পলাশাবড়ীর পৌরসভা ব্লকে তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধির উদ্ধুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

নীলফামারীতে কম সময়ে উচ্চ ফলনশীল বীনা ১৭ জাত ধানের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের আরাজি চড়াইখোলা গ্রামে ওই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এ এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন বিনা ধান ১৭ রংপুর উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী, কৃষক পিয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।
কৃষক পিয়ারুল ইসলাম জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের বিনা ধান ১৭ আবাদ করে স্বল্প সময়ে কর্তন করতে পারছেন। আগাম কর্তন করা ওই জমিতে আগাম আলু কিংবা সরিষা চাষ করবেন। এতে করে বছরে জমিতে অন্তত তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘রোপা আমনের অন্যান্য জাতের ধান কর্তন করতে এখোনো এক মাস সময় বাকি অথচ বীনা ধান রোপনের ৮৫ দিনের মধ্যে কর্তন করা সম্ভব হচ্ছে’।
সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বীনা ধান-১৭ বিশেষ একটি জাতের। কৃষকরা লাভবান হবেন। খরচ কম, ফলন বেশি এবং সময়ও কম লাগছে। কৃষকদের এই জাতের ধান আবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করছি আমরা কৃষি বিভাগের সহায়তায়’।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ জানান, এই জাতের ধান আবাদে আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিয়েছি। আরাজি চড়াইখোলা গ্রামে পাঁচ জন কৃষক ১৫০শতাংশ জমিতে এই জাতের ধান আবাদ করেছেন।
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই জাতের ধান উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্পজীবনকালীন। পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট রংপুর উপকেন্দ্রের উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগ নীলফামারীর সহযোগীতায় মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শণী প্লট করা হয়েছে। এ জাতের ধান ১১২ থেকে ১১৮ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায়। হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ৬ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত’।
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন চেঁচড়া গ্রামে পতিত জমিতে মাল্টা চাষ করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ভাই-বোন আব্দুল আলিম ও আলেয়া বেগম। তারা ওই এলাকার ময়েন উদ্দিনের সন্তান।
জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় বসবাস করলেও একটু লেখাপড়া জানার কারণে দুই ভাই-বোন মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মাল্টা চাষের। সেই লক্ষ্য নিয়ে স্থানীয় মসজিদের নামে থাকা আড়াই বিঘা পতিত জমি লিজ নিয়ে দিনাজপুর থেকে উন্নত জাতের বারি-১ জাতের ২৩০টি চারা সংগ্রহ করে মাল্টা চাষ শুরু করেন। যেখানে তেমন কোন ফসল হয়না আবার বেশির ভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে ঝোঁপঝাড়।
মসজিদ কমিটির নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে শুরু করে মাল্টা চাষ। জমি লিজ নেওয়া, বাগান তৈরি, সার কীটনাশক, লেবারসহ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা বলে জানান আব্দুল আলিম।
তিনি জানান, ইউটিউব থেকে মাল্টা চাষের বিষয় দেখে আগ্রহ সৃষ্টি হলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগ মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করা থেকে শুরু করে সব রকম পরামর্শ প্রদান করেছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, মসজিদের নামে থাকা আড়াই বিঘা পতিত জমি যেখানে তেমন কোন ফসল হতো না, সেখানে ভাই-বোন মিলে মাল্টা করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে বাগানের মাল্টার গাছ গুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে মাল্টা, দেখে যেন মন শান্তি। তাই ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছেন মাল্টা চাষি আব্দুল আলিম ও আলেয়া বেগম। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে মাল্টা তোলা সম্ভব হবে।
মাল্টা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত আলেয়া বেগমরে দুই ছেলে আলফাজ ও আলী রাজ জানান, গত বছর প্রথম মৌসুমে ৮০ হাজার টাকার মতো মাল্টা বিক্রি করলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় ২/৩ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে এমন আশা প্রকাশ করেন তারা। বর্তমানে জমিতে থাকা মাল্টার বাগান দেখে মাল্টা ব্যবসায়ীরা দেড় লাখ টাকা দাম করছেন বলেও জানান, আলফাজ ও আলী রাজ।
মাল্টা চাষে সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই মাল্টার বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে জানান, প্রতিবেশী রুস্তম আলী। পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান বলেন, এখানকার মাটি লাল এটেলযুক্ত হওয়ায় মাল্টা চাষের উপযোগী। সে কারণে পড়ে থাকা অর্থাৎ পতিত জমিতে বিশেষ করে যে জমি গুলোতে তেমন ফসল হয়না এ সব জমিতে মাল্টা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ দেখে পাঁচবিবি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ছোট বড় মিলে ১০০ টি মাল্টার বাগান করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’। খনার ওই বচনটি কাজে লাগিয়ে ব্যাপক কলা চাষ করে ভাগ্য বদল করছেন জয়পুরহাটের কলা চাষিরা। রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ভৈরবসহ দেশের ৩৫ জেলায় যাচ্ছে জয়পুরহাটের কলা।
কলা চাষিদের পরিবারে কেবল ভাত কাপড়ের ব্যবস্থাই নয়। পরিবারের অন্যান্য ব্যয়ের সংস্থানও হয়েছে কলা চাষ করে। আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় জেলায় বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। জয়পুরহাট জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ কলা।
জেলায় বিশেষ করে জামালগঞ্জ ও ভাদসা এলাকার অনেক পরিবার কেবল কলা চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানান যায়, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশী লাভ হয় কলা চাষে।
বিশেষ করে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে ও ভাদসা ইউপি ভবনের সামনে দূর্গাদহ বাজার এলাকায় কলার বিস্ময়কর বাজার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলার চাষও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জয়পুরহাটে। ২/৩ ফুট লম্বা কলা গাছের চারা লাগানোর অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়।
সাধারনত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারনত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সে সকল জমিতে কলার চাষ ভালো হয়। কৃষকরা জানান, একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে।
যত্ন সহকারে কলা চাষ করলে একটি গাছ থেকে ২ থেকে আড়াই মন কলা পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়। কলার জমিতে তেমন লেবার প্রয়োজন হয়না। ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে এবার কলার চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন।
জামালগঞ্জ এলাকার মাতাপুর গ্রামের কলা চাষী আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। নুনুজ গ্রামের কলা চাষি নূর আলম বলেন কলা বিক্রিতে কোন ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়।
এ ছাড়াও জামালগঞ্জে ও ভাদসা ইউপি ভবনের সামনে দূর্গাদহ বাজারে কলার বিশাল হাট বসে প্রত্যেক দিন সকালে ৬০/৬৫ জন আড়ৎদার কলা কিনে ট্রাকে লোড দেন। প্রতি কাইন ( স্থানীয় নাম ঘাউর) বিক্রি হচ্ছে চাপা কলা ২৫০-৩৫০ টাকা, সবরি কলা ৫০০-৬০০ টাকা, সাগর ও রঙ্গিন মেহের সাগর কলা প্রতি কাইন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
প্রায় ৫ শতাধিক লোক প্রতিদিন কলা কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত থাকেন। প্রতিদিন কোটি টাকার কলা কেনা বেচা হয়ে থাকে বলে জানান স্থানীয় কলা ব্যবসায়ীরা। জেলা শহরের গুলশান চৌ মোড়ে ছোট আকারে পাইকারী কলার হাট বসে।
জয়পুরহাটের কলা উন্নত মানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ ৩৫ জেলায় জয়পুরহাটের কলার বড় মার্কেট বলে জানান ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, বাবু, তাব্বা ও মিজানুর রহমান।
বর্তমানে অফ সিজন তার পরেও জয়পুরহাট থেকে প্রতিদিন গড়ে বর্তমানে ৬/৭ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান এস এ ট্রেডার্সের মালিক ও কলা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম।
জয়পুরহাটে উৎপাদিত কলার মধ্যে রয়েছে ওষুধী কলা হিসেবে চিহ্নিত চাম্পা কলা, সবরি কলা, রঙ্গিন মেহের সাগর ও সাগর কলা। বর্তমানে জয়পুরহাটের হাটবাজারে প্রকার ভেদে বা সাইজ অনুযায়ী সবরি কলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হালি এবং চাম্পা ও সাগর কলা ১৫ থেকে ২০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
কলা চাষ বেশ লাভজনক ফসল। জেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার কলা চাষের সঙ্গে জড়িত। কলা চাষ করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভাগ্য বদল করছেন জয়পুরহাটের কলা চাষিরা। কলা চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে বলে জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রাহেলা পারভীন।
সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি আবাদ ও ফসলের উৎপাদনশীলতা শীর্ষক এক কর্মশালায় বলা হয়, বোরো মৌসুমে সেচের অভাবে সিলেট বিভাগে প্রায় ২৬ভাগ জমি পতিত থাকে। এছাড়াও যেটুকু জমিতে আবাদ করা হয়, সেখানে সেচের পানির অভাবে ফলন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।
শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের উদ্যোগে আয়োজিত সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি আবাদ ও ফসলের উৎপাদনশীলতা শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে ড.মো. মনিরুজ্জামান এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি মূল প্রবন্ধে নদী-খাল খনন, ভূগর্ভস্থ পানিতে সম্পুরক সেচের ব্যবস্থা করা, উন্নত সেচ বিতরণ পদ্ধতি স্থাপনের মাধ্যমে হাওর এলাকার ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিপুল পরিমাণ পতিত জমি আবাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবিরের সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ওয়াহিদা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আনতে হবে। কৃষি প্রধান এ দেশের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য কৃষি সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এ অঞ্চলের সেচের পানির অভাব দূর করতে হবে। সকল পতিত জমিকে চাষাবাদের উপযোগী করে তুলতে হবে। নদী-খাল খনন ও সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। উন্নত সেচ বিতরণ ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধি করে সেচের পানির অপচয় রোধ করতে হবে। গবেষকদের গবেষণালব্দ জ্ঞান কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাওর এলাকায় গবেষণা কর্মকন্ড আরো জোরদার করার আহবান জানান।
ব্রি প্রশিক্ষণ বিভাগের সিনিয়র লিয়াজো অফিসার ড. মো. আব্দুল মোমিনের পরিচালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এসএম শহীদুল ইসলাম । বক্তব্য লাখেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাজিয়া শরীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, পরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ সিদ্দিকী প্রমুখ।
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে আগাম জাতের রূপবান শিম। এই শিম চাষ করে কৃষকের মুখে রাঙা হাঁসি ফুটেছে।
শিম শীতকালীন সবজি। কিন্তু গ্রীষ্মে আগাম লাগানো রূপবান জাতের শিম বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা পাইকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে শিম বিক্রি করছে আর খুচরা বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে দুই শতাধিক চাষি আগাম শিম চাষ করেছেন। উপজেলার মোকাম ও ডুবাইচর গ্রামের মাঠে বেশি শিমের আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ রূপবান জাতের শিমের আবাদে ভরে গেছে। অনেক কৃষক শিমের ক্ষেতে কাজ করছেন। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শিম তুলছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাসসকে জানান, বুড়িচং উপজেলায় আগাম জাতের শিমের চাষ বেশি হয়েছে। এ এলাকায় শতাধিক কৃষক আগাম জাতের শিমের চাষ করেছেন। এসব চাষিদের সার, বীজ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সার্বিকভাবে কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কাজু বাদাম একটি শুকনো ফল হিসাবে খুব জনপ্রিয়। একটি গাছের উচ্চতা ১৪ মিটার থেকে ১৫ মিটার। এর গাছ ৩ বছরে ফল ধরতে প্রস্তুত হয়। কাজুর খোসাও ব্যবহার করা হয়। খোসা পেইন্ট এবং লুব্রিকেন্ট তৈরি করে। তাই এর চাষ খুবই উপকারী। কাজু গাছ উষ্ণ তাপমাত্রায় ভাল করে। ২০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চাষের জন্য উপযুক্ত। এটি যে কোনো ধরনের মাটিতে জন্মানো যায় তবে লাল বেলে দোআঁশ মাটি এর জন্য ভালো।
একটি কাজু গাছ একবার লাগানো হলে তা বহু বছর ধরে ফল ধরে। গাছ লাগাতে সময় লাগে। এক হেক্টরে পাঁচশত কাজু গাছ লাগানো যায়। একটি গাছ থেকে ২০ কেজি কাজু বাদাম পাওয়া যায়। এক হেক্টরে ১০ টন কাজু উৎপন্ন হয়। বাজারে এক কেজি কাজুবাদাম বিক্রি হয় ১২০০ টাকায়।
এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধানের চারা বিক্রির হাট জমে উঠেছে। এই বছর প্রায় ২ কোটি টাকার চারা বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার সদর উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নন্দনপুর এলাকার বৃহৎ হাটটিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের ধানের চারা ক্রয়-বিক্রয় করছেন। চারা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় চারার হাটটি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুখরিত থাকে।
সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নন্দনপুর এলাকার মৌসুমি চারার হাটটি বেশ পুরাতন। আমন মৌসুমে এই চারার হাট ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় বেশ জমজমাট। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দ মতো চারা দেখে দাম বলছেন। বিক্রেতারাও তাদের চারা প্রকারভেদ অনুযায়ী দাম চাচ্ছেন।
হাটে চারা আঁটি ভেদে বিক্রি করা হয়। ছোট চারার আঁটি প্রকারভেদে ৭০ টাকা থেকে ১২০ ও বড় চারার আঁটি প্রকারভেদে ২০০-২৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মতো চারা কিনে তাদের পছন্দ মতো বাহনে করে নিয়ে যাচ্ছেন। হাটে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা বিক্রি হয়ে থাকে। এর মধ্যে বিআর-২২, খাসা, নাজির, ও বিনা ধান-৭ অন্যতম। জেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা কৃষক পাইকাররা এই ধানের চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, এই হাটে চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্খিত চারা পেয়ে বেশ খুশি। দাম নিয়েও সন্তুষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতারা। অন্য দিকে বিক্রেতারা বলছেন, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সামনের দিন গুলোতে যদি এমনভাবে চারা বিক্রি হয় তাহলে তারা লাভবান হবেন।
জেলার সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকা থেকে চারা কিনতে আসা ক্রেতা মো. আবুল হাসেম মিয়া নামের কৃষক জানান, প্রতি বছরই এই হাট থেকে ধানের চারা (জালা) কিনে থাকি। বিআর-২২ জাতের ২০ মোটা চারা ১৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। ১ কানি (৩০ শতাংশ ১ কানি) থেকে একটু বেশি জমিতে এই চারাগুলো বপন করতে পারবো। গত বছর থেকে এবার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। এই বাজারের চারার মান অনেক ভালো। চারা ভালো হলে ধানের উৎপাদন ও ভালো হয়।
জেলার নাসিরনগর উপজেলা নাসিরপুর থেকে আসা ক্রেতা মাখন দাস বলেন, আমন মৌসুমে এই অস্থায়ী চারার হাটটি জমে। আশপাশের বিক্রেতারা এখানে চারা বিক্রি করে থাকে। তার ৬ কানি জমির জন্য এখান থেকে চারা কিনবেন। ২৮ মোটা বিআর-২২ জাতের চারা ২৮২০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। দেড় কানির মতো জমিতে এই চারা রোপণ করা যাবে। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই নিজের পছন্দ মতো চারা কিনতে পেরে খুশি।
হাটে চারা বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার খাড়ি এলাকার বিক্রিতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার ২ কানি জমিতে ধানের চারা চাষ করেছি। চারা ভালোই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি প্রকার ভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এই হাটে বিআর-২২, খাসা, বিনা ধান-৭সহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা বিক্রি হয়ে থাকে। বিক্রি বেশ ভালোই হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এমন বিক্রি হলে ভালো লাভবান হবো।
তিনি জানান, এই হাটে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকসহ পার্শ্ববর্তী জেলার কৃষকেরা চারা ক্রয় করতে আসেন।
এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা জানান, নন্দনপুরের চারার হাট প্রতিদিন বসে। এই বাজারে মান সম্মত চারা পাওয়া যায়। এই চারা জেলার বাহিরেও চাহিদা রয়েছে। উন্নত চারা তৈরির জন্য আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই বাজারে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়ে থাকে। এই বছর প্রায় ২ কোটি টাকার চারা বিক্রি হবে বলে আশা করি।
তিনি আরো জানান, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২ হাজার ৬৫৬ হেক্টর জমিতে ধানের চারা বীজতলা রোপণের লক্ষ্য মাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৩২ হেক্টর। তিনি আরও জানান, এবার আমাদের রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৫ ০০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৪২ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯৯ ভাগ জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস
ভাদ্র মাসে লাউ ও শিমের বীজ বপন করা যায়। এজন্য ৪ থেকে ৫ মিটার দূরে দূরে ৭৫ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি. গভীর করে মাদা বা গর্ত তৈরি করতে হবে। এরপর প্রতি মাদায় ২০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৭৫ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। মাদা তৈরি হলে প্রতি মাদায় ৪ থেকে ৫টি বীজ বুনে দিতে হবে এবং চারা গজানোর ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর দুই-তিন কিস্তিতে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৭৫ গ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
এ সময় আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করা যায়। সবজি চারা উৎপাদনের জন্য উঁচু এবং আলো বাতাস লাগে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে। জমি ভালোভাবে কুপিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটি ঝুর ঝুরে করতে হবে। চাষের সময় ১ বর্গমিটার জমির জন্য ১০ কেজি জৈবসার এবং ৩০০ গ্রাম টিএসপি মাটির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। জমি তৈরি হয়ে গেলে এক মিটার চওড়া এবং জমির দৈর্ঘ্য অনুসারে লম্বা করে বেড তৈরি করতে হবে। দুই বেডের মাঝখানে ৬০ সেমি. ফাঁকা রাখতে হবে। এতে যে নালা তৈরি হবে তার গভীরতা হবে ১৫ সেমি.। বীজতলা হয়ে গেলে সেখানে উন্নত জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো এসবের বীজ বুনতে পারেন।