১:২৯ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৬:০৫ অপরাহ্ন
খুবিতে পেঁয়াজ গবেষণাতে চমকঃ
কৃষি গবেষনা

খুবির গবেষণায় সাফল্য, ফরিদপুরী জাতের পেঁয়াজের হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৬ মেট্রিক টন

মাটি ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে #দেশী_পেঁয়াজের_উৎপাদন_দ্বিগুণ করা সম্ভব

কেননা বাজারে যতই কম দামের পেঁয়াজ পাওয়া যাক , দেশি পেঁয়াজে ঝাঝ  বেশি থাকায় ভোক্তাদের চাহিদা দেশি পেঁয়াজে ই বেশি থাকে । তাই আমাদের এই দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ।

আমাদের দেশে যে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় তার আকার ও ওজন কম। সাধারণভাবে গড় ওজন ২০-৫০ গ্রাম। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন কম হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের গবেষকরা মাটি, জৈব সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফরিদপুরী দেশী জাতের পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। সম্প্রতি এই গবেষণার কাজ শেষ হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল গবেষণা মাঠের পেঁয়াজ উত্তোলন করে দেখা যায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এই গবেষণা প্লটের গড় পেয়াজের আকার বড় এবং ওজন ৬০-১০০ গ্রাম পর্যন্ত। এই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষ করলে বর্তমান পেঁয়াজের ফলন শতকরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। এর ফলে দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে সয়ম্ভর, এমনকি উদ্বৃত্ত হতে পারে।

পেঁয়াজ চাষের গবেষক ছিলেন ঐ ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নিশান। এ ব্যাপারে গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মোঃ সানাউল ইসলাম জানান, আমাদের দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাৎসরিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। পচনসহ ঘাটতি ধরা হয় সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন। মাটি, জৈব সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ১০ লাখ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। এছাড়া একই জমিতে আগামী ও নাবি দু’জাতের পেঁয়াজ চাষ করলে ৪-৫ লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদন সম্ভব। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং চাষ পদ্ধতির উন্নতি করতে পারলে দেশ অচিরেই চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে। তিনি আগামী বছর এই মৌসুমে উপকূলীয় লবণাক্ত বটিয়াঘাটা-দাকোপ এলাকাতে গবেষণা চালাবেন। তিনি আরও জানান, গবেষণা প্লটের মধ্যে মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নেওয়ায় উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ১৫ টন। উৎপাদিত ৪০-৫০ শতাংশ পেঁয়াজের প্রতিটির গড় ওজন ছিলো ৭০-৯০ গ্রাম।

তিনি জানান, ২৮ দিন বয়সের চারা ফরিদপুর থেকে এনে ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে লাগানো হয়। শুষ্ক মৌসুমে (এপ্রিল-মে) গবেষণা প্লটের লবণাক্ততার মাত্রা ছিলো ৪ ডেসিসিমেন্স/মিটার। প্লটের পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয় গত ৫ এপ্রিল। ১৮টি পর্যবেক্ষণ প্লটে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। সঠিক চারা ও সারি ঘনত্ব, যথযাথ মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে আশাতীত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই বড় সাইজের পেঁয়াজ গুলোকে যদি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিউট , কৃষি মন্ত্রণালয়  ও সরেজমিন গবেষণা বিভাগ গুলোর সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করা গেলে, কৃষক দের সার, বীজ , কীটনাশক , কারিগরি  সহযোগিতা এর মাধ্যমে , তাহলে আমাদের আর বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভর থাকতে হবেনা, প্রয়োজনে আমরা রপ্তানি করতে পারবো ।

আর আলু এর মত পেয়াজের ও সংরক্ষণ পদ্ধতি অনেক বড় একটি সমস্যা, এটি চাহিদা অনুযায়ী যোগান দেওয়া গেলে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবো ।

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৫:৫৬ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকার কৃষি আধুনিক যন্ত্রপাতি অর্ধেকমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সহজ পদ্ধতিতে ছয় মাসের কিস্তিতে বিনাসুদে পরিশোধ করে কৃষক হবেন যন্ত্রের মালিক।

আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিসে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। যা অর্ধেকমূল্যে বিতরণ করা হবে ছয়জন কৃষকের মাঝে।

আজ চারজন কৃষকের মাঝে এই কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, কৃষি অফিসার আব্দুল আল-মামুন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া পারভিন লাকি প্রমুখ।

ফুলপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ছয়জন কৃষকের মাঝে ধানকাটার কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করা হবে। যার প্রতিটির মূল্যে ৩০ লাখ টাকার ওপরে। কৃষকরা মাত্র ৩-৪ লাখ টাকা জমা দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে বিনাসুদে পরিশোধ করে এসব যন্ত্রপাতির মালিকানা লাভ করবেন।

বোরো ধান নিয়ে কৃষকের হতাশার সময় শেষ। বিশেষ করে প্রাকৃতিক বিপর্যের হাত থেকে রক্ষা করবে এ আধুনিক যন্ত্রটি। ফুলপুরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে আংশিক ক্ষতি হলেও তা পূরণ হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৫:২৮ অপরাহ্ন
ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে সিলেটের কৃষকদের
কৃষি গবেষনা

সিলেটের কৃষকরা পতিত পুকুর কিংবা বিলে কচুরিপানা পচিয়ে বেড তৈরি করে এর ওপর নানা জাতের সবজি চাষ করার দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেনে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষের এই প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ফলনও হচ্ছে ভালো।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সিলেট এর সহযোগিতায় সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় শুরু হয়েছে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ প্রকল্পের কাজ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সূত্রে জানা যায়, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের ব্যবস্থাপনায় ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ভাসমান বেডে কৃষকদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকদের সব ধরণের কলাকৌশলের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চাষাবাদ প্রক্রিয়া হাতে কলমে শেখানো হয়। সবকিছু জেনে নেয়ার পর কৃষকরা ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ শুরু করেন। একজনের সফলতা দেখে অন্যজন একি রকম চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এখন পর্যন্ত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রূপশাল এবং ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুর গ্রামে প্রাথমিক ভাবে বিনামূল্যে তৈরি ১৫০টি বেডের মাধ্যমে এসব এলাকায় সবজি ও মসলা উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার লাগেনা। ফলে সবজির গুনগত মান ও স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে। তিনি আরো জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায়ও ভাসমান বেডে সবজি চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

জানা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রূপশাল গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন গত ৩বছর যাবত এই পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা চাষে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আবুল হোসেন এর ভাসমান বেড সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ভাসমান বেড তৈরি করে তার ওপর চাষ করছেন টমেটো, বেগুন, কাচা মরিচ, লাল শাক, কলমি শাক, ঢেঁড়শ, বরবটি, লাউ ও সিম। যা একদিকে তাদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। আবুল হোসেন এর ভাসমান বেডে সবজি চাষ দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক আবুল হোসেন জানান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের সহযোগিতায় “ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, স¤প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ” প্রকল্পের আওতায় ভাসমান বেড তৈরি করে তাতে নানা জাতের সবজির চাষ অব্যাহত রেখেছি। আগামীতে আরও বেশি বেড তৈরি করে সবজি চাষ করবেন বলে তিনি জানান। ২০ ফুট গভীর পানির ওপর ভাসমান বেড করা খুবই কষ্টসাধ্য। কষ্ট হলেও আমরা সাফল্য পেয়েছি। বাজারে এই বেডের সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

ভাসমান বেডের তত্তাবধানের নিয়োজিত বৈজ্ঞানিক সহকারী রায়হান জানান, একই বেডে এক সবজি তোলার পর অন্য সবজি চাষ করা যায়। ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজি জৈব পদ্ধতিতে তৈরি হয় বলে প্রযুক্তিটি পরিবেশ বান্ধব ও সবজি স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত। তাছাড়া খরচও তুলনামূলক কম। ফলে কৃষক বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগ (বারি) সিলেটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল জানান, সিলেটের অনেক পুকুর এবং খাল-বিল প্রায় সারা বছরই পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে এর ঘাটতি পূরণ সহ আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা। সিলেট অঞ্চলে এখনো সবজির প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। তাই সিলেটে ভাসমান বেডে পানির স্বল্প খরছে সবজি চাষ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেলে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আর্থিক ভাবেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।

তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা মতে, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমির ব্যবহার ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিবেচনায় ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা উৎপাদন পদ্ধতি বিস্তার প্রয়োজন। কৃষি বান্ধব সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের কল্যাণে এ পদ্ধতির সবজি ও মসলা চাষে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৪:৫০ অপরাহ্ন
লকডাউন: সবজি বাজারজাতে ভোগান্তিতে মুন্সিগঞ্জের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সবজিতে চাঙ্গা মুন্সিগঞ্জ। রমজানকে সামনে রেখে সবজির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সবজির আবাদ করা হচ্ছে সেখানে। এবং জমিন থেকে তাজা শাক-সবজি তুলে সরাসরি মোকামেও পাঠানো হচ্ছে সেখান থেকে। তবে এবার করোনার লকডাউনের কারণে হিমশিম খাচ্ছে সেখানকার চাষিরা। এছাড়া লকডাউনের কারণে সবজির চাহিদা মোতাবেক দাম কম পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে সেখানকার চাষিদের।

মুন্সিগঞ্জের মালিগাঁওয়ের কৃষক সলেমান মিয়ার বিস্তীর্ণ জমিতে চলছে পুদিনা পাতার পরিচর্যা। রমজান সামনে রেখে ৫০ শতাংশ জমিতে প্রথমবারের মতো চাষ করেছেন এ সবজির। এ ছাড়াও জেলার বজ্রযোগিনী, রামপাল, পঞ্চসার ও মহাকালীতেও এখন সবজির সমাহার। বেগুন, টমেটো, বরবটি, ক্যাপসিকাম, লালশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ চলছে পুরোদমে। প্রতিদিন ভোর থেকেই পরিচর্যার পাশাপাশি সবজি মোকামে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

তবে করোনা ও লকডাউনের কারণে বাজারজাতকরণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। সেই সঙ্গে দাম কম পাওয়ারও অভিযোগ করেন বজ্রযোগিনী আড়তদার মো. মনিরুজ্জামান নান্নু।

জেলায় এবার এক হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ হয়েছে বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ১২:২৪ অপরাহ্ন
লাল ও মিষ্টি তরমুজ চেনার উপায়
কৃষি বিভাগ

মিষ্টি তরমুজ কিভাবে চিনব? এই প্রশ্ন এখন খুবই কমন কারণ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে রসালো ফল তরমুজ। এই গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা তরমুজের রস দূর করতে পারে ক্লান্তি। তরমুজ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে। শরীরে এনার্জি তৈরি করে দেয়। গরমে এই ফলটির চাহিদাও তেমনই থাকে। তরমুজে ২১ শতাংশ ভিটামিন সি, ১৮ শতাংশ ভিটামিন এ, ৫ শতাংশ পটাশিয়াম, ৪ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম এবং ৩ শতাংশ ভিটামিন বি১, বি৫ এবং বি৬ আছে। ত্বক ও চুল প্রাকৃতিভাবে সুন্দর রাখে তরমুজে থাকা ভিটামিন এ ও সি। এর অ্যা‌ন্টিঅ‌ক্সি‌ডেন্ট ক্যান্সার প্র‌তি‌রোধী ও  তারুণ্য ধ‌রে রাখ‌তে খুবই  কার্যকরী।

তবে তরমুজ কিনতে গিয়ে ঠকে যাবেন না আবার! অনেক সময় বাইরে থেকে দেখে ভালো মনে হলেও কাটার পর দেখা যায় তরমুজ ফ্যাকাশে, খেতেও পানসে।

জেনে নিন কীভাবে চিনবেন লাল এবং মিষ্টি তরমুজঃ

১: তরমুজের মাথার দিক খেয়াল করুন। যদি দেখেন হলুদ রঙ ধরেছে, তাহলে তাহলে বুঝবেন তরমুজ পাকা।

২: তরমুজ হাতে নিয়ে দেখুন। যদি ভিতরটা ফাঁপা মনে হয় তাহলে বুঝবেন তরমুজ এখনও কাঁচা রয়েছে। পাকা তরমুজে প্রচুর রস থাকে। ফলে তরমুজ ভারি হয়।

৩: তরমুজের গায়ে টোকা দিন। অতিরিক্ত ভারি আওয়াজ (ঠন ঠন অাওয়াজ) হলে বুঝবেন তরমুজ বেশি পেকে গেছে।

৪ঃ তরমুজের আকৃতি খেয়াল করুন। যদি তরমুজ পুরো সমান হয়, তাহলে বুঝবেন পাকা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫ঃবাইরের উজ্জ্বল রঙ দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। পাকা তরমুজ সাধারণত গাঢ়, কালচে হয় দেখতে। চকচ‌কে উজ্জল রং হ‌লে সে‌টি কাঁচা তরমুজ।

৬ঃ খুব বড় বা খুব ছোট তরমুজ না কিনে মাঝারি আকারের তরমুজ কেনাই ভালো।

 

সতর্কতা ঃ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বা বাজারে খোলা অবস্থায় রাখা কাটা তরমুজ খাবেন না। তরমুজ কেটে ফ্রিজে ভরে রাখবেন না। এতে খাদ্য উপাদান কমে যায়। যেকোন ফল কেটে খোলা অবস্থায় রাখবেন না। এতে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। তরমুজে শাঁস অধিক লাল করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম রং ভিতরে প্রবেশ করিয়ে থাকে এমন তরমুজ কিনবেন না খাবেন না। তরমুজ কাটার পর শাঁস হাতে লাগলে কিছু রং হাতে লাগে এ তরমুজটি খাবেন না।

কতটুকু খাবেনঃ তরমুজের এত গুণ থাকা সত্ত্বেও একবারে খুব বেশি তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। গবেষক ও পুষ্টিবিদেরা বলেন, ১০০ গ্রাম তরমুজে ৩০ ক্যালরি থাকে। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রামে ৩.৩ গ্রাম চিনি থাকে। তরমুজে যেহেতু পানির পরিমাণ বেশি, তাই ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত তরমুজ খাওয়া অনেকের কাছে সহজ মনে হতে পারে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
যমুনার চরে ভুট্টার বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার যমুনার নদীর চরাঞ্চলে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা প্রতিটি চরে হচ্ছে ভুট্টা চাষ।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে তারা বড় দুশ্চিন্তা করছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে। কেননা দুর্যোগের কারণে ভুট্টা ছড়া ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, প্রতিবারের মতো এবারও টাঙ্গাইলের কালিহাতীর যমুনা নদীর চরঞ্চলে গত বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২০২০ ও ২০২১ অর্থ বছরে ১২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী, পটল, পাইকড়া, নারান্দিয়া, সহদেবপুর ও বাংড়া ইউনিয়নসহ ছয় ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় আংশিক কিছু এলাকায় ভুট্টা চাষাবাদ করা হয়েছে। এতেও ভালো ফলন হয়েছে। ১ বিঘা জমিতে চরাঞ্চলে ধান চাষ করলে ১২ থেকে ১৫ মন ধান হয় অপর দিকে ১ বিঘা জমিতে ভূট্টা হয় ৩৫ থেকে ৪০ মন। ১ মন ধানের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। ভুট্টার দামও ধানের মতই। ভুট্টা চাষে কীটনাশক ও সারের ব্যবহারও কম হয়। অন্যান্য রবি শস্যের চেয়েও ভুট্টার ফলন বেশি।

তাছাড়া সহজে চাষাবাদযোগ্য এবং অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হয়েছে। তাছাড়া ভুট্টা গাছ গো-খাদ্য আর ডাটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আরো বেশি আগ্রহ সহকারে চাষাবাদ করে থাকে।

আরো জানা যায়, যমুনা নদীর অংশে উপজেলার চরঞ্চলে জেগে ওঠা চরের প্রায় প্রতিটি জমিতে ভুট্টা লাগানো হয়েছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে ভুট্টা পাতাগুলো। মৌ-মাছিরা ভুট্টা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ করছে। যা চোখে পড়ার মত ছিল। মনের আনন্দে ভুট্টা কৃষকরা ভুট্টা গাছের গোড়ায় নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ, পানি সেচ, আগাছা পরিস্কার করছে।

পাইকড়া ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের ভুট্টা চাষী দেলোয়ার হোসেন জানান, গতবার জমিতে আমরা ধান চাষ করেছিলাম। ভুট্টা চাষে অনেকেই লাভবান হয়েছে। তাই তাদের দেখে ও পরামর্শে প্রথমবারের মতো আমরা ভুট্টা চাষে আগ্রহ হয়ে আমার ১৬০ শতাংশ জমিতে ৭৭২০ জাতের ভুট্টা চাষ করেছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খুবই খরচ কম হয়েছে। জমি চাষ, সার, কীটনাশক, পানি সেচ, শ্রমিক খরচ ও ভুট্টার বীজ কেনা বাবদ এবং ভুট্টা ঘরে তোলা পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। যা ধান চাষের তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচ। ১৬০ শতাংশ জমিতে তার ১৬০ মন ভুট্টা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন কদিম হামজানী গ্রামের ভুট্টা চাষী মনিরুজ্জামান জানান, আমি গতবছর ১ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। ভুট্টা চাষে ধান চাষের চেয়েও লাভ বেশি। এজন্য এ বছর ২৫০ শতাংশ জমতি ভুট্টা লাগিয়েছি। আশা করছি প্রতি শতাংশে ১ মন করে ভুট্টা পবো। উপজেলার চরঞ্চলের শুকনো মৌসুমে জেগে ওঠা বালুচরে বর্ষাকালে পলিমাটি পড়ে। যা বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করার জন্য উপযোগি। কম খরচে ও কম কীটনাশক ব্যবহার করে অধিক ফলন হয়।

কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার জানান, উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের লোকেরা অন্য ফসলের চেয়ে এবার ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেশি। ভুট্টা চাষ অধিক লাভজনক একটি ফসল। উপজেলার ৩৫০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র-দরিদ্র কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে সুপার সাইন জাতের ভুট্টার বীজ দেয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমির জন্য ২ কেজি সুপার সাইন ভুট্টার বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। আমাদের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে নিরলসভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এবার হেক্টর প্রতি প্রায় ১০ টন উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১:৫৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে ইরি-বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার সর্বত্র ধান কাটা আর মাড়াইয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও কৃষি শ্রমিক, কোথাও আবার হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে সেখানকার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের মতে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান জানান, এবছর দিরাইয়ে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলায় ধান কাটার হারভেস্টর মেশিন রয়েছে ৪৫টি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষি প্রণোদনা হিসেবে ৮ হাজার ৮০০ কৃষককে হাইব্রিড বীজ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৯৫০জন কৃষককে সার ও সরিষা এবং ভূট্টার বীজ প্রদান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠিতে পানিতে তলিয়ে গেলো ক্ষেত, লোকসানে তরমুজ চাষি
কৃষি বিভাগ

ঝালকাঠিতে তরমুজ চাষে লাভের আশায় লাখ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করে কৃষক। অথচ সম্প্রতি পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আধাপাকা ফলন। মাথায় হাত কৃষকের। পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিশখালি নদীপাড়ের গ্রাম মানকী সুন্দর। এ গ্রামের ৮ কৃষক মিলে ১০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেন। সঙ্গে আরও ১০ জন দিনমজুরের অক্লান্ত শ্রমে যখন মাঠে হেসে ওঠে তরমুজের ফলন। কিন্তু পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে সেই হাসি কান্নায় পরিণত হয়। ঋণের টাকায় পুঁজি খাটিয়ে ৬০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বেশ লাভজনক হওয়ায় জেলার চরাঞ্চলে ছোট ছোট দল বেঁধে চাষিরা তরমুজ চাষের প্রকল্প গড়ে তোলেন।

পানি একদিন পর নেমে গেলেও বেশির ভাগ তরমুজ গাছের গোড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আকারে বড় হবে না ফলনের একটি বড় অংশ।

শুধু মানকীসুন্দর গ্রামের তরমুজই নয়, বন্যার কবলে পড়েছে সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, বিনয়কাঠি, ধানসিঁড়ি, রাজাপুর উপজেলার সাঙ্গর, সুক্তাগর, কেওতা, পালটসহ কাঁঠালিয়া ও নলছিটি উপজেলায় তরমুজ চাষ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হকক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, বন্যাসহ বৈরী আবহাওয়ার কবল থেকে চরাঞ্চলের তরমুজ রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ জরুরি ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
বশেমুরকৃবি‘র গবেষণায় শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন
কৃষি গবেষনা

কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল‘র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪৪ হাাজর ৫০ টন সিম উৎপাদিত হচ্ছে (বিবিএস, ২০২০)। দেশের প্রায় সব জাতগুলো মৌসুমের একই সময়ে ফলন দেয় এবং বেশিরভাগ চাষি একই সময়ে তাদের শিম বাজারে নিয়ে আসেন। এতে করে শিমের বাজারমূল্য হ্রাস পায়। তাছাড়া খরা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, পোকামাকড় (এফিড) বা রোগবালাইয়ের আক্রমণে উৎপাদন কমে যায়।

বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৩৭% উপকূলীয় এলাকা। ওই এলাকাতে চাষ উপযোগী সবজি তথা শিমের অনুমোদিত উফশি তেমন জাত নেই। এমতাবস্থায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখা এবং খরা, অতিবৃষ্টি ও লবণাক্ততার প্রভাব প্রতিরোধসহ বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকায় চাষযোগ্য নতুন জাত উদ্ভাবনই সর্বোত্তম ও বিকল্প উপায়।

এই জাতের বীজ রোপণ করতে হবে গোবর-মাটির মিশ্রণে ভরা (অর্ধেক-অর্ধেক) ছোট পলিথিন ব্যাগে। চারা গজালে মাঠে গর্তে লাগাতে হবে। প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া (দুইবারে), ৩০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। এক কঞ্চি বিশিষ্ট বাউনি বা মাচা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন বিইউ শিম-৭ জাতটি লবণসহনশীল ও উচ্চফলনশীল। এ জাতটি দেশের বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে শীত মৌসুমে পতিত থাকা জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও অধিক পরিমাণ সবজি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে।

প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, নতুন উদ্ভাবিত এ জাতে গাছপ্রতি ২ দশমিক ৪ থেকে ৩ দশমিক ৫ কেজি সিম উৎপাদিত হয়। সেই হিসেবে হেক্টর প্রতি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনশীলতা ৩৫ টন।

তিনি বলছেন, ১২ ডিএস/এম লবণাক্ততা সহনশীল হওয়ায় এই জাতের শিম ১৯টি উপকূলীয় জেলাসহ সারাদেশে আবাদ করা সম্ভব। বিশ্বে টাটকা সবজিতে ০.৫ থেকে ৩২.০ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম অ্যান্থসায়নিন পাওয়া যায়। নতুন জাতটিতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্থসায়ানিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে।

অ্যান্থসায়নিন হলো পোলিফেনোলিক রঞ্জক যা পরাগায়নে সাহায্যকারী পতঙ্গ এবং বীজ বিস্তারককে আকর্ষণ করে ফসলের বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গাছকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। শাকসবজিতে প্রাপ্ত অ্যান্থসায়নিন মানবদেহের ভাস্কুলার প্রদাহ হ্রাস এবং থ্রম্বোসিস (রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকরী বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।

প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, প্রায় সব জাতের শিমই জাব পোকা এবং জ্যাসিড দ্বারা আক্রান্ত হয়। শীতের অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সিমের প্রধান পতঙ্গ শত্রু। অর্থাৎ এফিড এবং জ্যাসিড মাত্রাতিরিক্তভাবে বংশবিস্তারের কারণে ফসলটি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে ফলন কমে যায়, যা থেকে নতুন জাতটি প্রতিরোধী।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রোপণ করলে ১৩০ দিনে এই সিম সংগ্রহ করা যায়। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরও ২০ দিন সময় বেশি লাগবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
আমের গুটি ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

আম চাষিদের জন্য চলতি মৌসুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় অনেক চাষিকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এরমধ্যে আমের গুটি ঝরা অন্যতম। আম গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রাকৃতিক কারণ: আম গাছে প্রতি মুকুলে ১ হাজার থেকে ৬ হাজারটি পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তারমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়। গুটি আসার ২৫-৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক-দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোন কোন মুকুলে চার-পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

প্রতিকার: অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয়। ফলে আমের গুণগতমান ও ফলন কমে যায়। প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়। তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০-২০ দিন পর দুইবার দশ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড স্প্রে করলে ভালো হয়। এছাড়া সব ফুল ফোটা অবস্থায় জিবেরেলিক অ্যাসিড প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম হারে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

মাটিতে রসের অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। আমের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়। মাটিতে রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

প্রতিকার: মাটিতে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চারপাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেওয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। সেচের পাশাপাশি হরমোন প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়। আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার অথবা প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার হারে প্লানোফিক্স হরমোন পানিতে মিশিয়ে হালকা সূর্যের আলোয় আমের গুটিতে স্প্রে করলে গুটি ঝরা কমে যায়।

পোকার আক্রমণে: গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কিড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

প্রতিকার: গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে। কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি গ্রুপের যে কোন একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব ৮০ ডচ গ্রুপের যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা: আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

প্রতিকার: এ সমস্যা দেখা দিলে আমবাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এমনকি গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop