৮:০৭ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ২, ২০২১ ৭:২৬ অপরাহ্ন
করোনা ঝুঁকিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাঠের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কৃষি মন্ত্রণালয়
কৃষি বিভাগ

করোনার ঝুঁকির মধ্যেও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ে জরুরি প্রয়োজনে অফিস করার পাশাপাশি সরেজমিনে মাঠের কার্যক্রম পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন। একইসঙ্গে চলমান ‘লকডাউনে’ও খোলা রয়েছে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থাসমূহের অফিস। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় সীমিত পরিসরে ও মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রয়েছে।

রোববার (২ মে) কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনার ঝুঁকির মধ্যেও হাওরে বোরো ধানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার বিতরণ ও ধান কাটায় উৎসাহ দিতে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হাওরে ছুটে গিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব।

এছাড়া গাজীপুরে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করে তারা দ্রুত ‘উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল’ ধানের জাত উদ্ভাবনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

‘লকডাউনে’ এসব উদ্যোগের ফলে মাঠ পর্যায়ে ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারের সর্বোচ্চ ব্যবহার, কৃষি উপকরণের সরবরাহ, হাওরে বোরো ধান কর্তন ও শ্রমিকের নির্বিঘ্ন যাতায়াত সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ‘লকডাউনের’ শুরু থেকেই বোরো ধান কর্তনের জন্য কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ কৃষিযন্ত্র বিতরণ ও আন্তঃজেলা শ্রমিক পরিবহনে সহযোগিতা দেওয়াসহ বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য খোলা রয়েছে অফিসগুলো। তাছাড়া আউশের প্রণোদনা, সার, বীজ, কীটনাশক প্রভৃতি উপকরণ বিতরণের কাজও সুষ্ঠুভাবে চলমান আছে।

মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিস খোলা রেখে জরুরি কার্যক্রম চলমান আছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থাসমূহের মাঠ পর্যায়ের অফিসের সঙ্গে প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ ও ধান কাটাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত সচিবদের নেতৃত্বে প্রতিদিন একটি করে টিম সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি রোস্টার ভিত্তিতে উপ-সচিবদের নেতৃত্বে একটি ‘মনিটরিং সেল’ সচিবালয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া কৃষিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব নিয়মিতভাবে সংস্থাপ্রধানসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে জরুরি সভা করছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের কাজ ও ই-নথির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও চলমান আছে। দপ্তরগুলোর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও এর মাঠ পর্যায়ের জেলা-উপজেলা অফিসগুলো খোলা রয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ নিয়মিতভাবে অফিস করছেন। তিনি ও অধিদপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২, ২০২১ ৫:৫৩ অপরাহ্ন
ডিএই বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক অদুদ খানের বিদায় সংবর্ধনা
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুল অদুদ খানের ২৯ এপ্রিল চাকরিকাল শেষ হয়। এ উপলক্ষে বরিশালের খামারবাড়িতে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

আনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন।

উদ্যান বিশেষজ্ঞ জি এম এম কবির খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. ফজলুল হক, পটুয়াখালীর উপপরিচালক একেএম মহিউদ্দিন, বরিশালের জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার ড. মো. নজরুল ইসলাম শিকদার, আাঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন, মেট্টোপলিটন কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস প্রমুখ।

দীর্ঘ চাকরিজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের জন্য বক্তারা তাঁকে ভূয়শী প্রশংসা করেন।

জনাব খান ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাজেমহল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে বাউফল হাইস্কুল হতে এসএসসি পাশ করেন। এইচএসসি পাশ শেষে তিনি ১৯৮০-৮১ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

অতঃপর শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৩তম বিসিএসের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যুক্ত হন। প্রথমে ভোলার তজুমুদ্দিনের উপজেলা কৃষি আফিসে এসএমও হিসেবে যোগ দেন। পরে উপজেলা কৃষি অফিসার পদে পদোন্নতি পেয়ে ঝালকাঠি সদরে যোগদান করেন। ইতোপূর্বে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২, ২০২১ ৫:৪৬ অপরাহ্ন
এক মিষ্টি আলুর ওজন ১২ কেজি
কৃষি বিভাগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কৃষিজমিতে ১২ কেজি ওজনের একটি মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। বৃহৎ আকারের আলু দেখে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দ গ্রামে।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটিবন্দর এলাকার সৌখিন কৃষক সৈয়দ আলম তার দশ শতাংশ জমিতে কমলা সুন্দরী জাতের মিষ্টি আলুর লতা রোপণ করেন। আলুর লতা রোপণের ৭/৮ মাসের ব্যবধানে তার রোপণ করা জমিতে প্রায় ১২ কেজি ওজনের একটি মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক সৈয়দ আলম জানান, বাড়ি তৈরি করার জন্য ১০ শতাংশ একটি জমিতে মাটি ভরাটের পর সেই জমিতেই কৃষি অফিসের পরামর্শে আলু রোপণ করেছি। জমি থেকে আলু তোলার জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রথমে নজরে আসলেও বুঝতে পারিনি এটি মিষ্টি আলু। পরে উৎসাহ নিয়ে আলুর চারিদিক থেকে মাটি সরানোর পর আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে ওঠে। আনন্দে আমি চিৎকার করতে থাকি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহাম্মেদ জানান, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের তালিকায় ৯ কেজি ওজনের একটি আলুর তালিকা রয়েছে। আর সোনারগাঁয়ের কৃষক সৈয়দ আলমের জমির মিষ্টি আলুর ওজন প্রায় ১২ কেজি। এই আলুর ওজনটি গিনেস বুকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে আমরা আলুর যে লতা পেয়েছি তা থেকে দু-তিনটি আলু বড় হয়েছে। এটি আসলে ব্যতিক্রম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৩০, ২০২১ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
তীব্র গরমে নষ্ট হচ্ছে সবজি ক্ষেত!
কৃষি বিভাগ

সবজি নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ময়মনসিংহের কৃষকেরা।বোরো ধানের পর এবার তীব্র গরম ও তাপদাহে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সবজি ক্ষেত।

ময়মনসিংহ সদরের চর ঈশ্বরদিয়া গ্রামের কৃষক মিরাজ উদ্দিন ৪০ শতক জমিতে শসার আবাদ করেন। তবে তীব্র গরম ও তাপদাহে শসা ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাছে শসা আসার পরেই তীব্র গরম ও তাপমাত্রার কারণে শসাসহ গাছের পাতা মরে যাচ্ছে। পুরো ক্ষেতের একই অবস্থা।

কৃষক মিরাজ উদ্দিন জানান, দুই মাস আগে ৪০ শতক জমিতে শসার আবাদ করেন। আবাদ করতে তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। শসার ফলন ভালো হয়েছিল। কচি শসা গাছের ধরার পরই তীব্র গরম ও তাপদাহে শসাক্ষেত পুড়ে যাওয়ার মতো হয়ে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কচি শসা আর বড় হতে পারেনি। এখন ক্ষেত থেকে শসা তুলতে পারবে এমন অবস্থা নেই।

মিরাজ উদ্দিন আরও জানান, শসা বিক্রি করে খরচ বাদে আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা মুনাফা হতো। কিন্তু শসা নষ্ট হওয়ায় এখন লাভ তো দূরে থাক, খরচই উঠবে না বলে জানান তিনি।

একই এলাকার আলমগীর হোসেন জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ গরম বাতাস এসে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বোরো ধানের পাশাপাশি এলাকার সবজি ক্ষেতও নষ্ট হতে বসেছে। বর্তমানে সবজির ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছিল, তবে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃমক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মতিউজ্জামান লাভলু জানান, তীব্র গরমে কিছু কিছু সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে কি পরিমাণ নষ্ট হয়েছে, বিষয়টি তার অজানা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৩০, ২০২১ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন
বোরো ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জয়পুরহাটের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

জেলার মাঠ ঘাট এখন বোরো ধানের শীষে ঝলমল করছে। সোনালী বর্ণ ধারন করা এ ধান কৃষকের ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে এবং করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকলেও ধান কাটতে শ্রমিকের কোন সমস্যা হবে না এমন আশা কৃষি বিভাগের। জেলায় এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খাদ্যে উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি ২০২০-২০২১ রবি ফসল উৎপাদন মৌসুমে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলায় এবার ৬৯ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ৬৮ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মে.টন। বোরো চাষে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১ হাজার ৯৫৫ টি গভীর ও ৮ হাজার ৫৯৮টি অগভীর নলকূপ চালু করা হয়।

বিএডিসি (বীজ) কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে বিআর-২৮, ২৯, ১৬ ও ৫৪ জাতের ধান। হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে এসিআই- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ধানীগোল্ড, হিরা-২, ৫, জাগরন, ময়না, টিয়া, ধানী, এসএল-৮, তেজ। সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়ন, জামালপুর ইউনিয়ন, পুরানাপৈল ইউনিয়ন, ধলাহার ইউনিয়ন, বম্বু ইউনিয়ন, আমদই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে বোরো ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারন করেছে। ফলন ভালো হওয়ায় ধানের শীষ গুলো হেলে পড়েছে জমিতে।

কোমরগ্রাম এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, শ্যামপুর এলাকার কৃষক সুশীল চন্দ্র মন্ডল জানান, এবার ধানের ফলন খুব ভালে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার জয়পুরহাটের কৃষকদের ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যবহারের জন্য ১৮ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার বরাদ্দ প্রদান করেছে। এরমধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট সদরে ৫ টি ও কালাই উপজেলায় ৫ টি , ক্ষেতলালে ৩ টি, আক্কেলপুর উপজেলায় ২ টি ও পাঁচবিবি উপজেলায় ৩টি।

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটের বোরো ধান যাতে ঘরে তুলতে কৃষকের কোন সমস্যা না হয় সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় আরও ৪ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার চাওয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স. ম মেফতাহুল বারি। কম্বাইন্ড হারভেষ্টার গুলোর মোট মূল্যের অর্ধেক দাম দিবে কৃষক এবং বাকী অর্ধেক ভূর্তকি হিসেবে দিবে সরকার।

জেলায় ধান কাটার জন্য পাশবর্তী জেলা গাইবান্ধা, রংপুর , কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগোযোগ করা হচ্ছে ফলে শ্রমিকের সমস্যা হবেনা উল্লেখ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৯-২০২০ মৌসুমে জেলায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এতে চালের উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৫ মে. টন । যা জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছিল ৪ দশমিক ৬৩ মে.টন চাল।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৯, ২০২১ ৭:০০ অপরাহ্ন
পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

পাটবীজে কৃষকদের আগ্রহী করতে ও কৃষকেরা যাতে চাষ করে লাভবান হয় সেজন্য প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

আজ বৃহস্পতিবার ‘পাটবীজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনার’ ভার্চুয়াল সভায় এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। এছাড়া, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে ‘একটি সমন্বিত প্রকল্প’ গ্রহণের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, পাটবীজের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল না থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। দেশে পাটবীজ উৎপাদনের মূল সমস্যা হলো অন্য ফসলের তুলনায় কম লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা চাষ করতে চায় না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছে। সেই জিনোম ব্যবহার করে দেশের বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন করেছে; যার ফলন ভারতের পাটজাতের চেয়ে অনেক বেশি। কৃষক পর্যায়ে এসব জাতের চাষ জনপ্রিয় করতে পারলে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব। সেজন্য, এসব দেশিয় জাত দ্রুত জনপ্রিয় করতে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী এসময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সম্প্রসারণকর্মী ও বিজ্ঞানীদেরকে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য রোডম্যাপ বাস্তবায়নে দ্রুততার সাথে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম বলেন, পাটবীজ চাষের জন্য জমির স্বল্পতা রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সুগার মিলের জমি পাটবীজের উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানান হয়, দেশে বর্তমানে উৎপাদিত পাটের ৮৫ ভাগই তোষা জাতের পাট। এ পাটবীজের চাহিদার প্রায় ৮৫-৯০ ভাগ ভারত থেকে আনতে হয়। এই বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ৫ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ এই ৫ বছরের মধ্যে দেশে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো: মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো: রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা ও সংস্থাপ্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৯, ২০২১ ১১:১১ পূর্বাহ্ন
১ লাখ টাকা খরচে ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করবে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছার লবণাক্ত এলাকায় এ বছর উপজেলায় ১১শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও তরমুজের ফলনের কোন সমস্যা হয়নি ওই অঞ্চলে। তাই এবার সেখান তরমুজ চাষিদের মুখে সফলতার হাসি। গত বছর উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১১শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটি ইউনিয়নে এক হাজার হেক্টর ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১শ’ হেক্টর।

গড়ইখালী ইউপির প্রিতিষ মন্ডল ও দ্বিজেন মন্ডল জানান, আমরা দু’জন সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এ জমিতে চাষ করতে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ৩ লাখ টাকা বেচা-কেনা হবে।

তারা আরো বলেন, আমরা এক বিঘা জমিতে পানি, সার কীটনাশক ছাড়াই চাষ করেছি। দেখা গেছে পানি কীটনাশক ছাড়া চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। এ এক বিঘা জমিতে প্রায় ১ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছে। একই এলাকার প্রসনজিৎ ও দিপক জানান আমরা ৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। আমাদের মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আশা করছি ৬ লাখ টাকার মত বিক্রি হবে।

দেলুটির দারুণ মল্লিক এলাকার নিশিত জানান, এ বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। বর্তমানে ফসলের অবস্থা খুবই ভালো। এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে চাষ শুরু করা হয় এবং এপ্রিলের শেষের দিকে বাজারজাত করা যায়। তরমুজ চাষে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়।
খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। সার-পানি দিলেই হয়। এক বিঘা জমির উৎপাদিত তরমুজ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই এলাকার তরমুজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত তরমুজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৮, ২০২১ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় কৃষকের মাচায় দুলছে হলুদ তরমুজ
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগে ৬৫ শতাংশ জমিতে হলুদ রঙের তরমুজ চাষে সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় এক কৃষক আনোয়ার হোসেন। বর্তমান তার জমিতে ছোট-বড় কয়েকশ হলুদ তরমুজ ঝুলছে তার গাছের ডোগায় ডোগায়।

আনোয়ার হোসেন জানায়, সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগে ৬৫ শতাংশ জমিতে হলুদ রঙের তরমুজও চাষ করেন। উঁচু বেডের মাটি মালচিং শিট পলিথিন দিয়ে তরমুজ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তার মাঝে গোল করে কাটা স্থানে তরমুজ গাছ লাগানো হয়েছে। মাচায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ। যাতে ছিঁড়ে না যায় তাই নেটের ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। হালকা বাতাসে সারি সারি তরমুজ দুলছে। হলুদ রঙের সাথে কালো রঙের ব্ল্যাক সুইট-২ তরমুজও চাষ করা হয়েছে। এখানে কৃষক মার্চ মাসের ২০ তারিখে চারা লাগিয়েছেন। ১০দিন পর তরমুজ কাটতে পারবেন।

কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, বিশেষ পলিথিন দিয়ে ঢাকা বেড তৈরি করি। পলিথিনের নিচে একসাথে সার গোবর দিয়ে দেন। পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়ায় সার নষ্ট হয় না,একাধিকবার দিতে হয় না। এতে পোকার আক্রমণ কম হয়। মাচা তৈরি করেন। তাতে সুতা বেঁধে দেন। তরমুজ বড় হলে নেটের ব্যাগ দিয়ে সুতায় ঝুলিয়ে দেন। এবার তরমুজ হলুদ হলেও এটির ভিতরে লাল ও স্বাদে কড়া মিষ্টি হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে স্থানীয় কৃষকরা তার অসময়ে এ তরমুজ চাষের বিষয়টিকে পাগলামি বলতেন। এখন ভালো ফলন দেখে সবাই তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এবার ৬৫ শতক জমিতে তার এক লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছেন ১০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জমিটি পরিদর্শন করেছি। হলুদ তরমুজ চাষ কুমিল্লায় প্রথম। তার ফসল তোলার সময় মৌসুমী তরমুজ কমে আসবে। সে কারণে আনোয়ার ভালো দাম পাবে।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন জানান, হলুদ তরমুজ থ্যাইল্যান্ডের ইয়োলো কিং তরমুজ। আনোয়ার হোসেনকে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। তার ফলন দেখে ভালো লাগছে। কম সময়ে তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৭, ২০২১ ৪:০৯ অপরাহ্ন
বরিশাল সদরে বিনা উদ্ভাবিত মুগডালের মাঠদিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশাল সদরের চর হিজলতলায় বিনা উদ্ভাবিত মুগডাল চাষ সম্প্রসারণ শীর্ষক কৃষক মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার(২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি (ভার্চুয়ালে) ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মাটি মুগডাল আবাদে যথেষ্ট উপযোগী। এর আবাদ খরচ কম। বাজার মূল্য বেশি। এতে আমিষের পরিমাণ অনেক। পাশাপাশি রয়েছে জিংক এবং আয়রণের মতো পুষ্টি উপাদান। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায়ও হিতকর। সেজন্য এর আবাদ আরো বাড়ানো দরকার। বীজ হিসাবে বিনামুগ-৮’র ব্যবহার অনন্য। এর দানা মাঝারি। রঙ উজ্জ্বল এবং সুগন্ধি। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৮ টন প্রায়। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ মতে চাষাবাদ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি (ভার্চুয়ালে) ছিলেন বিনার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত। বিনা উপকেন্দ্র্রের ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, স্থানীয় ইউপি. সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, প্রদর্শনী কৃষক মো. রানা সরদার, মো. লাল মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৬০ জন কৃষাণ-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৭, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
কুষ্টিয়ায় চাষ হচ্ছে আরবের ফল ‘সাম্মাম’
এগ্রিবিজনেস

করোনাকালে বন্ধ রয়েছে কলেজ। তাই মেস থেকে বাড়ি ফিরে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম খোকন। বাড়িতে বসে না থেকে আধুনিক কৃষি কাজ করার ইচ্ছা জাগে তার। প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে সৌদি আরবের ফল “সাম্মাম” চাষ করার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে ইন্টারনেট ও কৃষি অফিসের পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন তিনি। প্রথমবার চাষেই বেশ সাফল্য পেয়েছেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোগতা নাঈম প্রথম ৩৩ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে এ চাষ করেছেন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বিদেশি এ ফল চাষাবাদের তেমন একটা প্রচলন নেই দেশে। সাম্মাম চাষে ঝুঁকি এবং চাষাবাদ সম্পর্কে প্রচারণার অভাবে চাষ কম হয়। ভিনদেশি রসালো ফল উৎপাদনের খবরে প্রতিদিন তার ক্ষেত দেখতে আসছেন আশপাশের কৃষকরা। কেউ কেউ আগামীতে এ ফল উৎপাদনের জন্য পরামর্শও নিচ্ছেন নাঈমের কাছ থেকে।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নাঈমের ক্ষেত্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনি তার সাম্মাম ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। কুমড়া গাছের মতো লতানো গাছ। গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে গোল গোল ফল। প্রায় প্রতিটি গাছেই ভরপুর ফল। বাঁশের বাতা আর পলিথিনের জালের ফাঁকে ফাঁকে পুরো ক্ষেত যেনো ফলে ভরে রয়েছে। ছোট কুমড়ার আকারের সাম্মাম ফলের ভেতরটা দেখতে ও খেতে বাঙ্গির মতো।

নাঈম বলে, কলেজ বন্ধ, তাই বাড়িতে অবসর সময় কাটাচ্ছিলাম। বিদেশ থেকে ভাই ফোন দিয়ে এ সাম্মাম চাষ করার সম্পর্কে বললেন। আমি ইউটিউব থেকে এটি কীভাবে চাষ করে সেটা জানলাম। পরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বগুড়ার একটি খামার থেকে এ ফলের চারা সংগ্রহ করি। সেই সঙ্গে সেখানে গিয়ে চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

নাঈম আমাদের দেখে নতুন এ ফল সম্পর্কে বলেন, সাম্মাম ফল খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ। বহির্বিশ্বে এ ফলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে এটির প্রচলন এখনো কম। এ ফলকে সৌদিতে সাম্মাম বলে, তবে বিভিন্ন দেশে এটি রক মেলন, সুইট মেলন, মাস্ক মেলন, হানি ডিউ নামেও পরিচিত। সাম্মামের দু’টি জাত রয়েছে। একটি জাতের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরের অংশ লাল, আরেকটি জাতের বাইরের অংশ হলুদ এবং ভেতরের অংশ লাল। তবে খেতে দুই ধরনের ফলই খুব মিষ্টি ও রসালো।

চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, দোঁআশ মাটিতে সাম্মাম চাষ করা ভালো। মাটি ভালোভাবে চাষ করে বেড এবং নালা করে, মালচিং দিয়ে এ ফলের চাষ করতে হয়। তাহলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি খুবই অল্প সময়ের ফসল। গাছ লাগানোর দেড় মাসের মধ্যেই হয় সাম্মাম ফল।

প্রথমে ভাইয়ের কথা মতো ঝুঁকি নিয়ে এ ফলের চাষ শুরু করার কথা উল্লেখ করে নাঈম বলেন, এক বিঘা জমিতে আমার তিন হাজার সাম্মাম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে দুই-তিনটি করে ফল রয়েছে। বেশি ফল রাখলে ফলন কম হয়। একেকটি ফলের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। প্রতিটি গাছেই ফল বেশ ভালো এসেছে। এক বিঘা জমিতে আমার খরচ হয়েছে প্রথমবার হওয়ায় এক লাখ টাকার মতো। আগামীতে খরচ কম হবে। আশা করছি, এ বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো লাভ হবে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু এ ফল কাঁচা-পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়, এজন্য কীটনাশকের পরিবর্তে আমি ফেরামন ফাঁদ, আগাছা যাতে না হয় এজন্য মালচিং দিয়েছি। সেই সঙ্গে বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করছি।

নাঈম ইসলাম খোকন জানান, শ্রমিক খরচ বলতে জমি প্রস্তুতের সময় এক বিঘা জমিতে বেড তৈরির জন্য চারজন শ্রমিক লেগেছে। আর মাদা তৈরির জন্য ১০ জন শ্রমিক লেগেছে। এছাড়া একজন শ্রমিক সব সময় কাজ করেন। শ্রমিকের দিন হাজিরা ৩০০ টাকা করে। নিজেই জমিতে কাজ করায় শ্রমিক খরচ কম লাগে।

এখনো ফল পাকেনি। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে দশনার্থীরা এসে ফল কেনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। পাইকারি দুইশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব। যেহেতু নতুন ফল, আশা করছি, স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা ভালো হবে। ১০ থেকে ১৫ দিন পর থেকে ফল সংগ্রহ শুরু করব, যোগ করেন তিনি।

নতুন এ ফল এবং ফলের চাষাবাদ দেখতে অনেক দূরের এলাকা থেকেও লোকজন নাঈমের জমিতে আসছেন। আগতদের এ ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন নাঈম।

রবিউল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, আমি এ গাছ লাগানো থেকে শুরু করে এ জমিতে দৈনিক হাজিরা হিসেবে কাজ করছি। এ জমিতে খুব ভালো ফল এসেছে। আর ফলগুলো খেতেও খুব ভালো। আগামীতে আমার জমিতে আমি এ ফলের চাষ করবো।

নাজিম উদ্দিন নামে আরেক কৃষক বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, এ ছেলে পাগলের মতো কি চাষ করছে? কিন্তু এখন তো দেখছি বেশ ভালো গাছ আর ফল ধরেছে। শুনেছি এটি বিদেশি ফল, খেতেও খুব ভালো। এর আগে এ ফল আমাদের এলাকায় হয়নি। দুইশ’ টাকা কেজি করে বিক্রি করছে কিছু কিছু। যদি লাভ হয়, তাহলে আগামীতে অনেকেই এ ফল চাষ করবে।

নাঈমের সাম্মাম ক্ষেত দেখতে আসা মস্তফা কামাল নামে এক শিক্ষক বলেন, সৌদি আরবের ফল এখানে চাষ হয়েছে বলে দেখতে এসেছি। দেখে খুবই ভালো লেগেছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে চাষ করা হয়েছে। নতুন এ ফল দেখে দেখে মন ভরে গেছে।

বিদেশি এ ফল অধিক লাভজনক উল্লেখ করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আধুনিক কৃষি গতানুগতিক কৃষিকাজের চেয়ে লাভজন। সাম্মাম বিদেশি ফল, তবে আমাদের এখানেও চাষ করা সম্ভব। নাঈম নামে এক তরুণ কৃষককে আমরা চাষে পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছি। তিনি বিষমুক্ত আধুনিক উপায়ে চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। আগামীতে এ চাষ বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করছি।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, রক মেলন বা সাম্মাম বেদেশি ফল হলেও আমাদের দেশে এটি চাষ করা সম্ভব। মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া এলাকার তরুণ নাঈম এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে এ বছর এ ফল চাষ করেছেন। তিনি খুব ভালো ফলও পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলমূল এবং আধুনিক চাষাবাদে তরুণরা এগিয়ে আসছেন। মিরপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষিত তরুণ কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে লাভজনক ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। সূত্র: কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop