২:২৪ অপরাহ্ন

বুধবার, ১১ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২৬, ২০২২ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
কলা চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন বগুড়ার কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

বগুড়ায় দিন দিন কলা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। অন্যান্য ফসলের থেকে কলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় বাড়ছে কলার চাষ। ধান চাষের আয় ব্যয় এক হয়ে যাচ্ছে। তাই কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান কৃষকরা। বর্তমানে বগুড়ার বিভিন্ন বাজারে কলার হালি ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জানা যায়, বগুড়া জেলার মাটি বেলে দোআঁশ। যা কলা চাষের খুব উপযোগী। শিবগঞ্জ এবং গাবতলি উপজেলা এই জেলায় কলা চাষের মধ্যে বিখ্যাত। দেশজুড়ে এই জেলার মোকামতলা কলার হাটের বেশ সুনাম রয়েছে। এই জেলায় অনুপম, সাগর, সবরি, বিচিকলা, চিনি চাম্পাসহ বিভিন্ন নামের কলা চাষ হয়ে থাকে। কলা বিক্রির জন্য জেলার মহাস্থানগড়, রহবল ও মোকামতলায় পাইকারি কলার হাট বসে থাকে। যেখান থেকে ট্রাকে করে কলা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামে বিক্রি হয়ে থাকে। বর্তমানে জেলায় কলার ব্যাপক ফলন বাজারদর ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ১৯ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এবছর ভালো ফলন হওয়ায় প্রায় ২১ টণ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বগুড়া মহাস্থানগড় এলাকার কলা চাষি মো. সুমন বলেন, এবছর কলার ভালো ফলন হয়েছে। চারা রোপনের ১২-১৩ মাসের মধ্যেই কলার ফলন পাওয়া যায়। কলার পরিমান অনুযায়ী প্রতি কাঁদি কলা ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

তিনি আরো বলেন, বাজারে বেশির ভাগই হিট দিয়ে পাকানো কলা পাওয়া যায়। আমাদের এখানে আমরা গাছ পাকা কলা বিক্রি করে থাকি।

বগুড়া জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৪০-৫০ জাতের কলার চাষ হয়। এর মধ্যে অমৃত সাগর, সবরি, কবরি, চাঁপা, মেহের সাগর, কাবুলি, বিচিকলা ও আনাজি কলা সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। বর্তমানে বারিকলা-১, বারিকলা-২, বারিকলা-৩ ও বারিকলা-৪ নামের চারটি উচ্চ ফলনশীল কলার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৬, ২০২২ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
২৫ হাজার টাকা ঋণের মামলায় কারাগারে ১২ কৃষক
কৃষি বিভাগ

পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ৩৭ কৃষকের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত পরোয়ানাভুক্ত ১২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন- উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের শুকুর প্রামাণিকের ছেলে আলম প্রামাণিক (৫০), মনি মণ্ডলের ছেলে মাহাতাব মণ্ডল (৪৫), মৃত সোবহান মণ্ডলের ছেলে আবদুল গণি মণ্ডল (৫০), কামাল প্রামাণিকের ছেলে শামীম হোসেন (৪৫), মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে সামাদ প্রামাণিক (৪৩), মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে নূর বক্স (৪৫), রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আকরাম (৪৬), লালু খাঁর ছেলে মোহাম্মদ রজব আলী (৪০), মৃত কোরবান আলীর ছেলে কিতাব আলী (৫০), হারেজ মিয়ার ছেলে হান্নান মিয়া (৪৩), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মজনু (৪০) ও মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান (৫০)। তাঁরা সবাই প্রান্তিক কৃষক।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছিলেন ৩৭ জন কৃষক। এই ঋণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই থানা–পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ২০২১ সালে ওই ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে আদালত গত বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের আদেশের ভিত্তিতে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কৃষকেরা দাবি করেন, তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপর কেন মামলা হলো, তা তারা জানেন না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২২ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজারে আমন ধানের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সোনালী ধানে ভরা। চলতি আমন মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একই জমিতে রোপা আমন ধান রোপণের পর কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে কর্তন শুরু হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে যান্ত্রিক নির্ভর হলে শ্রমিক সংকট থাকবে না। যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে দেখা দেয় শ্রমিক সংকট। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই সময়তো সোনালি ফসল ধান ঘরে তুলতে পারে না। এতে অনেক জমিতে ধান ঝরে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি হতাশায় থাকেন। রোপণ ও কর্তন যান্ত্রিক হওয়ায় কম খরচে কৃষকরা ফলন ভালো পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ পাতাকঁড়ি এগ্রোর খামার মালিক, সৈয়দ উমেদ আলী জানান, এ বছর ১২৩ বিগা জমিতে হাইব্রিড ও ব্রি ৭৫ জাতের ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৮৩ বিগা জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা রোপণ করেন এবং ওই জমিতে ধান কর্তন করছেন।

যান্ত্রিকীকরণের কারণে খরচ কমে গেছে, ফলন ভালো হয়েছে। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুদ্দিন আহমদ জানান, এ বছর বিভিন্ন জাতের ব্রি-ধান ও হাইব্রিড ধান কৃষকরা চাষাবাদ করেছেন। অনেক জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে চারা রোপণ করা হয় ও কর্তন করা হচ্ছে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে।

ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরাও খুশি। তিনি আরও জানান, আমন ধান চাষে এ বছর অনুকূল পরিবেশ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রতি বছর অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, বর্তমান সরকার এক ইঞ্চি জমি যাতে খালি পরে না থাকে সে জন্য, কৃষি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ জাগছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২২ ৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
সিলেটের কানাইঘাটে কৃষকদের মধ্যে বোরোধান বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

২০২২-২৩ অর্থবছরে রবি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সিলেটের কানাইঘাটে বিনামূল্যে হাইব্রিড বীজ সহায়তা এবং উফশী বোরোধান বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

কানাইঘাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জির সভাপতিত্বে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল হারিছ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক, বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি সাংবাদিক এম.এ হান্নান, শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সূত্রধর, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তায়্যিব শামীম, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মাও. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথি বৃন্দ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ১টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও ১টি রাইস ট্রান্স-প্ল্যান্টার বিতরণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২২ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
লাল বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুরে প্রথমবারের মতো লাল বাঁধাকপির চাষ করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষক শহীদুল্লাহ। বাঁধাকপির উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বেশি খুশি তিনি। তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন লাল বাঁধাকপি চাষে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, শহীদুল্লাহ একজন আদর্শ কৃষক। নতুন কোন ফসলের খবর পেলেই তিনি কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে সেটা চাষের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় লাল বাঁধাকপির বিষয় জানতে পেরে চারা সংগ্রহ করেন চাষ করেন তিনি। কৃষি অফিস কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে লাল বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন।

শহীদুল্লাহ বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে লাল বাঁধাকপি চাষে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক সার ব্যবহার করেছি। ধারণা করছি বাঁধাকপি বিক্রি করে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবো। সবুজ বাঁধাকপি ও লাল বাঁধাকপি উৎপাদন খরচ প্রায় একই। তবে রঙিন হওয়ার এই বাঁধাকপিতে পোকার উপদ্রব কম হয়। এরই মধ্যে শহীদুল্লাহ প্রায় ৭০০ বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন।

উপজেলার কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লিপি জানান, লাল বাঁধাকপিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পুষ্টি গুণ অনেক বেশি। সাধারণ বাঁধাকপির তুলনায় লাল বাঁধাকপির দাম দ্বিগুণের বেশি হয়। এই বাঁধাকপির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২২ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
জনপ্রিয়তার শীর্ষে কুষ্টিয়ার পান
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়ায় পানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এখানকার পান দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি কুষ্টিয়ার পান যাচ্ছে বিদেশেও। দেশে ও বিদেশে পানের চাহিদা থাকায় কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষ।

জানা যায়, এই জেলার পান চাষিরা গত বছর পান চাষে লাভের মুখ দেখেছিলেন। ফলে অনেক চাষ আবারো পানের চাষ করেছেন এবং নতুন অনেকেই পান চাষে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে পান চাষে জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার হওয়ায় একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসম্মত পান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, তেমনি বেড়েছে ফলন। এতে করে কুষ্টিয়ার পানের কদর এখন দেশের গন্ডি পার হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশে।

জানা যায়, কুষ্টিয়ায় বাংলা পান, মিঠা পান, দেশি পান, ঝালি পান, সাচি পান, কর্পূরী পান, গ্যাচ পান, মাঘি পান, উজানি পান, নাতিয়াবাসুত পান, বরিশাল পান ও উচ্চফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধে সক্ষম বারি পান-১, বারি পান-২ এবং বারি পান-৩ ছাড়াও বেশ কয়েক জাতের পান চাষ হচ্ছে। তারমধ্যে বাংলা পান ও মিঠা পানের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২১৪০ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলায় ২২৩০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। গত অর্থ বছরের তুলনায় এবছর ৯০ হেক্টর জমিতে পানের বেশি চাষ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এর চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা করছেন।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এ অঞ্চলের কৃষকের আধুনিক উপায়ে পানের বরজ সংরক্ষণ ও বরজে পান চাষে প্রশিক্ষিত করেছেন। কুষ্টিয়ার পানচাষিরা পান উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বিষমুক্ত প্রযুক্তি জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসম্মত পান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, তেমনি আগের তুলনায় পানের ফলনও বেড়েছে। চাষিরা আর্থিকভাবেও বেশ লাভবান হচ্ছেন। এখন এ অঞ্চলের পান চাষিরা বিঘাপ্রতি ১ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২২ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
ভুট্টা চাষে টিকে আছে চরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

তিস্তা নদীর চরজুড়ে চিকচিকে বালুর সাথে পলিমাটির বন্ধুত্ব। এসব ভূমিতে বেড়ে ওঠা ঘাস আধিপত্য বিস্তার করতো। তাদের শেষ পরিণতি হতো গরু-ছাগলের আহার হিসেবে। তবে এ চিত্র এখন আর নেই। শত-শত বিঘা পলিমাটিতে চাষ হচ্ছে দানাদার ভুট্টা ফসল। ভুট্টায় ছেয়ে গেছে বালুময় চর।

এক সময় তিস্তার মাছই ছিল চরের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। মাছ ছাড়া জীবিকার তেমন কোনো পথ ছিল না তাদের। মাছ ধরার পাশাপাশি কেউ কেউ ধান আবাদ করে সংসারের চাহিদা মেটাত। এখন সেই চরের জমি আর পতিত নেই। পাল্টে গেছে চরের দৃশ্যপট। চরে এখন ভুট্টার ফলন হচ্ছে বাম্পার। তিস্তার বালুচরে ভুট্টা চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে কৃষকদর। তাই চরের চাষিরা ঝুঁকেছেন ভুট্টা চাষে।

ডিমলা উপজেলার চর খড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, এ বছর ১০বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। আশা করছি ভালো ফলন ও দাম পাবো। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ভুট্টার চাষ শুরু হয়। আর ফসল ঘরে তোলা হয় এপ্রিলের মাঝামাঝি।

এই চাষি বলেন, ভুট্টা চাষে তেমন খরচ না থাকলেও রয়েছে আশানুরূপ লাভ। এখন ভুট্টা চাষে কৃষকেরা মনোযোগী হচ্ছেন। আমরা ভুট্টা চাষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে লাভবান হব বলে আশা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৫:২৮ অপরাহ্ন
ধানের দামে খুশি নেই পাবনার চাষিরা
কৃষি বিভাগ

পাবনা জেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। বুকভরা আশা নিয়ে কৃষক ধান কাটা শুরু করলেও দাম নিয়ে তারা নিরাশ হচ্ছেন। চাষিরা বলছেন, এবার সারসঙ্কট ও বর্ষা মওসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। এর ওপর উৎপাদনখরচ অনুযায়ী তারা দাম পাচ্ছেন না। তারা বলছেন, ধান কত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এটা হিসাব করার আগে উৎপাদন খরচ হিসাব করা দরকার। এতে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য কৃষক পাচ্ছে কি না তার বাস্তবচিত্র পাওয়া যাবে।
নতুন আমন ধান প্রতিমণ এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন ও সুগন্ধি জাতের ধানের দাম প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি। তবে এ দামে ধান বিক্রি করে চাষিদের আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না। তারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, সারের দাম, শ্রমিকের দাম, কীটনাশকের দাম বেড়েছে। এমনকি মাড়াইযন্ত্র ডিজেলচালিত হওয়ায় ধান মাড়াইয়ের খরচও বেড়েছে। এতে চাষির খরচ যে হারে বেড়েছে সে অনুপাতে ধানের দাম বাড়েনি। তারা আরো জানান, গতবারের চেয়ে এবার বাজারে ধানের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। আর জমি লিজ নেয়া চাষিদের খরচ আরো বেশি। তাদের প্রতি বছর বিঘায় ১৫ হাজার টাকা জমি মালিককে দিতে হয়।
কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, প্রতি বিঘায় গড়ে ধানের ফলন হয়েছে ১৫ মণ। এর মধ্যে খরচ যায় বিঘাপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা ধরে এক বিঘা জমি থেকে জমির মালিক নিজে চাষ করলে বিঘাপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা লাভ থাকে। কিন্তু যারা জমি লিজ নিয়ে চাষ করেন তাদের জমির মালিককে যে টাকা দিতে হয় তা বাদ দিলে বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার আমনের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বর্ষা মৌসুম বলে সেচ কম লেগেছে। আর চাষিরা যেটাকে সার কম দেয়া বলেছেন আসলে সার পরিমিত পরিমাণে তারা দিয়েছেন। এতে অপচয় কম হয়ে তাদের খরচ সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৯:২৯ পূর্বাহ্ন
হাতিবান্ধায় ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাট হাতিবান্ধায় অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কৃষকরা। সার না পেয়ে আন্দোলনরত কৃষকরা লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ঘুণ্টি নামক স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকরা।

আন্দোলনরত কৃষকরা জানান, তিস্তাপাড়ে চরাঞ্চলসহ হাতিবান্ধা উপজেলায় রবি মৌসুমে ভুট্টা, আলু, সরিষা চাষাবাদে জমি তৈরি করছেন কৃষকরা। চাষাবাদের জন্য কৃষক জমি তৈরি করলেও সারের পাচ্ছেন না। বিসিআইসি ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের সার মজুত রাখায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

হাতিবান্ধা উপজেলায় বিসিআইসি ডিলার ১২ জন ও বিএডিসি ডিলার রয়েছে ৮ জন। ডিলাররা এমওপি, টিএসপি, ইউরিয়া, এডিপি সরকারি ভর্তুকির মূল্যের সার উত্তোলন করে গোপন গোডাউনে মজুদ রাখছেন। এই সুযোগে বাজারে ৭৫০ টাকার এমওপি (পটাশ) ভর্তুকির সার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। টিএসপি ১ হাজার ১০০ টাকার জায়গায় বিক্রি করছেন ১ হাজার ৫০০ টাকায়। এডিপি সার ৮০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ২০০ টাকা ও ইউরিয়া সার ১ হাজার ১০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাতিবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম জানান, ন্যায্যমূল্যে সার না পেয়ে কৃষকরা বিক্ষোভ করেন। বুধবার সকাল থেকে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে তারা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে হাতিবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজির হোসেন জানান, সার ডিলারদের বিরুদ্ধে দোকান বন্ধ রাখা নানান অভিযোগ কৃষকদের ছিল। অভিযোগটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে কৃষি কর্মকর্তাকে। তবে সার পর্যাপ্ত রয়েছে। কৃষকদের সার বিতরণে আশ্বাস দেয়ায় তারা আন্দোলন বন্ধ রাখে। বুধবার থেকে সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২২ ৬:৩৮ অপরাহ্ন
১৫ লক্ষাধিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলার কৃষি যোদ্ধাগণ এবারো সবজির উৎপাদন বিশেষ অবদান রাখছে। দেশে উৎপাদিত প্রায় ২ কোটি টন শীত ও গ্রীস্মকালীন সবজির প্রায় ২০ লাখ টনই আসছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। গত মাসের ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এ ভরকরে নজিরবিহীন প্রবল বর্ষণের পরেও এবার দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টরে ১৫ লাখ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষে মাঠে মাঠে কাজ করছেন দক্ষিণাঞ্চরের কৃষিযোদ্ধাগণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর-ডিএই’র দায়িত্বশীল মহল লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চলতি মাসে যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেয়, তবে সারা দেশের মতো দক্ষিণাঞ্চলেও সবজি উৎপাদন লক্ষ্য অর্জন নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলে মনে করছেন ডিএই’র দায়িত্বশীল মহল। গত দেড় দশকে দক্ষিণাঞ্চলে সবজির আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে তিনগুনেরও বেশি।

কৃষিবীদদের মতে, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানের সবজি বীজসহ আবাদ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছলে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুনে পৌঁছান সম্ভব হবে। এমনকি খোলা মাঠে ও বাড়ির আঙিনার পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে পতিত জমিতেও সবজির আবাদ বাড়ছে। আর দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের অনেক এলাকায় আবাদকৃত সবজির বীজ ও চারার যোগান হচ্ছে বরিশাল ও পিরোজপুরের ‘ভাসমান বেড’ থেকে। যুগের পর যুগ ধরে বরিশালের বানরীপাড়া, উজিরপুর এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর ও সদর উপজেলার কিছু অংশে কচুরিপানার ঢিপ তৈরি করে তার ওপর শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চারা তৈরি হচ্ছে। এ অঞ্চলের কৃষকদের উদ্ভাবিত সনাতন ও লাগসই প্রযুক্তির ‘সারজন পদ্ধতি’তে বিভিন্ন সবজির চারা তৈরি করে জলাবদ্ধ বিশাল এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাসহ কৃষি-অর্থনীতিও অনেকটাই সচল রয়েছে।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টন। এবার ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’এ ভর করে কার্তিকের নজিরবিহীন প্রবল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তির্ণ এলাকার আগাম শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পরেও কৃষি যোদ্ধাগণ পুনরায় রবি ফসল আবাদে মাঠে নেমেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন বাড়ি-ঘরের আঙিনায়ও বিপুল পরিমাণ সবজির আবাদ হচ্ছে।

ইতোমধ্যে লালশাক, পালং শাক, সিম, ফুলকপি, বাধা কপি, শালগম, গাজর ও মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে এসেছে। তবে এর বাইরে সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণের ধকল কাটিয়েও লাউ সহ বেশ কিছু বারমাসি সবজিও বাজারে রয়েছে। তবে এবার অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণের রেশ ধরে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। কৃষকরা এবার কিছুটা বেশি দাম পেলেও অগ্রহায়ণের বর্ষণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ‘দেশে গত বছর প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টনের মত শীতকালীন সবজি উৎপাদন হয়েছে। দেশে উৎপাদিত সবজি ‘অভ্যন্তরীণ পূর্ণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে’ বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। ডিএই’র মতে বর্তমানে ‘বিশ্বের প্রায় ১১৪টি দেশে বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রফতানি হচ্ছে। এর মধ্যে শীতকালীন সবজিই অন্যতম’। এ বাজার আরো সম্প্রসারণে সরকার দেশে সবজি আবাদ বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এদিকে ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটÑবারী’ মাঠ পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যসব ফসলের মতো বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজিরও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। এমনকি বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় যে ভাসমান ঢিবিতে সবজি বীজসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হচ্ছে, বারি’র বিজ্ঞানীগণ সে ক্ষেত্রেও আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাচ্ছেন। ফলে কৃষকগণ আরো আস্থা এবং নির্ভরতা সাথেই ভাসমান বেড পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে মনযোগী হচ্ছেন। এরফলে প্লাবন ভ‚মিতে অধিক ফসল উৎপাদনও সম্ভব হচ্ছে। এতে করে কৃষকগণ লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop