১:০০ অপরাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ৩০, ২০২১ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন
বোরো ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জয়পুরহাটের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

জেলার মাঠ ঘাট এখন বোরো ধানের শীষে ঝলমল করছে। সোনালী বর্ণ ধারন করা এ ধান কৃষকের ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে এবং করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকলেও ধান কাটতে শ্রমিকের কোন সমস্যা হবে না এমন আশা কৃষি বিভাগের। জেলায় এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খাদ্যে উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি ২০২০-২০২১ রবি ফসল উৎপাদন মৌসুমে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলায় এবার ৬৯ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ৬৮ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মে.টন। বোরো চাষে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১ হাজার ৯৫৫ টি গভীর ও ৮ হাজার ৫৯৮টি অগভীর নলকূপ চালু করা হয়।

বিএডিসি (বীজ) কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে বিআর-২৮, ২৯, ১৬ ও ৫৪ জাতের ধান। হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে এসিআই- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ধানীগোল্ড, হিরা-২, ৫, জাগরন, ময়না, টিয়া, ধানী, এসএল-৮, তেজ। সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়ন, জামালপুর ইউনিয়ন, পুরানাপৈল ইউনিয়ন, ধলাহার ইউনিয়ন, বম্বু ইউনিয়ন, আমদই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে বোরো ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারন করেছে। ফলন ভালো হওয়ায় ধানের শীষ গুলো হেলে পড়েছে জমিতে।

কোমরগ্রাম এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, শ্যামপুর এলাকার কৃষক সুশীল চন্দ্র মন্ডল জানান, এবার ধানের ফলন খুব ভালে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার জয়পুরহাটের কৃষকদের ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যবহারের জন্য ১৮ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার বরাদ্দ প্রদান করেছে। এরমধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট সদরে ৫ টি ও কালাই উপজেলায় ৫ টি , ক্ষেতলালে ৩ টি, আক্কেলপুর উপজেলায় ২ টি ও পাঁচবিবি উপজেলায় ৩টি।

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটের বোরো ধান যাতে ঘরে তুলতে কৃষকের কোন সমস্যা না হয় সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় আরও ৪ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার চাওয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স. ম মেফতাহুল বারি। কম্বাইন্ড হারভেষ্টার গুলোর মোট মূল্যের অর্ধেক দাম দিবে কৃষক এবং বাকী অর্ধেক ভূর্তকি হিসেবে দিবে সরকার।

জেলায় ধান কাটার জন্য পাশবর্তী জেলা গাইবান্ধা, রংপুর , কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগোযোগ করা হচ্ছে ফলে শ্রমিকের সমস্যা হবেনা উল্লেখ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৯-২০২০ মৌসুমে জেলায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এতে চালের উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৫ মে. টন । যা জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছিল ৪ দশমিক ৬৩ মে.টন চাল।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৯, ২০২১ ৭:০০ অপরাহ্ন
পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

পাটবীজে কৃষকদের আগ্রহী করতে ও কৃষকেরা যাতে চাষ করে লাভবান হয় সেজন্য প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

আজ বৃহস্পতিবার ‘পাটবীজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনার’ ভার্চুয়াল সভায় এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। এছাড়া, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে ‘একটি সমন্বিত প্রকল্প’ গ্রহণের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, পাটবীজের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল না থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। দেশে পাটবীজ উৎপাদনের মূল সমস্যা হলো অন্য ফসলের তুলনায় কম লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা চাষ করতে চায় না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছে। সেই জিনোম ব্যবহার করে দেশের বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন করেছে; যার ফলন ভারতের পাটজাতের চেয়ে অনেক বেশি। কৃষক পর্যায়ে এসব জাতের চাষ জনপ্রিয় করতে পারলে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব। সেজন্য, এসব দেশিয় জাত দ্রুত জনপ্রিয় করতে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী এসময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সম্প্রসারণকর্মী ও বিজ্ঞানীদেরকে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য রোডম্যাপ বাস্তবায়নে দ্রুততার সাথে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম বলেন, পাটবীজ চাষের জন্য জমির স্বল্পতা রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সুগার মিলের জমি পাটবীজের উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানান হয়, দেশে বর্তমানে উৎপাদিত পাটের ৮৫ ভাগই তোষা জাতের পাট। এ পাটবীজের চাহিদার প্রায় ৮৫-৯০ ভাগ ভারত থেকে আনতে হয়। এই বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ৫ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ এই ৫ বছরের মধ্যে দেশে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো: মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো: রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা ও সংস্থাপ্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৯, ২০২১ ১১:১১ পূর্বাহ্ন
১ লাখ টাকা খরচে ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করবে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছার লবণাক্ত এলাকায় এ বছর উপজেলায় ১১শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও তরমুজের ফলনের কোন সমস্যা হয়নি ওই অঞ্চলে। তাই এবার সেখান তরমুজ চাষিদের মুখে সফলতার হাসি। গত বছর উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১১শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটি ইউনিয়নে এক হাজার হেক্টর ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১শ’ হেক্টর।

গড়ইখালী ইউপির প্রিতিষ মন্ডল ও দ্বিজেন মন্ডল জানান, আমরা দু’জন সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এ জমিতে চাষ করতে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ৩ লাখ টাকা বেচা-কেনা হবে।

তারা আরো বলেন, আমরা এক বিঘা জমিতে পানি, সার কীটনাশক ছাড়াই চাষ করেছি। দেখা গেছে পানি কীটনাশক ছাড়া চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। এ এক বিঘা জমিতে প্রায় ১ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছে। একই এলাকার প্রসনজিৎ ও দিপক জানান আমরা ৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। আমাদের মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আশা করছি ৬ লাখ টাকার মত বিক্রি হবে।

দেলুটির দারুণ মল্লিক এলাকার নিশিত জানান, এ বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। বর্তমানে ফসলের অবস্থা খুবই ভালো। এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে চাষ শুরু করা হয় এবং এপ্রিলের শেষের দিকে বাজারজাত করা যায়। তরমুজ চাষে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়।
খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। সার-পানি দিলেই হয়। এক বিঘা জমির উৎপাদিত তরমুজ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই এলাকার তরমুজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত তরমুজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৮, ২০২১ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় কৃষকের মাচায় দুলছে হলুদ তরমুজ
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগে ৬৫ শতাংশ জমিতে হলুদ রঙের তরমুজ চাষে সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় এক কৃষক আনোয়ার হোসেন। বর্তমান তার জমিতে ছোট-বড় কয়েকশ হলুদ তরমুজ ঝুলছে তার গাছের ডোগায় ডোগায়।

আনোয়ার হোসেন জানায়, সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগে ৬৫ শতাংশ জমিতে হলুদ রঙের তরমুজও চাষ করেন। উঁচু বেডের মাটি মালচিং শিট পলিথিন দিয়ে তরমুজ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তার মাঝে গোল করে কাটা স্থানে তরমুজ গাছ লাগানো হয়েছে। মাচায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ। যাতে ছিঁড়ে না যায় তাই নেটের ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। হালকা বাতাসে সারি সারি তরমুজ দুলছে। হলুদ রঙের সাথে কালো রঙের ব্ল্যাক সুইট-২ তরমুজও চাষ করা হয়েছে। এখানে কৃষক মার্চ মাসের ২০ তারিখে চারা লাগিয়েছেন। ১০দিন পর তরমুজ কাটতে পারবেন।

কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, বিশেষ পলিথিন দিয়ে ঢাকা বেড তৈরি করি। পলিথিনের নিচে একসাথে সার গোবর দিয়ে দেন। পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়ায় সার নষ্ট হয় না,একাধিকবার দিতে হয় না। এতে পোকার আক্রমণ কম হয়। মাচা তৈরি করেন। তাতে সুতা বেঁধে দেন। তরমুজ বড় হলে নেটের ব্যাগ দিয়ে সুতায় ঝুলিয়ে দেন। এবার তরমুজ হলুদ হলেও এটির ভিতরে লাল ও স্বাদে কড়া মিষ্টি হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে স্থানীয় কৃষকরা তার অসময়ে এ তরমুজ চাষের বিষয়টিকে পাগলামি বলতেন। এখন ভালো ফলন দেখে সবাই তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এবার ৬৫ শতক জমিতে তার এক লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছেন ১০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জমিটি পরিদর্শন করেছি। হলুদ তরমুজ চাষ কুমিল্লায় প্রথম। তার ফসল তোলার সময় মৌসুমী তরমুজ কমে আসবে। সে কারণে আনোয়ার ভালো দাম পাবে।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন জানান, হলুদ তরমুজ থ্যাইল্যান্ডের ইয়োলো কিং তরমুজ। আনোয়ার হোসেনকে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। তার ফলন দেখে ভালো লাগছে। কম সময়ে তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৭, ২০২১ ৪:০৯ অপরাহ্ন
বরিশাল সদরে বিনা উদ্ভাবিত মুগডালের মাঠদিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশাল সদরের চর হিজলতলায় বিনা উদ্ভাবিত মুগডাল চাষ সম্প্রসারণ শীর্ষক কৃষক মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার(২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি (ভার্চুয়ালে) ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মাটি মুগডাল আবাদে যথেষ্ট উপযোগী। এর আবাদ খরচ কম। বাজার মূল্য বেশি। এতে আমিষের পরিমাণ অনেক। পাশাপাশি রয়েছে জিংক এবং আয়রণের মতো পুষ্টি উপাদান। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায়ও হিতকর। সেজন্য এর আবাদ আরো বাড়ানো দরকার। বীজ হিসাবে বিনামুগ-৮’র ব্যবহার অনন্য। এর দানা মাঝারি। রঙ উজ্জ্বল এবং সুগন্ধি। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৮ টন প্রায়। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ মতে চাষাবাদ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি (ভার্চুয়ালে) ছিলেন বিনার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত। বিনা উপকেন্দ্র্রের ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, স্থানীয় ইউপি. সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, প্রদর্শনী কৃষক মো. রানা সরদার, মো. লাল মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৬০ জন কৃষাণ-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৭, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
কুষ্টিয়ায় চাষ হচ্ছে আরবের ফল ‘সাম্মাম’
এগ্রিবিজনেস

করোনাকালে বন্ধ রয়েছে কলেজ। তাই মেস থেকে বাড়ি ফিরে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম খোকন। বাড়িতে বসে না থেকে আধুনিক কৃষি কাজ করার ইচ্ছা জাগে তার। প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে সৌদি আরবের ফল “সাম্মাম” চাষ করার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে ইন্টারনেট ও কৃষি অফিসের পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন তিনি। প্রথমবার চাষেই বেশ সাফল্য পেয়েছেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোগতা নাঈম প্রথম ৩৩ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে এ চাষ করেছেন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বিদেশি এ ফল চাষাবাদের তেমন একটা প্রচলন নেই দেশে। সাম্মাম চাষে ঝুঁকি এবং চাষাবাদ সম্পর্কে প্রচারণার অভাবে চাষ কম হয়। ভিনদেশি রসালো ফল উৎপাদনের খবরে প্রতিদিন তার ক্ষেত দেখতে আসছেন আশপাশের কৃষকরা। কেউ কেউ আগামীতে এ ফল উৎপাদনের জন্য পরামর্শও নিচ্ছেন নাঈমের কাছ থেকে।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নাঈমের ক্ষেত্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনি তার সাম্মাম ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। কুমড়া গাছের মতো লতানো গাছ। গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে গোল গোল ফল। প্রায় প্রতিটি গাছেই ভরপুর ফল। বাঁশের বাতা আর পলিথিনের জালের ফাঁকে ফাঁকে পুরো ক্ষেত যেনো ফলে ভরে রয়েছে। ছোট কুমড়ার আকারের সাম্মাম ফলের ভেতরটা দেখতে ও খেতে বাঙ্গির মতো।

নাঈম বলে, কলেজ বন্ধ, তাই বাড়িতে অবসর সময় কাটাচ্ছিলাম। বিদেশ থেকে ভাই ফোন দিয়ে এ সাম্মাম চাষ করার সম্পর্কে বললেন। আমি ইউটিউব থেকে এটি কীভাবে চাষ করে সেটা জানলাম। পরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বগুড়ার একটি খামার থেকে এ ফলের চারা সংগ্রহ করি। সেই সঙ্গে সেখানে গিয়ে চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

নাঈম আমাদের দেখে নতুন এ ফল সম্পর্কে বলেন, সাম্মাম ফল খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ। বহির্বিশ্বে এ ফলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে এটির প্রচলন এখনো কম। এ ফলকে সৌদিতে সাম্মাম বলে, তবে বিভিন্ন দেশে এটি রক মেলন, সুইট মেলন, মাস্ক মেলন, হানি ডিউ নামেও পরিচিত। সাম্মামের দু’টি জাত রয়েছে। একটি জাতের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরের অংশ লাল, আরেকটি জাতের বাইরের অংশ হলুদ এবং ভেতরের অংশ লাল। তবে খেতে দুই ধরনের ফলই খুব মিষ্টি ও রসালো।

চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, দোঁআশ মাটিতে সাম্মাম চাষ করা ভালো। মাটি ভালোভাবে চাষ করে বেড এবং নালা করে, মালচিং দিয়ে এ ফলের চাষ করতে হয়। তাহলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি খুবই অল্প সময়ের ফসল। গাছ লাগানোর দেড় মাসের মধ্যেই হয় সাম্মাম ফল।

প্রথমে ভাইয়ের কথা মতো ঝুঁকি নিয়ে এ ফলের চাষ শুরু করার কথা উল্লেখ করে নাঈম বলেন, এক বিঘা জমিতে আমার তিন হাজার সাম্মাম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে দুই-তিনটি করে ফল রয়েছে। বেশি ফল রাখলে ফলন কম হয়। একেকটি ফলের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। প্রতিটি গাছেই ফল বেশ ভালো এসেছে। এক বিঘা জমিতে আমার খরচ হয়েছে প্রথমবার হওয়ায় এক লাখ টাকার মতো। আগামীতে খরচ কম হবে। আশা করছি, এ বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো লাভ হবে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু এ ফল কাঁচা-পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়, এজন্য কীটনাশকের পরিবর্তে আমি ফেরামন ফাঁদ, আগাছা যাতে না হয় এজন্য মালচিং দিয়েছি। সেই সঙ্গে বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করছি।

নাঈম ইসলাম খোকন জানান, শ্রমিক খরচ বলতে জমি প্রস্তুতের সময় এক বিঘা জমিতে বেড তৈরির জন্য চারজন শ্রমিক লেগেছে। আর মাদা তৈরির জন্য ১০ জন শ্রমিক লেগেছে। এছাড়া একজন শ্রমিক সব সময় কাজ করেন। শ্রমিকের দিন হাজিরা ৩০০ টাকা করে। নিজেই জমিতে কাজ করায় শ্রমিক খরচ কম লাগে।

এখনো ফল পাকেনি। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে দশনার্থীরা এসে ফল কেনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। পাইকারি দুইশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব। যেহেতু নতুন ফল, আশা করছি, স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা ভালো হবে। ১০ থেকে ১৫ দিন পর থেকে ফল সংগ্রহ শুরু করব, যোগ করেন তিনি।

নতুন এ ফল এবং ফলের চাষাবাদ দেখতে অনেক দূরের এলাকা থেকেও লোকজন নাঈমের জমিতে আসছেন। আগতদের এ ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন নাঈম।

রবিউল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, আমি এ গাছ লাগানো থেকে শুরু করে এ জমিতে দৈনিক হাজিরা হিসেবে কাজ করছি। এ জমিতে খুব ভালো ফল এসেছে। আর ফলগুলো খেতেও খুব ভালো। আগামীতে আমার জমিতে আমি এ ফলের চাষ করবো।

নাজিম উদ্দিন নামে আরেক কৃষক বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, এ ছেলে পাগলের মতো কি চাষ করছে? কিন্তু এখন তো দেখছি বেশ ভালো গাছ আর ফল ধরেছে। শুনেছি এটি বিদেশি ফল, খেতেও খুব ভালো। এর আগে এ ফল আমাদের এলাকায় হয়নি। দুইশ’ টাকা কেজি করে বিক্রি করছে কিছু কিছু। যদি লাভ হয়, তাহলে আগামীতে অনেকেই এ ফল চাষ করবে।

নাঈমের সাম্মাম ক্ষেত দেখতে আসা মস্তফা কামাল নামে এক শিক্ষক বলেন, সৌদি আরবের ফল এখানে চাষ হয়েছে বলে দেখতে এসেছি। দেখে খুবই ভালো লেগেছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে চাষ করা হয়েছে। নতুন এ ফল দেখে দেখে মন ভরে গেছে।

বিদেশি এ ফল অধিক লাভজনক উল্লেখ করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আধুনিক কৃষি গতানুগতিক কৃষিকাজের চেয়ে লাভজন। সাম্মাম বিদেশি ফল, তবে আমাদের এখানেও চাষ করা সম্ভব। নাঈম নামে এক তরুণ কৃষককে আমরা চাষে পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছি। তিনি বিষমুক্ত আধুনিক উপায়ে চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। আগামীতে এ চাষ বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করছি।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, রক মেলন বা সাম্মাম বেদেশি ফল হলেও আমাদের দেশে এটি চাষ করা সম্ভব। মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া এলাকার তরুণ নাঈম এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে এ বছর এ ফল চাষ করেছেন। তিনি খুব ভালো ফলও পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলমূল এবং আধুনিক চাষাবাদে তরুণরা এগিয়ে আসছেন। মিরপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষিত তরুণ কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে লাভজনক ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। সূত্র: কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৭, ২০২১ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
নতুন জাতের মিষ্টি আলু যাবে জাপানে
এগ্রিবিজনেস

মিষ্টি আলুকে একসময় বলা হতো গরিবের ক্ষুদা নিবারণের খাদ্য। তবে এটি এখন কেবল গরিবের ক্ষুদা নিবারণ না, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গরিবের খাদ্য মিষ্টি আলু এখন সুদূর জাপানেও রপ্তানি করা হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন জাতের রপ্তানিযোগ্য মিষ্টি আলু চাষ।

স্থানীয় জাতগুলোর চেয়ে নতুন জাতের এ মিষ্টিআলুর ফলন অনেক বেশি, আকারে বড় এবং খেতেও বেশ সুস্বাদু। রং লাল হওয়ায় দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। উপজেলার বাঙ্গালী নদীর তীরবর্তী রাখালবুরুজ, হরিরামপুর ও তালুককানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চরের পলিযুক্ত বালিময় মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টিআলু চাষ করছেন কৃষকরা। তবে এবার প্রথম বারের মতো বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নতুন কোকি ১৪ জিও জাতের মিষ্টিআলু চাষ করেছেন।

রাখালবুরুজ ইউনিয়নের পাড় সোনাইডাঙ্গা গ্রামের বিপুল মিয়া জানান, কোকি ১৪ জিও জাতের মিষ্টিআলু চাষে দেশীয় জাতের মতোই একই সময় লাগে। এ আলু বিঘাপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। দামও ভালো।

একই এলাকার আব্দুল আজিজ জানান, কোকি ১৪ জিও জাতের আলুর চাষ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত উপজেলা কৃষি বিভাগের তদারকি থাকায় কোনো হয়রানি ছাড়াই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। তাছাড়া আমার জমির উৎপাদিত আলু জাপান যাচ্ছে ভাবতেই ভালো লাগছে।

নারিতো জাপান কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার মেজবাউল ইসলাম জানান, উৎপাদিত মিষ্টি আলু বিদেশে রপ্তানিযোগ্য করতে সঠিক পদ্ধতি ও কলাকৌশল বাস্তবায়নে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে চাষিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। রপ্তানিযোগ্য এই আলু কৃষকের জমি থেকে সাড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা মণ দরে কিনে নেওয়া হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খালেদুর রহমান জানান, নতুন জাতের এ মিষ্টি আলুর আবাদ সম্প্রসারণে কৃষক পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। কৃষকরা মিষ্টি আলুর হেক্টরপ্রতি ফলন পাচ্ছেন ২০ মেট্রিক টন। এ বছর উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। সরকারিভাবে এবারই প্রথম কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯ একর জমিতে কোকি ১৪ জিও মিষ্টি আলু চাষ এবং তা জাপানে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৭, ২০২১ ১:৫২ পূর্বাহ্ন
কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক
কৃষি বিভাগ

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে চলা লকডাউনে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক। জমিনে বাম্পার ফলন হলেও পাচ্ছেন না তারা ধান কাটার কোন শ্রমিক। এমতাবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীদের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছেন ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যও কাস্তে হাতে নেমে পড়েন কৃষকদের ধান কাটতে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের শুবন্দী এলাকায় এ ধানকাটা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

এ সময় তাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধামসোনার শুবন্দী এলাকার স্থানীয় কৃষক নূর মোহাম্মদের প্রায় ১ একর জমির ধান কেটে তার বাড়িতে পৌছে দেন। এ সময় তারা ধান মাড়াইয়ের কাজেও অংশ নেন। শ্রমিক বেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছাত্রলীগের জন্য নতুন কিছু নয় বলে মনে করেন ছাত্র সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার আহ্বানে দেশের এই ক্রান্তিকালে সকল সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গত বছর করোনা মহামারিতে শ্রমিক সংকটে যখন কৃষকেরা ধান কাটতে পারছিলো না তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে। গত বছরের ন্যায় এবারও যখন করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকতে, তখন সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিক সংকটে পড়া অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছে। চলমান সংকটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কৃষকদের পাশে থাকবে।’

সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণা করার পর সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকটে পড়েন। এতে তারা জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েন। করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে আমাদের অভিভাবক কৃষি বান্ধব নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গতবারের ন্যায় এবারও এমন সংকটময় মুহূর্তে নিরুপায় অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছে। আজ অসহায় কৃষকের ধান কেটে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা গর্বিত। সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিক সংকটে থাকা কৃষকের পাশে থেকে এ কর্মসূচি চলমান রাখবে।’

কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, ‘চলমান লকডাউনের কারণে জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছিলাম। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে ধানা কাটা শ্রমিক আসতে পারছে না। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে ধান কাটা শ্রমিক সংকট। মাঠে পাকা ধানগুলো নষ্ট হওয়ার পথে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার এমন অসহায়ত্বের কথা শুনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টাকা-পয়সা ছাড়াই আমার এক একর ক্ষেতের ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দেন। আমি তাদের এ সাহায্যের কথা কখনো ভুলব না।’

এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেল, সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সভাপতি ম. সাইফ বাবু, সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জাব্বার রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, উপ-দপ্তর সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম খান শিমুল, উপ-সাহিত্য সম্পাদক এস এম রিয়াদ হাসান, উপ-অর্থ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম আতিকসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এ ধান কাটা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৬, ২০২১ ৪:২৯ অপরাহ্ন
‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ধান কাটা উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ স্থান নেওয়া ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ধান কাটার উদ্বোধন হয়েছে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে ১০০ বিঘা জমিতে নির্মিত এই শস্যচিত্রের ধান কাটার উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম।

গত ৯ জানুয়ারি বালেন্দা গ্রামে সবুজ ও বেগুনি ধানের চারায় বঙ্গবন্ধুর মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র বা ক্রপফিল্ড মোজাইক তৈরির কাজ। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দৃশ্যমান হতে শুরু করে এই শস্য চিত্র।

পরে মার্চে সবুজ ক্যানভাসে উদ্ভাসিত হয় তেজোদ্দীপ্ত বঙ্গবন্ধু। ১৬ মার্চ এই শস্যচিত্রকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

ধান কাটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল ইসলাম রিপুসহ প্রমুখ।

আরো পড়ুন: বিশ্বরেকর্ড করা ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ধানকাটা উৎসব কাল

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৪:২৪ অপরাহ্ন
হাওরে ধানের ঝুঁকি কমাতে আগাম জাতের ধানের চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, হাওরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান হয়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ধান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কোন কোন বছর আগাম বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ ঝুঁকি কমাতে আমরা কাজ করছি। ১৫- ২০ দিন আগে পাকে এমন জাতের ধান চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, শ্রমিক সংকটের কথা চিন্তা করে, দ্রুততার সাথে ধান কাটার জন্য হাওরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার দেয়া হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী আজ রবিবার কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার সাদরের হাওরে ‘বোরো ধান কর্তন উৎসব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। মিঠামইন উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরে কৃষিমন্ত্রী ধান কাটার উদ্বোধন করেন ও ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার’ কৃষকের মাঝে বিতরণ করেন।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল বোরো ধান হয়। এ ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে উচ্চফলনশীল জাতের ধান যেমন ব্রিধান ৮৯, ৯২ উদ্ভাবন করেছে। আমরা আপনাদেরকে এসব উন্নত জাতের হাইব্রিড ধানের বীজ দিব। আপনার এগুলো চাষে এগিয়ে আসবেন।
তিনি আরও বলেন, হাওরে চাষযোগ্য জাতের ধানের জাত উদ্ভাবনের জন্য হাওরে ‘ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের’ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান আছে।
কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব। আজকে দিগন্তবিস্তৃত হাওরে সোনার ধানের যে অপরূপ হাসি দেখা যাচ্ছে, দেশের কৃষকের মুখেও সে রকম অমলিন হাসি ধরে রাখতে চায় সরকার। সেজন্য, সরকার কৃষিকে লাভবান ও কৃষকের জীবনমান উন্নত করতে অত্যন্ত উদারভাবে কৃষকদেরকে সার,বীজ,সেচসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমানো ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে ৭০% ভর্তুকিতে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্র কৃষকদেরকে দিচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, ব্রির মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর, বারির মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মো: ছাইফুল আলম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইট প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওরে এক লাখ দুই হাজার ৫০০ হেক্টর ও নন- হাওরে ৬৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত (২৪ এপ্রিল) হাওরের ৫৩% ও নন-হাওরের ৩৯% জমির ধান কর্তন হয়েছে। এবছর জেলায় সাত লাখ ১১ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop