৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১ ৫:৫১ অপরাহ্ন
অঞ্চলভিত্তিক কৃষি বহুমূখীকরণ ও লাভজনক করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক অঞ্চলভিত্তিক কৃষি বহুমূখীকরণ ও কৃষিকে আরো লাভজনক করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং পুষ্টির যোগান দিতে সমন্বিত চাষ বাড়াতে কর্মকর্তাদের আরো আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের কাছে যেতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী চট্টগ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলে আয়োজিত চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেন। সভায় জেলাসমুহের আঞ্চলিক কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ জেলার কৃষির বর্তমান অবস্থা সমস্যা সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরেন।

তারা বলেন, দেশের প্রায় এক দশমাংশ এলাকা পাহাড়ে অবস্থিত। এসব পাহাড়ে প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির পাশাপাশি অপ্রচলিত ফলের চাষাবাদ খুবই লাভজনক হবে। বিশেষ করে কাজুবাদাম, কফি ও ড্রাগন ফল উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে পাহাড়ী এলাকাগুলোতে। কাজুবাদাম ও কফির বাণিজ্যিক উৎপাদন করতে পারলে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানীও করা যাবে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে ৭২৫ কিঃমিঃ খালকাটা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও বহুমাত্রিক করতে ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের নিকট পৌঁছাতে হবে। প্রকল্পের সাথে কৃষকের যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়। তাও ‍নিরসনের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কৃষি শুধু মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়না, শিল্পের কাঁচামালেরও অন্যতম উৎস কৃষি। তাই কৃষিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করোনা মহামারি মোকাবেলায় কৃষি অন্যতম সহায়ক খাত হিসেবে কাজ করেছে বলে এসময় তিনি উল্লেখ করেন।

অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে মন্ত্রী বলেন, যে অঞ্চলে যে ফসল ভাল হয় তার ওপর জোর দিতে হবে। কৃষকের আয় বাড়াতে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ,সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বাড়াতে হবে। শুধু অফিসে বসে না থেকে কর্মকর্তাদের কৃষকের জমিতে যেতে হবে। তাদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট ফসলের ভবিষ্যত চাহিদা বোঝাতে হবে। তবেই কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে কৃষি সম্প্রারণ উইং এর সরেজমিন পরিচালক একেএম মনিরুল আলম, হর্টিকালচার উইং এর পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পবন কুমার চাকমা বক্তৃতা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ন
ফেনীতে তরমুজ চাষের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে ফেনীর সোনাগাজীর উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের। গত মৌসুমে সোনাগাজী উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৭ হেক্টরে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ফেনীর জমিতে পূর্বে কখনো তরমুজ চাষ না হলেও ২০১৭ সালে নোয়াখালী এলাকা থেকে আগত এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নে তরমুজ চাষ করেন। ওই বছরে তার লাভজনক সফলতা দেখে ২০১৯ সালে ৮ থেকে ১০জন কৃষক তাদের জমিতে রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ করে লাভবান হন।

উৎপাদনে সম্ভবনা ও ভালো দাম পেয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে অনেক কৃষক ২০২০ সালে সোনাগাজীর সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় এসে ১০৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেন। কম সময়ে বেশি লাভ পাওয়ায় এবার উপজেলার চরছান্দিয়া, চরদরবেশ ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে ৩১৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে সোনাগাজীতে ১৬০ হেক্টর জমিতে ভিক্টর সুগার জাত, ১২২ হেক্টর জমিতে ওশেন সুগার ব্ল্যাক বেরি, ৩৫ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সমুদ্রের উপকূলে জেগে ওঠা সোনাগাজীর চরগুলো বছরের পর বছর অনাবাদী পড়ে থাকতো। বছরের কিছু সময় এসব অনাবাদী জমিকে মহিষের চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বেশিরভাগ সময়ই খালি থাকতো।

এখন ওইসব অনাবাদি জমিতেই চলছে তরমুজ চাষ। সোনাগাজীতে তরমুজ চাষিদের বেশিরভাগ কৃষক নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে এসেছেন। স্বল্প সময়ের জন্য চরাঞ্চলে আসা এ কৃষকরা খেতেই তাবু লাগিয়ে অস্থায়ী বসতি তৈরি করেন। খেত থেকে তরমুজ তোলা শেষ হলে তারা আবার নিজ এলাকায় ফিরে যান। ভালো লাভ দেখে স্থানীয় কৃষকরাও এবার নিজের জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন।

ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী জানান, সোনাগাজীতে তরমুজ চাষে খুব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ উপজেলায় বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩ গুণ তরমুজ চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চাষিদেরকে তরমুজ চাষে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, সোনাগাজীতে প্রতি বিঘায় তরমুজ চাষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। তিন মাস পর প্রতি বিঘায় তরমুজ বিক্রি হয় অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়।

তরমুজ চাষে কম সময়ে ভালো ফলন ও লাভবান হওয়া যায়। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে জমিতে প্রতি তিন ফুট দূরত্বে তরমুজ চারা রোপণ করতে হয়। তরমুজ চাষে তেমন কোনো পরিশ্রম নেই। সামান্য পরিচর্যায় ৩ মাসের মধ্যেই তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
চিংড়িঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষে সফলতা
কৃষি বিভাগ

আশির দশক থেকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় পানি ও মাটিতে লবণাক্ততার তীব্রতার কারণে ধানের উৎপাদন কমতে থাকে। আর তাই জমির মালিকরা ঝুঁকে পড়েন চিংড়ি, বিশেষ করে, বাগদা চাষে। শুরুতে চিংড়ি চাষে লাভবান হলেও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে চিংড়ির উৎপাদন।

এখন চিংড়িঘেরগুলোতে মাছ নেই, নেই ধানের উৎপাদনও। তাই এ অবস্থায় বিকল্প পেশা ও কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজতে চিংড়ি ঘেরের ভেড়ি ও পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষে আশার আলো দেখছেন অনেকে। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছেন চাষিরা। জমিতে ধানও নেই, মাছও নেই– তাই বিকল্প কর্মসংস্থান এবং পেশায় আগ্রহ তাদের।

এদিকে সবজি চাষের এ বিকল্প পেশায় ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে অনেকের। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াসহ ফিরেছে সচ্ছলতাও।

উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের কৃষক মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ঘেরের ভেড়িতে মাচা করে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করছেন তিনি। পানির ওপর মাচা করে তাতে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, করলা ও শিম এবং ভেড়িতে ঢেঁড়স, কলা ও পেঁপে চাষ করেন এই কৃষক।

নিজের জমিজমা না থাকলেও অন্যের চিংড়িঘেরের পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ করেন মোংলার কাইলকাবাড়ি গ্রামের কৃষক রজব আলী। বিভিন্ন প্রকারের সবজি আবাদে এ বছর ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করে ছিলেন তিনি। শুধু লাউ বিক্রি করে এ পর্যন্ত লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে তার। আর যে পরিমাণ সবজি চাষ হয়েছে তাতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক ঘের ব্যবসায়ী এখন মাছের পাশাপাশি সবজি চাষে ঝুঁকছেন।

তবে এসব কৃষকের অভিযোগ, মৌসুমি এ সবজি চাষে কৃষি বিভাগের নজরদারি ও সহযোগিতা নেই।

জানতে চাইলে, উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ বালা কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মাছের ঘেরে মাচা করে সবজি চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এ ক্ষেত্রে কৃষকদের নানারকম পরামর্শসহ উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’ এ বছর ২শ’ হেক্টর জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ হয়েছে। এ খাতে কৃষকদের কীভাবে সরকারি সহায়তা দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ ১১:০৩ অপরাহ্ন
পরাগায়নের মাধ্যমে মেহেরপুরে বাড়ছে সবজি উৎপাদন
কৃষি বিভাগ

উন্নত ও অধিক ফলন উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যান্য বীজ উৎপাদন খামারের মতো মেহেরপুরের আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে বিভিন্ন ফলনগাছে পরাগায়ন করা হচ্ছে। জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজির জমিতে শতভাগ ফুলে ফল ধরাতে কৃষকরাও পরাগায়ন করছে। এতে একদিকে যেমন জমিতে শতকরা ৯৯ ভাগ ফুলে ফল ধরাতে দেশের মানুষের চাহিদা মিটছে। পরাগায়নে সুফল পাওয়াতে কৃষকরা পরাগায়ন করছে। অপরদিকে মানুষের কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

ফসলী জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগে বর্তমানে কীটপতঙ্গ, উপকারী পাখি হারিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা কৃত্রিম উপায়ে পরাগমিলনের কাজটি করছে। কেউ কেউ বাক্সবন্দি মৌমাছি কিনে এনে তাদের জমিতে মৌমাছি পালন করছে পরাগমিলনের জন্য। চাষাবাদের জমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারে দিনে দিনে কমে গেছে মৌমাছিসহ পতঙ্গরা। গ্রামে গ্রামে ব্যাপকহারে কীটপতঙ্গের অভাব দেখা দিয়েছে।

ফলে চাষীরা ফসল উৎপাদনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছিল। বেশী ফসল উৎপাদনের জন্য চাষীরা কৃত্রিম উপায়ে ফুলে ফুলে পরাগমিলন ঘটাচ্ছে। একটি পুরুষ ফুলের পুংকেশর দিয়ে ৬ থেকে ৭টি স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ড পরাগায়ন করা যায়। পরাগায়ন করলে শতকরা ৯৯টি স্ত্রী ফুলে ফল ধরবে।

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের চাষীরা এখন ভোর হতেই সবজি ক্ষেতে গিয়ে পুরুষ ফুল নিয়ে স্ত্রী ফুলের সঙ্গে স্পর্শ করাচ্ছেন পরাগমিলন ঘটানোর জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অবাধে কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ না হলে ছোট ছোট পতঙ্গ বিলুপ্তি হবে দূর ভবিষ্যতে। তখন ফসল উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে।

চাষীদের অভিমত কৃষিজমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ও সার প্রয়োগের ফলে দ্রুতহারে কীট পতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে এতকাল ধরে প্রাকৃতিক নিয়মে যে কাজ হত এখন চাষীরা কৃত্রিমভাবেই সেই কাজ করছেন। এরফলে ফসলের উৎপাদনও অনেকাংশে বাড়ছে।

সরেজমিনে আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে দেখা যায় সকাল বিকেল পরাগায়ন করা হচ্ছে। ফার্মের ডিএডি নিমাই কুমার প্রামানিক জানান- উন্নত ফলনশীল বীজ উৎপাদনের জন্য পরাগায়নের মাধ্যমে হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে পরাগায়ন করছেন। বর্তমানে টমোটো, বেগুন,শিম , লাউ ইত্যাদি সবজিগাছে পরাগায়ন ঘটানো হচ্ছে। তিনি জানান ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে খাদ্যচাহিদা বেড়েছে। খাদ্যচাহিদা মোকাবেলা করতে পরাগায়নের বিকল্প নাই। পরাগায়নে ফলনবৃদ্ধির সাথে নতুনজাত তৈরী করা যাচ্ছে।

সাহারবাটি গ্রামের চাষী আনিসুর রহমান জানান- গতবছর একবিঘা জমিতে কাকরোল চাষ করেছিলেন। প্রতিদিন ভোরে উঠে তিনি সবজি ক্ষেতে গিয়ে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে প্রতিটি স্ত্রী ফুলের স্পর্শ করাতেন। এবছর একই জমিতে টমেটো করেছেন। এখনও একই পদ্ধতিতে পরাগায়ন করে দিগুণ টমেটো পাচ্ছেন। একই গ্রামের মাঠে দেখা গেল কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে টমেটো, লাউ, কাকরোল, কুমড়া, ইত্যাদি জমিতে কৃষকরা পরাগয়ন করছেন।

কৃষি বিভাগের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, দেশে গত ৫০ বছর আগে যেহারে বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গ ছিল। সাম্প্রতিককালের ৬০ভাগ প্রজাতীর কীটপতঙ্গ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ এক প্রতিবেদনে বলেছেন অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে পরাগায়নে সহযোগিতাকারী মৌমাছি‘র মধ্যে মহামারি আকারে বন্ধাত্ব ছড়িয়ে পড়ছে। আরও বলা হয়েছে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার মূল্যমানের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে মৌমাছি।

কৃষিবীদ রকিব উদ্দীন জানান- লাউ গাছের ফুল একলিঙ্গ এবং গাছটি ভিন্নবাসী উদ্ভিদ। ভাল ভাবে লাউ ধরাতে হলে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করতেই হবে। অর্থাৎ এসব গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক পৃথক হয়। একই বয়সের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল কাছাকাছি থাকলে এবং বাতাসের বেগ প্রবল হলে কিছু পরাগায়নের সম্ভাবনা থাকে তবে তা একেবারেই নগন্য। তাই পোকা-মাকড় বা মৌমাছি বেশি না থাকলে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পরাগায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরাগায়ন সম্ভব হয় না। লাউয়ের ফুল সাদা বলে মৌমাছি বা পোকামাকড় থাকলেও লাউ ফুলে পরিভ্রমণ কম করে। এ জন্য লাউ ধরে না। লাউয়ের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক হওয়ায় কৃত্রিমভাবে পুরুষ ফুল এনে স্ত্রী ফুলের পরাগায়ন ঘটাতে হয়। পুরুষ ফুলের বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে। পাপড়ির গোড়ায় গর্ভাশয় থাকে না।

পাপড়ির মাঝখান দিয়ে বেড়ে যাওয়া পুংদন্ডে পাউডারের গুঁড়ার মত পুংরেণু থাকে। পুংদন্ডের শীর্ষভাগে গর্ভমুন্ড থাকে না। শুধু বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে থাকা ফুলগুলো পুরুষ ফুল। আর ক্ষুদ্রাকৃতি লাউয়ের মত গর্ভাশয়ধারী ফুলগুলো স্ত্রী ফুল। গর্ভাশয়ের ওপর থেকে পাপড়ি থাকবে। পুংদন্ড থাকবে না। গর্ভদন্ড ছোট ও মোটা। গর্ভদন্ডে আঠালো পদার্থ থাকবে। পুংরেণু এখানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আঠায় আটকে যায়। অনেকেরই ধারণা, শুধু স্ত্রী ফুলের এই গর্ভাশয় থাকলেই লাউ ধরবে। এ ধারনাটা ভুল। গর্ভমুন্ডে পুরুষ ফুলের পুংরেণু না লাগা পর্যন্ত লাউ ধরবে না। পুরুষ ফুল থেকে ফল হয় না ফল হয় স্ত্রী ফুল থেকে, তাই পুরুষ ফুল ছিড়ে এনে স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করতে হবে। স্ত্রী ফুল ছেড়া যাবেনা।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স্বপন কুমার খাঁ জানান- অবাধে কীটনাশক ব্যবহারে মৌমাছিসহ অনেক পতঙ্গ মারা গেলেও মৌচাষে খাচাবন্দি মৌমাছি বেড়েছে। স্থানীয় মৌমাছির চেয়ে সুন্দর বনের মৌমাছি অনেকদুর পর্যন্ত উড়ে বিচরণ করতে পারে। এবং তাদের দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী। সুন্দরবনের বাইরের মৌমাছি বা পতঙ্গরা কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার সহ্য করতে পারেনা।

সুন্দর বন এলাকার মৌমাছি তা সহজেই সহ্য করতে পারে। সুন্দর বনের মৌমাছি দিয়ে একদিকে যেমন সবজি ক্ষেতে পরাগমিলন করে উৎপাদনবৃদ্ধি করা যাবে, অপরদিকে মধু উৎপাদন করে সবজি চাষের খরচ মেটানো সম্বব। এই কৃষিবিদের মতে সুন্দরবন এলাকার মৌমাছি যেহেতু নদী-নালা এলাকায় থাকে সেই কারণেই তারা সহজেই নদী পারাপারও হতে পারে। কমকরে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওই মৌমাছিরা বিচরণ করতে পারে। যা একটি সাধারণ মৌমাছির পক্ষে সম্ভব না। সঙ্গে সঙ্গে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশী।-বাসস।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ ৭:১৪ অপরাহ্ন
ফুলপুরে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রুপসি ইউনিয়নে, রুপসি ব্লকে এবং ফুলপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা ব্লকে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল,তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের বীজ উৎপাদন ব্লক এর মাঠ দিবস ও রিভিউ ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৪/০২/২০২১ ইং তারিখে।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আলমামুন, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ জনাব মোঃ আব্দুল মাজেদ (অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,ময়মনসিংহ অঞ্চল), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ জনাব মোঃ মতিউজ্জামান (উপ পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ময়মনসিংহ), কৃষিবিদ জনাব খন্দকার মিজানুর রহমান (জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, ময়মনসিংহ), কৃষিবিদ আজিজল হক (অতিরিক্ত উপপরিচালক) ।


এ সময় অতিথিবৃন্দ উপস্থিত কৃষকদেরকে ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করেন।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষিবিদ হাম্মিম জাহান (কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার) এবং কৃষিবিদ কামরুল হাসান কামু (কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ফুলপুর, ময়মনসিংহ)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,দুই ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ সুহেল রানা,মোঃ ইউনুস আলী, শাহ মোহাম্মদ মেজবা উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের কৃষকবৃন্দ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ ১:৪০ অপরাহ্ন
কৃষি গবেষণার বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে টেকসই কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি গবেষনা

কৃষি গবেষণার বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে (সিজিআইএআর) প্রয়োজনীয় লাগসই প্রযুক্তি ও আইডিয়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলোকে এখন থেকে নতুন করে গবেষণা নিয়ে ভাবতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সিজিআইএআর গবেষণা সম্প্রসারণ, নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে।
মন্ত্রী মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে সিজিআইএআর এডভাইজরি কমিটির (সিএসি) ৭ম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নে কাজ করে এমন ১৫টি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হলো কনসাল্টেটিভ গ্রুপ ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচার রিসার্চ (সিজিআইএআর)। ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইরি, সিমিট,ওয়ার্ল্ডফিস, ইপরি, সিয়াট, ও সিআইপি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে আসছে। বর্তমানে দেশে ৪৭টি প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এসব প্রতিষ্ঠান। এসব কর্মকাণ্ডে সরকারের দিকনির্দেশনা, অগ্রাধিকার ও নীতিমালার প্রতিফলন ও সমন্বয় করতে ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছে ২২ সদস্যের সিজিআইএআর এডভাইজরি কমিটি। বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান এ কমিটির চেয়ারম্যান।
কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক এসময় ওয়ার্ল্ডফিসকে বাংলাদেশের মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও দেশিয় মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় গবেষণা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র(সিমিট)কে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ভুট্টায় মারাত্মক ক্ষতিকর ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকার আক্রমণ ও গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া, বাংলাদেশের কৃষি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইরিসহ অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো আরো জোরালো কার্যক্রম নিয়ে এগিয়ে আসবে বলেও কৃষিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সিএসির চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সিজিআইএআর প্রতিষ্ঠানসমূহের বাংলাদেশ প্রতিনিধি, সিএসির সদস্যবৃন্দ এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন ৫৭ লাখ কৃষক
কৃষি বিভাগ

চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ লাখ কৃষকের মাঝে ৩৭২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট জমির পরিমাণ ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার বিঘা।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মহামারি করোনা মোকাবিলা ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় রয়েছে বীজ, চারা, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনবার্সন সহায়তা খাতের বরাদ্দ হতে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।

৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পুষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কেটি টাকার প্রণোদনা। এছাড়া, বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ ১৩৬ কোটি টাকা, পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২৫ কোটি টাকা ও ৬১ জেলায় সমলয়ে হাইব্রিড বোরো ধান চাষের জন্য ৯ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২১ ৬:৩৯ অপরাহ্ন
স‌বজি মা‌ঠে কৃষক রুমানের আঁকা শহীদ মিনার
কৃষি বিভাগ

কৃষক রুমান আলী শাহ্ বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শাক দিয়ে সবজির মাঠে শহীদ মিনার এঁকেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামে নিজের সবজির মাঠে এই শহীদ মিনার এঁকেছেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন এ মিনার দেখতে ভিড় করছে শত-শত মানুষ। তিনি নিজের এক একর ১৪ শতাংশ জায়গায় গড়ে তুলেছেন কৃষিক্লাব নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, খামা‌রের ভেত‌রে ৬ শতাংশ জ‌মি‌তে পালং শাক এবং লাল শাক দিয়ে শহীদ মিনার, বর্ণমালা ও অতুল প্রসাদ সেনের বিখ্যাত চরণ এঁ‌কে এলাকায় তাক লা‌গি‌য়ে দেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস তুলে ধরতে এর আগেও সবজি দিয়ে দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা অঙ্কন করেছিলেন এই কৃষক।

বিজয় দিবস, শহীদ দিবস ও স্বাধীনতা দিবস সবজি দিয়ে অঙ্কন করে দিবসের তাৎপর্য মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে জানান এ কৃষক।

কৃষক রুমান আলী শাহ্ জানান, সাম‌নের মার্চ মাসে মহান স্বাধীনতা দিবসেও সবজি দিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ অঙ্কন করা হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে আর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে তার এ প্রয়াস ব‌লে জানান তি‌নি।

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে কা‌টি‌য়ে বা‌ড়ি ফি‌রেন রুমান আলী শাহ। নিজের জমিতেই গড়ে তোলেন ‘মিশ্র বহুমুখী খামার বাড়ি’। মিশ্র খামার বাড়িতে প্রতিটি প্রকল্প সাজানো হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্ল্যাকার্ড দিয়ে।

কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াছির মিয়া জানান, দেশপ্রে‌মিক এ কৃষক কৃষির মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ফুটিয়ে তুলেছেন। এজন্য তা‌কে উপজেলা পরিষদ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২১ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
কিশোরগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জে প্রথমবারে মতো বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ করা হচ্ছে। আর এতে সফলতা পেয়েছেন পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের চাষি আমিনাল হক।

তিনি জানান, বর্তমানে আমি ৪০ শতক জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করছি। বৃহস্পতিবার আবারো ৬৩ কেজি ক্যাপসিকাম উত্তোলন করি। বর্তমানে দাম কমে যাওয়ার প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আশা করছি দাম ও ফলন ভালো হলে খরচের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ক্যাপসিকামের দাম ও ফলন অন্যান্য ফসলের থেকে বেশি হওয়ার কারণে এটি চাষ করে কৃষক বেশি লাভবান হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২১ ১২:১২ পূর্বাহ্ন
মানিকগঞ্জে গাজর চাষে বাম্পার ফলন
এগ্রিবিজনেস

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় গাজর চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন মানিকগঞ্জের গাজর চাষিরা। এছাড়া বাজারে পাচ্ছেন গাজরের ভালো দাম।

উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবারের মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে গাজরের চাষ করেছেন চাষিরা। মাটি ও জলবায়ু গাজর চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভালো পেয়েছেন কৃষকরা। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সকল ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উপজেলার কৃষি অফিসার টিপু সুলতান বলেন, লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকরা গাজর চাষে ঝুঁকছেন। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সকল ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

কৃষক আবুল কালাম বলেন, একই জমিতে অন্য সবজির জায়গায় গাজর চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া গাজর চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এবারও ফলন ভালো হওয়ায় পাশাপাশি দামও ভালো পেয়েছি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop