আগেই যোগাযোগ করতে হয়।

– রাইজিংবিডি.কম

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১২:০৮ অপরাহ্ন
এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামারের দিকে আগ্রহ বাড়ছে খামারিদের
পোলট্রি

যত্রতত্র এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ পোল্ট্রির জন্য অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। তথাপি আমাদের খামারির কিছু অংশ এখনও সেকালের মত এন্টিবায়োটিক নির্ভর খামার গড়ে তোলার দিকেই ঝুঁকছেন। তারা মনে করছেন এন্টিবায়োটিক মানেই হলো খামার আর খামার মানেই হলো এন্টিবায়োটিক।

অথচ এই এন্টিবায়োটিক কেবল মুরগির জন্য ক্ষতিকর না। এটি মানুষের জন্যও মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। মানুষ শরীরের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ধাবিত হচ্ছেন এই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করার মাধ্যমে। এছাড়া খামারীরা অহেতুক এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে।

এতকিছুর পরও আমাদের খামারিরা মনে করছেন এন্টিবায়োটিকহীন খামার করতে বলা মানেই হলো তাদেরকে লসের দিলে ঠেলে দেয়া। অথচ এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে খামার করাতেই যেন ক্ষতি আর লসের অংকটা খুব বেশি এটা মানতে নারাজ তারা।

তবে সুসংবাদ হলো ইতোমধ্যে বর্তমানের অনেক শিক্ষিত এবং দক্ষ আর যোগ্য খামারীরা এখন এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করার দিকে ঝুঁকছেন। আর তারা আশে-পাশে অন্য আট-দশজনের তুলনায় লাভও করছেন বেশ।

এগ্রিভিউ২৪.কম এর একান্ত সাক্ষাৎকারে এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে সফল হওয়া কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার মো. মাসুদ জানান, তিনি ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত খামার করেছেন এন্টিবায়োটিক দিয়ে। আর ২০২০ সালে এসে তিনি এন্টিবায়োটিক মুক্ত খামার করার সাহসি কাজে হাত দেন। আর তাতে তিনি সফলও হয়েছেন। আগে মুরগির খাবারও লাগতো বেশি এবং ওজনও হতো কম। আর মারাও যেতো বেশি। আর এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করার পর থেকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান শুরু হয়। তার খামারে এখন মুরগির মৃত্যুহার একেবারেই কম। হাজারে বিশটার মত মারা যায় সর্বোচ্চ। আর খাদ্যও লাগে কম। আবার ওজনও হয় বেশি। গড়ে ২কেজি করে মাসে ওজন হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঢাকার ডেমরা এলাকার পোল্ট্রি খামারি আব্দুর রাজ্জাক সাইফ একজন পোল্ট্রি খামারী। এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে জানিয়েছেন তার এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে সফলতার কথা। তিনি টানা ৯ বছর ধরে এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করছেন। তিনি খামার শুরুর প্রথম দু‘বছর নিয়ম করে এন্টিবায়োটিক দিয়েই খামার পরিচর্চা করতে থাকেন। আর তাতে তিনি দু‘দিকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একদিকে অর্থ অন্যদিকে খামাররের মুরগীর মৃত্যু বৃদ্ধি। পরে বন্ধুর মাধ্যমে এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করা যায় শুনে ইন্টারন্টে ঘেঁটে জানতে পারেন ইউরোপের দেশগুলো এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে লাভবান হচ্ছে। তারপর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সহায়তায় এন্টিবায়োটিক মুক্ত খামার শুরু করেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার পর থেকে মুরগির গ্রোথ ও মাংস উৎপাদন আগের থেকে অনেক ভালো পেয়েছেন। ৩০ দিনে গড়ে ১.৭ – ২.০ কেজি পর্যন্ত ওজন পাচ্ছেন এখন নিয়মিত। তাছাড়া অহেতুক এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার না করায় এখন প্রতি হাজার মুরগিতে ৫ হাজার টাকার ওষুধ খরচ বেঁচে যাচ্ছে তার।

আরো পড়ুন: নানাকে দেখে খামার শুরু, এন্টিবায়োটিক মুক্ত ব্রয়লার উৎপাদন করছে দশম শ্রেণির ছাত্র

তিনি আরো জানান, প্রতি মাসে ৭০০০ মুরগির জন্য অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হচ্ছে না , যার ফলে আমার উৎপাদন খরচ কমে এসেছে।আমাদের লাভ হচ্ছে, খরচও কমেছে, স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ মাংস ও উৎপাদন করতে পারছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল, ডা. মো. নূরুল আলম বলেন, এন্টিবায়োটিক ছাড়া ব্রয়লার উৎপাদন করা যাবে না এটা ভুল ধারণা। এন্টিবোয়োটিক শুধু সুনির্দিষ্ট কিছু রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। ব্রয়লারের শরীরে কোন রোগ না থাকলে এর অযাচিত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন মাইকোপ্লাজমা রোগ, করাইজা এবং ই কেলাই রোগের সংক্রমণ।

তিনি বলেন, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসক কর্তৃক রোগটি নির্ণয় হওয়া উচিৎ। আমাদের দেশে পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতারা খামারীদের একদিনের বাচ্চা বিক্রির সময় অকারণে এক গাদা এন্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন শুধু ব্যবসার জন্য।এন্টিবায়োটিক অপ্রয়োজন এবং অতিমাত্রায় ব্যবহার করলে ব্রয়লার কিংবা লেয়ারের শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। যার ফলে উৎপাদন ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি ব্রয়লারের ওজন বৃদ্ধি কমে যায়।

আরো পড়ুন: এন্টিবায়োটিক মুক্ত মুরগি উৎপাদনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আব্দুর রাজ্জাক সাইফ

তিনি আরো বলেন, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে মানুষের ক্ষতি হয়ে থাকে। কারণ এই এন্টিবায়োটিক অনেক সময় মুরগির বিষ্টার সাথে পানিতে আর মাটিতে গেলে সেখান থেকে মানুষের দেহেও প্রবেশ করে। তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা মুরগির ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত।

আমাদের দেশের খামারিরা খামার শুরুতে এক গাদা এন্টিবায়োটিক নিয়ে তারপর খামার শুরু করে। যা তার খামার এবং মানুষের পুষ্টির জন্য বড়ই ক্ষতিকর। এই জন্য দরকার অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে খামার পরিচালন করা। যাতে করে লাভবান হয় খামারিরা এবং সুস্থ থাকে মানবজাতি।

আরো জানতে  ক্লিক করুন এখানে(ভিডিও)- ব্রয়লার মুরগি খেলে কি হয়

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
আসন্ন কোরবানি, সুস্থ গরু চিনবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

অনলাইন ডেস্ক : আর কিছুদিন পরেই আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবারিন ঈদ। আর এই কোরবানির ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসবে কোরবানির হাট। কৃত্রিমভাবে নানা ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে গরু। আর কৃত্তিমতার ভিড়ে আপনাকে খুঁজে নিতে হবে সুস্থ গরু। আর সেই সুস্থ গরু চিনার রয়েছে অনেক উপায়।

জেনে নিন সুস্থ গরু চেনার উপায় :
গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি সঙ্গে সঙ্গে জিহ্বা দিয়ে টেনে নেয় তাহলেও বোঝা যায় গরুটি সুস্থ কারণ অসুস্থ পশু খাবার খেতে চায় না। এছাড়া গরুর নাকের ওপরের অংশ যদি ভেজা থাকে তাহলেও মনে করবেন গরু সুস্থ।

মোটাতাজা গরু মানেই একেবারে সুস্থ না আবার চিকনা গরু মানেই অসুস্থ না। বরং মোটা গরুতে চর্বি অনেক বেশি থাকে যা খাওয়ার পর মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাইয়ে অনেক সময় গরু মোটাতাজা করা হয়। তাই এ সব গরু হতে সাবধান। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় কোরবানির পশুকে মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাইয়ে স্বাভাবিকের চাইতে অতিরিক্ত মোটাতাজা করে কোরবানির হাটে নিয়ে আসে।

গরু কিনতে গিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করবেন পছন্দের গরু চটপটে কি না? ভালো গরু দৌড়াতে চাইবে, কান দিয়ে মশা, মাছি তাড়াবে এবং সঙ্গে সঙ্গেই লেজ নাড়াবে। কিন্তু স্টেরয়েড খাওয়ালে গরু নড়াচড়ার বদলে ঝিম মেরে থাকবে।

গরুর পাঁজরের হাড়ে যে তিন কোনা গর্ত থাকে যাকে ফ্লায়েন্ট জয়েন্ট বলে তাতে কোনা রয়েছে কিনা সেটি খেয়াল রাখতে হবে। যেসব গরুকে স্টেরয়েড জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয় সেগুলোর পাঁজরের স্থান ফোলা থাকে এবং সেখানেও মাংস থাকে।
সুস্থ গরু চিনতে হলে পাঁজরের হাড়েও খেয়াল করতে হবে। সুস্থ গরুর পাঁজরের হাড়ে উঁচু নিচু থাকে এবং চোখে নড়াচড়া করবে।

গরুর কুঁজ মোটা ও টানটান থাকলে বুঝতে হবে গরুটি সুস্থ। শিং ভাঙা, লেজ কাটা, জিহ্বা, ক্ষুর, মুখ, গোড়ালি খত আছে কি না তা ভালো করে দেখে নিতে হবে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী
প্রাণিসম্পদ

ভারতের হিঙ্গলগঞ্জে সীমান্ত রক্ষীর (বিএসএফএ) গুলিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্তে আবদুর রাজ্জাক (১৯) নামের এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বিএসএফের কাছেই তার মরদেহ রয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৭ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াসিন আলম চৌধুরী জানান, এ সম্পর্কে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। ঘটনা সত্য কি-না, জানার চেষ্টা চলছে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। নিহত যুবকের নাম-পরিচয়ও জানেন তিনি। ওই যুবকের নাম আবদুর রাজ্জাক । তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামের রমজান আলী গাজির ছেলে।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, রাজ্জাক একজন গরু ব্যবসায়ী। গরু কিনতে তিনি অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। সোমবার ভোররাতে বিএসএফের হিঙ্গলগঞ্জ ক্যাম্প সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘোষপাড়া গ্রামে নিহত হন তিনি। বিএসএফ পরে মরদেহটি তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। ফেসবুকের মাধ্যমে রাজ্জাকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেক।

মরদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য রাজ্জাকের পরিবারের লোকজন বিজিবির বসন্তপুর ক্যাম্পে যোগাযোগ করেছেন। তারা বিজিবির মাধ্যমে মরদেহটি ফেরত আনার চেষ্টা করছেন।

বিজিবির বসন্তপুর ক্যাম্পের হাবিলদার মো. খলিল জানিয়েছেন, রাজ্জাকের পরিবারের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমরা বিএসএফের কাছ থেকে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে সেখানে তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২১ ৯:৪০ অপরাহ্ন
মাঠের গরু ছাদে, নামছে ক্রেনে!
প্রাণিসম্পদ

মাঠের গরু ছাদে! শুনতে অবাক লাগলেও এমনি ঘটনা বহুদিনের পুরানো পাকিস্তানের করাচিতে। আর ঈদুল আজহার আগ-মুহুর্তে ছাদ থেকে পশুগুলো নামাতে ব্যবহার করা হয় ক্রেন।

কোরবানির পশু হিসেবে পাকিস্তানিদের প্রথম পছন্দ ছাগল এবং দুম্বা। তবে, সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে গরুর চাহিদাও। গেলো বছর ঈদুল আজহায় দেশটিতে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি করা হয়। তবে, ধারণা করা হচ্ছে করোনা মহামারি চলাকালে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে।

জানা যায়, জায়গা সংকটে করাচিতে পুরোদস্তুর খামার বানানো বেশ ব্যয়বহুল। দেড় দশক আগে শহরটিতে শুরু হয় ছাদে গবাদিপশু পালন। বর্তমানে যার কলেবর বেড়েছে বহুগুণ। বিশালাকার গরুগুলো সঠিকভাবে নামাতে রয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রেনচালকও।

করাচির এক বাড়ির ছাদে গবাদিপশু পালন করা সৈয়দ এজাজ হাসান জানান, বাছুরগুলোকে সিড়ি দিয়ে হাটিয়েই ভবনের ছাদে তুলেছিলাম। ঈদের আগ পর্যন্ত আমি এবং পরিবারের সদস্যরা পশুগুলোর যত্ন নেই। তাই, কোরবানির সময় মোটাতাজা গরুদের ক্রেন ছাড়া নামানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কোরাবনির আগে ক্রেনে করে গরু নামানোর এমন দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায় বাচ্চারা। তাদের কাছে ছাদ থেকে ক্রেনের মাধ্যমে গরু নামানোর ঘটনা বেশ বিরল আর বিস্ময়কর। এতে, ছোট শিশুরা সবচেয়ে বেশি অবাক হয়।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২১ ৩:৩৩ অপরাহ্ন
ডাকাতি হওয়া ট্রাকসহ ১১গরু উদ্ধার মানিকগঞ্জে
প্রাণিসম্পদ

সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ট্রাকসহ ডাকাতি হওয়া  ১১ টি গরু উদ্ধার করেছে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আব্দুল আহাদ (২৫) নামে এক ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। আটক আহাদ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার নিমতলা গ্রামের রহমত শেখের ছেলে।

রোববার রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ বিজয় মেলার মাঠ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ট্রাকসহ ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি আকবর আলী খান জানান, রোববার রাতে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে একদল ডাকাত ট্রাকসহ ১১টি গরু ডাকাতি করে। এসময় তারা গরুবাহী ট্রাকের চালক মনির হোসেনকে সিংগাইরের কোনো স্থানে মারপিট করে ফেলে দেয়। এসময় আহত ট্রাকের চালক বিষয়টি সিংগাইর থানা পুলিশকে অবহিত করে।

তিনি আরও বলেন, পরে সিংগাইর থানা পুলিশ অন্যান্য থানায় বিষয়টি জানায়। তাদের বার্তা পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ বিজয় মেলা মাঠ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ডাকাত দলের সদস্য আহাদকে আটক করে।

এসময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে ওই ট্রাকে থাকা আরও কয়েকজন ডাকাত সদস্য পালিয়ে যায়। জব্দকৃত গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ টাকা। জব্দ গরু ও ট্রাক সাভার থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২১ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
হিজলায় দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল গরু-ছাগল!
প্রাণিসম্পদ

বরিশালের হিজলায় দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে রাফিজুল খান নামে এক খামারির ৬ টি গরু-ছাগল ঝলসে গেছে। আগুন নিভাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয় রাফিজুল ও তার স্ত্রী।

শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর আবুপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি রাফিজুল খান জানান, তারা স্বামী স্ত্রী ও ৩ ছেলে-মেয়ে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। গোয়াল ঘরটি তাদের শয়ন ঘরের পিছনে ছিল। ভোর রাতের দিকে ঘরের উপর দিয়ে আগুনের ঝলকানিতে স্ত্রী মালেকার ঘুম ভেঙে যায়।

বের হয়ে গোয়াল ঘরে আগুন দেখে ডাক চিৎকার দেয় তারা। আগুন নিভাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয় রাফিজুল ও তার স্ত্রী।

মালেকা বেগম জানান, গোয়াল ঘরে কোন বিদ্যুতের সংযোগ নেই। মশার কয়েলও জ্বালানো হয় নি। কিভাবে আগুন লাগলো সেই প্রশ্ন তাদের! কেউ শত্রুতা করে আগুন দিতে পারে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হিজলার হরিনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিম।

হিজলা থানা ওসি অসিম কুমার সিকদার জানান, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ‍জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২১ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইনই ভরসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১২ হাজার খামারির
প্রাণিসম্পদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছোট, বড়, মাঝারি সাড়ে ১২ হাজার খামারি এক লাখ ২৪ হাজার ৭২৭টি গরু প্রস্তুত করেছে এবারের কোরবানির জন্য। তবে, এজেলায় চলতি বছর এক লাখ সাত হাজার গরু কোরবানি হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউাউনের কারণে এএখন পর্যন্ত হাট বসার অনুমতি পাননি খামারীরা। তাই বাধ্য হয়ে অনলাইরেনই ভরসা তাদের আর জমেও উঠেছে বেশ।

তবে জানা যায়, একাধিক সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা গরু নিয়ে চিন্তায় আছে দেশীয় খামাারিরা। এখনো জেলার একাধিক বাজারে ভারতীয় গরুর আধিক্য থাকায় তাঁরা আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন বলে অনেক খামারি শঙ্কার মধ্যে আছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম বড় খামার পৌরসভার আমীনপুর এলাকার নিউ প্রিন্স ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. নাসির উদ্দিন জানান, বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত গরু সরবরাহের লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। তাঁর খামারে শাহিওয়াল, ফাইটার, নেপালি ঘির, রাজস্থানি, ওয়েস্টার্ন ফ্রিজিয়ান, উরবারি ষাঁড় জাতের গরু রয়েছে। সব মিলিয়ে গরুর সংখ্যা প্রায় আড়াই শ। এসবের দাম দেড় লাখ থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত।

অনলাইনে গরু বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেড সেন্টার’ নামের একটি পেজে। দিন যাচ্ছে, সেখানে বিক্রিও বাড়ছে। এখানে প্রতিদিন ৬০-৭০টি গরু বিক্রির পোস্ট আসে বলে জানিয়েছেন পেজসংশ্লিষ্ট বিবর্ধন রায় ইমন।

রাফান অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে অনলাইনের মাধ্যমে তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট মো. রাকিব।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ বি এম সাইফুজ্জামান জানান, এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোরবানির মাংসের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত থাকবে। সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় গরুর প্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবিকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২১ ৯:০৭ পূর্বাহ্ন
চাঁদপুরে আরও ৩ গরু চোর আটক
প্রাণিসম্পদ

গত কয়েকদিন ধরে গরুচোরে উত্তাপ বেড়েই চলছে।দেশের সর্বত্র এই চোর চক্রের সদস্য আটক হচ্ছে।আবারও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গরু চোর চক্রের আরও ৩ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের সেন্দ্রা ও বেলঁচো এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপ পরিদর্শক মো. আবদুল আলিম ও মো. গোলাম ছামদানীসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

আটককৃতরা হলো- গন্ধব্যপুর ইউনিয়নের পাচৈই চৌকিদার বাড়ির আবদুল আউয়াল(৩০), হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দোয়ালিয়া গ্রামের মিঠু (৩০), একই গ্রামের হুতার বাড়ির মীর হোসেন(৪৮)।

সম্প্রতি আন্ত:জেলা গরু চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গরু চুরির সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। এনিয়ে কয়েকদিনে মোট ৭ গরু চোরকে পুলিশ আটক করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ জানান, চোরাই গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। সেই সাথে গরু চোর চক্রের হোতাদের আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে। আদালতে আটক গরু চোরদের প্রত্যেকের ৭দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। লকডাউন শেষে আদালতের আদেশ আসবে। বর্তমানে গরু চোর ৩ জন চাঁদপুর কারাগারে রয়েছে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১১, ২০২১ ১০:৪৫ অপরাহ্ন
চাহিদার তুলনায় বেশি গরু রয়েছে কুমিল্লায়, বিক্রি নিয়ে চিন্তায় খামারী!
প্রাণিসম্পদ

একদিকে আসন্ন কোরবানির ঈদ অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। লকডাউনে কোরবানির হাট নিয়ে চিন্তিত খামারীরা।কোরবানির ঈদে কুমিল্লায় ২ লাখ ৩৭ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে মজুদ রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৫টি পশু। এবার চাহিদার তুলনায় ১ হাজার ৩৪৫টি পশু বেশি রয়েছে কুমিল্লায়।

গতবছরের লস কাটিয়ে উঠতে গিয়ে অধিক শ্রমে লালিত গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারছেন না খামারীরা। আর বিক্রি করলেও চাহিদার চেয়েও কয়েকগুণ কমে ছাড়তে হচ্ছে গরু। তাই সারা দেশের মতো কুমিল্লার ৩০ হাজারের বেশি খামারিদের মধ্যে রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তা।

জানা যায়, কুমিল্লার ১৭টি উপজেলাতে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক খামারী রয়েছেন। যারা কোরবানি কেন্দ্রিক নিয়েছেন প্রস্তুতি।কোরবানির ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা এসব গবাদিপশু শেষ পর্যন্ত হাটে ওঠানো ও বিক্রি করা যাকে কি-না, এ নিয়ে খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মতো এবারও অনলাইনে গবাদিপশু বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকে এরই মধ্যে অনলাইনে কোরবানির জন্য পশু কিনতে শুরু করেছেন। তবে জেলার বেশিরভাগ খামারি এখনো অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেননি এবং পারদর্শী নন। যার কারণে খামারে লালন-পালন করা গবাদিপশু বিক্রি করতে পারা নিয়ে প্রতিনিয়ত শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন খামারিরা।

রামিশা ক্যাটেল ফার্মের পরিচালক সবুর আহমেদ জানান, আমাদের খামারে থাকা ৩০টি গরুর মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এখনো কোন গরু বিক্রি হয়নি। গরু বিক্রি করা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তার মধ্যে আছি। আমরা অপেক্ষায় আছি কবে হাট বসবে। কারণ হাট না বসলে আমরা গরুগুলোর সঠিক দাম পাবো না। সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে আমাদের দিন কাটছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের মতো এবারও অনলাইনে গবাদিপশু বেচাকেনার সুযোগ রয়েছে। করোনার সংক্রমণ এড়াতে আমরা সকলকে অনলাইনে গবাদিপশু বেচাকেনা করতে উদ্বুদ্ধ করছি। এছাড়া আমরা খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এরপরও জেলার ৩৯১টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে। আগামী ১৪ জুলাইয়ের পর লকডাউন যদি শিথিল হয়, তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব হাট বসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবারের কোরবানির ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে জেলার ১৭টি উপজেলা ও একটি সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে মোট ৩০ হাজার ১৮৮টি খামারে গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে। এবারের কোরবানির ঈদে জেলায় ২ লাখ ৩৭ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে মজুদ রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৫টি পশু। এবার চাহিদার তুলনায় ১ হাজার ৩৪৫টি পশু বেশি রয়েছে কুমিল্লায়।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop