১১:৪২ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ২:২৭ অপরাহ্ন
উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কৃষি
কৃষি গবেষনা

।।অর্ঘ্য চন্দ।।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান জীবনীশক্তি হচ্ছে কৃষি। আবহমানকাল ধরে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কৃষির রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৬ শতাংশ। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম।

ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১৫.৭৭ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয়েছে ৪৫৩.৪৪ লাখ মেট্রিক টন, যার ফলে দেশ আজ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৬ সালে দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন ছিলো ২৬১.৩৩ লাখ মেট্রিক টন। এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ২১৬% যেখানে ২০০৬ সালে দেশে ফসলের নিবিড়তা ছিলো ১৮০%।

ধান উৎপাদনে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। খরা, লবণাক্ততা, জলমগ্নতা সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ ধানসহ এ পর্যন্ত ধানের ১৩৪টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৬ সালে শাকসবজির উৎপাদন ছিল ২০ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন যেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সবজি উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। যার ফলস্বরূপ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এছাড়াও আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম।

২০০৯ থেকে বিভিন্ন ফসলের ৬৩১টি উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত ও ৯৪০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ভাসমান বেডে চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি ও মসলা উৎপাদন অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভাসমান বেডে চাষাবাদ পদ্ধতিটিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২০১৫ সালে কৃষিতে বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।

২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিআরআরআই কর্তৃক ধানের ৫৫টি জাত, বিএআরআই কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ২৫৮টি জাত, বিজেআরআই কর্তৃক পাটের ১৫টি জাত, বিএসআরআই কর্তৃক ইক্ষুর ৯তি জাত ও সুগার বিট, তাল ও স্টেভিয়ার ৪টি জাত, সিডিবি কর্তৃক তুলার ১০টি জাত এবং বিআইএনএ কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ৬৮টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সরকার ২০১৮ সালে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে গম ও ভুট্টা গবেষণা আরো সম্প্রসারিত হবে। দেশের জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুষ্টিবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন টেকসই খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

তাছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন লকডাউনে ঘরবন্দি, ঠিক সেই সময়েও মাঠে ছিলেন বাংলার কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত ফসলই বাঁচিয়ে রেখেছে ঘরবন্দি ১৬ কোটি মানুষের জীবন। বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের অর্থনীতি। করোনাকালে কৃষির এই অবদান আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে – কৃষিই আসল ভরসা।

কৃষকের এই অবদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন। সর্বোচ্চ উৎপাদন ও সুষ্ঠ বাজারজাতকরণ কেবল করোনা সংকটে নয়, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায়ও অবদান রাখবে। বর্তমান সময়ে এদেশের উন্নতির জন্য কৃষিবিদদের অবদান প্রশংসনীয়।

কৃষিবিদদের হাতেই সৃষ্টি হচ্ছে ফসলের নতুন নতুন জাত কিংবা ফসল উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি। কৃষি বিজ্ঞানিদের গবেষণায় ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশ আজ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন সূচকে বিশ্বের জন্য পথিকৃৎ। কৃষিতে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে সাধারণ কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণার ফলে। এগিয়ে যাক আমাদের কৃষি, এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

লেখক: শিক্ষার্থী (৪র্থ বর্ষ) , কৃষি অনুষদ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট –৩১০০

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ২:০৫ অপরাহ্ন
একদিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নামল সবিজর দাম
কৃষি বিভাগ

রাজধানীর বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর একদিনের ব্যবধানে বেগুন, ঢেঁড়স ও শসার দাম কমেছে। বেগুনের দাম কেজিতে ৫০ টাকার ওপরে কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঢেঁড়স ও শসার দাম কমেও প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। একদিনে এ দুটি পণ্যের দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ও বাজার ভেদে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। গতকাল শুক্রবার বেগুনের কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

বেগুন, ঢেঁড়স ও শসার পাশাপাশি কিছুটা দাম কমেছে পাকা টমেটো, ধুন্দুল, পটল, শিম, বরবটির। এসব সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকার মতো কমেছে। কেজি ৯০ টাকায় উঠে যাওয়া শসার দাম কমে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গতকাল শুক্রবার ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

বেগুন, শসা, ঢেঁড়সের এমন দরপতনের ব্যবসায়ীরা নূর আলী বলেন, ‘রাজধানীর বাসিন্দাদের বড় অংশ শুক্রবার বাজার করেন। এ কারণে শুক্রবার সবজির দাম একটু বেশি থাকে। রোজার প্রথম শুক্রবার হওয়ায় গতকাল সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল এক কেজি বেগুন ১২০ টাকা বিক্রি করেছি , আজ ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছি, তারপরও ক্রেতা কম। একই অবস্থা শসা ও ঢেঁড়সের। ঠান্ডা সবজি হিসেবে পরিচিত ঢেঁড়সের চাহিদা রোজায় একটু বেশি থাকে। চাহিদা বেশি হওয়ায় গতকাল ঢেঁড়সের কেজি ৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আজ তা দাম কমে ৫০ টাকায় নেমেছে। আর গতকাল ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করা শসা আজ ৬০ টাকা বিক্রি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবজির দাম নির্ভর করে আড়তের ওপর। আড়ত থেকে কম দামে সবজি কিনতে পারলে আমরাও কম দামে বিক্রি করি। ঠিক তেমনি আড়তে দাম বাড়লে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আজ আড়ত থেকে সব সবজিই গতকালের থেকে কম দামে কিনতে পেরেছি। এ কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছি।’

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিলন ব্যাপারী বলেন, ‘গতকালের তুলনায় আজ সবজির সরবরাহ বেশি। কিন্তু চাহিদা কম। এ কারণে সবজির দাম কমেছে। সরবরাহ কম সবজির দাম আবার বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বাজারে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে, এটা সবাই জানে। যে কারণে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে যায়। গতকাল রোজার প্রথম শুক্রবার হওয়ায় ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি ছিল। এ কারণে দামও বাড়ে বেশি হারে।’

এদিকে, গতকাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সজনে ডাটার দাম কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমে এসেছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।’

দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে পাকা টমেটো, ধুন্দুল, লাউ, পটল। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গতকাল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ধুন্দুলের দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম কমে ৪০ টাকায় নেমেছে।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌবাজারে ব্যবসায়ী জাকির বলেন, ‘আড়তে আজ সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এ কারণে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি। আড়তে দাম আরও কমলে আমরাও আরও কম দামে বিক্রি করতে পারবো। তবে রোজায় সবজির দাম আরও কমার সম্ভাবনা কম। বরং আমাদের ধারণা সবজির দাম আবার বেড়ে যাবে।’

বাজারটি থেকে সবজি কেনা আমেনা বেগম বলেন, ‘দাম কমার পরও এখনও সব ধরনের সবজির দাম বেশি। টমেটো ছাড়া এখনও তো ৫০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। এতো দাম দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খুব কষ্টের।’ সূত্র: জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ ৭ উপজেলায় হয়েছে এবার আলুর বাম্পার ফলন। তবে সংরক্ষণের জন্য মাত্র একটি হিমাগার থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন সেখানকার আলু চাষিরা।

জানা যায়, দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলের ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ হাজারেরও বেশি আলু চাষি প্রতিবছর তাদের উৎপাদিত আলু এবং আলুর বীজ, সংরক্ষণের জন্য নির্ভর করে হিমাগার ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের উপর। এই হিমাগারে নির্দিষ্ট পরিমাণ আলু ও আলু বীজ সংরক্ষণ করতে পারলেও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন চাষিরা। সংরক্ষণ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে চাষিরা কম দামে আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে তাদের লোকশান গুণতে হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা গোপালপুর গ্রামের আলু চাষি সুবাস চন্দ্র ও লালপুর পাঠকপাড়া গ্রামের প্রদীপ কুমার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না আসায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে বাজারে আলুর একটু আশানুরূপ দাম পাওয়া গেলে এখন দাম পড়ে গেছে। তবে আলু এবং আলু বীজ হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারলে আগামীতে ভালো দাম পাওয়া যেতো। কিন্তু হিমাগারে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা তাদের আলু বিক্রি করে দিয়েছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৭ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষিরা চাষ করেছেন ১৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার অধিক। উপজেলা ভিত্তিক আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৮২০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। চিরিরবন্দরে ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। বিরামপুরে ১ হাজার ৮৬৯ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। নবাবগঞ্জে ১ হাজার ৪৪৯ হেক্টর কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে। হাকিমপুরে ৮৯০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৯০৫ হেক্টর জমিতে। ঘোড়াঘাটে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। পার্বতীপুরে ৩ হাজার ৯৭৬ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৪ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে। উল্লেখিত ৭ উপজেলার মধ্যে ১টি মাত্র হিমাগার আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে। যা আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা ৬০ কেজি ওজনের ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আলু বীজের দাম বেশি থাকায় আলুর উৎপাদন খরচও বেড়েছে। গত বছর আলুতে আশানুরূপ লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ বছর বেশি জমিতে আলু চাষ করেছেন।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক জানান, হিমাগারে ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতার পুরোটাই ভরে গেছে। হিমাগারে প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও চাষিরা আলু নিয়ে এসে ভিড় করছেন। কিন্তু হিমাগারে তো আর জায়গা নেই, নিরুপায় হয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে এ বছর ব্যবসায়ীদের চেয়ে কৃষকদের আলু বেশি সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৮:০২ অপরাহ্ন
সবুজ মাঠে বেগুনি ধানে বিস্ময়, দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
কৃষি বিভাগ

বেগুনী রঙের এই ধানের আবাদ করেছেন সাংবাদিক শেখ হেদায়েতুল্লাহ।রোপনকৃত এ পারপেল লিফ রাইস (বেগুনি ধান) দেখতে তাই জড়ো হচ্ছেন উৎসুক জনতা।  প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরা ভিন্ন রঙের এই ধান দেখতে ভিড় জমান। অনেকেই ক্ষেতের বেড়া টপকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিয়ে যান। ধানের শীষ তুলে নিয়ে যান। সে কারণে সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখতে হচ্ছে বেগুনি রঙা ধানের জমিটিকে।

জানা গেছে, বেসরকারী একটি সংস্থা গত আমন মৌসুমে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরায় পরীক্ষা মূলকভাবে এই ধানের আবাদে উৎসাহী করেন চাষীদের। যদিও এই ধান বোরো মৌসুমের। দেশে সর্বপ্রথম এ জাতের ধানের আবাদ শুরু হয়েছিল গাইবান্ধা জেলায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ধান। ধানের রঙ সোনালি আভাযুক্ত বেগুনি ও চালের রঙ বেগুনি। উফশী জাতের এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কম হয়। রোপণ থেকে ধান পাঁকতে সময় লাগে ১৪৫-১৫৫ দিন। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের একর প্রতি ফলনও বেশ ভালো।

ধানচাষী সাংবাদিক শেখ হেদায়েতুল্লাহ জানান, দ্যা সালভেশন আর্মি নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে এ ধানের বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছি। ভিন্ন জাতের ধান হওয়ায় মানুষের মাঝে বিশেষ আকর্ষণও তৈরি হয়েছে। ধানের শীষ বেরিয়ে গেছে অনেকে শীষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাই সার্বক্ষণিক পাহারা দিতে হয়।

দ্যা সালভেশন আর্মীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডানিয়েল হালদার জানান, একর প্রতি ফলন ৫৫ থেকে ৬০ মণ হয়ে থাকে। অন্য সব ধানের তুলনায় এ ধান মোটা, তবে পুষ্টিগুণ অনেক। এ চালের ভাত খেতেও সুস্বাদু। ধানের ভাত থেলে ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপসহ জটিল রোগের ক্ষেত্রে মেডিসিনের কাজ করে। সে হিসেবে এক মেডিসিনাল রাইসও বলা হয়।

বেগুনি রঙের এই ধান বিদেশি নয়। এটি আমাদের দেশি জাতের ধান। আগে অন্য জেলায় চাষ হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো খুলনায় চাষ হচ্ছে। এটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৭:৪৬ অপরাহ্ন
সারাদেশের কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে ৮ কর্মকর্তা
কৃষি বিভাগ

দেশের সবচেয়ে বড় ফসল বোরো কেবল পাকতে শুরু করেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সারাদেশকে ১৪টি কৃষি অঞ্চলে ভাগ করে এই অঞ্চলগুলোতে বোরো ধান ও রবি ফসল উৎপাদনসহ সার্বিক কৃষি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আটজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের সার্বিক কৃষি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে গত ১৩ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে ।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবি মৌসুমে বোরো ধান ও রবি মৌসুমের ফসল (গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা, সবজি, তেল জাতীয় ফসল, ডাল জাতীয় ফসল, মসলা জাতীয় ফসল) আবাদ ও উৎপাদন কার্যক্রমসহ ১৪টি কৃষি অঞ্চলের সার্বিক কৃষি কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষে তদারকির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আটজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রৌফ চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল, গবেষণা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চল, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল, নিরীক্ষা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কাদের কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এছাড়াও সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল সিলেট অঞ্চল, বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা যশোর ও খুলনা অঞ্চল, পিপিসি (নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয়) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল এবং প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তারকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল সব অঞ্চলের কার্যক্রম সমন্বয় করবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বোরো ধান এবং পেঁয়াজসহ অন্যান্য রবি শস্যের আবাদের পরিমাণ নির্ধারণ এবং উৎপাদন কার্যক্রম মনিটরিং, ভর্তুকি দামে দেয়া কৃষি যন্ত্রপাতিসহ সব কৃষি যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার তদারকি করবেন।

এছাড়া বিভিন্ন ফসলের প্রণোদনা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও রাজস্ব প্রদর্শনী সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সমলয় চাষাবাদ পরিদর্শন করবেন এই কর্মকর্তারা।দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বিভিন্ন অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এবং জেলার উপ-পরিচালকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন এবং তদারকি করবেন। এক্ষেত্রে নিজ উইংয়ের যুগ্মসচিব ও উপসচিবদেরকে তার অঞ্চলের তদারকিতে সম্পৃক্ত করবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৪:৫২ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীতে খাল সেচে মাছ শিকার, কৃষিজমি পানিশূন্য
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চর লাতা গ্রামের একটি সরকারি খালের স্বাদু পানি সেচে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে বোরো ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের পানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন খালের দুই পাড়ের কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেচ দিয়ে সরকারি ‘গাজীর খাল’ পানিশূন্য করে মাছ শিকার করছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ উঠে গেলেও, এখন খালের দুই পাড়ে চলছে বোরো আবাদ। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর পানি। কিন্তু খালে সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ শিকার করায় বোরো আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর উপকূলীয় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চারিদিকে লোনা পানি। প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা এই খালটির পূর্ব ও পশ্চিম দুই মুখেই রাবনাবাদ নদী। প্রায় ১০ বছর আগে খালটির ওই দুই প্রান্তে বাঁধ দিয়ে নদী থেকে লোনা পানি আসা বন্ধ করা হয়। এরপর থেকেই খালটির দুই পাড়ের সহস্রাধিক কৃষক রবি ফসলের জন্য খালে সংরক্ষিত স্বাদু পানি ব্যবহার করছিলেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালটির দুই পাড়ে বিভিন্ন জায়গায় সেচযন্ত্র বসিয়ে এক সপ্তাহ ধরে পানি অপসারণ চলছে। খালের কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছেন ১০-১২ জন। পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরা হচ্ছে।

খালে যারা মাছ ধরছিলেন তাদের একজন নান্নু হাওলাদার। তিনি জানান, ৩৩ জন মিলে পানি অপসারণ করে মাছ ধরছেন। গলাচিপা থেকে সেচযন্ত্র ভাড়া করে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এতে করে খালটি পরিষ্কার হবে আর মাছ ধরে তারাও লাভবান হবেন।

পানি এভাবে অপসারণ করায় কৃষকরা স্বাদু পানি সংকটে পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তরমুজ উঠে গেছে। ধান আবাদ কম, কাজেই তেমন ক্ষতি হবে না। খালের পাড়ের অনেক কৃষককে এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে।’

অনুমতি ছাড়া সরকারি খাল সেচে শুকিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।’

খাল থেকে স্বাদু পানি অপসারণ করা হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবাদ করতে পারছে না। ফোনে যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন কৃষক জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন এখানে খুবই কম আসা যাওয়া করছে। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা পানি অপসারণ করে মাছ শিকার করছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বোরো খেতে সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

এক কৃষক জানান, তিনি সাড়ে তিন একর জমিতে ব্রি-২৮ ও হীরা-১ জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন। চৈত্র-বৈশাখের শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর পানির প্রয়োজন। কিন্তু, খেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে পারছেন না তিনি। এতে তিনি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

যোগাযোগ করা হলে ওই ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা অলক কুমার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গাজীর খালের দুই পাড়ে অন্তত ২৫ হেক্টর জমিতে বোরোসহ রবি ফসলের আবাদ হয়েছে। মাছ শিকারের ফলে সেখানে সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাবুব হাওলাদার বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমানও একই কথা বলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আমি ওই এলাকার লোকজনকে খাল সেচে মাছ ধরতে নিষেধ করেছিলাম। তবে সেখানকার লোকজন কথা শুনছেন না।

তিনি বলেন, ‘এভাবে খাল সেচে কেউ মাছ ধরতে পারবে না। কৃষক যেন প্রয়োজনীয় সেচের পানি পেতে পারে এ ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’- সূত্র: দি ডেইলি স্টার

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
শ্রমিক সংকট, বোরো ধান নষ্ট হওয়ায় শঙ্কায় চাষিরা
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জেলায় ধান পাকতে শুরু করলেও এ ধান ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ অনেক এলাকায় ধান কাটার মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনেক কৃষক বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। যেসব শ্রমিক আছেন তারাও পরিবহণের অভাবে আরেক জেলায় গিয়ে ধান কাটতে পারছেন না। এদিকে এ সময় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাছাড়া আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। অতীতে এভাবে ফসলের ক্ষতি হওয়ার বহু উদাহরণ রয়েছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২০ বছরে হাওরাঞ্চলে ছয়টি আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে এবং এসব বন্যায় উৎপাদিত বোরো ফসলের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ বছরও হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যা দেখা দিতে পারে। কাজেই ঝড়, বর্ষা ও বন্যা আসার আগেই ধান কাটার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যসূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সারা দেশে বোরো আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৭৮ হাজার হেক্টরের কিছুটা বেশি। উল্লেখ্য, ধান-চাল উৎপাদনে দেশে বোরোর স্থান শীর্ষে।

দেশে উৎপাদিত চালের ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। বাকিটা আসে আমন ও আউশ ধান থেকে। অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তায় বোরো ধানের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। খাদ্য নিরাপত্তায় করোনা মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আমাদের উচিত যে কোনো কারণে বোরো ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি রোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

দেশে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার ব্যবস্থা অপ্রতুল। জানা গেছে, হাওরাঞ্চলে সরবরাহকৃত হারভেস্টার ও রিপারের সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া এগুলো দিয়ে ধান কাটানোর দামও বেশি নেয় সুযোগসন্ধানীরা। এ বাস্তবতায় সরকারের উচিত স্বল্প মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করা।

কৃষকরা বলছেন, সরকার যদি এসব যন্ত্রের দাম অর্ধেক কমিয়ে দেয়, আবার ওই অর্ধেক দামের ওপর ভর্তুকি দেয়, তাহলে একটি গ্রামের কয়েকজন কৃষক মিলে সমবায়ের ভিত্তিতে একটি মেশিন কিনতে পারবেন। এতে সবাই উপকৃত হবেন।

বহু বছর ধরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশ থেকে আসা কৃষি শ্রমিকরা হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা এবং তা ঘরে তোলার কাজ করে আসছেন। গত বছর মার্চে দেশে করোনা মহামারি দেখা দিলে সরকার এক অঞ্চল বা জেলা থেকে অন্য অঞ্চল বা জেলায় যাতায়াতের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করলে কৃষি শ্রমিকের অভাবে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশ থেকে লাখ লাখ কৃষি শ্রমিক নিয়ে আসার ব্যবস্থা করলে এ সংকটের সমাধান হয়। সরকারের উচিত এবারও বিশেষ ব্যবস্থায় সারা দেশ থেকে কৃষি শ্রমিক এনে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যবস্থা করা।

সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক হাওরাঞ্চলসহ সারা দেশে সময়মতো বোরো ধান কাটার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাই আমরা আশা করব, অবিলম্বে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।-সূত্র: যুগান্তর

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা
কৃষি গবেষনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পান চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে পান চাষের পরিমাণ। ফলে এ অঞ্চলে পান চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে এই চাষের প্রতি।

পান চাষিদের অভিযোগ, সরকারি কোনো সাহায্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না পান চাষের জন্য। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যেকোনো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষিদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না।

পান চাষিরা আরো জানায়, পানের বরজ তৈরি করে পানের লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও সার কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। তাই পানের বরজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে পান চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার জানান, পান চাষের উপর কৃষি বিভাগের কোনো কাযর্ক্রম নেই। তবে চাষীরা যদি সহযোগিতা চান তাহলে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হবে। আমরা পান চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছি বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ৭:১৪ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রকল্পে লাখো কৃষকের মুখে সোনার হাসিঃ
কৃষি বিভাগ

আঠারো বাকি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে কালিয়া , তেরখাদা,মোল্লাহাট ,রূপসা , দিঘলিয়া,লোহাগড়া উপজেলা গুলোর মানুষের জীবন জীবিকার দারুন প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে । আঠারো বাকি নদী ভৈরব ও মধুমতীর সংযোগ করেছে,কিন্তু পলি জমে দীর্ঘ ২০ বছরের ও বেশি সময় নদীটা বন্ধ হয়ে রয়েছে,যার ফলে প্রায় ২০০০০ হেক্টর কৃষি জমিতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও গ্রীষ্মকালে তীব্র পানির সঙ্কট দেখা যায় । কিন্তু নদীটি খননের ফলে নাব্যতা ফিরে এসেছে । প্রায় ১০০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ,সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । এখন প্রকল্পটির সুবিধা ভোগ করছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষ ।

এবং এই আঠারো বাকি নদী এলাকার মানুষের বিপুল পরিমাণ মাছ এর চাহিদা মেটাচ্ছে । যার ফলে মানুষদের পুষ্টির চাহিদা ও একইসাথে মেটানো সম্ভব হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দ্বারা ।

তবে নিয়মিত খনন কাজ ঠিক রাখলে এসব সুবিধা বহাল থাকবে , নয়তবা থাকবেনা । কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নে প্রকল্পটি দারুন আশা জাগানিয়া বলে বিবেচিত হচ্ছে, আগে যেসব জমিতে ফসল চাষ করতে জমির জলাবদ্ধতা দূর করে রোপণ করতে হতো, এখন সেখানে আর সেরকম কোন পরিস্থিতি নেই, তবে সরকারের কৃষি ভর্তুকিটা আবার চালু হলে কৃষকরা লাভবান হবে।

এর ই ধারাবাহিকতায় এবার ধান উৎপাদন দিগুণ হয়েছে,অন্যান্য ফসল যেমন পান,গম,সরিষা,কলাই,মসুরির এর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের ঘোষিত লকডাউনে কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ,এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে। এবং সরকারের মহামারী চলাকালীন সহায়তা মাঠ পর্যায়ে পৌছায় না। সেদিকে ও মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

কিছু সুবিধা ভোগী মানুষের জন্য সরকারের এত সব সহযোগিতা যাতে বিফলে না যায় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ৬:৫২ অপরাহ্ন
৪৫৯টি ধান কাটার মেশিন পাচ্ছেন সিলেটের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সিলেট অঞ্চলে বোরো ধান কাটার জন্য কৃষকদের ২৭১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ১৫০ রিপার ও ৩৮ টি রাইস ট্রানসপ্লান্টার মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ধান কাটায় শ্রমিক সংকট সমাধানে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে এইসব যন্ত্র কৃষকদের প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ডিএই সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী জানান, ভর্তুকির মাধ্যমে এসব কৃষিযন্ত্র এরই মধ্যে বিতরণ শুরু করার ফলে ধান কাটা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক নির্ভর ধান কাটাও কমে যাচ্ছে।

সিলেট বিভাগে ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। ১৫ দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ধান কাটা শেষ হয়ে যাবেÑ এমনটা আশা এই কৃষি কর্মকর্তার।

তবে কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে, এসব যন্ত্রের চাহিদা আরও বেশি। সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ৬০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৬৯১টি রিপার ও ৩৮টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টের চাহিদা ছিল। হাওর এলাকার কৃষকরা ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে এবং সমতল এলাকার কৃষকরা ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে এইসব মেশিন পাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, সিলেট জেলায় সবমিলিয়ে ৭৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৪৭টি রিপার ও ১৮টি রাইস ট্রান্স প্লান্টার, মৌলভীবাজার জেলায় মোট ২১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ২৫টি রিপার ও একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সুনামগঞ্জ জেলায় ১০৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৩৮টি রিপার ও আটটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৬৮টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৪০টি রিপার ও ১১টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কম্বাইন্ড হারভেস্টার বরাদ্দ পাওয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের রজব আলী জানান, ভর্তুকিতে মেশিন বরাদ্দ পেয়ে তিনি খুশি। এরই মাধ্যমে নিজের জমির ধান কাটার পাশাপাশি অন্যের জমিরও ধান কাটতে পারবেন। এর ফলে তার বিকল্প আয়েরও একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, হবিগঞ্জে ৯ উপজেলায় ধান কাটার যন্ত্রগুলো বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তমিজ উদ্দিন খান জানান, কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই একসঙ্গে হয়। এতে কৃষকের অনেক সময় বেচে যাবে। ধান কাটায় শ্রমিক কম লাগবে, খরচও বাচবে।

প্রসঙ্গত, এই বছর বোরো মৌসুমে সিলেট অঞ্চলে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাওরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৫ হেক্টর। মোট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭৮ মেট্রিক টন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় অনায়াসে এক একর জমির ধান কিংবা গম কাটা যাবে। একদিনে কাটা যাবে ৮ একর। এতে ৬১ শতাংশ খরচ কমবে, শ্রম বাঁচবে ৭০ শতাংশ। উন্নত এই কৃষি যন্ত্র ধান কাটা, একই সঙ্গে মাড়াই ও বস্তাবন্দির কাজও করবে।

গত কয়েক বছর ধরেই হাওরগুলোতে এই কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেখা যায়। সরকারি উদ্যোগের ফলে এবার প্রায় সব হাওরেই এই কৃষি যন্ত্র ব্যবহার বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টারের দাম ৩২ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। কৃষক ৩০ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিস্তিতে ক্রয় করতে পারছেন এ মেশিন। রিপার মেশিনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে এই মেশিনের দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা। এই মেশিন দিয়ে শুধু ধান কাটা যায়, অন্য কিছু করা যায় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী বলেন, সিলেটে এই বছর বোরো আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। হারভেস্টার ও রিপার মেশিন বিতরণের পাশাপাশি কিভাবে সঠিক উপায়ে ধান কাটা ও মাড়াই করা যায় সেই কৌশলও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।-বাসস

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop