৭:২৮ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১:৫৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে ইরি-বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার সর্বত্র ধান কাটা আর মাড়াইয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও কৃষি শ্রমিক, কোথাও আবার হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে সেখানকার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের মতে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান জানান, এবছর দিরাইয়ে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলায় ধান কাটার হারভেস্টর মেশিন রয়েছে ৪৫টি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষি প্রণোদনা হিসেবে ৮ হাজার ৮০০ কৃষককে হাইব্রিড বীজ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৯৫০জন কৃষককে সার ও সরিষা এবং ভূট্টার বীজ প্রদান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠিতে পানিতে তলিয়ে গেলো ক্ষেত, লোকসানে তরমুজ চাষি
কৃষি বিভাগ

ঝালকাঠিতে তরমুজ চাষে লাভের আশায় লাখ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করে কৃষক। অথচ সম্প্রতি পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আধাপাকা ফলন। মাথায় হাত কৃষকের। পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিশখালি নদীপাড়ের গ্রাম মানকী সুন্দর। এ গ্রামের ৮ কৃষক মিলে ১০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেন। সঙ্গে আরও ১০ জন দিনমজুরের অক্লান্ত শ্রমে যখন মাঠে হেসে ওঠে তরমুজের ফলন। কিন্তু পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে সেই হাসি কান্নায় পরিণত হয়। ঋণের টাকায় পুঁজি খাটিয়ে ৬০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বেশ লাভজনক হওয়ায় জেলার চরাঞ্চলে ছোট ছোট দল বেঁধে চাষিরা তরমুজ চাষের প্রকল্প গড়ে তোলেন।

পানি একদিন পর নেমে গেলেও বেশির ভাগ তরমুজ গাছের গোড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আকারে বড় হবে না ফলনের একটি বড় অংশ।

শুধু মানকীসুন্দর গ্রামের তরমুজই নয়, বন্যার কবলে পড়েছে সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, বিনয়কাঠি, ধানসিঁড়ি, রাজাপুর উপজেলার সাঙ্গর, সুক্তাগর, কেওতা, পালটসহ কাঁঠালিয়া ও নলছিটি উপজেলায় তরমুজ চাষ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হকক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, বন্যাসহ বৈরী আবহাওয়ার কবল থেকে চরাঞ্চলের তরমুজ রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ জরুরি ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
বশেমুরকৃবি‘র গবেষণায় শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন
কৃষি গবেষনা

কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল‘র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪৪ হাাজর ৫০ টন সিম উৎপাদিত হচ্ছে (বিবিএস, ২০২০)। দেশের প্রায় সব জাতগুলো মৌসুমের একই সময়ে ফলন দেয় এবং বেশিরভাগ চাষি একই সময়ে তাদের শিম বাজারে নিয়ে আসেন। এতে করে শিমের বাজারমূল্য হ্রাস পায়। তাছাড়া খরা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, পোকামাকড় (এফিড) বা রোগবালাইয়ের আক্রমণে উৎপাদন কমে যায়।

বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৩৭% উপকূলীয় এলাকা। ওই এলাকাতে চাষ উপযোগী সবজি তথা শিমের অনুমোদিত উফশি তেমন জাত নেই। এমতাবস্থায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখা এবং খরা, অতিবৃষ্টি ও লবণাক্ততার প্রভাব প্রতিরোধসহ বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকায় চাষযোগ্য নতুন জাত উদ্ভাবনই সর্বোত্তম ও বিকল্প উপায়।

এই জাতের বীজ রোপণ করতে হবে গোবর-মাটির মিশ্রণে ভরা (অর্ধেক-অর্ধেক) ছোট পলিথিন ব্যাগে। চারা গজালে মাঠে গর্তে লাগাতে হবে। প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া (দুইবারে), ৩০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। এক কঞ্চি বিশিষ্ট বাউনি বা মাচা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন বিইউ শিম-৭ জাতটি লবণসহনশীল ও উচ্চফলনশীল। এ জাতটি দেশের বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে শীত মৌসুমে পতিত থাকা জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও অধিক পরিমাণ সবজি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে।

প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, নতুন উদ্ভাবিত এ জাতে গাছপ্রতি ২ দশমিক ৪ থেকে ৩ দশমিক ৫ কেজি সিম উৎপাদিত হয়। সেই হিসেবে হেক্টর প্রতি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনশীলতা ৩৫ টন।

তিনি বলছেন, ১২ ডিএস/এম লবণাক্ততা সহনশীল হওয়ায় এই জাতের শিম ১৯টি উপকূলীয় জেলাসহ সারাদেশে আবাদ করা সম্ভব। বিশ্বে টাটকা সবজিতে ০.৫ থেকে ৩২.০ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম অ্যান্থসায়নিন পাওয়া যায়। নতুন জাতটিতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্থসায়ানিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে।

অ্যান্থসায়নিন হলো পোলিফেনোলিক রঞ্জক যা পরাগায়নে সাহায্যকারী পতঙ্গ এবং বীজ বিস্তারককে আকর্ষণ করে ফসলের বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গাছকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। শাকসবজিতে প্রাপ্ত অ্যান্থসায়নিন মানবদেহের ভাস্কুলার প্রদাহ হ্রাস এবং থ্রম্বোসিস (রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকরী বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।

প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, প্রায় সব জাতের শিমই জাব পোকা এবং জ্যাসিড দ্বারা আক্রান্ত হয়। শীতের অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সিমের প্রধান পতঙ্গ শত্রু। অর্থাৎ এফিড এবং জ্যাসিড মাত্রাতিরিক্তভাবে বংশবিস্তারের কারণে ফসলটি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে ফলন কমে যায়, যা থেকে নতুন জাতটি প্রতিরোধী।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রোপণ করলে ১৩০ দিনে এই সিম সংগ্রহ করা যায়। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরও ২০ দিন সময় বেশি লাগবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
আমের গুটি ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

আম চাষিদের জন্য চলতি মৌসুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় অনেক চাষিকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এরমধ্যে আমের গুটি ঝরা অন্যতম। আম গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রাকৃতিক কারণ: আম গাছে প্রতি মুকুলে ১ হাজার থেকে ৬ হাজারটি পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তারমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়। গুটি আসার ২৫-৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক-দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোন কোন মুকুলে চার-পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

প্রতিকার: অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয়। ফলে আমের গুণগতমান ও ফলন কমে যায়। প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়। তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০-২০ দিন পর দুইবার দশ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড স্প্রে করলে ভালো হয়। এছাড়া সব ফুল ফোটা অবস্থায় জিবেরেলিক অ্যাসিড প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম হারে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

মাটিতে রসের অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। আমের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়। মাটিতে রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

প্রতিকার: মাটিতে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চারপাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেওয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। সেচের পাশাপাশি হরমোন প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়। আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার অথবা প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার হারে প্লানোফিক্স হরমোন পানিতে মিশিয়ে হালকা সূর্যের আলোয় আমের গুটিতে স্প্রে করলে গুটি ঝরা কমে যায়।

পোকার আক্রমণে: গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কিড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

প্রতিকার: গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে। কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি গ্রুপের যে কোন একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব ৮০ ডচ গ্রুপের যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা: আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

প্রতিকার: এ সমস্যা দেখা দিলে আমবাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এমনকি গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে ভাসমান ধাপে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য
কৃষি গবেষনা

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার নকড়ীরচর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বর্ণির বাঁওড়ে ১২ ভাসমান ধাপে পেঁয়াজ চাষের জন্য কৃষককে আর্থিক সহায়তা, বীজ ও পরামর্শ দেয় সদর উপজেলা কৃষি অফিস। আর তাতে নানারকম সবজি চাষ শেষে এই সময়ের প্রচুর চাহিদাসম্পন্ন ফসল পেঁয়াজ পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য এসেছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, বর্ষা শেষে নভেম্বর মাসে যখন পানি নামতে শুরু করে তখন কচুরিপানা দিয়ে পেঁয়াজ চাষের ধাপ তৈরি করতে হয় ।

কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ভাসমান ধাপে পেঁয়াজ চাষে দেশে প্রথমবারের মতো এই সফলতা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাসমান ধাপে সবজি ও মসলা চাষে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে এসেছে আধুনিক পদ্ধতি। আগে ভাসমান ধাপ দিয়ে বেড বানিয়ে ওপর লতাবিহীন বিভিন্ন শাক ও সবজি উৎপাদন করা হতো।

বর্তমানে লাউ, কুমড়া, ঢ্যাঁড়স, করলার পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে মসলা জাতীয় ফসল হলুদ ও আদা। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষ।

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাসের পরামর্শে ভাসমান ধাপে প্রথম পরীক্ষামূলক পেঁয়াজ চাষ করা হয়। ভাসমান বেডে সাধারণত পেঁয়াজ ভালো হয় না। কিন্তু গোপালগঞ্জে ভাসমান বেডে পরীক্ষামূলক পেঁয়াজ চাষ সফল হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৫:৩৫ অপরাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ বছর বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি গবেষনা

চলতি মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলায় ২লাখ ৩৮ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা অধিক জমিতে বোরো চাষ করেছেন বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলা হচ্ছে-নড়াইল, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতিে মৗসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ ৪ জেলায় মোট ২লাখ ৩৮ হাজার ২শ’৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০লাখ ৬১হাজার ৪শ’৪৯ মেট্রিক মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে নড়াইল জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭হাজার ৮শ’৭০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৬ হাজার ৬শ’১০ মেট্রিক মেট্রিক টন চাল।খুলনা জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭হাজার ৫শ’৪০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৫৭হাজার ৫শ’৪ মেট্রিক টন চাল। সাতক্ষীরা জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০হাজার হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩লাখ ৫১ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন চাল এবং বাগেরহাট জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২হাজার ৮শ’৮০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৪৬ হাজার ১শ’৩৫ মেট্রিক টন চাল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নড়াইল সদর উপজেলার, লোহাগড়া উপজেলার মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ।কৃষাণ-কৃষাণীরা বোরো ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।আগাম জাতের পাকা বোরো ধান চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কাটা শুরু হবে বলে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা জানিয়েছেন। সবুজ ও আধাপাকা বোরো ধানের শীষে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে তেমনি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার স্বপ্নে বিভোর কৃষাণ-কৃষাণীরা।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় জানান,কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বোরো চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ,পরামর্শ,মাঠ দিবস,উঠান বৈঠক,নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক চাষিদের প্রয়োজনীয় কৃষি লোন প্রদান করেছে।বাজারে সারেরও কোন সংকট নেই। বিভিন্ন জাতের চালের চাহিদা ব্যাপক থাকায় এ অঞ্চলে বোরো চাষ দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি জানান।বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৪:৫৪ অপরাহ্ন
স্ট্রবেরি চাষে সাড়া ফেলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

আমের রাজধানী বলে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আর সেখানেই এবার স্ট্রবেরি চাষে দারুণ সাড়া ফেলেছেন সেখানকার চাষিরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্চের স্ট্রবেরি।

দুলোভপুর গ্রামের স্ট্রবেরি চাষি আবদুল সোহেল জানান, তিন বছর আগে দুই বিঘা নিজের জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। তখন হতেই তিনি লাভবান হচ্ছেন। এবার আরও অন্যের দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে স্ট্রবেরি চাষ করছেন।

তিনি আরো জানান, স্ট্রবেরি চাষে বেশি খরচ হয় সেচ দিতে। এখন পর্যন্ত ২৫-৩০ বার সেচ দিয়েছেন। তাতে মোট খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। সে জমি হতে এবার তিনি সাড়ে চার লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রির আশা করছেন।

কৃষকরা জানান, কয়েক বছর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে। শীতকালীন দেশের ফল হলেও লাভবান হওয়ায় এর প্রতি ঝুঁকছেন এখানকার চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২১ হেক্টোর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। স্ট্রবেরির চাহিদা ব্যাপক থাকায় দিন দিন এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ফলন যেন ভালো হয় এবং কৃষরা যেন আরও উদ্ধুদ্ধ হয়-সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

তিনি আরও বলেন, স্ট্রবেরি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারাবিশ্বে সমাদৃত। দেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাসই (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরির রোপণের উপযুক্ত সময়।

তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। অল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফা হওয়ায় এটি চাষে কৃষকদের আগ্রহ অনেক বেশি বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত
কৃষি বিভাগ

সুনামগঞ্জের ডুংরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন।বৃহস্পতিবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আব্দুল তাহিদ ও রিপন মিয়া।

পুলিশ জানায়, জমিজমা নিয়ে গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে আব্দুল তাহিদের (৬২) সঙ্গে তার ভাই রাফিদ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়ার (৪২) বিরোধ ছিল। বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে চাচা-ভাতিজার পরিবারের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারি শুরু হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন আব্দুল তাহিদ ও রিপন মিয়া। আহত অবস্থায় তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি মুক্তাদীর আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সম্পদ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
ধানে হঠাৎ চিটা হওয়ার কারণ ও সমাধান
কৃষি বিভাগ

বোরো ধান উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব –
মার্চ মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে দিনের বেলার তাপমাত্রা প্রায়শই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেড়ে যাচ্ছে। যা ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে চিটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ধান গাছের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রায় গাছের বাড়-বাড়তি প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশে চাষকৃত জাতসমূহ সাধারনত: ২০-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রায় বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সবচেয়ে ভালো হয়। তাপমাত্রা এর চেয়ে উপরে বা নিচে চলে গেলে ধান গাছের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ব্যহত হয়।
তবে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সাধারনত: প্রজনন পর্যায় যথাঃ শীষ গঠন ও ফুলফোটা/পরাগায়ন এবং দানা ভরাট/গঠন পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয়।
ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও ফুলফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারনত: ফুলফোটা পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর বেশী হলে ঐদিন যে ফুলসমূহ ফুটবে তা চিটা হয়ে যাবে এ কারনে সম্পূর্ন শীষ চিটা হবে না।
আমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ, নাবী বোরো ও আউস ধানে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে চিটা সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এসময়ে চাষকৃত জাতসমূহ রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে ফলে বীজ ও ধানের মান এবং ফলন কমে যায়।
উচ্চ তাপমাত্রার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাবঃ
প্রজনন পর্যায়ে অতি উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) শিষে ধানের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ধানের পরাগায়ন বাধাগ্রস্থ হয় ফলে চিটার সংখ্যা বেশী হয়।
রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা (২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ও ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় ইট-ভাটার আশে-পাশের জমিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবের কারণে ধানের শীষ আগুনে-ঝলসে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা যায় ফলে চিটার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যায় ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও ফলন ব্যাপকহারে কমে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবস্থাপনাঃ
চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রা প্রাকৃতিক বিধায় প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে বোরো ধানের জাত নির্বাচন এবং এদের বপন ও রোপন সময় সমন্বয় করে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
স্বল্প জীবনকালের বোরো ধানের জাত যথা: ব্রি ধান২৮, অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ যথা: ব্রি ধান২৯ ও ব্রি ধান৫৮, কার্তিক মাসের ৩য়-৪র্থ সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
জমিতে সেচ প্রদান করে এবং পানি ধরে রেখে চৈত্র ও বৈশাখ মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে।
ধানের জমির আশে-পাশে ইট-ভাটা স্থাপনের অনুমোদন না দেওয়া অথবা ইট-ভাটার আশে-পাশে ধান চাষ না করা।
উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু ধানের জাত চাষ করতে হবে।
এসময় করণীয়:-
ক)জমিতে পানি ধরে রাখুন।
খ) কাইচ থোর পর্যায়ে পটাশ, জিবি বোরন, মাইটিভিট, জিবি জিংক এবং কেমোজল জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে পারেন।
গ) ১০লিটার পানিতে ৬০গ্রাম পটাশ সার+৬০গ্রাম মাইটিভিট একত্রে মিশিয়ে ৫শতক জমিতে স্প্রে করতে পারেন।
বিস্তারিত পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ইউনিয়ন/ ব্লক পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিন।
তথ্যসূত্র :
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুড়ছে খরায়, বৃষ্টির অপেক্ষায় তরমুজ চাষি
কৃষি বিভাগ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুড়ছে খরায়। দুর্যোগপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষ মধ্যচৈত্রে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে বারবার।কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। আর এই বৃষ্টিহীনতায় খরার বিরূপ প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে তরমুজের উপর।

জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় উৎপাদিত রসালো ফল তরমুজের সুনাম জেলা উপজেলার বাইরে রয়েছে। উপজেলার ধূমঘাট গ্রাম ও কৈখালী ইউনিয়নের উৎপাদিত তরমুজের স্বাদ সবার অজানা নয়। বাজারে ক্রেতাদের মুখে শোনা যায়, ধূমঘাট ও কৈখালীর তরমুজের গুণকীর্তনের কথা। সুস্বাদু রসালো ফল তরমুজ এবার খরায় স্বাদ ও সাইজে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খরার কারণে তরমুজ চাষিরা এবার উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছেন।

তরমুজ চাষি কৈখালী ইউপির আলমগীর হোসেন জানান, ‘তিনি নিজে এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু এ বছর প্রচণ্ড খরার কারণে তরমুজের সাইজ ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং তরমুজ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে নিচের দিকে।’ তরমুজ চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘খরার কারণে তরমুজে ভাইরাস লেগেছে। এর ফলে তরমুজের ভেতরে গাড় লাল রঙ হচ্ছে না এবং মিষ্টি কম হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলী হাসান জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় এক হাজার ২০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে উপজেলার কৈখালী ইউপিতে। এছাড়া ঈশ্বরীপুর ইউপির ধূমঘাট, কাশিমাড়ী, মুন্সীগঞ্জে তরমুজ চাষ হয়ে থাকে। কৈখালী ইউপির বোশখালী, পশ্চিম কৈখালীতে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে এবার।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোদাচ্ছের বিল্লাহ জানান, ‘উপজেলায় গতবার তরমুজ চাষ হয়েছিল মাত্র ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ছিল ৩০ মে. টন। গতবার চাষিরা ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার তিনগুণ জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তরমুজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে।’

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া জানান, ‘অন্যান্য বছর শ্যামনগরে বৃষ্টির কারণে তরমুজের ওজন ছিল ১০ থেকে ১২ কেজি। এবার বৃষ্টির অভাবে তরমুজের ওজন হয়েছে ৪ থেকে ৫ কেজি। বৃষ্টি না হওয়ায় এবার তরমুজ বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, শুকিয়ে যাচ্ছে তরমুজ ক্ষেত। প্রকৃতিনির্ভর বৃষ্টির উপর ভরসা করে উপজেলার শ্যামনগর ইউপি, কৈখালী, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় চাষিরা শত শত বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু শ্যামনগরে ভূগর্ভস্থ পানি না পাওয়ায় চাষিরা নিজস্ব পুকুর বা জলাশয়ের পানির উপর নির্ভর করে তরমুজসহ অন্যান্য ফসল চাষ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সেটিও শেষ হওয়ায় এখন চাষিদের অপেক্ষা এক পশলা বৃষ্টি।’ তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফসল চাষের সুবিধার্থে মিষ্টি পানি সংরক্ষণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পুকুর খননের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ‘বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন, বিশেষ করে, নাইট্রোজেন থাকে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার তরমুজের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ জানা যায়, এই উপজেলায় উচ্চ ফলন জাত ভারতের ভিফটপ, ড্রাগন, পাকিজা, বাংলালিংকসহ অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম জানান, ‘পানি সংকটের কারণে শ্যামনগরে তরমুজের সাইজ ছোট হচ্ছে, বাঁকা হচ্ছে। আবার কোথাও পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।’ তিনি সরেজমিন কৈখালী ইউনিয়নের কয়েকটি তরমুজ চাষির ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তরমুজ ফসলের ক্ষেতে পানি সংকটের অভাব মেটাতে সন্ধ্যার পর পানি স্প্রে করতে চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে এবং মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাকড়নাশক থিওভিট সঠিক মাত্রায় স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাষিদের।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop