৩:৩২ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ১৩, ২০২৪ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
কৃষকদের ওয়ান স্টপ সেবা দেবে ‘খামারী’ অ্যাপস : কৃষি সচিব
কৃষি বিভাগ

ঢাকা, ১২ জুন, ২০২৪ (বাসস): কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেছেন, কৃষকদের ওয়ান স্টপ সেবা দেবে ‘খামারী’ অ্যাপস। দেশের কৃষকরা তাদের প্রায় সব ধরনের অসুবিধার উত্তর পাবে খামারী অ্যাপসে। তিনি বলেন, দেশের জমিগুলো অতি ক্ষুদ্র, এজন্য অনেক ক্ষেত্রে বড় প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয় না। যান্ত্রিকীকরন এগিয়ে নিতে সমবায়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আজ বুধবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) মিলনায়তনে ‘স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব এসব কথা বলেন।

কৃষি সচিব বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৭ টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সাংবাদিকরা এসব প্রতিষ্ঠানে তথ্য সংগ্রহ করে। কৃষি সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করতে ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস’কে (এআইএস) সাংবাদিক-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি তথ্য সরবরাহ করাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআই প্রকল্পের কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন প্রধান পূরবী মতিন। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের কৃষি উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’ এর উপস্থাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক, চ্যানেল আই এর বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. সুরজিত সাহা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিএজেএফ) সভাপতি গোলাম ইফতেখার মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৮, ২০২৪ ৬:১২ অপরাহ্ন
আউশ ধান আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক অবহিককরণ কর্মশালা ও কৃষক পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৪ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনুঃ আজ মঙ্গলবার (২৮ মে ২০২৪ ) সকাল ১০টায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত ) এর আওতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আউশ ধান আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক অবহিককরণ কর্মশালা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত) ডিএই কর্মশালাটি আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ,খামারবাড়ি ঢাকা এর মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক , বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প ,কৃষিবিদ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান , নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মো:নুরুজ্জামান , এবং নাসরীন আক্তার বানু ,উপ-পরিচালক ময়মনসিংহ জেলা । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ,খামারবাড়ি ময়মসিংহের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সালমা আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প এর প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ।কর্মশালার কারিগরি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এমএমআর জাহাঙ্গীর।

পরে কৃষিতে কৃতিত্বপূর্ণ সফলতা অর্জন করায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর প্রকল্পভুক্ত ৬ জেলার ৪৮০জন কৃষককে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ৬ জেলার ৪৮জন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং ৪৮জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পুরষ্কৃত করা হয়। এছাড়া প্রকল্পের ৬ জেলার আওতাভুক্ত মোট ১২৪৮জন কৃষককে বিশেষ পুরষ্কার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে নারস ভূক্ত বিভিন্ন গবেষণা ইনস্টিটিউট এর প্রতিনিধি, প্রকল্পভুক্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৬ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দসহ পুরষ্কারপ্রাপ্ত কৃষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২১, ২০২৪ ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে নতুন জাতের ব্রি হাইব্রিড ৮ ধান চাষাবাদে বাজিমাত
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ব্রি হাইব্রিড ৮ ধান উদ্ভাবন করেছে। এই জাতের ধান গোপালগঞ্জে এই প্রথম আবাদ করে বাজিমাত করেছে কৃষক । দেশে প্রচলিত যে কোন হাইব্রিড জাতের ধানের তুলনায় ব্রি হাইব্রিড ৮ ধান অনেক বেশি ফলন দিয়েছে। এই জাতের ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সেই সাথে এ জাতের ধান আবাদ করে অধিক লাভের আশা করছেন কৃষক । গোপালগঞ্জে ৮ হেক্টরে সাড়ে ১০টন ফলন দিয়েছে ব্রি হাইব্রিড ধান। গোপালগঞ্জ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক প্রধান ও সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে গোপালগঞ্জ জেলায় ২০ হেক্টর জমিতে ৫০ টি প্রদর্শনী প্লটে ব্রি হাইব্রিড ৮ ধান এর আবাদ করেছে কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা , কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষক ও পরিসংখ্যান বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই প্রদর্শনী প্লট থেকে ধান কেটে মাড়াই ও পরিমাপ করা হয়। সেখানে হেক্টর প্রতি সাড়ে ১০ টন ফলন পাওয়া গেছে। এই জাতের ধান কৃষিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী গ্রামের কৃষক নাজমুল মোল্লা, রমজান সরদার, জাহাঙ্গীর গাজী, আরিফ গাজী ও মিজান মোল্লা বলেন, আমরা এর আগে হীরা হাইব্রিড ধান-২, এসএল-৮ সহ আরো অনেক জাতের হাইব্রিড ধানের আবাদ করেছি। ওইসব জাতে হেক্টরে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টন ফলন পেয়েছি। কিন্তু ব্রি হাইব্রিড ৮ ধান চাষাবাদ করে শতাংশে ১ মনের বেশি ফলন পেয়েছি। সে হিসাবে হেক্টরে এই ধান সাড়ে ১০ টন ফলন দিয়েছে। এ ধানের চাল লম্বা। ওজনও বেশি। প্রতিটি ছড়ায় ধানের পরিমানও বেশি পেয়েছি। জমিতে আগে এতো ধান ফলেনি। এই ধান চাষাবাদে সেচ ও সার খরচ কম লেগেছে। তেমন কোন রোগ বালাই নেই। তাই কম খরচে বেশি ধান উৎপাদন করতে পেরে আমরা লাভবান হয়েছি। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই আগামী বছর এ জাতের ধান চাষ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ধানটি হাইব্রিড। আবার লম্বা ও চিকন। নতুন এ জাতের ধান ফলনও বেশি দিয়েছে। বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই আগামী বছর এ জাতের ধান আবাদ করব।

গোপালগঞ্জ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৃজন চন্দ্র দাস বলেন, এ ধানের জীবন কাল ১৪৫ দিন থেকে ১৪৮ দিন। ১ হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ২৪.৩ গ্রাম। ধানের আকৃতি লম্বা ও চিকন এবং ভাত হয় ঝরঝরে। চালে অ্যামাইলোজ ২৩.৩% এবং প্রোটিন ৯.২%। দানার পুষ্টতা ৮৮.৬%। ভাল পরিচর্যা পেলে এ জাতের ধান ১১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। তাই বাংলাদেশর কৃষিতে এ ধান সমৃদ্ধির আশা জাগিয়েছে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আ. কাদের সরদার বলেন, গোপালগঞ্জে অন্তত ৭৮% জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়। প্রথম আবাদে এই ধান বাজিমাত করেছে। হওর অঞ্চলসহ অনেক নিচু জলাভূমি বেষ্টিত জেলায় হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়ে থাকে। এই জাতের ধানের আবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে ধানের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই ধান অবদান রাখবে।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১২, ২০২৪ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
কৃষিতে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বলেছেন, কৃষিতে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে।  আজ শনিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় স্থাপিত সমলয়ে বোরো ধান (হাইব্রিড) কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে শস্য কর্তনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

সিমিন হোসেন রিমি বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারের একটি অন্যতম লক্ষ্য ছিল। যার ধারাবাহিকতায় সরকার নানামুখী ফসল উৎপাদনের আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রচেষ্টায় অনেক নতুন প্রজাতির ধানের আবিষ্কার হয়েছে। ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্বে এক বিঘা জমিতে থেকে ৭-৮ মন ধান পাওয়া যেত কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে ১৫-২০ মন হয়েছে। অনেক সময় গ্রামে ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যেত না কিন্তু কম্বাইন হারভেস্টারের এর মাধ্যমে ১৫-২০ মিনিটে এক বিঘা ধানকাটা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একখন্ড জমিও খালি না রেখে বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদনের জন্য চাষী ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রতিমন্ত্রী জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কৃষকদের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম লুৎফর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমন বসাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২, ২০২৪ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লার ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দিতে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ভুট্টা কাটা শুরু হয়েছে। এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ায় উপজেলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ১২০০-১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভুট্টার ফলন এবং দাম ভালো হওয়ায় দাউদকান্দির কৃষকরা এ বছর খুবই লাভবান হচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় গতবারের তুলনায় অনেক বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠে মাঠে ভুট্টার গাছগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল। বৈরি আবহাওয়া ও কালবৈশাখীর আঘাত থেকে মুক্ত থাকায় এবারে ভুট্টার কোনো ক্ষতি হয়নি।

উপজেলার চর মাহমুদ্দী গ্রামের কৃষক রাসেল খন্দকার বাসসকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করতে বীজ, সার, সেচ ও অন্যান্য খরচসহ মোট ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার প্রতিমণ ভুট্টা গ্রাম থেকেই ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমির ভুট্টা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক ময়নাল হোসেন বলেন, শুধু ভুট্টা বিক্রির টাকাই আসছে না, ভুট্টার গাছ এবং মোচা সারা বছরের রান্নাবান্নার জ্বালানির জোগান দেয়। তিনি বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টা-চাষিরা অধিক লাভবান হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর গ্রামের ভুট্টা চাষি আমির হোসেন জানান, তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভুট্টার বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। তার ধারণা, প্রতিবিঘায় প্রায় ৫০ মণ করে ফলন হবে। তাতে ৬ বিঘা জমিতে তিনি শত মণ ভুট্টা পাবেন।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বাসসকে বলেন, চলতি বছরে দাউদকান্দিতে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। যেসব কৃষক আলু উঠিয়ে ভুট্টার আবাদ করেছে সেগুলো আরো কিছুদিন পরে উঠবে। যারা আগাম আবাদ করেছে তাদের ভুট্টা উঠছে এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ১০ টন থেকে ১১ টন। ফলন এবং দাম দুটোই ভালো পাচ্ছে বিধায় কৃষকরা খুবই লাভবান হচ্ছেন। এ ছাড়াও আমরা কৃষকদের উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সব সময়ই উৎসাহ দিয়ে এসেছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৮, ২০২৪ ৩:৪৯ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে ফল ও সবজির সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

দীন মোহাম্মদ দীনুঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীস্থ আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বিএআরআই এর সহযোগিতায় এবং স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রকল্প (এসএসিপি), বারি অংগের অর্থায়নে ফল ও সবজির সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ আজ ১৮ এপ্রিল শেষ হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ সহিদুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদিত ফল ও সবজির বড় একটি অংশ প্রায় শতকরা ২৩-৪৩ ভাগ যথাযথ সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নষ্ট হওয়া থেকে বাচানো সম্ভব। তিনি সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।


সমাপনী অনুষ্ঠানে উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্ব আরো বক্তব্য রাখেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মসিউর রহমান, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন মোল্লা, ড. মো. মনিরুজ্জামান, ড. মো. তোফজ্জল হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, যেখানে একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দৈনিক প্রায় ২০০ গ্রাম ফল ও ৩০০ গ্রাম সবজি খাওয়া প্রয়োজন সেখানে দেশে উৎপাদিত পরিমান অনুযায়ী আমরা পাই মাত্র ৮২ গ্রাম ফল ও ১৬৬ গ্রাম সবজি। উপরন্তু উৎপাদিত ফল ও সবজির শতকরা ২৩.৬০-৪৩.৫০ ভাগ যথাযথ সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার অভাবে নষ্ট হচ্ছে। তাই ফল ও সবজির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য উন্নত উৎপাদন কলাকৌশল অবলম্বন করার পাশাপাশি সংগ্রহোত্তর পর্যায়ের অপচয় এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করাও অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল চট্টগ্রাম রাজধানী ঢাকা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সেইসব এলাকার ফল ও সবজি পরিবহনে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। ফলে অধিকাংশই সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে অপচয়ের সন্মুখীন হচ্ছে। তাই উৎপাদন ১০ % বৃদ্ধির চাইতে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ১% কমানো অনেক শ্রেয়। সভাপতি ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ হচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণ। প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির বিস্তারের সাথে গ্রহণেরও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এই লক্ষ্যেই গত ১৭ এপ্রিল হতে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫ জন প্রশিক্ষক তৈরীর উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২৪ ১০:০১ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৯৭ মেট্রিক টন
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে গোপালগঞ্জে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৯৭ মেট্রিকটন বোরো ধানের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর গোপালগঞ্জে চালের উৎপাদন ২ হাজার ৫২ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে।  আর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৮১ হাজার ৬৫৩ হেক্টরে । গত মৌসুমে আবাদ হয়েছিলো ৮১ হাজার ২২৯ হেক্টরে। সেই হিসেবে এ বছর জেলায় বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২৪ হেক্টরে।
গত বছরের চেয়ে এ বছর ২ হাজার ৫২ টন চাল বেশি উৎপাদিত হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির অফিস সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের সরদার বলেন, চলতি সৌমুমে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ২০ হাজার ৯৫৮ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছর হয়েছিল ২০ হাজার ৯২৮ হেক্টরে। বেড়েছে ৩০ হেক্টরে। মুকসুদপুর উপজেলায় চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৩২৩ হেক্টরে।গত বছর চাষ হয়েছিল ১৩ হাজার ২৯১ হেক্টরে। বেড়েছে ৩৩২ হেক্টরে। কাশিয়ানী উপজেলায় চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৮৮০ হেক্টরে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১১ হাজার ৭২৫ হেক্টরে। বেড়েছে ১৫৫ হেক্টরে। কোটালীপাড়া উপজেলায় চাষ হয়েছে ২৬ হাজার ৬১৭ হেক্টরে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৬ হাজার ৪২০ হেক্টরে। আবাদ বেড়েছে ১৯৭ হেক্টরে।টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৫৭৫ হেক্টরে। গত বছর চাষ হয়েছিল ৮ হাজার ৮৬৫ হেক্টরে। টুঙ্গিপাড়ায় আবাদ কমেছে ২৯০ হেক্টরে। তারপরও জেলায় মোট আবাদ বেড়েছে ৪২৪ হেক্টরে। এতে গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ৫২ মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদিত হবে বলে আশা করছি ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে গোপালগঞ্জ জেলায় ধানের উৎপাদন ও আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭০ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে প্রণোদনার বীজ সার প্রদান করা হয়। প্রণোদনার বীজ-সার দিয়ে কৃষক ৭০ হাজার বিঘা জমি আবাদ করেছে। সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জে চার্গেটের চেয়েও ৪২৪ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। সঙ্গত কারণেই গোপালগঞ্জ জেলায় ধানের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩০ হেক্টর জমিতে বোরা ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কৃষককে এ ব্যাপারে সহায়তা, পরামর্শ, প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। তারা এটিকে কাজে লাগিয়ে ধানের আবাদ বৃদ্ধি করেছে। এ কারণে এ উপজেলায় প্রায় ১৪৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৪, ২০২৪ ৯:১৩ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় নিরাপদ সবজি চাষে আয় বেড়েছে কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা (দক্ষিণ), ৩ এপ্রিল, ২০২৪ (বাসস) : জেলায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সবজি গ্রাম। বিষমুক্ত সবজি ওই সব গ্রাম থেকে সরাসরি কৃষকরাই শহরে এনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিক্রি করছেন। ফলে ক্রেতারা টাটকা, বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি কিনতে পারছেন। জৈব সার ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে এবং পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। তবে এ নিরাপদ সবজি যাতে ১২ মাস পাওয়া যায় সেই প্রত্যাশা ক্রেতাদের। জেলার চান্দিনা, বুড়িচং, বরুড়া, দেবিদ্বার উপজেলায় দুটি করে মোট ৮টি সবজি গ্রাম রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গড়ে তোলা ওইসব গ্রামে বেগুন, শিম, টমেটো, ফুলকপি, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষ করা হচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া বিভিন্ন ফাঁদ ও জৈব সার প্রয়োগ করে উৎপাদন করা হচ্ছে সবজি। তরকারির বাজারে বেশ চাহিদাও রয়েছে। অন্যান্য সবজির তুলনায় কৃষকেরা বাজার মূল্যও কিছুটা বেশি পাচ্ছেন।
কৃষক সেলিম রেজা বাসসকে জানান, আমাদের কতগুলো বয়াম দিছে আর ফাঁদ দিছে তাতে পোকা গিয়ে লেগে থাকে। এর মাধ্যমে আমাদের ফলনও বেড়েছে, খরচও কমেছে। আমরা লাভবান হচ্ছি।

কুমিল্লার চান্দিয়ারায় নিরাপদ সবজি গ্রাম থেকে সরাসরি কৃষকরাই বিষমুক্ত এবং টাটকা সবজি কৃষি বাজারে বিক্রি করছেন। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি ক্রেতারাও নিরাপদ সবজি পেয়ে খুশি। তবে ভোক্তারা বলছেন, সারা বছরই যাতে এ বাজার খোলা থাকে। বাজারে আসা ক্রেতা আব্দুল মালেক বাসসকে বলেন, বাজারে এসে শুনলাম এখানে বিষমুক্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের স্বাস্থ্যর কথা বিবেচনা করে এখান থেকে সবজি কিনি।
কৃষি সম্প্রারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক আইউব মাহমুদ বাসসকে বলেন, বিভিন্ন রকম জৈব বালাইনাশক, ফেরেমোন ফাঁদ, ইয়োলো লাইট ট্রাপ এগুলো ব্যবহার করার ফলে তারা বিষ ব্যবহার কমেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২, ২০২৪ ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
জয়পুরহাটে কলা চাষ করে ভাগ্য বদল করছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

’কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’। খনার ওই বচনটি কাজে লাগিয়ে কলা চাষ করে ভাগ্য বদল করছেন জয়পুরহাটের কলা চাষিরা। রাজধানী ঢাকা , চট্রগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ভৈরব সহ দেশের ৩৫ জেলায় যাচ্ছে জয়পুরহাটের কলা।  কলা চাষিদের পরিবারে কেবল ভাত কাপড়ের ব্যবস্থাই নয়। পরিবারের অন্যান্য ব্যয়ের সংস্থানও হয়েছে এ কলা চাষ করে। আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় জেলায় বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। জয়পুরহাট জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ কলা। জেলায় বিশেষ করে জামালগঞ্জ ও ভাদসা এলাকার অনেক পরিবার কেবল কলা চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানান যায়, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশী লাভ হয় কলা চাষে। বিশেষ করে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে ও ভাদসা ইউপি ভবনের সামনে দূর্গাদহ বাজার এলাকায় কলার বিস্ময়কর বাজার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলার চাষও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জয়পুরহাটে। তেমন পরিচর্যা ছাড়ায় ২/৩ ফুট লম্বা কলা গাছের চারা লাগানোর অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়। সাধারনত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সে সকল জমিতে কলার চাষ ভাল হয়। কৃষকরা জানান, একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। যতœ সহকারে কলা চাষ করলে একটি গাছ থেকে ২ থেকে আড়াই মণ কলা পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়। কলার জমিতে তেমন লেবার বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম।

স্থানিয় কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৮শ ৫৫ হেক্টর জমিতে এবার কলার চাষ হয়েছে। এতে কলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। জামালগঞ্জ এলাকার মাতাপুর গ্রামের কলা চাষী আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। দুর্গাদহ এলাকার কলাচাষি দুদু ময়িা, চিত্ত রঞ্জন বলেন কলা বিক্রিতে কোন ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও জামালগঞ্জে ও ভাদসা ইউপি ভবনের সামনে দূর্গাদহ বাজারে কলার বিশাল হাট বসে প্রত্যেক দিন সকালে ৬০/৬৫ জন আড়ৎদার কলা কিনে ট্রাকে লোড দেন। প্রতি কাইন ( স্থানিয় নাম ঘাউর) বিক্রি হচ্ছে চাপা কলা ৩০০-৩৫০ টাকা, সবরি কলা ৫৫০-৬৫০ টাকা, সাগর ও রঙ্গিন মেহের সাগর কলা প্রতি কাইন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। প্রায় ৫ শতাধিক লোক প্রতিদিন কলা কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত থাকেন। প্রতিদিন কোটি টাকার কলা কেনা বেচা হয়ে থাকে বলে জানান স্থানিয় কলা ব্যবসায়ীরা। জেলা শহরের গুলশান চৌ মোড়ে ছোট আকারে পাইকারী কলার হাট বসে। জয়পুরহাটের কলা উন্নত মানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর সহ ৩৫ জেলায় জয়পুরহাটের কলার বড় মার্কেট বলে জানান ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, বাবু, তাব্বা ও মিজানুর রহমান। বর্তমানে অফ সিজন তার পরেও জয়পুরহাট থেকে প্রতিদিন গড়ে বর্তমানে ৪/৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান এস এ ট্রেডার্সের মালিক ও বিশিষ্ট্য কলা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। জয়পুরহাটে উৎপাদিত কলার মধ্যে রয়েছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ওষুধী কলা হিসেবে পরিচিত চাম্পা কলা, সবরি কলা , রঙ্গিন মেহের সাগর ও সাগর কলা। বর্তমানে জয়পুরহাটের হাটবাজারে প্রকার ভেদে বা সাইজ অনুযায়ী সবরি কলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হালি এবং চাম্পা ও সাগর কলা ২০ থেকে ২৫ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। কলা চাষ বেশ লাভজনক ফসল। জেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার কলা চাষের সঙ্গে জড়িত। কলা চাষ করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভাগ্য বদল করছেন জয়পুরহাটের কলা চাষিরা। কলা চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে বলে জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রাহেলা পারভীন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২৪ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। সেখানে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।  দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৭২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকুল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবার লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ হয়েছে।

তার ভাষ্যমতে, এবার জেলায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে ধান-চালসহ বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনের উদ্বৃত্ত জেলা হিসাবে দিনাজপুর খ্যাতি রয়েছে। জেলার মাঠ গুলো এখন সবুজের আভায় এক অপরূপ শোভা ছড়াচ্ছে। বোরো ধানের শিষ দোল খাচ্ছে বাতাসে। সেচসহ আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর ইরি-বোরো মৌসুমে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই জেলায় বোরো ধান লাগানো সম্পন্ন করেছে কৃষকেরা। এখন সেচ ও ধান খেত পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত রয়েছে তারা। কৃষি বিভাগ জেলায় ৯০ ভাগ জমিতে বিদ্যুৎ চালিত মোটরের আওতায় সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে শেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। প্রতিদিন রাত ৮ টা থেকে ভোর পর্যন্ত সেচযন্ত্র চালানোর জন্য এ সময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে জমিতে পানির কোন সংকট হচ্ছে না।

দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি সরবরাহ পাওয়ায় তাদের ইরি বোরো ধান চাষে খুব সুবিধা হয়েছে। বিঘা বা একর প্রতি ধানের জমিতে সেচ দেয়ার জন্য সেচ যন্ত্রের মালিকের সাথে চুক্তি রয়েছে। জমির মালিকদের সেচ নেয়ার জন্য ঘুরতে হয় না। সেচ যন্ত্রের মালিকেরা নিজেরাই ধানের জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচ দিয়ে থাকেন। চুক্তির অর্ধেক টাকা দিয়ে বাকি টাকা ধান কাটার পর পরিশোধ করেন। একই কথা জানালেন, বিরল উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক ধীরেন চন্দ্রদাস ও রবিউল ইসলাম। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তারা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পুরো জেলায় এবার উন্নত ধানের জাত ব্রি ২৩, ২৯, ১০২, ৮৯, ৯২, ও ব্রি ১০৪ চিকন জাতের ধান বেশি চাষ হয়েছে। এছাড়াও মোটা ধানের জাত ব্রি টিয়া, ময়না ও সিনজেনটা- ব্রি ১২০৫ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানায়, এখনো পর্যন্ত জেলার ১৩ টি উপজেলার কোন স্থান থেকেই ইরি বোরো ধান চাষে কোন সমস্যার খবর তাদের কাছে আসেনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop