৩:০৯ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ২২, ২০২১ ৫:২৭ অপরাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৮২৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলা তথা যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৮২৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। সেখানে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবছর বেশি জমিতে কৃষকরা পাটের আবাদ করেছেন।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে যশোর জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ১২৫হেক্টর জমিতে।ঝিনাইদহ জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে। মাগুরা জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে।

কুষ্টিয়া জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে এবং মেহেরপুর জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে।

জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার, বাঘারপাড়া উপজেলার, ঝিকরগাছা উপজেলার, চৌগাছা উপজেলার এবং মাগুরা সদর উপজেলার মাঠের পর মাঠ জুড়ে পাটের পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পাট চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ, পরামর্শ, উঠান বৈঠক, নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক পাট চাষ সম্পন্নের লক্ষ্যে সহজশর্তে কৃষকদের লোন প্রদান করছে। গত কয়েক বছর যাবত পাটের দাম ভালো থাকায় এ অঞ্চলের জেলা গুলোতে পাটের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৭, ২০২১ ১:০৫ অপরাহ্ন
হল্যান্ডকে ‘বাংলাদেশ ডে’ পালনের অনুরোধ
কৃষি বিভাগ

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী বছর হল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে হল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে ‘৭ম আন্তর্জাতিক হর্টিকালচার এক্সিবিশন’। এ প্রদর্শনীতে দেশের কৃষিপণ্য ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ ডে’ পালনের জন্য হল্যান্ডকে  অনুরোধ জানাবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৬ মে) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্সিবিশনে কৃষিতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য, এ দেশের কৃষিপণ্য ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ ডে’ পালনের অনুরোধ জানানো হবে।

সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে সকাল থেকেই অফিস করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। অফিসে নিয়মিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি তিনি সারা দেশের বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্থাপ্রধান ও মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং তা আরও বাড়াতে আমাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীরা করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মতো কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ ধারা অব্যাহত রাখা ও আরও গতিশীল করার জন্য সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অফিস করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৭, ২০২১ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন
করোনা উপসর্গে হরিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার মৃত্যু
কৃষি বিভাগ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিলাস চন্দ্র মণ্ডল (৩০)করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

গত রবিবার সকালে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার জানান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে হরিরামপুরে কর্মরত ছিলেন বিলাস চন্দ্র মণ্ডল। গত শুক্রবার তিনি অসুস্থ হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তার করোনার উপসর্গ ছিল। এছাড়া তার ডায়াবেটিস ছিল।

নিহত বিলাস চন্দ্র মণ্ডলের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদরপুরে। মা ও স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৬, ২০২১ ৭:৩০ অপরাহ্ন
নেত্রকোনায় গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
কৃষি বিভাগ

নেত্রকোনায় গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ঝলসে যায় মহিউদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয় তার।

রোববার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার আমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া কৃষক মহিউদ্দিন ওই এলাকায় বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনের মাঠ থেকে গরু আনতে যান মহিউদ্দিন। এ সময় বৃষ্টি বজ্রপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে তার শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৬, ২০২১ ১২:২৬ অপরাহ্ন
ভান্ডারিয়ায় বজ্রাঘাতে কৃষকের প্রাণহাণি!
কৃষি বিভাগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পৈকখালী গ্রামে বজ্রাঘাতে আল-আমিন হোসেন তালুকদার (৩০) নামের এক কৃষকের প্রাণহাণি ঘটেছে।

শনিবার (১৫ মে) বিকেলে ওই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মোদাচ্ছের আলী তালুকদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (১৫ মে) বিকেলে বৃষ্টি হলে আল-আমিন বাড়ির পাশের মাঠে ছাগল আনতে যান। এ সময় বজ্রাঘাতে তিনিসহ ছাগলের প্রাণহানি ঘটে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জিব কুমার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা যান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৬, ২০২১ ১২:০৪ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় বোরো’র বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো’র বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশি হলেও লকডাউনের কারণে শ্রমিক সঙ্কটের আশঙ্কা করেছেন সেখানকার চাষিরা।

উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামে কৃষক মো. আবদুল মান্নান জানান, আমি গত কয়েক বছরের চেয়ে এবছর বেশি জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছি। তিন একর জমিতে প্রায় ৩শ’ মণ ধান হবে বলে আশা করি। ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব হওয়ায় কৃষকরা অতীতের তুলনায় ধান চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক জানান, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে উপজেলার কৃষি প্রণোদনা ও পুর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় সাড়ে ৩ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ২ কেজি করে হাইব্রিড বোরো ধানের বীজ দেওয়া হয়। এক হাজার ১শ’ ৯৫ জন কৃষকের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছি। উপজেলায় চলতি বছর বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ৩:৪৫ অপরাহ্ন
আজ থেকে শুরু রাজশাহীতে মৌসুমের আম পাড়া
কৃষি বিভাগ

প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ। মওসুমের প্রত্যাশিত রাজশাহীর আম আজ (১৫ মে) গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে। প্রথম দিন সব ধরনের গুটি আম পাড়ছেন সেখানকার আম চাষিরা। চাষিরা বলেছেন, এবছর ফলন ভালো।

আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় নামবে গোপালভোগ আম। এর আগে অসময়ে কাঁচা আম পেড়ে কেমিকেল ব্যবহার করে পাকানো রোধ করতে আম পাড়ার ন্যূনতম সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মৌসুম জুড়েই মনিটরিং করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমি থেকে আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন। ঝড়-ঝঞ্ঝার কবলে না পড়লে এ আম দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
পূর্বশত্রুতার জেরে ঈদের দিনে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল কৃষকের!
কৃষি বিভাগ

নেত্রকোনার মদনে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মো. দিলোয়ার হোসেন দিলু (৪০) নামে এক কৃষকের প্রাণ গেল। নিহত দিলোয়ার ওই গ্রামের আব্দুর রেজ্জাক মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল আমীনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার(১৪ মে) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর জমিতে ধান কাটা নিয়ে নিহত দিলোয়ার ও একই গ্রামের আন্তু মিয়ার ছেলে আল আমীনের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী বিষয়টি মিটমাটও করে।

শুক্রবার দুপুরে দিলোয়ার বাড়ির সামনের মাঠে গরু চড়াতে গেলে অভিযুক্ত আল আমীন তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে মদন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান তিনি।

ওসি ফেরদৌস আলম জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আল আমীন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত আল আমীনকে নিজ গ্রাম থেকে বিকালে আটক করে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় তিন সাথী ফসল চাষে তাক লাগিয়েছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলায় তিন সাথী ফসলের (ভুট্টা, ধনেপাতা, আলু) আগাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন সেখানকার চাষিরা। তারা ভুট্টা চাষের পাশাপাশি প্রতিটি জমিতে ধনেপাতা ও আলুর চাষ করে রীতিমতো কৃষি অঙ্গনে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি জমিতে আলু ও ধনেপাতার চাষও বেশ ভালো হয়েছে। তিন সাথী ফসলে লাভবান হওয়ায় কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।

জানা যায়, ওই উপজেলার পাঁচগাছিয়া, দৌলতপুর, জিংলাতলী, মারুকা, মালিগাঁও, বারপাড়া, সুন্দলপুর, হরিপুর, ঢাকারগাঁও, গোয়ালমারী, রাঙ্গাশিমুলিয়া, ডাকখোলাসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ জুড়ে ভুট্টা আর ভুট্টা। এখন ভুট্টা সংগ্রহের উৎসব চলছে। প্রতিটি বাড়ির উঠানে, ঘরের চালায়, ভবনের ছাদে, স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসা ও মক্তবের মাঠে কৃষাণ-কৃষাণিরা ভুট্টা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা ফসলের মাঠে গিয়ে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন। কেউ জ্বালানির জন্য ভুট্টার মোচা, ভুট্টার ছোবড়া ও ভুট্টাগাছ সংগ্রহ করছেন।

সেখানকার কৃষকরা জানান, বীজ, চাষ, সার, কৃষিশ্রমিক ও পরিচর্যাসহ একই খরচে জমিতে ভুট্টার পাশাপাশি ধনেপাতা ও আলুর চাষ করা যায়। এতে ভুট্টা চাষের খরচ ধনেপাতা ও আলু বিক্রি থেকে উঠে আসে। এভাবে ভুট্টার আয়ের পুরোটাই তাদের লাভ হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তিন সাথী ফসল (ভুট্টা, ধনেপাতা, আলু) আবাদে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় সব কৃষকই শতভাগ লাভবান হয়েছেন। ভুট্টা আগাম চাষ করা গেলে এবং ব্যবস্থাপনা ভালো হলে উচ্চ ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের পরামর্শসহ নানাভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
স্বল্প মূলধনে কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী মাকসুদা
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাকসুদা আক্তার (২৮) কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদন করে এখন স্বাবলম্বী। এ সারকে ভার্মিকম্পোস্ট বলা হয়। ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে ক্রমেই চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। স্বল্প মূলধনের এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে। প্রতি মাসে এ সার বিক্রি তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামে মাকসুদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একচালা টিনের ঘর। ওই ঘরেতে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে থাকেন। ঘরের মেঝেতে নিজের হাতে বানানো ৫টি মাটির চারি (পাত্র) ও ৬ টি রিং স্লাব রয়েছে।

মাকসুদা আক্তার বলেন, ২০১৫ সালে তিনি কুয়াকাটায় এক উদ্যেক্তার ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন দেখে অনুপ্রাণিত হন। তারপর কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিতে বলি। ওই সময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিলে অল্প পরিসরে ছোট একটা পাত্রে কেঁচো সার তৈরি করি।

তিনি কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রথমদিকে একটু কষ্ট হলেও এখন ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কোঁচো সার উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে থাকছে কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈর, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাকসবজির উচ্ছিষ্ট। আমার চারি (পাত্র) বেশ বড় আকারের। প্রতি চারিতে প্রায় ৬ মণ সার রাখা যায়। আমার এখানে কেঁচোর বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই বাহির থেকে আমার আর কেঁচো সংগ্রহ করতে হয় না।

তিনি জানান, প্রথমে গোবর সংগ্রহ করে ১০ দিন যাবত পচাতে হবে। গোবরে যদি পানি থাকে তাহলে রোদে শুকাতে হবে। তারপর ওই গোবর ঠান্ডা করে চারিতে (পাত্র) রাখতে হবে। তারপরে কেঁচো দিতে হবে। তারপর কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈল, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট মিশিয়ে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।

কেঁচো আবার ছায়া বা অন্ধকার জায়গা পছন্দ করে। এভাবে ১ মাসের মধ্যে তৈরি হয় ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার। আমার এখানে এখন ৩ লাখ টাকার কেঁচো সার রয়েছে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা করে বিক্রি করি। ১ কেজি কেঁচো ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এ ছাড়াও কেঁচো ২ টাকা পিচ হিসেবে বিক্রি করি। আমার সংসার ভালোই চলতেছে। ভবিষ্যতে আমার খামারে আরো বেশি পরিমাণ কোঁচো সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আমি ব্লু গোল্ড প্রেজেক্টের আওতার আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

কিভাবে কেঁচো সার করি তা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে আমার এ খামার মানুষ আসতেছে। এটা আমার কাছে ভালোই লাগে। আমি চাই নারীরা এগিয়ে আসুক। এ সার উৎপাদন করে আমার মত তারা স্বাবলম্বী হোক। সহজেই কম পুঁজিতে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এখন বাজারে রাসায়নিক সারের মান খুবই খারাপ। আবার দামও বেশি। সেখানে ভার্মিকম্পোষ্ট পুরোপুরি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি একটি সার। এ সারের দামও কম। তাই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বহালগাছিয়া এলাকার কবির হোসেন জানান, আমাদের এলাকার মাকসুদা ঘরে বসে সার বিক্রি করে টাকা উপার্জন করছে। এটা আমাদের কাছে প্রশংসার। আমরা চাই তিনি আরও বড় উদ্যোক্তা হোক।

কৃষক বাতেন জানান, আমার একটি সবজি বাগান রয়েছে। আমি শুনতে পাই কেঁচো দিয়ে মাকসুদা নামের এক নারী প্রাকৃতিক উপায়ে সার তৈরি করছেন। আমি সেখান থেকে সার নিয়ে এসে সবজি বাগানে দেই। এবার সবজি বাগানে ফলন ভালোই এসেছে। এই সারটি প্রকৃতিক একটা সার কোনো ভেজাল নেই দামও কম।

স্বামী নুরুজ্জামান খান জানান, নারীরা যদি ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারে তা তো ভালোই। এ সারটি যে কোন নারী তার ঘরে বসে উৎপাদন করতে পারবে। আমি আমার স্ত্রীকে সার তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। ক্রমেই মাটির প্রাণ হ্রাস পাচ্ছে তাই আমরা জৈব সার প্রয়োগের উপরে জোর দিচ্ছি। কেঁচো সারে ফলন ভালো হয় এটা প্রমাণিত। তাই আমরা চাষিদের সবজি খেতে ও ফলের বাগানে ভার্মিকম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে বলি।

স্বল্প পরিসরে হলেও এখানে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। ভার্মিকম্পোস্টকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি এ জেলাকে ভার্মিকম্পেস্ট সম্পন্ন জেলা হিসেবে পরিণত করা। এ সারের যতই ব্যাবহার বাড়বে ততই ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসবে বলে জানান তিনি। সূত্র: জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop